Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

কবিতাগুচ্ছ-৯


    লোকটি

        
             

    অর্ঘ্য ঘোষ



লোকটির চোখের সামনে দিয়েই 

ছোট নেতার হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিল একমাত্র মেয়ে।
       
লোকটি মচকে ছিল, ভেঙ্গে পড়ে নি।  
                                         
দলের লোকেরা তাকে বলেছিল , 

দলে থাকতে গেলে এমন তো কতই হয়।
                   
তারা শুনিয়েয়েছিল দলের ত্যাগের ইতিহাস। 
                        
সব শুনে লোকটি বলেছিল , ঠিক -ঠিক -ঠিক। 
                           
তারপর থেকে লোকটি হাতের কাছে যাকেই পেত

 দলের ত্যাগের ইতিহাস শোনাতো।      
   
 তারপর একদিন বড় নেতার হাত ধরে

 বেড়িয়ে গেল তার সুন্দরী স্ত্রীও।   

আইনী টানা পোড়নে লোকটির ভিটেমাটি চাঁটি হয়ে গেল।   
        
এবারে ভেঙ্গে পড়ল লোকটি।   

দলের লোকেরা ফের তাকে ত্যাগের ইতিহাস শোনাতে এল।  
    
লোকটি ততদিনে বুঝে গিয়েছে

 সুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরনোর মর্মার্থ।    
                 
 তাই দলের লোকেরা ত্যাগের ইতিহাস শোনানোর আগেই

সে শুনিয়ে দিল তার তিতিক্ষার কথা। 

বলে উঠল , পাগল -পাগল।       

 তারপর থেকে লোকটি হাতের কাছে যাকেই পেত

 বলে উঠত পাগল-পাগল।    
                      
একবার দলীয় সমাবেশে বাহারী কাপড়ে মোড়া তোরণ দেখেও

 লোকটি বলে উঠেছিল, পাগল -পাগল।  
       
 নাহলে যেখানে মানুষের পরণে কাপড় নেই

সেখানে কি কেউ বাঁশ ঢাকতে নষ্ট করে থান থান কাপড় ?  
                            
শুনে দলের লোকেরা তাকে পাগল আখ্যা দিয়েছিল।

-----০-----

   

        পিতৃস্নেহ   


 ( ২০০০ সালে  একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষে ১১ জন খেতমজুর খুন হন । সেই সময় তাদের  কয়েকজনের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন । গর্ভস্থ ওইসব সন্তানদের কথা মাথায় রেখে লেখা হয় এই কবিতা  )  


কারও পাকা ধানে দেয়নি মই।  
  
মাছের পুকুরে বিষ।     
             
ওরা নিতান্তই খেটে খাওয়া মুনিশ।

ওদের চালের বাতায় ঘুণ। 
            
ওদের পান্তা ফুরোয় আনতে গিয়ে নুন।  
                                        
তবু ওরাই হোল খুন।   
                
খুন করেছিস।     
                     
বেশ করেছিস। 

আধ মরাদের শেষ করেছিস।  
     
নেইকো ক্ষতি রাখতে গদি ,

দু,চারটে হাড়-হাভেতে মরেও যদি

দরকারেতে এমনি করেই  
          
বাঁকিয়ে আঙুল তুলতে হবে ঘি। 
  
ভাত ছড়ালে কাকের অভাব কি ?

কিন্তু একটা কথা বল ,

যাদের তোরা লাশ বানালি।  
         
খাস কামরার সাবাস নিলি , 
   
তাদের বিধবা বৌয়ের কোলে 
    
আসছে যে সব ছেলে    
             
তারা জানবে কেমন করে  
           
বাবা কাকে বলে ?  
                    
পিতৃস্নেহ বস্তুটা কি আসলে ??

  ----০----




প্রত্যাশার বিষ 

         
                           

ভাঙে জেনেও আমরা ঘর বাঁধি    

একটু  সুখের আশায়।       
          
ভুল জেনেও আমরা ফুল চাই   
   
একটু সুগন্ধের আশায়।       
      
বিষ ওঠে জেনেও মন্থন করি   
       
একটু অমৃতের আশায়। 
   
এখন সমাজের রন্ধে রন্ধে

পড়ে আছে শুধু প্রত্যাশার বিষ ।

 চতুর দেবতারা বিষটুকু রেখে

 চেটে পুঁটে খেয়েছে অমৃত ।  

 এখন একা নীলকণ্ঠ  
         
 কতটুকু বিষপান করে ক'জনকে মুক্তি দেবে ?   
                
 তার চেয়ে এসো বিষপান করে

আমরা নিজেরাই নীলকণ্ঠ হয়ে যায়।
  
      ---০---

   অনুভব 




তোমার বরাদ্দ ভূমি সাড়ে তিন হাত।

আমার শুধুই বাঁশের খাট।

অথচ কত দড়ি টানাটানি দিন রাত ,

 ছুটেছি কত না দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ।

জানাজা নমাজে তোমার সমাপ্তি।

আমার হরিনাম।

ভাবিনি এইটুকু মোদের প্রাপ্তি ,

এই হবে পরিনাম। 

গাঁ মুখো পা করে একদিন চলে যাব সবাই।

পড়ে রবে এই বাড়িঘর ,  সাজানো সংসার।

স্ত্রী পুত্র পরিজন ক"টা দিন শুধু করবে হায় হায়।

তবু মোরা বৃথা করি আমার আমার।

ছবি হয়ে ঝুলে রবো  নিজের বাড়ির দেওয়ালে।

একটা প্রজন্ম শুধু দিতে পারে মালা সে ছবির গলে। 

তারপর একদিন গ্রাস করে নেবে মাকড়সার জাল ।

নামটুকুও ভুলে যাবে ভাবীকাল ।

মানুষ চলে গেলে কাঁদে  আত্মীয় স্বজন।

এসো এমন কিছু করে যাই যেন কাঁদে অন্যজন।
   

-----০-----


কল্পতরু
 


কেউ বেচে শিশু , কেউ বেচে চাকরি।

হরিলুট চলছেই , বদলেছে পাগড়ি।

মাঝে মাঝে আমরাই

রাজা রানী বদলায়। 

নেচে কুদে সারা হই।

নেপো সব মারে দই।
কেউ কেউ দই মেখে খাই খই।

গাজর মোহে গাধারাই মোট বয়।

দেঁতো হাসি ঝুলিয়ে কেউ সাজে অবতার।

ফুরোলেই কাজটি দেখা তার পাওয়া ভার।
আঙুলটি ফুলে কেউ হয় কলাগাছ। 

বাজিকর হয়ে কেউবা নাচায় তুর্কিনাচ। 

কারও পেটে লাথি মেরে কেউ খায় দুধভাত।
তুড়ি দিয়ে দিনকে করে কেউ মাঝ রাত

 গাছে তবু থেকে যায় গল্পের গরুটা 

আহমকের দল মোরা পুষে রাখি কল্পের তরুটা।
  

----০-----

No comments:

Post a Comment