ভি,ভি,আই,পি'র পুজো
(প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়)
(পরোটা গ্রামে দিদির বাড়িতে)
এবার পুজোয় অন্যরকম মন খারাপ বীরভূমের কীর্ণাহার সন্নিহিত এলাকার বাসিন্দাদের । অন্যান্যবার দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধায়ের সৌজন্য যষ্ঠীর দিন বিকাল থেকেই জমজমাট হয়ে উঠে কীর্ণাহারের পুজো। এবারে সেই জমজমাটি ভাবটা আর নেই ।
( তখন রাষ্ট্রপতি , কপ্টার থেকে নেমে )
আসলে প্রায় প্রতিবছরই কীর্ণাহার লাগোয়া মিরিটি গ্রামের বাড়িতে পুজোয় অংশ নেওয়ার জন্য ষষ্ঠীর দিন বিকালে কীর্ণাহারের মাটিতে পা রাখেন প্রণববাবু । আর সেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার সময় থেকেই দিল্লি থেকে প্রণববাবুকে উড়িয়ে আনে কপ্টার ।
( রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর দিদির বাড়ির সামনে গার্ড অফ অনার )
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তো একসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন-তিনটি কপ্টার উড়িয়ে এনেছে তাকে । আর সেই কপ্টার দেখতে শুধু কীর্ণাহার সন্নিহিত এলাকাই নয় , দুরদুরান্তের মানুষের ঢল নেমেছে কীর্ণাহার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে ।
( হেলিপ্যাডে জনতাকে অভিনন্দন )
গতবছর পর্যন্ত বাঁশের ব্যারিকেটের ধারে চড়া রোদ উপেক্ষা করে ঠায় প্রণববাবুর কপ্টারের প্রতীক্ষায় দেখা মিলেছে আট থেকে আশির । নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপ , বিশাল গাড়ির কনভয় , সব মিলিয়ে একেবারে জমজমাটি ব্যাপার । কপ্টার দেখে ফেরার পথে কেউ পুজোর বাজার সেরেছেন , কেউ বা একবার করে পুজোমণ্ডপ গুলিতে ঢুঁ মেরে বাড়ি অভিমুখে পা বাড়িয়েছেন ।
( হেলিপ্যাড ঘিরে উপছে পড়া ভিড় )
এক কথায় প্রণববাবুর পুজো সফর ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের কপ্টার জ্বর দীর্ঘদিনের । এবারে আর সেই জ্বর দেখা যায় নি । রাষ্ট্রপতির কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রণববাবুর সফর যান নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে একটা টানাপোড়েন ছিলই ।
( বাড়ির পুজো মণ্ডপে পুত্র অভিজিতের সঙ্গে )
অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন প্রণববাবুকে নিয়ে আর কপ্টার উড়ে আসবে না । আবার অনেকের ধারণা ছিল তিনটে না হোক আগের মতো একটা কপ্টার নিশ্চয় আসবে । তাদের আর আফশোসের অন্ত নেই । কারণ স্থানীয়রা অন্যান্য বারের মতো হেলিপ্যাড তৈরির ব্যস্ততা , কপ্টার নামার মহরা নেই দেখে এবারে যে আর কপ্টার আসছে না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন ।
( রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে নামছে কপ্টার )
কিন্তু দুর দুরান্তের বাসিন্দারা কার্যত বেমালুম বোকা বনে গিয়েছেন । তাদের আফশোষের আর অন্ত নেই । বছর তিন চারেক আগে প্রণববাবুর কপ্টার দেখে গিয়ে কেউ গল্প করেছিলেন নাতির কাছে । কেউ বা বোনের বাড়ি গিয়ে গল্প করেছিলেন বোনঝির কাছে । সেই গল্প শুনে নাতি -বোনঝিরাও কপ্টার দেখানোর বায়না ধরেছিলেন । গতবার সম্ভব হয় নি , এবারই অনেকে সেই বায়না মেটাতে দুর-দুরান্তের গ্রাম থেকে কচিকাঁচাদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কীর্ণাহার বাসস্ট্যান্ড
লাগোয়া মাঠে ।
( দিদির বাড়িতে কনভয় থেকে নামছেন রাষ্ট্রপতি )
কিন্তু কোথাই কি ? কোথাই সেই বাঁশের ব্যারিকেট ভাঙা উপছে পড়া ভিড়
? গোটা মাঠ খাঁ খাঁ করছে । বাসস্ট্যান্ডের দোকানদারের কাছে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন
, এবারে আর কপ্টারে নয় , প্রনববাবু আসছেন গাড়িতে । তারপরই আক্ষেপ ঝড়ে পড়ে তাদের গলায় , আর একটা বার এলে কি এমন ক্ষতি
হত ? আর তো বাচ্চাগুলোর কপ্টার দেখা হবে না । কপ্টার না এলেও তিনি অবশ্য এসেছেন । ছয় গাড়ির কনভয়ে ষষ্ঠীর বিকালেই পৌঁছোন দিদির বাড়িতে ।
( দিদির বাড়িতে )
( একাদশীতে দিদির রাড়ি থেকে দিল্লিতে পাড়ি দেওয়ার আগে )
একই আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদেরও । তারা জানান , আগে ষষ্ঠীর দিনে এলাকা জুড়ে সাজো সাজো রব পড়ে যেত । সকাল সকাল খাওয়া দাওয়া করে সবাই কপ্টার নামা দেখতে মাঠে ভীড় জমাতেন । এবারে সেই ব্যস্ততাটা আর ছিল না । অনেকদিনের একটা ঐতিহ্য হারিয়ে গেল ।
---০---
আসলে প্রায় প্রতিবছরই কীর্ণাহার লাগোয়া মিরিটি গ্রামের বাড়িতে পুজোয় অংশ নেওয়ার জন্য ষষ্ঠীর দিন বিকালে কীর্ণাহারের মাটিতে পা রাখেন প্রণববাবু । আর সেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার সময় থেকেই দিল্লি থেকে প্রণববাবুকে উড়িয়ে আনে কপ্টার ।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তো একসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন-তিনটি কপ্টার উড়িয়ে এনেছে তাকে । আর সেই কপ্টার দেখতে শুধু কীর্ণাহার সন্নিহিত এলাকাই নয় , দুরদুরান্তের মানুষের ঢল নেমেছে কীর্ণাহার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে ।
গতবছর পর্যন্ত বাঁশের ব্যারিকেটের ধারে চড়া রোদ উপেক্ষা করে ঠায় প্রণববাবুর কপ্টারের প্রতীক্ষায় দেখা মিলেছে আট থেকে আশির । নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপ , বিশাল গাড়ির কনভয় , সব মিলিয়ে একেবারে জমজমাটি ব্যাপার । কপ্টার দেখে ফেরার পথে কেউ পুজোর বাজার সেরেছেন , কেউ বা একবার করে পুজোমণ্ডপ গুলিতে ঢুঁ মেরে বাড়ি অভিমুখে পা বাড়িয়েছেন ।
( হেলিপ্যাড ঘিরে উপছে পড়া ভিড় )
এক কথায় প্রণববাবুর পুজো সফর ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের কপ্টার জ্বর দীর্ঘদিনের । এবারে আর সেই জ্বর দেখা যায় নি । রাষ্ট্রপতির কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রণববাবুর সফর যান নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে একটা টানাপোড়েন ছিলই ।
( বাড়ির পুজো মণ্ডপে পুত্র অভিজিতের সঙ্গে )
অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন প্রণববাবুকে নিয়ে আর কপ্টার উড়ে আসবে না । আবার অনেকের ধারণা ছিল তিনটে না হোক আগের মতো একটা কপ্টার নিশ্চয় আসবে । তাদের আর আফশোসের অন্ত নেই । কারণ স্থানীয়রা অন্যান্য বারের মতো হেলিপ্যাড তৈরির ব্যস্ততা , কপ্টার নামার মহরা নেই দেখে এবারে যে আর কপ্টার আসছে না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন ।
কিন্তু দুর দুরান্তের বাসিন্দারা কার্যত বেমালুম বোকা বনে গিয়েছেন । তাদের আফশোষের আর অন্ত নেই । বছর তিন চারেক আগে প্রণববাবুর কপ্টার দেখে গিয়ে কেউ গল্প করেছিলেন নাতির কাছে । কেউ বা বোনের বাড়ি গিয়ে গল্প করেছিলেন বোনঝির কাছে । সেই গল্প শুনে নাতি -বোনঝিরাও কপ্টার দেখানোর বায়না ধরেছিলেন । গতবার সম্ভব হয় নি , এবারই অনেকে সেই বায়না মেটাতে দুর-দুরান্তের গ্রাম থেকে কচিকাঁচাদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কীর্ণাহার বাসস্ট্যান্ড
লাগোয়া মাঠে ।
( দিদির বাড়িতে )
একই আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদেরও । তারা জানান , আগে ষষ্ঠীর দিনে এলাকা জুড়ে সাজো সাজো রব পড়ে যেত । সকাল সকাল খাওয়া দাওয়া করে সবাই কপ্টার নামা দেখতে মাঠে ভীড় জমাতেন । এবারে সেই ব্যস্ততাটা আর ছিল না । অনেকদিনের একটা ঐতিহ্য হারিয়ে গেল ।
অন্যপুজো / অন্য আনন্দ
কান্নাতেও যে সুখ লুকিয়ে থাকে তা এর আগে ওদের জানা ছিল না। সুখের চাদর গায়ে
জড়িয়ে দিয়ে সেই সুখানুভূতিতেই ওদের ভাসিয়ে দিলেন অপরিচিত কিছু মানুষজন। ওরা কেউ অনাথ,কেউ বা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা ।আপনজনের স্নেহের পরশ কি তা কেউ দীর্ঘদিন আগেই ভুলে গিয়েছেন।আবার কারও কপালে জোটেই নি।
তাই ভালোবাসার ছোঁওয়া পেতেই আনন্দাশ্রুততে ভেসে গেল অনাথ আশ্রমের কুদরত মন্ডল, ক্রিশ্চিয়ানা
এমইলিস, তোয়া বর্মণ, রাউল সাউ, বৃদ্ধাশ্রমের জেনি, এলিজাবেথরা। পুজোর মুখে
তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুললেন রাজ্য তথা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু
হৃদয়বান মানুষ।
তারা আসলে পারস্পরিক ফেসবুকের বন্ধু। গত বছর পুজোর আগে তাদেরই একজনের লেখা কবিতা সবাইকে নাড়িয়ে দেয়। ছোট্ট সেই কবিতাটিই তাদের মধ্যে নিজের
ভিতর থেকে কিছু একটা করার তাগিদের জন্ম দেয়। সেই তাগিদ থেকেই শুরু হয় পথ চলা।
প্রায় ৩০ জন বিভিন্ন পেশা এবং অবস্থানের মানুষ একত্রিত ভাবে গড়ে তোলেন 'সুখের
চাদর' নামে একটি সংস্থা।
গত বছর অষ্টমীতে এক অসহায় বৃদ্ধাকে নতুন পোশাক এবং ফল দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় সূচনা। তারপর সল্টলেকের প্রবর্তক হোমের ৫৪ জন মানসিক প্রতিবন্ধীর হাতে নানা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন তারা। এবার পুজোর মুখেও বারাসাতের কামাখ্যা বালক আশ্রমের ৫৮ জন অনাথ শিশুর হাতে নতুন পোশাক, খেলা ধুলোর সামগ্রী পৌঁচ্ছে দেন সংস্থার সদস্যরা।
শুধু তাই নয়, নিজেদের খরচে হোমেই মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবস্থা করে একসংগে খাওয়া দাওয়াও করেন তারা । ওই একই দিনে বারাসতের শিমুলতলার সেন্ট ভিনসেন্ট হোমের ১৯ জন বৃদ্ধার হাতেও নতুন জামা কাপড়, গামছা , বিছানার চাদর থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নিত্য প্রয়োজনী সামগ্রী পৌঁচ্ছে দিয়েছেন।
আর ভালোবাসার পরশ পেয়ে সুনন্দা রায়, রূপা বসু, কাকলি ঘোষ, মলি রায়, রূপালি মজুমদার, সন্দীপ দাসদের জড়িয়ে ধরে আনন্দে দুচোখের কোল ভিজিয়ে ফেলেছেন জেনি, এলিজাবেথরা। ভালোবাসার পরশ তো তারা ভুলেই গিয়েছিলেন। সেই কবে বাড়ির লোকেরা বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁচ্ছে দিয়ে চলে গিয়েছেন । তারপর আর খোঁজ রাখেন নি । কারও মেয়ে একটি মোবাইল ফোন দিয়ে বলে গিয়েছিল নম্বর লোড আছে । ইচ্ছে হলেই ফোন কোর। কিন্তু কোন নম্বরই সেখানে লোড করা ছিল না । এখন সেই ফোনেই লোড করা হয়েছে সুখের চাদরের সদস্যদের নম্বর। প্রয়োজনে এখন তাদের সংগেই কথা বলেন বৃদ্ধা।
জড়িয়ে দিয়ে সেই সুখানুভূতিতেই ওদের ভাসিয়ে দিলেন অপরিচিত কিছু মানুষজন। ওরা কেউ অনাথ,কেউ বা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা ।আপনজনের স্নেহের পরশ কি তা কেউ দীর্ঘদিন আগেই ভুলে গিয়েছেন।আবার কারও কপালে জোটেই নি।
তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুললেন রাজ্য তথা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু
হৃদয়বান মানুষ।
তারা আসলে পারস্পরিক ফেসবুকের বন্ধু। গত বছর পুজোর আগে তাদেরই একজনের লেখা কবিতা সবাইকে নাড়িয়ে দেয়। ছোট্ট সেই কবিতাটিই তাদের মধ্যে নিজের
ভিতর থেকে কিছু একটা করার তাগিদের জন্ম দেয়। সেই তাগিদ থেকেই শুরু হয় পথ চলা।
প্রায় ৩০ জন বিভিন্ন পেশা এবং অবস্থানের মানুষ একত্রিত ভাবে গড়ে তোলেন 'সুখের
চাদর' নামে একটি সংস্থা।
গত বছর অষ্টমীতে এক অসহায় বৃদ্ধাকে নতুন পোশাক এবং ফল দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় সূচনা। তারপর সল্টলেকের প্রবর্তক হোমের ৫৪ জন মানসিক প্রতিবন্ধীর হাতে নানা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন তারা। এবার পুজোর মুখেও বারাসাতের কামাখ্যা বালক আশ্রমের ৫৮ জন অনাথ শিশুর হাতে নতুন পোশাক, খেলা ধুলোর সামগ্রী পৌঁচ্ছে দেন সংস্থার সদস্যরা।
শুধু তাই নয়, নিজেদের খরচে হোমেই মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবস্থা করে একসংগে খাওয়া দাওয়াও করেন তারা । ওই একই দিনে বারাসতের শিমুলতলার সেন্ট ভিনসেন্ট হোমের ১৯ জন বৃদ্ধার হাতেও নতুন জামা কাপড়, গামছা , বিছানার চাদর থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নিত্য প্রয়োজনী সামগ্রী পৌঁচ্ছে দিয়েছেন।
---------------------------------------মেরী
বাড়ির পাশের প্যান্ডেল থেকে
ভেসে আসছে ঢাকের আওয়াজ
ঢ্যাং কুড়াকুড় ঢ্যাং কুড়াকুড়•••
নতুন জামা প্যান্ট পরে বিল্টুর বন্ধুরা
ভিড় করেছে প্যান্ডেল।
নতুন জামা কিনে দেওয়ার জন্য
বায়না ধরেছে বিল্টুটা
এবারও সস্তার কোনো জামা জোটেনি ওর
ঘ্যানর ঘ্যানর করছে মায়ের কাছে
এক চড় মারতেই কেঁদে উঠল ভ্যাঁ••••
মাইকের আওয়াজে মিশে গেল কান্নাটা।
পাশের মুখুজ্যে বাড়ি থেকে ভেসে আসছে
ক্ষীরের নাড়ু আর পায়েসের গন্ধ
গন্ধে ভরে ওঠে ঘরটা
আর শুধু মন ভরে
কোলের ছোট ছেলেটাকে
শুষ্ক বুকের দুধ খাইয়ে
ঘুম পড়িয়ে রেখেছে।
বউ এর অভাবের অভিযোগ থেকে বাঁচতে
মুখ লোকায় তাসের আড্ডায়
সন্ধের ঝকমকি আলো
ভরিয়ে দিয়েছে পরিবেশটাকে
হইহুল্লোড় আর চিৎকার শুনতে শুনতে
বাড়ি ফিরি রাতে।
আর মোমবাতির আলোয়
পোড়ারুটি ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলি
বাবা। পুজো আমাদের নয়,ওদের।।
---------------------------------------মেরী
বাড়ির পাশের প্যান্ডেল থেকে
ভেসে আসছে ঢাকের আওয়াজ
ঢ্যাং কুড়াকুড় ঢ্যাং কুড়াকুড়•••
নতুন জামা প্যান্ট পরে বিল্টুর বন্ধুরা
ভিড় করেছে প্যান্ডেল।
নতুন জামা কিনে দেওয়ার জন্য
বায়না ধরেছে বিল্টুটা
এবারও সস্তার কোনো জামা জোটেনি ওর
ঘ্যানর ঘ্যানর করছে মায়ের কাছে
এক চড় মারতেই কেঁদে উঠল ভ্যাঁ••••
মাইকের আওয়াজে মিশে গেল কান্নাটা।
পাশের মুখুজ্যে বাড়ি থেকে ভেসে আসছে
ক্ষীরের নাড়ু আর পায়েসের গন্ধ
গন্ধে ভরে ওঠে ঘরটা
আর শুধু মন ভরে
কোলের ছোট ছেলেটাকে
শুষ্ক বুকের দুধ খাইয়ে
ঘুম পড়িয়ে রেখেছে।
বউ এর অভাবের অভিযোগ থেকে বাঁচতে
মুখ লোকায় তাসের আড্ডায়
সন্ধের ঝকমকি আলো
ভরিয়ে দিয়েছে পরিবেশটাকে
হইহুল্লোড় আর চিৎকার শুনতে শুনতে
বাড়ি ফিরি রাতে।
আর মোমবাতির আলোয়
পোড়ারুটি ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলি
বাবা। পুজো আমাদের নয়,ওদের।।
( এই সেই কবিতা )
বাচ্চারাও স্নেহের পরশ পেয়ে ভুলে যায় স্বজনহীনতার অভাব। সুখের চাদরের পক্ষে দেবময় রায়চৌধুরী জানান , আমরা মনে করি আমাদের সবার একটা সামাজিক ঋণ আছে। সেই ঋণ কিছুটা পরিশোধের চেষ্টা করছি মাত্র। দেবময়বাবুদের মতো মানুষেরাই বোধহয় এমনটা বলতে পারেন। তাদের মতো কিছু মানুষ আছেন বলেই বোধহয় পৃথিবীটা এখনও সুন্দর লাগে । উপেক্ষিত , অবহেলিত কিছু মুখে তাদেরই জন্য ফুটে ওঠে স্বর্গীয় হাসি ।
-----০-----
-----০-----
অন্যপুজো / অন্য আনন্দ
কারও বাবা দিনমজুর । কারও মা ভিক্ষাজীবি । সবার সংসারেই নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর হাল । পুজোয় নতুন পোশাক দুরের কথা দুবেলা দুমুঠো ভাতের যোগাড় করতেই হিমসিম খেতে হয় ওদের । তাই এতদিন পুজো মানে আলাদা আনন্দ বলতে কিছু ছিল না ওদের । নিতান্তই মনমরা হয়ে পুজো কাটত হতদরিদ্র ওইসব পরিবারের ছেলেমেয়েদের । এই প্রথম ওদের মুখে হাসি ফোটাল ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর 'উপহার' এবং লাভপুরের ইন্দাস জয়দূর্গা রুর্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি । এবারই প্রথম আত্মপ্রকাশ উপহারের । নেহাতই ঠেকে আড্ডা দিতে দিতেই কিছু একটা করার তাগিদে কিছু চাকরিজীবি কিছু ব্যবসায়ী নেমে পড়েন কাজে । নিজেদের গাঁটের কড়ির পাশাপাশি অন্যের সহায়তায় এ পর্যন্ত শতাধিক দুঃস্থের বাড়িতে নতুন পোশাক পৌঁচ্ছে দিয়ে হাসি ফুটিয়েছেন তারা । অন্যদিকে ইন্দাসের স্কুল শিক্ষক অশোক মন্ডল ছোট থেকে নিজে অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছেন । ছোটবেলায় পুজোতে তারও নতুন পোশাক জোটে নি । তাই ছোটদের অনুভূতির কথাটি তার অজানা নয় । সেই উপলদ্ধি থেকেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে ছোটদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি । এদিন পর্যন্ত সহস্রাধিক শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছে ওই সংস্থা । উপহারের পক্ষে পার্থসারথি দাস এবং অশোকবাবু জানিয়েছেন , অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা এবার পুজোয় অন্যরকম আনন্দ পেলাম । এই আনন্দটাকেই ধরে রাখতে চাই সারাজীবন ।
অন্য পুজো
অর্থাভাবে অধিকাংশ বছর পুজোয় নিজের সন্তানের জামা-প্যান্ট কিনতে পেরিয়ে গিয়েছে অষ্টমী-নবমী। তবু ৩০ বছর ধরে টিউশানির টাকা জমিয়ে অন্যের সন্তানের পোশাক যুগিয়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন দীনেশ ঠাকুর ।
সাঁইথিয়া ১৪ নং ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দা ৬২ বছরের দীনেশবাবুর আদি বাড়ি লাভপুরের দাঁড়কা গ্রামে । টিউশানি পড়ানোর জন্যই দীর্ঘদিন আগে সাঁইথিয়ায় বসবাস শুরু করেন । কারণ ওই টিউশানির উপরেই নির্ভর করেই চলত দুই ছেলেমেয়ের পড়াশোনা সহ ৪ সদস্যের সংসার । কিন্তু ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংসারে দেখা দেয় চরম অভাব । পরিস্থিতির সামাল দিতে তাই টিউশানির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি কাপড় ফেরি করতে শুরু করেন । তখনই দেখেন পুজোয় নতুন জামা-প্যান্ট না পাওয়া ছেলেমেয়েদের করুণ মুখ । চোখ এড়ায় না ছেলেমেয়েকে জামা-প্যান্ট কিনে দিতে না পারা বাবা-মায়েদের অক্ষমতার জ্বালাও।
তখন থেকেই কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি । সারা বছর কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে রেখে পুজোর সময় বিভিন্ন মাপের জামা-প্যান্ট কিনে নিয়ে চলে যান লাভপুরেরই নাউতারা – বাবুইডাঙ্গা প্রভৃতি গ্রামে । আদিবাসী-তফসীলি অধ্যুসিত ওই এলাকায় একসময় যৎসামান্য জমি-জায়গা ছিল তাদের । সেই সুবাদে ওই এলাকার মানুষজনের জীবনযন্ত্রণা খুব কাছে থেকে দেখেছেন । তাই ৩০ বছর ধরে পুজোর মুখে জামা-প্যান্ট নিয়ে পৌঁছে যান । এখন আর অবশ্য শুধু ছোটদের জামা-প্যান্টেই নয় , প্রায় সমস্ত বয়েসের দুঃস্থদের হাতে তুলে দেন পোশাক । তাই পুজো এলেই দীনেশবাবুর প্রতীক্ষায় থাকেন গ্রামবাসীরা । নাওতারার চণ্ডী মুর্ম , গনেশ মুর্ম , বাবুইডাঙ্গার হিমালয় মাড্ডিরা জানান , এখন আর আমাদের ছেলে মেয়েদের পুজোয় পুরনো জামাপ্যান্ট পড়তে হয় না । পুজোর আগে জামা প্যান্ট নিয়ে দীনেশবাবু ঠিক পৌঁচ্ছে যান । এখন আর অবশ্য সেই দুর্দিন নেই । ছেলে সোমরাজ প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পেয়েছেন । মেয়ে শর্মিষ্ঠার বিয়ে হয়ে গিয়েছে । কিন্তু অভাবের সেইদিন গুলো আজও তাদের চোখের সামনে ভাসে । তারা জানান , তখন বাবা আমাদের কম দামী জামাপ্যান্ট কিনে দিয়ে পরের ছেলেমেয়ের জন্য জামাপ্যান্ট কিনতেন । তখন খুব অভিমান হত । কিন্তু এখন আমাদের বাবার জন্য গর্ব হয় । আমরাও বাবার সঙ্গে পোশাক দিতে যায় ।
স্ত্রী স্বপ্না দেবী জানান , সে সময় পুজোয় কাপড় বিক্রি করে ১০০০ টাকা লাভ হলে উনি নিজেদের জন্য অর্ধেক খরচ করে বাকিটা দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের জন্য জামাপ্যান্ট কিনেছেন । সেদিন ওইসব নারায়ণদের কথা ভেবেছিলেন বলেই বোধহয় আজ ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন । দীনেশবাবু জানান , যখন কাপড় ফেরি করতাম তখন দেখেছি পাশাপাশি একটি বাড়ির ছেলেমেয়ের জামাপ্যান্ট কেনা হলে অন্য বাড়ির ছেলেমেয়েদের মনটা কত খারাপ হয়ে যায়। সন্তানকে জামাপ্যান্ট কিনে দিতে না পেরে অক্ষমতার গ্লানি বাবা-মাকে কিভাবে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় । তখনই ঠিক করি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতগুলো পারি ততগুলো মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব।
অর্থাভাবে অধিকাংশ বছর পুজোয় নিজের সন্তানের জামা-প্যান্ট কিনতে পেরিয়ে গিয়েছে অষ্টমী-নবমী। তবু ৩০ বছর ধরে টিউশানির টাকা জমিয়ে অন্যের সন্তানের পোশাক যুগিয়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন দীনেশ ঠাকুর ।
সাঁইথিয়া ১৪ নং ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দা ৬২ বছরের দীনেশবাবুর আদি বাড়ি লাভপুরের দাঁড়কা গ্রামে । টিউশানি পড়ানোর জন্যই দীর্ঘদিন আগে সাঁইথিয়ায় বসবাস শুরু করেন । কারণ ওই টিউশানির উপরেই নির্ভর করেই চলত দুই ছেলেমেয়ের পড়াশোনা সহ ৪ সদস্যের সংসার । কিন্তু ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংসারে দেখা দেয় চরম অভাব । পরিস্থিতির সামাল দিতে তাই টিউশানির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি কাপড় ফেরি করতে শুরু করেন । তখনই দেখেন পুজোয় নতুন জামা-প্যান্ট না পাওয়া ছেলেমেয়েদের করুণ মুখ । চোখ এড়ায় না ছেলেমেয়েকে জামা-প্যান্ট কিনে দিতে না পারা বাবা-মায়েদের অক্ষমতার জ্বালাও।
তখন থেকেই কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি । সারা বছর কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে রেখে পুজোর সময় বিভিন্ন মাপের জামা-প্যান্ট কিনে নিয়ে চলে যান লাভপুরেরই নাউতারা – বাবুইডাঙ্গা প্রভৃতি গ্রামে । আদিবাসী-তফসীলি অধ্যুসিত ওই এলাকায় একসময় যৎসামান্য জমি-জায়গা ছিল তাদের । সেই সুবাদে ওই এলাকার মানুষজনের জীবনযন্ত্রণা খুব কাছে থেকে দেখেছেন । তাই ৩০ বছর ধরে পুজোর মুখে জামা-প্যান্ট নিয়ে পৌঁছে যান । এখন আর অবশ্য শুধু ছোটদের জামা-প্যান্টেই নয় , প্রায় সমস্ত বয়েসের দুঃস্থদের হাতে তুলে দেন পোশাক । তাই পুজো এলেই দীনেশবাবুর প্রতীক্ষায় থাকেন গ্রামবাসীরা । নাওতারার চণ্ডী মুর্ম , গনেশ মুর্ম , বাবুইডাঙ্গার হিমালয় মাড্ডিরা জানান , এখন আর আমাদের ছেলে মেয়েদের পুজোয় পুরনো জামাপ্যান্ট পড়তে হয় না । পুজোর আগে জামা প্যান্ট নিয়ে দীনেশবাবু ঠিক পৌঁচ্ছে যান । এখন আর অবশ্য সেই দুর্দিন নেই । ছেলে সোমরাজ প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পেয়েছেন । মেয়ে শর্মিষ্ঠার বিয়ে হয়ে গিয়েছে । কিন্তু অভাবের সেইদিন গুলো আজও তাদের চোখের সামনে ভাসে । তারা জানান , তখন বাবা আমাদের কম দামী জামাপ্যান্ট কিনে দিয়ে পরের ছেলেমেয়ের জন্য জামাপ্যান্ট কিনতেন । তখন খুব অভিমান হত । কিন্তু এখন আমাদের বাবার জন্য গর্ব হয় । আমরাও বাবার সঙ্গে পোশাক দিতে যায় ।
স্ত্রী স্বপ্না দেবী জানান , সে সময় পুজোয় কাপড় বিক্রি করে ১০০০ টাকা লাভ হলে উনি নিজেদের জন্য অর্ধেক খরচ করে বাকিটা দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের জন্য জামাপ্যান্ট কিনেছেন । সেদিন ওইসব নারায়ণদের কথা ভেবেছিলেন বলেই বোধহয় আজ ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন । দীনেশবাবু জানান , যখন কাপড় ফেরি করতাম তখন দেখেছি পাশাপাশি একটি বাড়ির ছেলেমেয়ের জামাপ্যান্ট কেনা হলে অন্য বাড়ির ছেলেমেয়েদের মনটা কত খারাপ হয়ে যায়। সন্তানকে জামাপ্যান্ট কিনে দিতে না পেরে অক্ষমতার গ্লানি বাবা-মাকে কিভাবে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় । তখনই ঠিক করি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতগুলো পারি ততগুলো মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব।
---০---
অন্য আনন্দ
(লক্ষ্মী সোরেন)
‘ তোমার দূর্গার পঞ্চ ব্যঞ্জন পাতে / আমার দূর্গা ফূটপাতে থালা পাতে /’। ফুটপাতে থালা পেতে বসা দূর্গাদের আরাধনা শুরু হল আমোদপুরে।সারা বছর তো বটেই , পুজোর ক’টা দিনও ভিক্ষা না করলে বেনুবালা বিশ্বাস , লক্ষ্মী সোরনদের ভাতের হাঁড়ি চড়ে না । এবার থেকে পুজোর ক’টা দিন তো বটেই , লক্ষীপুজো পর্যন্ত তাদের আর ভিক্ষায় বেরোতে হবে না। বাড়ি বসেই যাতে তারা আর পাঁচটি পরিবারের মতো পুজোর ক’টা দিন একটু ভালো খাওয়া দাওয়া করতে পারেন তার ব্যবস্থা করেছেন আমোদপুর জয় দূর্গা হাইস্কুলের কিছু প্রাক্তন ছাত্র ।
উদ্যোগটা শুরু হয় মাস খানেক আগে । আমোদপুর জয়দুর্গা হাইস্কুলের ছাত্র পেশায় প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক তিন ভাই সৈকতশোভন , অর্ঘ্যকমল আর বিলাস মুখোপাধ্যায়রা ফরেস্ট গার্ড নিয়োগের পরীক্ষায় নজরদারির কাজ করে ৭৫০ টাকা পান । তারা ঠিক করেন উদ্বৃত্ত আয়ের ওই টাকাটা কোন দুঃস্থকে দিয়ে দেবেন । সেই মতো একদিন রাতে বছর সত্তরের বেনুবালাকে কোপাই স্টেশনে ভিক্ষা করতে দেখে তার হাতে ৫০০ টাকা তুলে দেন । কথায় কথায় তারা জানতে পারেন , পুজোর ক’টা দিন ভালো ভিক্ষা মেলে না । তাই পুজোর আগে থেকেই তাদের রাতেও ভিক্ষা করতে হয় । বেনুবালার কাছে থেকেই তারা আরও এক ভিক্ষাজীবি লক্ষী সোরেনের নাম জানতে পারেন ।
( চলছে আলোচনা )
ঘটনার কথা এসে তারা বলেন তাদের সতীর্থ বন্ধুদের । সবাই মিলে বসে ঠিক করেন পুজোর ক’টা দিন ওই দু’জন ভিক্ষাজীবির দায় তারা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নেবেন । এগিয়ে আসেন আমোদপুর জয়দুর্গা হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মাধব দত্ত , ধনঞ্জয় দাস, সর্গজিৎ দত্ত , সুমন্ত মুখোপাধ্যায়রা। সাহার্য্যের হাত বাড়িয়ে দেন শিক্ষকরাও । নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তারা ওই দুই ভিক্ষাজীবির বাড়িতে এদিনই পৌঁচ্ছে দিয়ে এসেছেন শতরঞ্জ , চাদর , বালিশ , ছাতা , টর্চ , মাদুর , মশারি , দুটো করে শাড়ি , সায়া , ব্লাউজ , গামছা , দু’রকম সাবান , শ্যাম্পু , পেস্ট , এক বস্তা করে চাল , দুরকম ডাল , নুন , তেল , পোস্ট , সবজি সহ নগদ ৫০০ টাকা । এক কথায় একজন মানুষের সকালে ওঠা থেকে রাতে বিছানায় শোওয়া পর্যন্ত যা-যা লাগে তা ওই দুই ভিক্ষাজীবীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা ।
( চলছে প্রস্তুতি )
ঝুড়ি ভর্তি ওইসব সামগ্রী দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দুই ভিক্ষাজীবি । আমোদপুরের পলাশডাঙ্গায় বেনুবালার বাড়ি । একাত্তরের যুদ্ধে স্বামী হরিপদ বিশ্বাস গুলিতে মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে এদেশে আসেন । মেয়ের বিয়ের পর আর কোন যোগাযোগ নেই । মাসিক যৎসামান্য কিছু টাকা বার্ধ্যক্য ভাতা পান । তার সিংহভাগই চলে যায় ওষুধ কিনতে । একই দুরবস্থা স্থানীয় উদয়নগরের বাসিন্দা লক্ষী সোরনেরও । বছর পনের আগে স্বামী মারা গিয়েছে । বড় ছেলের মৃত্যু হয়েছে ৬ বছর আগে । ছোট ছেলে শ্বশুর বাড়িতে থাকে । এদিন তারা জানান , পুজোর আগে অবস্থাপন্নদের বাড়িতেই এভাবে তত্ত্ব যায় দেখেছি । আমাদের কথা এই প্রথম কেউ ভাবল ।
( পৌঁছোল সাহার্য্য )
উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রভাস পাল জানিয়েছেন , মাটির মায়ের আরাধনায় আমরা কত লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করি । কিন্তু মানবী মায়ের কথা ভাবি না । এবার থেকে প্রতিবছরই পুজোয় আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী ওইসব মায়েদের আরাধনা করব । অনুঘটকের কাজটি করেছেন আমোদপুর জয়দূর্গা হাইস্কুলের শিক্ষক প্রসেঞ্জিত মুখোপাধ্যায় । তিনি জানান , অন্যকে আনন্দ দেওয়ার এত আনন্দ আগে পাই নি ।
























No comments:
Post a Comment