( কিস্তি -- ৮৬)
আচমকা তুমুল হই- হট্টগোলে ঘুম ভেঙে যায় অঞ্জলির। চোখ খুলে দেখে সবাই ঘুমোচ্ছে। অগত্যা চোখে - মুখে একটু জল দিয়ে তাকেই দরজা খুলে বেরোতে হয়। আর বাইরে বেড়িয়ে চোখ মেলে চাইতে সে চমকে যায়। দেখতে পায় সমন্বয় মঞ্চের উঠোনের তমাল গাছে একটি ছেলে আর মেয়েকে পিছমোড়া দিয়ে বেঁধে ঘিরে রেখেছে গ্রামের ছেলেরা।
ছেলে- মেয়েদুটি মুখ নামিয়ে রয়েছে বলে চেনাও যাচ্ছে না তারা এই পাড়ারই না বাইরের কে জানে। ছেলেটিকে দেখে তার ভিন্ন সম্প্রদায়ের বলেই মনে হয়। তাদের দেখেই তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে বীভৎস সেই রাতটার স্মৃতি। তাকেও সেদিন এমনি করেই বেঁধে রেখেছিল ওরা। সেই কথা মনে পড়তেই রাগে শরীর রি-রি করে ওঠে তার। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সে। ছেলেগুলোকে কড়া গলায় জিজ্ঞেস করে -- ওদের বেঁধে রেখেছিস কেন ?
ছেলেগুলো একটু ইতস্তত করে বলে -- ওরা 'ধরা' পড়েছে।
শব্দটা খট করে কানে লাগে তার। তাকেও ১১ বছর আগে ওই শব্দটা শুনতে হয়েছিল। তাদের সমাজ তো বটেই , অন্যান্য পিছিয়ে পড়া মানুষদের সমাজে কথাটার প্রচলন রয়েছে। দুজন ছেলেমেয়ে সে যে কারণেই হোক না কেন , একত্রিত হলেই ধরে নেওয়া হয় তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছে। আর শারীরিক সম্পর্ক হোক বা না হোক দুজন ছেলেমেয়েকে একসঙ্গে ধরতে পারলেই 'ধরা' পড়েছে বলে শোরগোল পড়ে যায়।তখন তাদের উপরে নেমে আসে সমাজের নানা অনুশাসন। সেই অনুশাসন যে কতটা মর্মান্তিক হতে পারে তা তার চেয়ে কেই বা বেশি জানে ?
সে ছেলেগুলোকে জিজ্ঞেস করে -- ওরা কারা ?
অর্জুন বলে -- মেয়েটার নাম চুমকি। আমাদের পাড়ারই মেয়ে। আর ছেলেটার বাড়ি চাষাপাড়া। সদাই মোড়লের ছেলে বিপিন। কাল যখন আমরা সবাই বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম তখন ওরা ঘরে ঢুকেছিল।
--- কিন্তু ওদের এখানে এনে বেঁধে রেখেছিস কেন ?
--- সালিশ সভা বসিয়ে ওদের বিচার করতে হবে। মেয়েটা তো মোড়ল সনাতনের। ওর বাবা সালিশিসভা ডেকে বিচারের নামে আমাদের অনেক বার জরিমানা করেছে। তোমার উপরেও তো--
--- নামটা শুনে থমকায় অঞ্জলি। মেয়েটার মুখটা মনে পড়ে যায় তার। সে যখন হোমে যায় তখন কতই বা বয়েস ছিল ওর। আট কিম্বা নয় হবে হয়তো।
ততক্ষণে সবাই বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে। তারাও ছেলে মেয়ে দুটিকে ওই অবস্থায় দেখে অবাক হয়ে যায়। সেই সময় অঞ্জলি পাড়ার ছেলেগুলোর উদ্দেশ্যে বলে -- তাহলে তোরা সালিশি সভা বসিয়ে ওদের বিচার চাইছিস তো ?
সবাই সমস্ববলে ওঠে --- হ্যা।
---- তাহলে মেয়েটার বাবা-মা , বাড়ির লোকেদের নিয়ে আয় আগে।
অঞ্জলির মুখের কথা শেষ হয় না ছেলেগুলো ছুট লাগায় সনাতনের বাড়ির দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সনাতন , তার স্ত্রী বিজলী আর সনাতনের দুই ভাইকে টানতে টানতে ধরে নিয়ে আসে।
অঞ্জলির কান্ড কারাখানা দেখে হতবাক হয়ে যায় সাবিত্রীদি, শ্রাবণীদিরা।
ঘটনার গতিপ্রকৃতি কোনদিকে যাচ্ছে তা আন্দাজ করতে পারে না আলাপন। তাই তারা অবাক চোখে চেয়ে থাকে অঞ্জলির মুখের দিকে। তাদের চেনা সেই অঞ্জলির সঙ্গে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে কিছুতেই মেলাতে পারে না। হতভাগিনী মেয়েদের জন্য তার এতদিনের দরদ তাহলে কি নিছক লোক দেখানো ছিল ? ভেবে কিছু কুল কিনারা পায় না তারা। সাবিত্রীদি আর চাপ নিতে পারেন না। একসময় অঞ্জলিকে বলেন , তোর মতিগতি কিছু বুঝতে পারছি না। তুই কি চাইছিস বলতো ?
---- একটু ধৈর্য ধরে দেখই না।
এবারে জ্যেঠু বলেন -- কিন্তু ছেলে-মেয়ে দুটো যে বাঁধা থেকে কষ্ট পাচ্ছে।
---- পাক , নাহলে ওর বাবা মা'রা যে বুঝতে পারবে না অন্যের ছেলেমেয়ে বাঁধা থাকলে তার বাবা-মায়ের কেমন কষ্ট হয়।
শ্রাবণী কি যেন বলতে যাচ্ছিল , অঞ্জলির কথার মাঝে তা চাপা পড়ে যায়। অঞ্জলি তাকে চুপ করিয়ে দিয়ে ছেলেদের উদ্দেশ্যে বলে, তাহলে আজকের এই সভা ওদের কি শাস্তি ধার্য করছে।
উৎসাহিত হয়ে ছেলের দল বলে --- দু'জনের ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হোক।
অঞ্জলি বলে, বিচারটা ঠিক হোল না। আজ থেকে ১১ বছর আগে এই গ্রামেই এই রকম একটি ঘটনায় ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছিল। এই কয়েক বছরে সবকিছুর দাম কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছে। অথচ জরিমানার বেলায় মাত্র ১০ হাজার টাকা বাড়বে ?
অমনি সবাই বলে ওঠে -- ঠিক বলেছো দিদি, ওটা পুরোপুরি ৫০ হাজার টাকা করে দাও তাহলে।
--- হ্যা , এবারে ন্যায্য হয়েছে। ওদের বাবা - মাকে টাকাটা রাতের মধ্যেই জমা দিতে বলে দাও।
অঞ্জলির কথা শুনে সনাতন বলে , আমার অত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আর আমি এই বিচার মানিও না।
এবারে আর অঞ্জলিকে কথা বলতে হয় না। পাড়ার ছেলেরাই বলে, সামর্থ্য নেই বললে তো চলবে না। তোমার বিচারেই তো টাকা দিতে না পারলে গায়ে গায়ে শোধ করে নেওয়ার নজির আছে। তোমার মেয়ের ক্ষেত্রেও সেটাই হবে।
কথাটা শুনেই যেন শিউরে ওঠে অঞ্জলি। তলপেটের ব্যাথাটা যেন চিনচিন করে ওঠে।
আর ওই কথা শোনার পর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না সনাতন। চিৎকার করে বলে ওঠে , এ বিচার আমি মানি না।
অমনি ছেলেগুলো বলে ওঠে -- বেশ তাহলে পাঁচ গাঁয়ের মোড়ল ডেকেই বিচার হোক।
প্রত্যুত্তরে কেউ কোন কথা বলতে পারে না। রঞ্জিতরা সমন্বয় মঞ্চের তিনটি মোটর বাইক হাকিয়ে পাঁচ গাঁয়ের মোড়লদের আনতে ছোটে। ততক্ষণে খবর পেয়ে টালিপাড়া থেকে বাবা-মা, সঞ্চিতারা এসে পড়েছে। এসে পড়েছেন অরুনস্যররাও। থানার ওসি আর সুহাসবাবুও গাড়ি হাঁকিয়ে এসেছেন। অঞ্জলি লক্ষ্য করে সুহাসবাবু ফোনে উত্তেজিত স্বরে কাকে যেন বলছেন , সেদিন তো স্যার মেয়েটাকে মাথায় তুলে দিয়ে চলে গেলেন। সেই মেয়ে যে এখন মাথায় চড়ে নাচছে কেমন দেখে যান। সরকারি প্রতিষ্ঠানেই সালিশি সভা বসিয়েছে।
কথাবার্তার ধরণ দেখেই অঞ্জলি আন্দাজ করে ফোনটা সুহাসবাবু মন্ত্রীসাহেবকে করেছেন। তার আন্দাজ মিলেও যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মোবাইল বেজে ওঠে। স্ক্রীনে ভেসে ওঠে মন্ত্রীসাহেবের নম্বর।সে একটু সরে গিয়ে মন্ত্রীসাহেবের সঙ্গে কথা বলে। কথা বলতে বলতেই সে লক্ষ্য করে সুহাসবাবুর মুখটা উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে।সে কথা বলে ফিরে আসতেই ওসি এসে বলেন , এসব চলবে না। বন্ধ করুন এক্ষুনি।
অঞ্জলি বলে, বন্ধ করুন বললেই তো হলো না। এ হচ্ছে আমাদের আদিবাসী সমাজের সালিশি সভার রায়। হাকিম নড়ে, কিন্তু হুকুম নড়ে না। তারপর উপস্থিত পাড়ার ছেলেদের উদ্দেশ্যে সে বলে -- কি তাই তো ?
সবাই বলে -- হ্যা, এখানে আমরা কারও নাগ গলানো মানব না।
একসঙ্গে গোটা গ্রাম বিশেষ করে যুবকদের গর্জে উঠতে দেখে ওসি পিছু হঠতে বাধ্য হন।
অঞ্জলি বুঝতে পারে এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি থানায় সেদিনের অপমানের শোধ তুলতে চেয়ে চেয়েছিলেন। তাই ব্যর্থ হয়ে উত্তেজিত স্বরে তাকেও ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। তার কথা শেষ হতেই মধ্যে ডি,এম সাহেবের ফোন আসে তার কাছে। সে সরে গিয়ে কথা বলে ফিরে আসতেই সুহাসবাবু আর ওসি বলে , মন্ত্রী আর ডি,এম সাহেব নিশ্চয় আপনাকে এসব বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। নিন এবার সব বন্ধ করুন।
অঞ্জলি বলে -- কই তারা তো কেউ ফোনই করেন নি।
সেই কথা শুনেই সুহাসবাবু আর ওসি ফের ফোন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওদের মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে। অঞ্জলি ওদের ভাবগতিক দেখেই বুঝতে পারে রিং হয়ে গেলেও অন্যপক্ষের সাড়া মিলছে না। অগত্যা তারাও দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে যান। ততক্ষণে পাঁচ গায়ের মোড়লদের নিয়ে পৌঁছে যায় রঞ্জিতরা। সবকিছু শোনার পর তারাও একই রায় বহাল রাখেন। আর সেই রায় শোনার পর সনাতন চিৎকার করে ওঠে ---না -- আ -- আ ।
অঞ্জলির মনে পড়ে যায় -- সেদিন সে'ও রায় শোনার পর এমন ভাবেই তীব্র চিৎকার করে ওঠেছিল।
তার চিৎকারে রাতের স্তব্ধতা ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ তার সেই চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে আসে নি। নির্মম ভাবে লুণ্ঠিত হয়েছিল তার ইজ্জত। সেই ঘটনার কথা মনে পড়তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। তা দেখে সাবিত্রীদি বলেন , তোর মতো মেয়ের কাছে এটা আশা করি নি। আক্রোশ পুষে রেখে বাবার রাগ তুই মেয়ের উপর মেটাচ্ছিস ?
অঞ্জলি কোন কথা বলে না। উদাস চোখে শুধু চেয়ে থাকে। এবার জ্যেঠু বলেন --তোমাকে আমাদের চিনতে ভুল হয়েছিল। এমন জানলে সেদিন কিছুতেই তোমার পাশে দাঁড়াতাম না।
এবারেও কোন প্রত্যুত্তর করে না অঞ্জলি। তাই দেখে শ্রাবণী, সঞ্চিতারা বলে , তোমার জন্য আমাদের কত গর্ব ছিল। সব আজ ধুলিষ্যাৎ হয়ে গেল। নিজে একটা মেয়ে হয়ে আর একটা মেয়ের সর্বনাশ করতে তোমার বিবেকে বাঁধছে না ?
অরুণস্যারেরা বলেন -- তোর সঙ্গে এতদিন সব কাজে ছিলাম বলে আজ অনুশোচনা লাগছে।
আলাপন কেবল নির্বাক বিষ্ময়ে তার দিকে চেয়ে থাকে।
আচমকা সে বলে উঠে , না আমার বিবেকে বাঁধছে না। আমিও মানুষ , আমার রাগ- দুঃখ- অভিমান সব আছে। বলেই সে মিটিমিটি হাসতে থাকে।
সেই দেখে দিদি, দাদা, বাবা বলে, তুই হাসছিস ? অন্ধ আক্রোশে তুই কি পাগল হয়ে গেলি ? আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আমরা সবাই চলে যাচ্ছি।
---- শেষটুকু না দেখেই চলে যাবি ? অঞ্জলির কথা শেষ হয় না। একটা গাড়ি এসে থামে সমন্বয় মঞ্চের সামনে। তাতে থেকে নামেন কোট- টাই পড়া দুই ভদ্রলোক। অঞ্জলি এগিয়ে গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। তারপর ছেলেদের উদ্দ্যেশ্যে বলে -- ওদের দুজনকে বাঁধন খুলে নিয়ে আয়।
ছেলেমেয়ে দুটিকে কাছে ডেকে অঞ্জলি জিজ্ঞেস করে -- তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসো ? বিয়ে করতে চাও ?
দুজনেই ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়। তারপর অঞ্জলি বলে, নিন রেজিস্টার সাহেব এবার ওদের বিয়েটা দিয়ে দিন।
ম্যারেজ রেজিস্টার বলেন , হ্যা আমি কাগজপত্র সব রেডি করেই এনেছি। কয়েকটা সই আর ওদের নাম ধাম হলেই হয়ে যাবে।
ওই কথা শোনার পর ছেলেমেয়ে দুটি তাকে প্রনাম করে। সে তাদের বুকে জড়িয়ে ধরে বলে - খুব খারাপ লাগছে তোমাদের এতক্ষণ বাঁধা অবস্থায় রাখতে হলো বলে। কিন্তু এছাড়া কোন উপায়ও ছিল না। না হলে তোমাদের বাবা-মা'রা জানতে পারত না অন্যের ছেলেমেয়ে বাঁধা থাকলে তার বাবা- মায়ের কি হয় ? এজন্য পারলে আমাকে তোমরা ক্ষমা কোর।
আচমকা ঘটনার পটপরিবর্তনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে সবাই। সূচ পড়লেও শোনা যাবে এমন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। সবার মনে হয় এতক্ষণ যেন তারা কোন রুদ্ধশ্বাস নাটক দেখছিলেন। সেই সময় ম্যারেজ রেজিস্টার তার সামনে একটা কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলেন -- ম্যাডাম স্বাক্ষী হিসাবে আপনি একটা সই করে দিন।
সেই কাগজে সই করতে করতে অঞ্জলি বলে , এই পাড়ার কোন কাজে এই আমার শেষ সই। এই পাড়াতে আজ আমার শেষদিন।
সাবিত্রীদিরা সবাই বলেন , মানে ? আমরা তোকে ভুল বুঝেছি বলে তুই চলে যাবি ? তুই কি সবসময় একাই শুধু চিক দিয়ে যাবি ? তা হবে না, আমরা মাথা ঠুকে মরব কিন্তু তোকে যেতে দেব না।
সনাতন পর্যন্ত ছুটে এসে বলে, মা গো বলো তো আমরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তুমি যেও না। তুমি যে মা , তুমি যে এই পাড়ার মা। তুমি চলে গেলে সবাই যে অনাথ হয়ে পড়বে মা।
অঞ্জলি বলে , রাগ, দুঃখ কিম্বা অভিমানের ব্যাপার নয়। আমার আর আলাপনের অন্যত্র পদোন্নতির অর্ডার এসেছে। কালই ডি,এম সাহেব চিঠি দুটো আমাকে দিয়ে গিয়েছিলেন। কাল বিয়ের দিন ছিল বলে কাউকে কিছু বলি নি। বলে ঘর থেকে ব্যাগপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে সে। চিঠি দুটো তুলে দেয় আলাপনের হাতে। সেই মুহুর্তেই সবার মনে পড়ে যায় কালই ওই চিঠি দুটো তো ডি,এম সাহেব তুলে গিয়েছেন অঞ্জলির হাতে। কিন্তু অঞ্জলির বদলি কিছুতেই তারা মেনে নিতে পারে না। তাই সে পাড়ার বাইরে পা বাড়াতেই সবাই ঘিরে ধরে তাকে। একসঙ্গে সঞ্চিতা, শ্রাবণী, রঞ্জিতরা গর্জে ওঠে -- মানি না বদং পাড়া ছেড়ে যেতে দেব না তোমাকে। একসময় সবাই সার দিয়ে তার যাত্রাপথের সামনে শুয়ে পড়ে। অঞ্জলি তাদের একে একে তুলে বলে -- আমারও কি তোদের যেতে ভালো লাগছে ? কত স্মৃতি, কত ভালো লাগা - ভালোবাসা, কত স্বপ্ন ফেলে যেতে আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে রে। কিন্তু কোন উপায় নেই। বদলিটা সরকারি নিয়ম। আর সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করতে নেই।
--- তাহলে আমাদের কি হবে ?
--- তোরা আরও ভালোভাবে গ্রামটাকে গড়বি। তাহলে আমার উপস্থিতি টের পাবি। এ গ্রামের সবেতেই যে আমি আছি রে।
তারপর আলোর হাত ধরে অঞ্জলি এগিয়ে চলে আরও আলোর পথে। পিছনে পড়ে থাকে তার আত্মীয় পরিজন , স্বপ্নে গড়া গ্রাম , গ্রামের মানুষজন। তাকে যে আরও অনেক শ্রীপল্লীর শ্রী ফেরাতে হবে।
প্রিয় বন্ধুরা , শেষ হল সালিশির রায় । ৮৬ টি কিস্তি যারা আমার সঙ্গে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ। আপনাদের ভালো লাগা - মন্দ লাগার প্রতিক্রিয়া আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এই গল্প নিছক একটি গল্প নয়। বরং অনেকখানিই বাস্তব। বীরভূমেরই একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ঘটে যাওয়া খুব কাছে থেকে দেখা ঘটনাকে মনের মাধুরী মিশিয়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কতটুকু পেরেছি জানি না। সেই বিচার আপনারা করবেন। এমনি ভাবেই পাশে থাকবেন। আর সবাই খুব - খুব ভালো থাকবেন। প্রিয়জনদের ভালো রাখবেন। শীঘ্রই শুরু হবে ধারাবাহিক নাটক ' আলোর ঠিকানা।' নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন।



No comments:
Post a Comment