Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

কবিতাগুচ্ছ - ৮




চাঁদের মুখে 

       



অর্ঘ্য ঘোষ 


চাঁদের সারাটা মুখে


আজ বড়ো বেশি মেচেতার দাগ।


বড়ো বেশি বেআব্রু


আলোর নগ্নতা।


তবু দারুন ব্যস্ত দু'হাতে


নিরন্ন ফকির


খোঁজে গেঁজেলের থলি।


ক্ষণজন্মের অহংকারে


গর্জায় বেজন্মা সভ্যতা।


কালের টিকিতে দোল খায়


ধুতরোর ফুল।


সময় শুষে নেয় শরীরের ওঁম।


বাতাস ভারী হয়


 স্যাঁতলানো তত্ত্বকথায়।


আজ বড়ো অন্ধকার লাগে।


মনে হয় বেভুল পথে


চলে এসেছি অনেকদুর।


ফেরাটাই সংশয় ।


মেচেতায় চাঁদের আলোর


হয়েছে ক্ষয় । 

        --০--  

    পাপাচার


তুমি তো তেমন মেয়ে নও ,

না পোষালে অনায়াসেই 

বেছে নেবে আর এক জীবন।

যে দাপটে নারীর পায়ে লুটায় পুরুষ  

সে দাপট কোথাই  তোমার ? 

নিতান্তই ম্যাদামারা পুরুষ শাসনে

বন্দী তোমার জীবন।

পায়ে অনুশাসনের 

হাজারো বেড়ি। 
     
ইচ্ছে সুখে কেমন করে 

হাঁটবে তুমি ? 

অথচ অনুক্ষণ 

মুক্তি খোঁজে মন । 

অতৃপ্ত আত্মার মতোন । 

তোমার ঐশর্য্য 

টাটিয়ে তোলে প্রতিবেশির চোখ। 

সাজানো বাগান তছনছ হতে পারে ।

হতে পারে যখন তখন।

এ এক কঠিন সময় , 

দুর্ভিক্ষে খিদেই শেষ কথা 

পাপাচার নয় কোন বিচার্য্য বিষয় । 

     ---০---   




       বৃষ্টি 



বিদায়ী সূর্যের অস্তরাগ আবেশ ছড়ায়।

হাওয়ায় ওড়ে তোমার সুগন্ধী ওড়না।

চলো এসময় কাটি গঙ্গা বিলের জলে 

পা ডুবিয়ে একটু ক্ষণ বসি।

ছন্দবদ্ধ তোমার পায়ের 

মুদ্রায় নেচে ওঠে জল।

ক্ষণ, মহূর্ত  পল ভুলে আমরা ডুবে

থাকি নিশ্চুপ আলাপ চারিতায়।

তারপর একসময় আমাদের 

অগোচরে ফুটবে তারার ফুল।

কাটরা মসজিদ থেকে ভেসে 

আসবে আজানের ধ্বনি।

দুর শ্মশানের নদীতে 

চিতাভষ্ম ভাসিয়ে

 দেবে কেউ শেষ হরিবোল।

তুমি সেই গল্পটা আবার বলবে।

কোন এক দুয়োরানীর মেয়ে 

পথ চেয়ে বসেছিল ,

তাকে নিতে আসবে নাকি 

অচিন দেশের কুমার।

দিনে দিন ফুরোল ,

নটেগাছটি তাও মুড়োল।

তুমি আমি বলবো , 

আরে বোকা মেয়ে , 

তোর পথ চাওয়াটাই বৃথা।

রাজকুমাররা ওরকম কতই বলে।

আসে না কি মাটির পৃথিবীতে ?  

তারপর মরা জ্যোস্নায় মেয়েটির

কথা ভাবতে ভাবতে

আমরা পেরিয়ে যাব জনাকীর্ণ শহর।

পথে সেই দরমা ঘেরা বাড়ি ,

টিম টিমে লন্ঠন ঘিরে


গোটা ক'য়  

আদুর গায়ের ছেলে মেয়ে।


তাদের মাঝেই ফোকলা দাঁতের

দুই বুড়োবুড়ি।

তাদের যশোর কিম্বা খুলনা বাড়ি।

সেখানে নাকি বৃষ্টি অনেক বেশি।

তুমি আমি বলবো , বৃষ্টি সে তো

মানুষের চোখেই বেশি।

    ---০---

             

     তুমি



তুমি তো বেশ পারো , 


জীয়ন কাঠিতে ফেরাও প্রান।


আবার ইচ্ছে হলে মারো। 


তুমি এমনি করেই পারো 


দান শেষ না করেই চলে যেতে


খেলাঘর ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে স্রোতে।


কড়া নড়লেই দুয়ার খোল দুহাট ,

মুখের উপর বন্ধও করো  সপাট ।

কেউ কেউ এমনি করেই পারে ।


এক ঘর থেকে চলে যেতে অন্য ঘরে।


ঝাড়পোঁছ করে নেয় ঝুলকালি ।


গুছিয়ে নেয়  ঘর গৃ্হস্থালি  ।

কেউ কেউ এমনি করেই পারে  ,


আচমকা সুতো কেটে দিতে চুপিসারে।


ফুল সুবাসটুকু মেখে তুমি চলে যাও। 


ফুল ফোটানোর যন্ত্রনা কি টের পাও  ?


         ----০----



     মনে পড়ে



শরীরী সত্তার বর্ণহীন নির্যাস

লেপ্টে ছিল পোড়ো বাড়ির বিবর্ণ দেওয়ালে।

পায়ে পায়ে সে বাড়ির দিকে

যাওয়া হয়নি কোনদিন।

পায়ে আটকে ছিল নাগরিক বেড়ি।

শুধু টি,ভি আন্টেনায় বসে

কালের পেঁচারা চোখ ঠারে।

গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে

ট্যাণ্টটেলাস তৃষ্ণায়।

জীবনের বাকি রসটুকু 

শুকিয়ে যাওয়ার আগে তাই , 

যেতে হয় বারোয়ারি কলতলায়।

তারপর একদিন সামগ্রিক দুঃখকে 

পান্তাভাতের থালায় সাজিয়ে , 

করেছি শুধু রাজকীয় পরিবেশন। 

আমাদের একবিন্দু কাঙ্খিত সুখের প্রত্যাশায়

ম্লান হয়ে গিয়েছে বহুরাত।

পড়া হয়নি কালের ধারাপাত।

সুগন্ধী রুমাল কবেই হারিয়ে ফেলেছি বেমক্কা ঝড়ে।

শুধু এক কোনে লেখা

নামটি তার আজও মনে পড়ে।

----০----

               

 আলোর শপথ 

       

কোথাও যদি খুঁজে পাও

আগুনের এতটুকু আঁচ ।

চলে যেও নিদ্বিধায়

হাত পা সেঁকে তৈরি থেক

আগামী এক দুর্যোগের প্রতীক্ষায়।

শিখে নিও বেঁচে থাকার মানে।

কেমন করে বাঁচতে হয়। 

কোথাও যদি দেখ

সামান্যতম রোদের ইশারা  

মেখে নিও রোদ ,

তিল তিল করে জমিয়ে রেখ

রোদের পাহাড়। 

বুকের ভিতর তেজালো রোদের 

আজ  বড়ো হাহাকার ।

কোথাও যদি দেখা যায়

আলোর এতটুকু আভাষ ,

বুকে ভরে নিয়ে 

এসো সেই আলো।

আজ আলো বড়ো দরকার।

চারিদিকে শুধু অন্ধকার।

আলোতেই চেনা হয় পথ।

এসো নিই আলোর শপথ।

     ---০---


No comments:

Post a Comment