Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

সাহার্যের হাত


                                  

                        সাহার্যের হাত 

                                  

                             অর্ঘ্য ঘোষ     



দুর্ঘটনায় জখম হয়ে অর্থাভাবে কার্যত বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে পড়ে রয়েছেন সহকর্মী । সেই খবর পাওয়ার পরই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন অন্যান্য শিক্ষকেরাওই শিক্ষকের পরিবারের হাতে তারা তুলে দিলেন ৪ লক্ষ টাকা । সহমর্মিতার ঘটনাটি ঘটেছে নানুর থানা এলাকায় । 

     
                শিক্ষাদফতর এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , ১৬ ফেব্রুয়ারি মোটর বাইকে স্কুলে যাওয়ার পথে ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন নানুর থানা এলাকার দুই স্কুল শিক্ষক । তাদের মধ্যে স্থানীয় সাকুলিপুরের বাসিন্দা তথা কুড়গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আবুল মোতাহার সামিরিদ্দিনের মৃত্যু হয়। মারাত্মক ভাবে আহত হন নানুরেরই সিধাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাসিন্দা স্থানীয় মহেশগ্রামের শিবনাথ পাল । তিনিই মোটরবাইক চালাচ্ছিলেন । তাকে ভর্তি করানো হয় দুর্গাপুরের একটি হাসপাতালে । সেখান থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয় অস্ত্রোপচার সহ অন্যান্য চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১২ লক্ষ টাকা । সেই টাকা জমা না পড়লে চিকিৎসা শুরু করাই যাবে না ।


       তারপরই আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের মাথায় । মহেশগ্রামে শিবনাথবাবুদের অভাবের সংসার। বাবা ভীষ্মদেব পাল প্রান্তিক চাষি । একসময় বাবার সঙ্গেই লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঠের কাজও করতে হয়েছে শিবনাথবাবুকে । ২০১০ সালে শিক্ষকতার চাকরিটা পাওয়ার পর সবে পরিবার একটু স্বাচ্ছল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছিল তারমধ্যেই ওই বিপর্যয়ে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে গোটা পরিবার । কারণ এই কয়েকদিনেই যাবতীয় সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে । তাই কি করে করে চিকৎসার টাকা যোগাড় করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা ।



                          সেই খবর পাওয়ার পরই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন নানুর এবং নানুর দক্ষিণ চক্রের শিক্ষকেরা । এদিন মহেশগ্রামে গিয়ে শিবনাথবাবুর বাবা এবং স্ত্রী মৌসুমী পালের হাতে ৪ লক্ষটাকা তুলে দিয়ে আসেন তারা । তাদেরই অন্যতম সিধাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিজনকুমার হাজরা , রাণীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ দাস , সাঁতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কেশব ঠাকুর এবং নতুনপাড়া আনন্দময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তুষারকান্তি মণ্ডলরা জানান, ওই শিক্ষক সেই অর্থে আমাদের সবার সহকর্মী নন । কিন্তু যখন শুনেছি অর্থাভাবে একজন শিক্ষককের চিকিৎসা হচ্ছে না তখন আর হাত গুটিয়ে থাকতে পারি নি । দুই অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ যুগিয়েছেন ।



         শুধু সহকর্মীরাই নন , সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সতীর্থরাও । ২০০৪-৫ শিক্ষাবর্ষে শিবনাথবাবু নদীয়ার ধর্মদার একটি শিক্ষক শিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন । সমস্যার কথা শুনে ওই শিক্ষণকেন্দ্রের সতীর্থরাও ১ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।তাদের মধ্যে মানস মজুমদার , প্রদীপ ঘোষরা জানান , একসময়ের সহপাঠীর সমস্যার কথা শোনার পর আমরাও হাত গুটিয়ে থাকতে পারি নি । নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি । আরও কিছু পাঠানোর চেষ্টা করছি ।


          এদিন নিজের বাড়িতে দেড় বছরের মেয়ে শ্রীজিতাকে জড়িয়ে শিবনাথ স্ত্রী মৌসুমিদেবী জানান, অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে আমরা খুব দুঃশ্চিন্তায় পড়েছিলাম । সেই দুঃশ্চিন্তা কিছুটা ঘুচল । নানুর এবং নানুর দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রানা দাস এবং শুভেন্দু চৌধুরী জানান , শিক্ষকেরা যেভাবে তাদের সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে স্কুল পরিদর্শক হিসাবে আমরাও গর্বিত।       

                    ------০------


                  পড়ুন / পড়ান 





             নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


          ১৯  নভেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ টার মধ্যে প্রকাশিত হচ্ছে





                ধারাবাহিক উপন্যাস 



                       সালিশির রায় 

                                                                

সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , অন্যকে দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --

                   


                                                                  


খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ। 

   

              ------০-----                        

                             

No comments:

Post a Comment