Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ফের ছাত্রের পাশে

   

              

       ফের দু:স্থ ছাত্রকে সাহার্য্য 

                                                             

                                         

                            অর্ঘ্য ঘোষ 



ফের  আরও এক বধির ছাত্রের পাশে দাঁড়াল সাঁইথিয়ার আনন্দদুলাল রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রের নাম মুস্তাক সেখ। মুর্শিদাবাদের একপাহাড়িয়া গ্রামে তার বাড়ি। ছোট থেকেই সে দু'কানেই শুনতে পায় না। এতদিন একটি কানে শোনার যন্ত্র ছিল। কিন্তু সেটি বিকল হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। কারণ তার বাবা হায়দার আলি সেখ প্রান্তিক চাষি। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর হাল।
ছেলেকে একটি কানে শোনার যন্ত্র কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও তার নেই। 



                               
                                            তাই চরম সমস্যায় পড়তে হয় মুস্তাককে। কলেজের পঠনপাঠন শুনতে তো পায়ই না , রাস্তায় যানবাহনের শব্দও তার কানে যায় না। এর ফলে আশংকায় সিটিয়ে থাকতে হত তার বাবা-মাকে। কারণ সাইকেলেই মুস্তাককে প্রায় ৮  কিলোমিটার দুরের কলেজে যাওয়া আসা করতে হয়। কলেজের ছাত্র  সংসদের মাধ্যমে সেই খবর পাওয়ার পরই এদিন মুস্তাকের কাছে কানে শোনার দুটি যন্ত্র পৌঁছে দেন সংস্থার সদস্য। সেই যন্ত্র পাওয়ার পর মুখে হাসি ফোটে মুস্তাকের।



                                       এদিন ছিল কলেজের বাৎসরিক অনুষ্ঠান। তারই মাঝে তার কানে যন্ত্র লাগিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সে জানায়, এতক্ষণ কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। এবারে সব স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। ক্লাস করতে, সাইকেলে স্কুলে আসতেও খুব সমস্যা হত। এবার সেই সমস্যা দূর হোল।মুস্তাকের বাবা জানান, ওই সংস্থাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। বিভিন্ন বেসরকারি জায়গায় তো বটেই , সরকারি দফতরে আবেদন জানিয়েও এতদিন একটা কানে শোনার যন্ত্র জোটে নি। তাই খুব দু:শ্চিন্তায় ছিলাম।লেখাপড়ার চেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আশংকায় রাতে ঘুমোতে পর্যন্ত পারতাম না। আজ সেই দু:শ্চিন্তা দুর হল।


                                          শুধু মুস্তাকই নয়, কয়েক মাস  আগেও ময়ূরেশ্বরেরই লোকপাড়া হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র তথা স্থানীয় তেরাতরী গ্রামের বাসিন্দা গোপাল দাসকে এক বছরের প্রয়োজনীয় ব্যাটারি সহ দুটি কানে শোনার যন্ত্র দেয় ওই সংস্থা। গোপালের বাবা তেলকল শ্রমিক চন্দন দাসেরও ছেলেকে যন্ত্র কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তার ছেলের ক্ষেত্রেও সরকারি বেসরকারি স্তরে কোথাও কোন সাহার্য্য মেলে নি বলে অভিযোগ। এরফলে ওই ছাত্রের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেই খবর পাওয়ার পরই তার বাড়িতে গিয়েও কানে শোনার যন্ত্র পৌঁচ্ছে দেন  সংস্থার সদস্যরা। 



                                    সেই যন্ত্র পাওয়ার পরই পুরোদ্যমে পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষায় বসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারের ওই ছাত্রটি।আনন্দদুলাল রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কর্ণধার শান্তনু রায় জানান , আমরা দু:স্থ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় সহায়তার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের বিভিন্ন রকম সহায়ক যন্ত্র দিয়ে সাহার্য্য করে থাকি।


          -----০----

No comments:

Post a Comment