ত্রিশঙ্কু
অর্ঘ্য ঘোষ
উঠতে উঠতে আর কত উপরে উঠবি তুই সত্যেন ?
একতলা-দোতলা- তিনতলা ছাড়িয়ে
তুই আজ মাটি থেকে অনেক উপরে উঠে গিয়েছিস।
মাটি থেকে তোকে দেখতেই টন টন করে ঘাড়
মাটির মানুষেরা তাই ঘাড় উঁচু করে তোকে দেখে না আর।
অথচ তুই তো ছিলি মাটিরই মানুষ।
দিব্যি মেঠো পথে হেঁটে যেতে যেতে
চাষিরদের থেকে চেয়ে নিতিস বিড়ি
আলপথে বসে শুনতিস তাদের সুখ-দুঃখের গল্প।
হাভেতে মানুষগুলোও হালকা হোত তোর সঙ্গে কথা বলে।
চায়ের আড্ডাতেও তুই ছিল মধ্যমনি ,
দুর থেকে তোকে দেখে কতজন চায়ের অর্ডার দিয়ে বসত ,
কেউ বা এগিয়ে দিত বিড়ি কিম্বা সিগারেটের প্যাকেট
তুই অবশ্য সিগারেট সরিয়ে বিড়িই ধরাতিস
সেদিন তোর কথা শোনার জন্য মুখিয়ে থাকত কত মুখ
তুই ছিলি তাদের মনের মানুষ।
আজও মানুষ তোর কথা শোনার জন্য প্রতীক্ষায় থাকে
কিন্তু কোথাই যেন সেই সুরটাই হারিয়ে গ্যাছে
ক্ষমতার সিড়ি বেয়ে আজ তুই যে অনেক উপরে উঠে গিয়েছিস
শুনতে হয় বলে এখন মানুষ তোর কথা শোনেই শুধু
আগের মতো বলে আর আর কই ?
চাষিরা তোকে এখন শুধু তাদের দুঃখের কথা বলে
তোর দুঃখের কথা জানতে চায় না।
মাটি ছেড়ে তুই আজ মানুষের নাগাল ছাড়া হয়ে গিয়েছিস ,
ভগবানের নাগালও তো পেলি না।
কি পেলি তাহলে তুই সত্যেন ?
ত্রিশঙ্কু হয়ে ঝুলেই রইলি চিরকাল ,
তোকে দেখে আজ বড়ো মায়া হয়।


No comments:
Post a Comment