কবিতাগুচ্ছ
বিশ্বাস হারিও না
অর্ঘ্য ঘোষ
তারা - জ্বলা ঘোলাটে জ্যোস্নার ম্লান ছায়া ,
মাধুনিয়া গ্রামে হিম হয়ে আসা রাত ,
দুরে ওই বালিয়াড়ি ঝাউবন ,
এখন পর্দা ঢাকা বারন্দার নীচে
তুমি শিপ্রা কেমন করে বুঝবে
ফুটপাতে উত্তাপের দাম কত।
তুমি বুঝবে না শিপ্রা উত্তাপ কত আদরের।
বাঁচার তাগিদে আমরা শুধুই জীবিকা খুঁজি
জীবনের জন্য জীবন দিতে ক'জন পারি ?
আজ শুধু মানুষের জন্য বেরিয়ে এসো ,
সুখের চাদর খুলে একসাথে বসো
আগামী সকালের সমবেত প্রত্যাশায়।
মানুষের উপর আর হারিও না বিশ্বাস।
যে হাত শত খারাপ করে
সেই হাতই অনেক ভালোও করতে পারে।
---০---
কারণ
মানুষ বলে দিতে পারে
কোন চোখে বৃষ্টি ঝরে।
মানুষের চোখই বৃষ্টি ঝরায়।
মানুষ বলে দিতে পারে
কোন চোখে আগুন ঝরে।
মানুষের চোখই আগুন ঝরায়।
মানুষ জানে
কেমন করে রক্তাক্ত হয় হৃদয়
মানুষের হৃদয়েই রক্ত ঝরে
মানুষই জানে
উর্বশীতে মুনি-ঋষিও নিঃশেষ হয়।
মানুষই নিঃশেষ হতে পারে।
কারণ সমস্ত যান্ত্রিকতার মধ্যে
একমাত্র মানুষই জীবন্ময়।
---০---
প্রতিচ্ছবি দেখে নাও
মানকচুর পাতায় জলের মতো টলোমলো প্রেম ,
বেভুল পথে মাথা কুটে মরে দিশাহীন।
কখনও আগল ভেঙে ঢুকে পড়ে আঘাটায়।
আচোট জমির আলের কিনারে চোখ ঠারে সময়।
এখন কোথাই খুঁজবে তুমি দেবদাস - পার্ব্বতীর দেশ ?
আজ বরং ধরা থাক গ্রাম্য কিশোরীর অমলিন হাসির রেশ।
এখন জীবনের মানে খুঁজতে খুঁজতে
ক্নান্ত নাবিক হারিয়েছে দিশা।
তাই আমাদেরও আর যাওয়া হয় না
যার যেখানে যাওয়ার।
বরং ফিরে ফিরে আসি বার বার।
আসলে দিক ভুল হলে সবাইকেই ফিরতে হয়
নিজস্ব কক্ষপথে।
কারণ অগুন্তি মাইলস্টোন পেরিয়েও
আমাদের কারও যাওয়া হয় না পার্ব্বতীদের দেশে।
শুধু শিয়ালের চোখে জেগে থাকে রাত ,
জ্যোস্নায় কচুপাতার জলে ভেসে ওঠে
আপন প্রতিছবি।
এসো আজ বরং প্রতিচ্ছবি দেখে নিই
তারপর নতুন করে যাত্রা হোক শুরু।
---০---
জীবন ও আগুন
পথকে কখনো ছোট কোর না ,
পথটা বিস্তৃত হওয়াই ভাল।
বিস্তৃত পথই হাঁটতে শেখায় ,
অনেক দুরে নিয়ে যায়।
পথ থেকেই বেছে নিতে হয় পথ।
যেমন আগুন থেকেই জ্বেলে নিতে হয় আগুন।
কারণ আগুনই আগুনের জন্ম দেয় ।
মনকে কখনো কৃপণ কোর না ,
মনটা উদার হওয়াই ভাল।
উদার মনই ভালোবাসতে শেখায়।
মানুষের কাছে পৌঁচ্ছে দেয়।
মন দিয়েই খুঁজে নিতে হয় মন।
যেমন জীবন দিয়েই গেঁথে নিয়ে হয় জীবন।
কারণ জীবনই জীবনের জন্ম দেয়।


No comments:
Post a Comment