Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

সালিশির রায় --- ৮৫





              সালিশির রায়


                          

        

                                    অর্ঘ্য ঘোষ


           ( কিস্তি -- ৮৫ )




আলাপন গেয়ে ওঠে -- " আমার  হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো সখা, আমি যে পথ চিনি না"।
---উহু হোল না, ভুল হোল।  প্রথমত ব্যাকরণগত ভুল। আমি সখা নয় সখী। দ্বিতীয়ত আমি নিজেই পথ চিনি না। আমার 'আলো'র হাত ধরেই আমি পথ চলি। আর সত্যি সত্যিই আমি এখন পথ হারিয়ে ফেলেছি। তুমিই বরং " আমার  হাত ধরে তুমি  নিয়ে চলো সখা , আমি যে পথ চিনি না "।
--- কোই বাত নেহি। বাড়াও হাত।
অঞ্জলি হাত বাড়িয়ে দেয়। তারপর হাত ধরাধরি করে ঘরে এসে বসে দুজনে। আলাপনকে সবিস্তারে ঘটনার কথা খুলে বলে অঞ্জলি।খুব দ্রুত সে সমন্বয় মঞ্চেই  এক সঙ্গে তিন জোড়া বিয়ে দিতে চায়। বিশেষ করে দুলাল  আর মালতির কথা ভেবে বিয়েটা আজ হলে সে কাল যাবে না। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আলাপনও। সে তখনই ডি,এম, সাহেবকে ফোনে সমস্ত কথা খুলে বলে। বাদ যায় না দুলাল-মালতিকে নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির কথাও। সব শুনে ডি,এম সাহেব জানান, কোন দুঃশ্চিন্তা করতে হবে না। এমন হতেই পারে। হোমের তিনটি মেয়ে সমাজের মুলস্রোতে ফিরতে চলেছে এর থেকে ভালো খবর আর কি'ই বা হতে পারে ?  তোমরা কালই বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেল। আমি মোতিপুরের বি,ডি,ও'কে সমস্ত রকম ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিচ্ছি। আর আমরাও কাল সকাল সকাল পৌঁচ্ছে যাব। ডি,এম সাহেবের সম্মতি পাওয়ার পরই যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে অঞ্জলির। সে পাড়ার ছেলেদের ডেকে বিয়ের কাজে নেমে পড়ার কথা বলে। তিন জোড়া পাত্রপাত্রীকে বলে, নাও এবার ষোলকলা পূর্ণ হতে চলেছে। কালই ডি,এম সাহেব আসছেন, তোমাদের ১২ হাত এক করে দিতে। অঞ্জলির কথা শুনে সবাই মুখ নামিয়ে নেয়। কেউ কোন কথা বলতে পারে না।
অঞ্জলি বলে, হয়েছে হয়েছে, আর লজ্জা দেখাতে হবে না। সব রেডি হয়ে নাও। বাজারে গিয়ে পোশাক আশাক সব কিনে আনতে হবে।
মালতি আমতা আমতা করে বলে --- তুমি থাকতে আমরা আবার কি পচ্ছন্দ করতে যাব গো দিদি ? তুমিই পচ্ছন্দ করে কিনে এনো। তোমার পচ্ছন্দই আমাদের পচ্ছন্দ।
---- কেন বিয়ে করার জন্য মানুষটা তো বেশ নিজেরা পচ্ছন্দ করে বসে আছো। তখন তো আর দিদির পচ্ছন্দের তোয়াক্কা করো নি। এখন বিয়ের পোশাকটাই বা নিজেরা পছন্দ করবে না কেন শুনি ?



                                         আবার সবাই মাটির দিকে মুখ নামায়। তা দেখে মেয়ে তিনটিকে বুকে টেনে নেয় অঞ্জলি। সেও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। প্রচ্ছন্ন প্রশয় ঝড়ে পড়ে তার গলায়। খুব মিষ্টি করে বলে -- এমনটা যে ঘটতে চলেছে সে ইঙ্গিত আমি আগেই তোদের চলনে-বলনে পেয়েছিলাম। আমিও যে এরকমটাই চেয়েছিলাম রে।
এবারে সাহসে ভর করে সঞ্চিতা বলে -- জানি তো দিদি, সেই জন্যই তো আমরাও এতটা এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছিলাম।
---- ওরে দুষ্টু মেয়েরে। তোদের পেটে পেটে এত দুষ্টু বুদ্ধি। দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। বলেই সঞ্চিতার মাথায় আলতো করে সোহাগের চাঁটি মারার জন্য হাত তোলে অঞ্জলি। আর সঞ্চিতাও মাথাটা নামিয়ে দিয়ে বলে -- মারো মারো, তোমার হাতের চড় তো আর্শিবাদ গো দিদি।
অঞ্জলি হাত সরিয়ে নিয়ে সবার মাথায় চুমু খায়। আর ওরাও সবাই তাকে আর আলাপনকে প্রনাম করে। ওদের দেখাদেখি দাদাও আলাপনের পায়ে হাত ছোঁওয়াতে যাচ্ছিল। আলাপন দ্রুত পা সরিয়ে নেয়। আর সে দাদার হাত চেপে ধরে বলে -- প্রেম করতে গিয়ে তোর বুদ্ধি সুদ্ধি কি একে বারে গেল? তুই আমাদের দাদা, গুরুজন না ? তুই ওকে  প্রনাম করতে যাচ্ছিস যে বড়ো ?
তারপর সঞ্চিতার দিকে চোখ পাকিয়ে বলে ,  তুইও আর আমাকে প্রনাম করবি না। এবার তো তুই আমার বৌদি হয়ে গেলি।
সঞ্চিতা বলে -- তোমার দাদাকে বিয়ে করছি বলে আমি কিন্তু তোমার বৌদি-টৌদি হতে পারব না তা বলে দিলাম। আমি তোমার বোন ছিলাম, বোনই থাকব।
মালতি আর প্রতিমা বলে -- আমরাও।
হাসি-ঠাট্টায় ঘরের পরিবেশটা অন্যরকম হয়ে ওঠে। সঞ্চিতারা বাজারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বেড়িয়ে যায়। আর তারা দুজনে নেমে পড়ে কাজে। সবাইকে একে একে ফোনে বিয়ের খবরটা দেওয়া শুরু করে দেয় তারা। প্রথমেই জানানো হয় সংবাদ মাধ্যমকে। অঞ্জলি মনে করে সে আজ যা  হতে পেরেছে তার জন্য বড়ো ভূমিকা রয়েছে সংবাদ মাধ্যমের। তাই সবকিছুতেই সবার আগে তার সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে জ্যেঠুর দোকানে প্রথম  পরিচয় হওয়া অয়ন আর সুস্মিত এই  দুজন সাংবাদিকের কথা মনে পড়ে। তারপর একে একে হোম, সাবিত্রীদির বাড়ি, অমলবাবু, শ্রাবণী, চায়ের দোকানের জ্যেঠু, অরুণস্যরদের খবর দেওয়া হয়।খবর শুনে সবাই খুব খুশী। সবাই জানিয়ে দেন সকাল হলেই পৌঁছে যাবেন তারা। সবার শেষে দিদিকে ফোনে ধরে অঞ্জলি।
শুনেই দিদি বলে, বলিস কি রে ?
অঞ্জলি বলে, তবে আর বলছি কি? এ তো সেই  " ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে"র মতো ব্যাপার। নাহলে তো নিজেই তোদের বলতে যেতাম।
--- না না ও নিয়ে তোকে কোন চিন্তা করতে হবে না। বিরাট একটা কাজ করলি তুই।
---- আমি আর কোথাই করলাম ? যা করার তা তো ওরা নিজেরাই করেছে।
---- বাহ্  তুই ওদের আশ্রয় না দিলে এমনটা সম্ভব হত ?  তিনটে অভাগী মেয়ে ঘরসংসার পেতে চলেছে এর চেয়ে খুশীর খবর আর কিছু হতে পারে না।



                              গণবিবাহের খবরটা ছড়িয়ে পড়ে পাড়ায়। মোড়ল আর তার সেইসব সঙ্গীরা বাদে  সবাই কোমর বেঁধে নেমে পড়ে। ওরা অবশ্য সবেতেই একটু দূরে দুরেই থাকে।তাদের দেখে রাগ আর ঘৃণায় সারা শরীর এখনও রি-রি করে ওঠে অঞ্জলির। কিন্তু সরকারি কাজে সে তার ব্যক্তিগত রাগের বর্হ্বিপ্রকাশ ঘটতে দেওয়া অনুচিত বলে মনে করে। তাই সবাইকেই সে সমদৃষ্টিতেই দেখে। কিন্তু ওদের মনের মধ্যেই বোধহয় অপরাধবোধ কাজ করে। সেই জন্যই ওরা সবার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে মেলামেশা করতে পারে না। আজকের দিনে আর ওইসব কথা ভাবতে চায় না অঞ্জলি। মন থেকে সে ভাবনাটাকে তাড়ায়। সেই সময় পাড়ার ছেলেরা এসে বলে, দিদি বিয়েতে মাছ -- মাংস আর সবজি যা লাগবে তা কিন্তু আমরা দেব। তুমি কিন্তু না কোর না।
অঞ্জলি জানে এই বিয়ের সমস্ত খরচ প্রশাসন বহন করবে। কিন্তু গ্রামের ছেলেদের এই উদার  মানসিকতাটা তার খুব ভালো লাগে। সব বিয়েতে তো আর প্রশাসন পাশে থাকবে না। সেই সব বিয়েতেও যদি এভাবেই সবাই এগিয়ে আসে তাহলে তার যৌথ ভাবনার সার্থক রূপায়ণ হবে। তাই সে বলে - ভালোই তো, তোদের যখন মন চেয়েছে তখন দিবি। আমি না করতে যাব কেন ?
তার সম্মতি পাওয়ার পর ছেলেগুলো হই-হই করতে করতে বেরিয়ে যায়। ওদের ভাব দেখে মনে হয় যেন রাজ্য জয় করে ফেলেছে। তারা চলে যেতেই তিন জোড়া পাত্র-পাত্রীকে নিয়ে সে আর আলাপন লাভপুরে বাজার করার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়ে। যাওয়ার পথে টালিপাড়ায় বাবা-মা'কেও গাড়িতে তুলে নেয় তারা। কথাটা শুনে বাবা-মা প্রথমে খুব অবাক হয়ে যায়। তারপর সবটা শুনে খুশীও হয়। মহা উৎসাহে ঘুরে ঘুরে বাজার করে তারা। তিনজন বর আর বৌয়ের জন্য একই রকম পোশাক কেনা হয়। তিন জন হবু বৌয়ের জন্য কেনা হয় এক জোড়া করে কানের দুল আর হার। বাবা-মায়ের জন্যও পোশাক কেনা হয়। কেনা সমন্বয় মঞ্চের ছেলেগুলোর জন্যও। অঞ্জলি আলাপনের জন্য পাজামা-পাঞ্জাবী কেনে। আলাপনও তাকে বিয়েতে পড়ার জন্য নিজে পচ্ছন্দ করে দারুন সুন্দর একটা শাড়ি কিনে দেয়। বাজার করে ফেরার পথে তারা বাবা-মা আর সঞ্চিতাদের টালিপাড়ার বাড়িতে নামিয়ে দেয়। তারা দুজনে অবশ্য শ্রীপল্লীতেই ফেরে ।



                                       সমন্বয় মঞ্চের সামনে পৌঁছোতেই কিছুটা বিস্মিত হয়ে যায় তারা। কারণ ততক্ষণে সেখানে প্যাণ্ডেল খাটানো শুরু হয়ে গিয়েছে। ক্যাটারারের লোকজন এক কোনে তাবু খাটিয়ে আগামীকালের বিয়ের খাওয়া-দাওয়ার যোগাড়পাতি শুরু করে দিয়েছে। কে করল এইসব ব্যবস্থা ? তারা তো কাউকে কিছু বলে নি, তাহলে ?কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যায়। অঞ্জলি দেখে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে  পাড়ার  ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছেন থানার ওসি।তাদের দেখেই অঞ্জলি বুঝতে পারে ডি,এম সাহেবের নির্দেশে প্রশাসনই এসব ব্যবস্থা করছে। কাছে আসতেই ওসি ভদ্রলোকের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। ভদ্রলোকের নাম কৌশিক সিনহা। মোতিপুর ব্লকের নতুন বি,ডি,ও। নমস্কার করে বি,ডি,ও সাহেব বলেন, সংবাদ মাধ্যমে আপনাদের এই কর্মযজ্ঞের কথা শুনেছিলাম। আজ নয়ন সার্থক হলো।
সে আর আলাপন প্রতিনমস্কার করে। কালকের গণবিবাহ নিয়েও অনেক কথা হয়। কৌশিকবাবু বলেন, কালকের অনুষ্ঠান নিয়ে ডি,এম স্যর তো রীতিমতো এক্সাইটেড। আমাকে ফোন করে বললেন, এখনই গ্রামে চলে যান। ওসিকে ডেকে নিন। দেখবেন যেন কোন ত্রুটি হয় না। কথা শুনেই বুঝলাম উনি আপনাকে খুব ভরসা করেন।
---- না না, উনি আমাকে খুব স্নেহ করেন। আমিই সব কাজে ওনাকে আর এনাকে খুব ভরসা করি। বলে আঙুল তুলে আলাপনকে দেখায়।
তার কথা শুনে মুচকি হেসে বি,ডি,ও সাহেব বলেন, তাই বুঝি ? আমার অবশ্য উল্টো। আমি তাকেই ভরসা করি। আমার ভরসা - টরসার ধার তিনি বিশেষ একটা ধারেন না। বি,ডি,ও সাহেবের কর্তাবার্তা খুব ভালো লেগে যায় অঞ্জলির। খুব আন্তরিক মনে হয় তার। ওসিকেই বরং তার কিছুটা অন্যরকম লাগে। তাদের উপর বিশেষ করে সেদিন থানায় সেই কথা বলার কারণেই মনে হয় আলাপনের উপর মনে মনে খুব খাপ্পা হয়ে আছেন। কিন্তু ডি,এম সাহেব তাদের খুব স্নেহ করেন দেখেই বিগলিত বিনয় দেখান। আরও কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে চা-টা খেয়ে বি,ডি,ও আর ওসি চলে যান। আর পাড়ার ছেলেদের নিয়ে বিয়ের সবদিক তদারকি করতে করতেই তাদের রাত কেটে যায়। একবারের জন্যও দুচোখের পাতা এক করার ফুরসত মেলে না তাদের।



                                            কারণ তারা দুজনেই যে একাধারে পাত্র আর পাত্রী পক্ষ। সকাল থেকেই বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে। এক সঙ্গে তিন জোড়া বিয়ে বলে কথা। সেইজন্য রাত্রের বদলে দিনেই সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা পাড়া তো বটেই আরও অনেক লোক আসবেন। তাদের খাওদার ব্যাপারটাও কম কথা নয়। তাই সকালে হতেই তারা দু'জনে স্নান টান করে রেডি হয়ে নেয়। তারমধ্যেই একে একে এসে পৌঁছোয় সংবাদমাধ্যম, সাবিত্রীদি, শ্রাবণী, অরুণস্যর, জ্যেঠু, কে না এসেছে ? সে এগিয়ে গিয়ে সবাইকে সমন্বয় মঞ্চের অফিস ঘরে নিয়ে আসে। সবাই যে খুব খুশী হয়েছে তা তাদের চোখ মুখ দেখে বুঝতে পারে অঞ্জলি। সাবিত্রীদি আর শ্রাবণীও তার সঙ্গে কোমর বেঁধে কাজে লেগে পড়ে। বাকিরা পাড়াটাকে ঘুরে দেখতে বেরিয়ে পড়ে। অঞ্জলি হোমের মেয়ে আর ডি,এম সাহেবদের জন্য ঘন ঘন রাস্তার দিকে চায়। কিছুক্ষণ আগেই দাদা ফোন করে জানিয়েছে, দিদিরাও টালিপাড়ার বাড়িতে এসে পৌঁছে গিয়েছে। একেবার বাবা-মাকে নিয়ে বিয়ের গাড়িতেই আসবে তারা। তাদের আনতে গাড়িও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেকোন সময় তারা এসে পড়তে পারে। এখন ডি,এম সাহেবরা এলেই হয়।ঠিক সেই সময় হর্ণ বাজাতে বাজাতে গ্রামে ঢোকে গাড়ির কনভয়। গাড়ি থেকে নামেন ডি,এম ,  এস,পি, ম্যারেজ রেজিস্টার সহ বেশ কিছু সরকারি অফিসার। অন্য একটি গাড়ি থেকে নামে হোমের মেয়েরা।তাদের পিছনেই দিদি--জামাইদাদের সঙ্গে গাড়ি থেকে নামে সঞ্চিতারাও।একই রকম পোশাকে তিন বরের মতোই কনেদেরও দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। তাদের তাক করেই ঘন ঘন ঝলসে ওঠে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামরা। একসময় শুরু হয়ে যায় বিয়ের প্রক্রিয়া। প্রথমে ম্যারেজ রেজিস্টারের কাছে নথিভুক্তি করণের পর হয় আনুষ্ঠানিক বিয়ে। বিয়ের পর তিনজোড়া বর কনের সংগে ডি,এম, এস,পির পাশাপাশি তার আর আলাপনের ছবি তুলতে শুরু করে সংবাদ মাধ্যমের লোকেরা। তখন অঞ্জলি গিয়ে সবাং একসঙ্গে হাজির করে বলে, নিন এবার ছবি তুলুন। এই কর্মযজ্ঞে আমরা সবাই আছি। তার কথা শুনে পাড়ার ছেলেরা ঘন ঘন চিৎকার করে বলে ওঠে , দিদি যুগ যুগ জিও। আনন্দাশ্রুতে ভরে যায় অঞ্জলির চোখ। খাওয়া দাওয়ার পর শুরু হয় বিদায় নেওয়ার পালা। ততক্ষণে দিনের আলো মরে এসেছে। ফিরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকরা ডি,এম সাহেবকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করেন। ডি,এম সাহেব তখন ইশারায় তাকে আর আলাপনকে কাছে ডাকেন। তাদের দুজন কে দুপাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ডি,এম সাহেব বলেন , অঞ্জলির জন্যই আজ আমাদের জেলা রাজ্যের মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যে মানুষটির প্রেরণায় এটা সম্ভব হয়েছে তিনি আলাপনবাবু। তাদের জন্যই এই পাড়াটি রোল মডেল হিসাবে পুরস্কৃত হতে চলেছে। তাই সরকারের তরফ থেকেও তাদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডি,এম সাহেবের ঘোষণার পর হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা মাঠ।তার হাতে দুটো খাম তুলে দিয়ে ডি,এম সাহেবরা বেড়িয়ে যান। সে খাম দুটো ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে অঞ্জলি। তারপর হোমের মেয়েদের গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। গাড়িতে ওঠার আগে বাসন্তি , লাবনিরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে অভিমান ভরা গলায় , বলে দিদি তুমি তো আমাদের ভুলেই গিয়েছো। সেই যে এলে আর গেলে না। এবারে তো সঞ্চিতাদির শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে। আমরা কিন্তু তোমার কাছে চলে আসব।
অঞ্জলি হেসে বলে, বেশ তাই আসবি। আর এতদিন কাজের চাপে যেতে পারি নি। এবার কাজের চাপ কমেছে। এবার থেকে মাঝে মধ্যেই যাব দেখিস। তোদের কি ভুলতে পারি ? ভোলা যায় ?
হোমের মেয়েদের বিদায় দিয়ে প্রতিমা আর রঞ্জিতকে সে আর আলাপন তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে । সঞ্চিতাদের নিয়ে টালিপাড়ার বাড়িতে ফিরে যায় দিদিরা। অরুণস্যরও বাড়ি ফিরে যান।  সাবিত্রী আর শ্রাবণীরা ফেরার উদ্যোগ নিতেই অঞ্জলি গিয়ে তাদের পথ আগলে ধরে। সেই রাতটা থাকার জন্য আবদার করে সে। সেই আবদার ফেরাতে পারে না কেউ। অঞ্জলির আবদার মেনে জ্যেঠু, অমলবাবুদেরও সে রাতে আর যাওয়া হয় না। দুটি ঘরে শতরঞ্চি বিছিয়েই শুয়েপড়ে সবাই। গল্প করতে করতে রাত গভীর হয়। সারাদিনের ক্লান্তির পর সবার চোখে নেমে আসে প্রশান্তির ঘুম। আচমকা তুমুল হই-হট্টগোলে ঘুম ভেঙে যায় অঞ্জলির।

 


               ( ক্রমশ )




        নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


                   শীঘ্রই আসছে 

           ধারাবাহিক নাটক ----                                 

                                                               


                                    

                -----০----- 

   
       

No comments:

Post a Comment