Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

খেলার সেকাল একাল - ১

                   
                        
  


       আছে শুধু খেলার নষ্টালজিক সুখ 


                       অর্ঘ্য ঘোষ 


মানব সভ্যতার সার্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি খেলাধুলোরও প্রয়োজন। শরীর এবং চরিত্র গঠন , সর্বোপরি সৌভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে ক্রীড়া চর্চার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে খেলাধুলোর চর্চা।বিশেষত শতাধিক গ্রামীণ লোকক্রীড়া আজ চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে।বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ওইসব খেলার নামই জানে না।আজ আর গৃহস্থের গোবর নিকানো উঠানে দেখা যায় না ' চু-কিত-কিৎ' খেলার ছক।কচিকাঁচাদের গলায় শোনা যায় না ' কানামাছি ' খেলার সেই ' কানামাছি ভোঁ-ভোঁ - যাকে পাবি তাঁকে ছোঁ ' ছড়া।গ্রামীণ ওইসব খেলার সেই অর্থে কোন স্বীকৃতি নেই বলে ওইসব খেলার বিষয়ে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।অথচ একসময় ওইসব খেলার মধ্যেই ছেলেমেয়েরা খুঁজে পেত বৈচিত্রের স্বাদ। খেলায় ব্যবহৃত ছড়ার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে সময়কালীন বিষয় নিয়ে ছড়া বানানোর প্রবণতার মধ্যে দিয়ে কচিকাঁচাদের সৃজনীশক্তির বিকাশ ঘটত।
কিন্তু সোনালি শৈশবের সেইসব দিন আজ ইতিহাস প্রায়। ক্রিকেটের সর্বগ্রাসী ছায়ায় অন্যান্য খেলার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। ব্যাট নেই , মাঠ নেই , কিছু পরোয়াও নেই।কোন রকমে একটি বল কিনে তালগাছের 'বোগো'র ব্যাট আর বাঁশের বাতার উইকেট তৈরি করে নিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পুকুর গড়েতে শুধুই ক্রিকেট খেলায় মত্ত বর্তমান প্রজন্ম।আসলে গ্লামার সর্বস্ব দুনিয়ায় চিত্রতারকাদের পরেই সম্ভবত ক্রিকেটারদের স্থান।আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে চিত্রতারকাদেরও ছাপিয়ে যান ক্রিকেটাররা।ক্রিকেট খেলাকে ঘিরে যে আয়োজন , উন্মাদনা এবং আড়ম্বর লক্ষ্য করা যায় , অন্যান্য খেলার ক্ষেত্রে তা হয় না বললেই চলে।তাই ক্রিকেটের টানে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়েছে বর্তমান প্রজন্ম।


                         

                               অথচ এমন ছিল না দিন। কবাডি , ব্রতচারি , রায়বেশের মতো নানা লোকক্রীড়ায় সমৃদ্ধ ছিল আমাদের শৈশব। একসময় গ্রামীণ এলাকায় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল কবাডি খেলা।প্রায় প্রতিটি গ্রামেই ছিল কবাডির দল।শীতের মরসুমে গ্রামে গ্রামে কবাডি খেলার প্রতিযোগিতাও হত।বীরভূমে ওই খেলায় জান আলি , সেখ শাহজাহান, হায়দর আলি , আসমতিউল্লা , মিঠে দাস , আনন্দ দাস প্রভৃতি খেলোয়াড়দের নাম একসময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত।
এখন আর গ্রামাঞ্চলে ওই খেলার তেমন একটা  চল নেই।বহিরাগতদের নিয়ে প্রতিযগিতার মাধ্যমে কোথাও কোথাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে ওই খেলা।
বীরভূমে ব্রতচারী খেলারও একটি গৌরবময় অধ্যায় ছিল একসময়।এই জেলায় ব্রতচারী আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন প্রাক্তন জেলা সমাহর্তা গুরুসদয় দত্ত।এখন নানুরের চারকলগ্রামে ব্রতচারী এবং রাঁয়বেশের ধারাটি প্রচলিত রয়েছে।একসময় গ্রামের জনপ্রিয় খেলাগুলির অন্যতম ছিল মরদের লড়াই।কুস্তির আদলে ওই খেলার মাধ্যমে শক্তি পরীক্ষায় নামতেন যুবকেরা। মরদের লড়াই আজ অবলুপ্তির পথে।

                                    

                                             বীরভূম জেলায় খেলার ইতিহাস যথেষ্ট গৌরবময়। মূলত ইংরেজদের উদ্যোগে এ জেলায় ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়। প্রচলিত আছে , ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে দেবলপুরের ডাকবাংলো মাঠে এ জেলায় প্রথম ফুটবলখেলার সূচনা হয়েছিল। স্থানীয় কৃষ্ণপ্রসন্ন পাল এবং নরেন্দ্রনাথ ঘোষের সহয়তায় ফুটবল চর্চার জন্য গড়ে ওঠে বোলপুর ডায়মন্ড জুবলি ক্লাব।পরবর্তীকালে বোলপুর টাউন ক্লাব , বোলপুর ইয়াং টাউন ক্লাব , নেতাজি ক্লাব , রামপুরহাট রেলওয়ে রিক্রিয়েশন ক্লাব , বীণাপাণি ক্লাব এইচ ,এম ,এস , সোনারবাংলা , আজাদ হিন্দ সংঘ , সিউড়ি ভিবজিওর ক্লাব , রেইন -বো ক্লাব , অফিসার্স রেনবো ক্লাব , পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাব , সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ , জেলা স্কুল , বেনীমাধব ইনস্টিটিউশান , সিউড়ি এম,ই স্কুল , শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ , মাধাইপুর পল্লী মঙ্গল সমিতি , গোহালিয়ারা উদয়ন ক্লাব , লাভপুর অগ্রণী ক্লাব , নানুর চন্ডীদাস ফুটবল ক্লাব , আমোদপুর জয়দুর্গা ক্লাব , সাঁইথিয়া অগ্রণী সমাজের মতো বহু ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান ফুটবল চর্চায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে।


               ( ক্রমশ )                                 


         নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 



    


                      --------০--------
                                                                                 
                                             
     

1 comment: