Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

কলেশ্বর


                 অবহেলিত কলেশ্বর 

                          
                          

                                            শিব চতুর্দশী তো বটেই দীর্ঘদিন ধরে বছরভর পর্যটকদের আনা গোনা লেগেই রয়েছে ময়ূরেশ্বরের কলেশ্বর শিবমন্দিরেকিন্তু জেলার পর্যটন মানচিত্রে কলেশ্বরের ঠাঁই হয় নি আজও। 


                       প্রচলিত রয়েছে , বহুকাল   আগে কলেশ ঘোষ নামে এক গোয়ালা পার্বতীপুরে একটি শিবলিঙ্গ উদ্ধার করেন । তার নামানুসারে ওই শিবের নাম হয় কলেশনাথ । পার্বতীপুর পরিচিত হয় কলেশ্বর নামে । সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে স্থানীয় ঢেকার রাজা রামজীবন রায় কলেশ্বরে নির্মাণ করেন নয়টি চূড়া বিশিষ্ট সুউচ্চ মন্দির । একই সঙ্গে তারই উদ্যোগে ওই মন্দির চত্বরেই নির্মিত হয় আরও কয়েকটি মন্দির । পরবর্তী কালে ওই শিবমন্দির ধ্বংস হয় । সেই স্থলে বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করান দক্ষিণখণ্ডের দ্বারিকানাথ দেবতপস্বী নামে এক সাধক ।

                                                                   শিবচর্তুদশী তো বটেই , সারা বছরই পুন্যার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে কলেশ্বরে । দুরদুরান্তের মানুষজন জল ঢালতে আসেন শিবের মাথায় । শিবচর্তুদশীতে ৭ দিনের মেলাও বসে । জেলার গণ্ডী ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে  কলেশ্বরের নাম ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ।কিন্তু আজও কলেশ্বর সরকারি সদিচ্ছার অভাবে অবহেলিতই রয়ে গিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ । 


                   একসময় পুজো পরিচালনা সহ মন্দিরের উন্নয়নের জন্য রামজীবন বেশ কিছু জমি বরাদ্দ করেন । সেই জমির সিংহভাগই আজ বেহাত হয়ে গিয়েছে বলে মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান । এর ফলে পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও থমকে গিয়েছে যাবতীয় উন্নয়ন। কলেশ্বরকে জেলার পর্যন মানচিত্রে অর্ন্তভুক্ত করার দাবি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের । প্রশাসনের সকলস্তরে আবেদনও জানিয়েছেন তারানানা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময় কলেশ্বরে পা রেখেছেন রাজনৈতিক দলের তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকেশুরু করে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।তাদের হাতে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি। 

                   স্থানীয় বাসিন্দা তথা নেতাজী সংস্কৃতি মঞ্চের সম্পাদক হিমাদ্রি শেখর দে , শক্তিপদ ভল্লারা জানান, কলেশ্বর পর্যন মানচিত্রের অর্ন্তভুক্ত হলে এলাকার আর্থসামাজিক চালচিত্রই বদলে যাবে । কিন্তু বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিতই রয়ে গিয়েছে। কলেশ্বর শিবালয় এবং আশ্রম কমিটির সভাপতি শুকদেব মিত্র জানান, জেলা পরিষদের অর্থানুকুল্যে বেশ কিছু উন্নয়ণমূলক কাজ হয়েছে ।কিন্তু পর্যটন মানচিত্রে অর্ন্তভুক্তির বিষয়টি আজও অবহেলিত রয়েছে ।
       

    ----০----

                                                                

No comments:

Post a Comment