Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

লুপ্তপ্রায় খেলা -- ৭




                                                               


   
     ( শুরু হোল হারিয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন খেলা নিয়ে ধারাবাহিক লেখা )

          

            লুপ্তপ্রায়  খেলা -- ৭ 
                                 
                                           
                                            
                  ( ছবি -- সোমনাথ মুস্তাফি )
                         

                              লুকোচুরি 



গান , কবিতা , গল্প , উপন্যাস । বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবন্ত হয়ে রয়েছে ' লুকোচুরি ' শব্দটি। মানুষের কথাবার্তাতেও ঘুরে ফিরে আসে  শব্দটি। কিন্তু চর্চার অভাবে আর পাঁচটি খেলার মতোই হারিয়ে যেতে বসেছে 'লুকোচুরি' খেলাটিও। একসময় কচি গলায় খড়ের পালুই , ঝোপজঙ্গল কিম্বা পোড়ো বাড়ির ভিতর থেকে শোনা যেত ' কুক - কুউক - কুকই কিম্বা ' ধাপপা ' জাতীয় কয়েকটি বিশেষ শব্দ। আসলে ওই খেলা জুড়ে রয়েছে শব্দগুলি।শব্দগুলি আর কানে আসে না বললেই চলে। 


   
                          নিজেকে লুকিয়ে রাখাই ওই খেলার মুল লক্ষ্য । সেই জন্যই খেলার নাম ' লুকোচুরি ' । খেলার নিয়ম কানুন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম প্রচলিত থাকলেও অধিকাংশ জায়গাতেই খেলাটি  ' লুকোচুরি ' নামেই পরিচিত। ১০/১২ জন ছেলেমেয়ে একত্রে কিম্বা আলাদা আলাদা ভাবেও খেলাটি চলে ।ওই খেলায় নিজেকে লুকোনোর  জন্য বেছে নেওয়া হয় একাধিক খড় কিম্বা ধানের পালুই বিশিষ্ট খামারবাড়ি , ঝোঁপজঙ্গল কিম্বা  পোড়ো বাড়ির মতো স্থান।প্রথমে প্রচলিত পদ্ধতিতে একজনের ' মোর ' নির্ধারণ করা হয়। তবে এক্ষেত্রে ' উবু - দশ-কুড়ি 'র  মতো ' ওই দেখ দোতলা বাড়ি , কাক বসেছে সারি সারি কিম্বা ' ওগো মামা পায়ে পড়ি ,বৌ এনে দাও তাড়াতাড়ি , বৌ কেন কালো - নাক কেটে ফেল , নাকে নাই রক্ত , শিবানীর ভক্ত ' জাতীয় ছড়া আউড়ে ' মোর ' নির্ধারণের রীতিটিই ছেলেমেয়ের কাছে সব থেকে বেশি আমোদের খোরাক হিসাবে পরিচিত।



                              নিয়ম হল ' মোরধারী ' একটি নিদিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে এক থেকে একশ পর্যন্ত চিৎকার করে গণনা করতে থাকবে। কোথাও কোথাও তার চোখ বেঁধে দেওয়ার নিয়মও প্রচলিত রয়েছে। এক থেকে একশো গোনার সময় কালের মধ্যে বাকি খেলোয়াড়দের খড়ের পালুই , ঝোঁপজঙ্গল , পোড়োবাড়ি কিম্বা  পচ্ছন্দসই জায়গায় আলাদা আলাদা ভাবে নিজেদের লুকিয়ে ফেলতে হয় । কিন্তু লুকনোর জায়গাটি  সব সময় পূর্ব নির্ধারিত দুরত্বের মধ্যেই হতে হবে। যে খেলোয়াড় সেই দুরত্ব অতিক্রম করে তার  ' মোর ' ধরার নিয়ম চালু আছে বহু জায়গায়। 


          
                                          নির্ধারিত জায়গায় লুকোনো হয়ে গেলে খেলোয়াড়রা লুকোনো জায়গা থেকেই  ' কুক কিম্বা কুকই বলে চিৎকার করে ওঠে। ওই চিৎকার শোনার পর লুকিয়ে থাকা খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার পালা 'মোরধারীর ' । তাই চোখের আবরণ খুলে সে সম্ভাব্য স্থানগুলিতে তাদের খুঁজতে শুরু করে। সবার আগে 'মোরধারী ' যাকে দেখতে বা খুঁজে পায়  তার নাম সহ ' আইস - বাইশ ' বলে চিৎকার করে ওঠে। তারপর একে একে অন্য খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে হয় তাকে। তবেই 'মোর ' ঘোচে তার। তার স্থলে তখন  প্রথম  আইস-বাইশ ' হিসাবে চিহ্নিত খেলোয়াড়টিকে ' মোর ' খাটতে হয়। 


                                                                  কিন্তু প্রথম জন বা অন্যদের খোঁজার সময় যদি কোন খেলোয়াড় 'মোরধারীর ' নজর এড়িয়ে তার পিঠে  চাপড় মেরে ' ধাপপা  ' বলে চিৎকার করে উঠতে পারে তাহলে আর ' মোর ' ঘোঁচে না ' মোরধারী'র। ফের তাঁকে নিজের জায়গায় ফিরে চোখ বেঁধে দাঁড়িয়ে গণনা শুরু করতে হয়। ' আইস-বাইশ' চিহ্নিত খেলোয়াড়কে নিয়ে সাধারণত দু ' রকম নিয়ম চালু আছে। কোথাও কোথাও 'মোরধারী'  ' ধাপপা ' খেলেই তার চিহ্নিত ' আইস-বাইশ '  খেলোয়াড় ফের খেলায় সামিল হওয়ার সুযোগ লাভ করে। আবার কোথাও বা ' আইস-বাইস ' খেলোয়াড়কে খেলার বাইরে থাকতে হয়। একে একে সমস্ত খেলোয়াড়রা ওইভাবে  ' আইস -বাইশ ' চিহ্নিত হতে হতে শেষজন চিহ্নিত হলেই  ' মোরধারীর ' মোর ঘোচে অর্থাৎ খেলার পরিসমাপ্তি ঘটে।তখন নতুন করে ' মোরধারী ' নির্বাচনের পর ফের খেলা শুরু হয়। এই খেলাটির চল এখনও কিছু কিছু জায়গায়  রয়েছে।কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় আধুনিক বিনোদনের ভীড়ে মুখ লুকিয়েছে ' লুকোচুরিও' ।

               
                                               

        (  চলবে )


         নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 



    





                      --------০--------
                                      

                                          

No comments:

Post a Comment