( কিস্তি --- ২৩ )
দীর্ঘক্ষণ ঘুম আসে না কেবল মনোতোষ আর ছন্দার চোখে।দুজনেই ভাবতে থাকে দু'জনের কথা। কত ভাবনা আসে দুজনের মনে। রঙিন স্বপ্নের ঘোর আচ্ছন্ন করে রাখে তাদের। সেই স্বপ্নের জগতে বিচরণ করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়ে তারাও। রেজাল্ট বেরনোর প্রতীক্ষায় দিন কাটে তাদের। ছন্দার পড়াশোনার তেমন চাপ নেই। তবুও সে পাশ ধরে নিয়েই কাকু তাকে মনোদার নাইনের পুরনো বইই পড়তে দিয়েছেন।কয়েকদিনের মধ্যে তাকে পড়তে যাওয়াও শুরু করতে হবে বলে দিয়েছেন।
মনোদাকে কিন্তু পুরোদস্তুর পড়া শুরু করে দিতে হয়েছে। কাকু বলেছেন , নাহলে নাকি উচ্চ মাধ্যমিকের কোর্স শেষ হবে না। তাই সেদিন মনোদা তাদের বাড়ি আসব বললেও আসতে পারে না। ছন্দা কিন্তু না গিয়ে পারে না। একদিন মনোদাকে দেখতে না পেলে অস্থির হয়ে ওঠে তার মন। তাই প্রায় দিনই সাইকেল নিয়ে সে মনোদাদের বাড়িতে হাজির হয়। কাকীমার টুকটাক ফাইফরমাইস খেটে দেয়। অধিকাংশ দিনই কাকীমা না খাইয়ে ছাড়েন না। তারও ভালোই লাগে। দুপুরে একান্তে মনোদা সঙ্গে পড়ার ঘরে গল্প করে। বাড়ি ফিরতে বিকেল গড়িয়ে যায়। ফেরার সময় অবশ্য মনোদাই তাকে এগিয়ে দেয়। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করেই সে মনোদাদের বাড়ি যায় না। মনোদারও তার প্রতি কেমন টান তা পরখ করে দেখার জন্যই ছন্দা চালাকিটা করে। প্রথম যেদিন সে ও বাড়ি যায় নি , সেদিন খুব দোটানায় পড়েছিল ছন্দা। মা - ঠাকুমা তাকে চেপে ধরেছিল -- কি ব্যাপার রে , আজ ও বাড়ি গেলি না যে বড়ো ? মনোর সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করেছিস বুঝি ?
ওই কথা শুনে খুব রেগে উঠেছিল ছন্দা। ভেবেছিল সে না গেলে নিশ্চয় মনোদা তাকে নিতে আসবে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষার পরও মনোদা না আসায় তার মনে অভিমান পুঞ্জিভূত হয়েছিল। মা-ঠাকুমার কথায় সেটা রাগে পরিনত। ক্ষোভ ঝড়া গলায় সে বলে , হ্যা তোমরা তো আমার ঝগড়াটাই দেখবে। আমার শরীরটা খারাপ লাগছে , তাই যায় নি হোল তো ? তাছাড়া প্রতিদিন যে আমাকে ওই বাড়ি যেতে হবে তা কোথাও লেখা আছে নাকি ?
বলেই খুঁকীকে ডেকে নিয়ে রান্নাবাটি খেলতে চলে যায় ছন্দা। আর পরস্পরের দিকে চেয়ে মুখ টিপে হাসি চাপে শাশুড়ি -- বৌমা। শরীর খারাপ নয় , বিষয়টা যে রাগ-অনুরাগের তা বুঝতে আর বাকি থাকে না তাদের। তাই তারা আর ছন্দাকে ঘাটায় না। কিন্তু খেলাতে মন লাগাতে পারে না ছন্দা। কেবলই তার মনে চাপা অভিমান গুমরে গুমরে ওঠে।
সে মনোদাকে এত ভালোবাসে , আর মনোদা ? কই , সে যায় নি কেন সেই খোঁজ নিতে একবারও তো এল না ? সেই কথা ভাবতে ভাবতেই সে ভাতে জল দিতে ভুলে যায়। তাই দেখে খুঁকী বলে, গঙ্গাজল আজ তোমার কি হয়েছে বলো তো ? উনুনে আগুন না দিয়েই রান্না করে যাচ্ছ। এখন আবার ভাতে জল দাও নি। এরপর ভাত পুড়ে গেলে ছেলেপুলের পাতে দেবে কি ?
তার যে কি হয়েছে তা সে গঙ্গাজলকে বলেতে পারে না। শুধু খোলা দরজার দিয়ে রাস্তার দিকে তাকায় আর হতাশায় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। হঠাৎ তার মুখটা উজ্বল হয়ে উঠে। দেখতে পায় দরজা পেরিয়ে ঘরে ঢুকছে মনোদা। আর তখন তার মনে হয় ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মনোদার বুকে। সমস্ত অভিমান আজড়ে দেয় তার বুকে। কিন্তু লজ্জায় কিছুই করতে পারে না। মুখ ঘুরিয়ে নেয় সে। মনোদার আসাটা নজর এড়ায় না খুঁকীরও। তাই সে বলে , ও লো সই গঙ্গাজল। তোর মনোদা এলো। এবার তো আমাদের খেলাঘর ভাঙল বলে।
খুঁকীর এই অনুযোগ অমূলক নয়। এর আগেও বহুবার মনোদা এলেই ছন্দা খেলাঘর ছেড়ে চলে গিয়েছে। আর বেচারা খুঁকীকে মাঝপথে খেলা ফেলে একা বাড়ী ফিরে যেতে হয়েছে। এবারও তার অন্যথা হয় না। ঘরে ঢুকে মনোদা যেই বলেছে , কই রে ছন্দা আজ এখনও গেলি না যে। আমায় পড়া ফেলে উঠে আসতে হলো। নে-নে তাড়াতাড়ি চল।
অমনি সব অভিমান গলে জল হয়ে যায় ছন্দার। খুঁকীকে বলে , ভাই গঙ্গাজল কিছু মনে করিস না। আজ আমি যাই। কাল আবার আমরা খেলব কেমন ?
ঘাড় কাত করে খুঁকী বলে , সে তো আমি জানিই ভাই। বলে খুঁকী বাড়ির পথ ধরে। আর ছন্দা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে এসে দাঁড়ায় মনোতোষের কাছে। মনোতোষ তখন রান্নাঘরের কাছে দাঁড়িয়ে প্লেটে কিছু একটা খাচ্ছিল। সে সেজেগুজে সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই শান্তিলতা চোখ কুঁচকে নাতনীকে জিজ্ঞেস করেন -- তোর না একটু আগেই শরীর খারাপ করছিল ? তাহলে এখন আবার কোথাই বেরোচ্ছিস ?
ইংগিতটা বুঝতে অসুবিধা হয় না ছন্দার। তাই কিছুটা অস্বস্তিতেও পড়ে সে। সেটা এড়াতেই বলে , এখন আর করছে না শরীর খারাপ। বলেই মনোদার পিছু নেয় সে। আর পরস্পরের দিকে চেয়ে আরও একবার মুখ টিপে হাসেন শাশুড়ি- বৌমা।
সাইকেলে যেতে যেতে মনোদা বলে, আজ যাস নি কেন রে ?
---- কেন, আমি না যাওয়াতে তো তোমাদের কিছু এসে যায় নি। নাহলে আমার খোঁজে আসতে এত দেরি করতে না।
--- বিশ্বাস কর, তোর দেরি দেখে আমারও মন কেমন করছিল। কিন্তু তুই এই আসছিস , এই আসছিস করতে করতে আমার আসতে এত দেরি হল।
কথাটা শুনেই ভালো লাগায় ভরে যায় ছন্দার মন। সে গুন গুন করে গান গাইতে শুরু করে। কিন্তু শিবমন্দিরের কাছে পৌঁচ্ছোতেই থেমে যায় তার গান। শিবমন্দিরের কাছে দেখা হয়ে যায় সৌমেন শয়তানটার সঙ্গে। ছন্দা ভেবে পায় না শয়তানটা এখানে কি করে ? শিবসাধনা করার ছেলে যে ও নয় তা ভালোই জানে সে। নিশ্চয় কোন বদ মতলবে পড়ো মন্দিরে ঘাঁটি গেড়ে থাকে। মনোদা সঙ্গে থাকায় সেদিন অবশ্য শয়তানটাকে তার ভয় করে না।
বরং শয়তানটাই তার সঙ্গে মনোদাকে দেখে মন্দিরে ভিতরে সেঁধিয়ে যায়। তাতে কিছুটা অবাক হয়ে যায় মনোদা। হাত উসকে ডাকা সত্ত্বেও সৌমেন কেন যে তাকে দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে গেল তা বুঝতে পারে না সে। তাই অবাক হয়ে সে ছন্দাকেই জিজ্ঞেস করে , কি ব্যাপার বল তো ? সৌমেনটা ওইরকম চোরের মতো পালিয়ে গেল কেন ?
বলব না বলব না ভেবেও সেদিনের কথাটা মনোদাকে বলতে বাধ্য হয় ছন্দা।
আর সেই কথা শুনেই রাগে ফেটে পড়ে মনোতোষ। এই আশংকাটাই করেছিল ছন্দা। বিষয়টি নিয়ে মনোদা কোন ঝামেলায় পড়ুক তা সে চাই নি। এইজন্যই এতদিন কথাটা চেপে রেখেছিল সে। কিন্তু এখন তো আর কিছু করারও নেই। তুণ থেকে বেড়িয়ে যাওয়া তীর কি করে তুণে ফেরাবে সে ? এখন সেই তীর যে কাকে বিঁধবে সেই দুশ্চিন্তায় কাঁটা হয়ে উঠে। সৌমেনের সব রকম গুনই আছে। ভালোমন্দ যদি কিছু একটা হয়ে যায় তাহলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না সে। কাকীমার কাছে মুখই বা দেখাবে কি করে ? কাকীমা তাকে বার বার কথাটা আর কাউকে বলতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানটাকে দেখে রাগে সে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে নি।শায়েস্তা না হলে যে শয়তানটার বাড় দিনকে দিন বেড়ে যাবে। তখন তার মতোই যাকে পাবে তারই সর্বনাশ করতে হাত বাড়াবে। তার আশংকাই সত্যি হয়। আচমকা তার হাতটা ধরে মনোদা বলেন , আয় তো দেখি শয়তানটাকে উচিত শিক্ষা দিয়ে দিই। এবার বিষ দাঁতটা ভেঙে না দিলে যাকে পাবে তাকেই কামড়াবে।
সঙ্গে সঙ্গে ছন্দা বলে উঠে , মনোদা ছেড়ে দাও। তুমি ঝামেলায় জড়িয়ো না। শয়তানটা সব পারে। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। কাকু -- কাকীমার কাছে মুখ দেখাতেও পারব না।
---- তুই অযথা ভয় পাস না তো। কিচ্ছু হবে না আমার। তাছাড়া আমার বাবা-মাকে আমি যতদুর চিনি তাতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তারা খুশীই হবেন বলে মনে হয়।
ততক্ষণে তার হাত ধরে টানতে টানতে পড়ো মন্দিরের পিছনের দিকটাতে পৌঁচ্ছে যায় মনোদা। আর তার রাগের মুখে তাকে আটকানোর শক্তি যেন হারিয়ে ফেলে ছন্দা।শয়তানটা তখন বুড়ো বটগাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। মনোদার রাগী রাগী ভাব দেখে সেও বোধহয় ততক্ষণে কি ঘটতে চলেছে তার আঁচ পেয়ে গিয়েছে। তাই তার চোখেমুখে
কেমন যেন চোর চোর ভাব ফুটে ওঠে।
কিন্তু কথায় আছে দুরাত্মার ছলের অভাব হয় না। তাই নিপাট ভালো মানুষের মতো মুখ করে বলে --- কি রে তোরা ? পুজো দিবি নাকি ? তা ভালো , দে পুজো দে। প্রসাদ নিয়েই যাব।
সেই কথা শুনেই ক্ষোভে যেন ফেটে পড়ে মনোতোষ। সুর চড়িয়ে বলে -- বেশি ন্যাকামি করিস না সৌমেন। তুই একটুও বদলালি না। ছন্দার সঙ্গে অসভ্যতা করেছিস। ছিঃ তোকে আমার বন্ধু ভাবতেও লজ্জা হয়।
---- ভাবিস না। কে তোকে বন্ধু ভাবতে মাথার দিব্যি দিয়েছে ?
--- শোন বেশি আস্পর্ধা ভালো নয়। তুই কোথাই কি করিস তা জানতে আমার বাকি নেই। রুম্পার সঙ্গে কি করেছিলি তাও আমি জানি। নেহাত রুম্পা বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করতে চায় নি বলেই আমি কিছু বলি নি। কিন্তু তোর এত বড়ো দুঃসাহস তুই ছন্দার গায়ে হাত দিস ?
-- কেন রে ছন্দার গায়ে হাত দিলে তোর কি রে ? তুই কি সবার ঠিকে নিয়ে বসে আছিস নাকি ? ছন্দা কি তোর কেনা? তুই ওর পিছনে কোন মধুর লোভে ঘুর ঘুর করিস তা বুঝি না ভাবিস ? তা তুই মধু খা না যত ইচ্ছে , আমি মাঝে মধ্যে মৌচাকে একটু ঠোকরালেই কি মধু কম পড়ে যাবে ? সে ভয় করিস না। এ শালী বিরাট মৌচাক , মধুতে টসটস করছে।
---- সৌমেন এখনও বলছি সংযত হয়ে কথা বল। ছন্দার কাছে ক্ষমা চেয়ে নে।
--- সে তুই যখন বলছিস তখন না হয় চেয়েই নিচ্ছি ক্ষমা। কিন্তু ও তো আমার থেকে বয়সে ছোট। আর ছোটর কাছে তো পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়া যায় না। তাই হাতে ধরেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
বলেই আচমকা এগিয়ে এসে ছন্দার হাত দুটো চেপে ধরে সৌমেন। সেই স্পর্শে ঘৃণায় ছন্দার সারা শরীর রি - রি করে ওঠে। সে প্রাণপণে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। উল্টে শয়তানটাই তাকে হাত ধরে বুকের কাছে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাই দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না মনোতোষ। সৌমেনের গাল লক্ষ্য করে সজোরে একটা থাপ্পড় কষায়। সৌমেন সেটা এড়ানোর চেষ্টা করতেই থাপ্পড় গিয়ে লাগে তার চোখের নীচে। সেখানকার চামড়া ফেটে গিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে।
সৌমেনও পাল্টা মনোতোষের নাকে ঘুষি চালিয়ে দেয়। মনোতোষের নাক দিয়েও গলগল করে রক্ত বেরোতে শুরু করে। খুব ভয় পেয়ে যায় ছন্দা। শয়তানটা ফের কিছু করার আগেই সে মনোদার হাত ধরে শিবমন্দিরের বাইরে নিয়ে আসে। তারপর তাকে সাইকেলে চাপিয়ে দ্রুত বাড়ি ফেরে। তখনও মনোদার নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। সারা মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ছেলের ওই অবস্থা দেখে আঁতকে উঠেন সাধনা। তারপর ঘটনার কথা শুনে ছন্দাকেই বকাবকি করতে থাকেন তিনি। ছন্দা কোন কথা বলতে পারে না। তারও খুব আফশোস হয়। কেন যে সে কথাটা বলতে গেল মনোদাকে। নাহলে তো মনোদার এই অবস্থা হত না।
কিছুতেই তার আক্ষেপ যায় না। আক্ষেপ ঘোচে কাকুর কথায়। কাকীমার বকাবকি শুনে পড়ার ঘর থেকে কখন যে কাকু তাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন তা তারা কেউ টের পায় নি। তারপর সব শুনে তিনি কাকীমার উদ্দেশ্যে বলেন , তুমি শুধু শুধু ওদের বকাবকি করছো।
--- শুধু শুধু ? ছেলেটার এই অবস্থা দেখেও তুমি ওই কথা বলছ ?
---- শুধু শুধু নয় ? কথায় আছে , কবিতাতেও আছে ' "অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে , তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।" তাই ওরা যা করেছে তাতে ওদের প্রশংসা করা উচিত। নাকের ক্ষতটা কয়েকদিন পর সেরে যাবে। কিন্তু যদি অন্যায়টা হজম করে নিত তাহলে অপরাধ বোধের কাঁটা ওদের সারাজীবন রক্তাক্ত করত। অদৃশ্য সেই রক্তপাত কোন ওষুধেই আর বন্ধ হত না।
তারপর কাকু এসে তাদের দুজনের মাথায় হাত রেখে বলেন -- তোদের প্রতিবাদী ভূমিকায় আমি খুশি হয়েছি। যাই হোক না কেন , এমনি করেই সারা জীবন যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে হবে।
কাকুর কথা শুনে মনটা আবার ভালো হয়ে যায় ছন্দার। কাকীমার বকাবকিতে অভিমান হয়েছিল তার। অভিমানে ঠোট তির তির করে কাঁপতেও শুরু করেছিল। কাকুর স্নেহের পরশ পেয়ে সেটা শিশির হয়ে ঝড়ে পড়ে। নয়ন চোয়নো সেই শিশিরে ভিজেই সে ছুটে গিয়ে গাঁদা ফুলের পাতা থেঁতো করে চেপে ধরে মনোদার ক্ষতস্থানে। তারপর রক্তটা বন্ধ হতেই সাইকেলটা নিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। তাই দেখে সাধনা চিৎকার করে ওঠেন --- বলি চললি কোথাই ? এই দেখ , ছেলেটাকে এই অবস্থায় ফেলে কেমন রাগ করে চলে যাচ্ছে। এখন আমি কোনদিক ফেলে কোনদিক সামলায় ?
কিন্তু ছন্দার কোন সাড়া না পেয়ে স্বামীকে নিয়ে পড়েন সাধনা। একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন , তোমার আশকারা পেয়ে পেয়েই ছেলে মেয়ে গুলো এই রকম হয়েছে।
--- এই দেখ কাকে ছেড়ে কাকে নিয়ে পড়লে ? আমি আবার কি করলাম ? নিজে বকাবকি করে মেয়েটাকে রাগিয়ে দিয়ে আমার উপরে ঝাল ঝাড়লে হবে ?
--- আচ্ছা আমি কি ওদের শাসনও করতে পারব না ? মনোকে ওই অবস্থায় দেখে আমার মাথার ঠিক ছিল না। তাই না হয় কিছুটা বকাবকিই করেছি , তাই বলে আমাকে এই অবস্থায় ফেলে তেজ দেখিয়ে বাড়ি চলে যেতে হবে ? সাধে কি আর বলে পরের মেয়ে ? তুমি যতই আপন ভাব না কেন , পর কি আর আপন হয় ?
স্ত্রীর কথা শুনে ভুবনবাবু মৃদু মৃদু হাসতে হাসতে বলেন , এই তো তুমি ঠিক ধরেছো। তাই আর পরের মেয়ের ভরসায় না থেকে নিজেই যা হয় করো।
স্বামীর কথা শুনে যেন চিড়বিড়িয়ে ওঠে সাধনা।রীতিমতো রাগ ঝড়িয়ে বলে, তুমি হাসছো , হাসি আসছে তোমার ? আমার সংসার, আমাকে তো সব করতেই হবে। আমি তো আর কাউকে রাগ দেখিয়ে পালাতে পারব না। তুমি বরং পারলে ছেলেটার চিকিৎসার ব্যবস্থা কর।
কিন্তু কাউকেই কিছু করতে হয় না।
( ক্রমশ )







No comments:
Post a Comment