সূর্যাস্তের প্রাক্কালে
অর্ঘ্য ঘোষ
সূর্যটা মাথার উপর উঠতেই খিদেটা চনমন করে ওঠে আহাদের । কপালে হাত রেখে বুঝতে চেষ্টা করে বেলা কতটা হয়েছে।শেষে ভিজে আলের উপরেই বসে পড়ে।সারা গা ঘামে ভিজে জবজবে। দু-এক ফোঁটা ঘাম মাথার চুল থেকে গাল বেয়ে মুখে ঢুকতেই খিদেটা আরও চনচনিয়ে ওঠে তার।বুঝতে পারে নাজিমা আজ রান্না করতে দেরি করে ফেলেছে।উঠে দাঁড়িয়ে আল রাস্তার দিকে তাকিয়ে নাজিমা আসছে কিনা দেখার চেষ্টা করে।নাহঃ নাজিমা আজ সত্যিই বড়ো দেরি করে ফেলেছে।ক্লান্ত আহাদের মনে পড়ে যায় পিছনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা।
তখন বাবা বেঁচেছিল , বেঁচেছিল মা'ও।বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে আহাদ। বাবা শখ করে স্কুলে পড়তে পাঠিয়েছিল।তারপর একদিন হঠাৎ হার্টফেল করে বাবা মারা গেল।আহাদের কতই বা বয়েস তখন , সঠিক মনে করতে পারে না।বাবা যে দু-এক বিঘে জমি জিরেত রেখে গিয়েছিল তাই চাষ করে আর মজুর খেটে কোন রকমে চলে যাচ্ছিল আহাদ আর তার মায়ের।বছর দুই হতে না হতেই মাও মারা গেল।একেবারে একা হয়ে পড়ল আহাদ। সান্ত্বনা দেওয়ার পর্যন্ত কেউ রইল না। তারপরই তার জীবনে এলো নাজিমা।
নাজিমা গ্রামেরই মেয়ে । ওকে নিয়ে আবার নতুন করে সংসার পাতে আহাদ।সারাদিন কাজে ডুবে থাকে আর সন্ধ্যেবেলায় যায় মাস্টারবাবুর বাড়ি। আরও অনেক লোক আসে সেখানে।নানা রকম কথাবার্তা হয়।মাস্টারবাবুর কাছে কত গল্প শোনে ওরা।সব কিছুর মানে বোঝে না। কিন্তু শুনে রক্ত গরম হয়ে ওঠে , লোম আর কান খাড়া হয়ে যায়। মাস্টারবাবু বলেন , দুনিয়ার যত বড়োলোক দেখছ , ওঁরা সবাই আমাদের ঠকিয়ে এত বড়লোক হয়েছে।আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাটি আর তার মুনফা ভোগ করে ওইসব বড়োলোকের দল।
দুরে নাজিমাকে আসতে দেখে ফের খিদেটা চাগার দিয়ে ওঠে আহাদের। যেন বা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে সে। রোদে পুড়ে নাজিমার মুখটা লাল দেখাচ্ছে । ঠিক যেন ঘোষেদের দুগগি পিতিমের মতো দেখায় নাজিমার ঘামে ভেজা মুখ খানা । কাছে আসতেই আহাদ জিজ্ঞেস করে --- কি রে আজ এত দেরি হলো ক্যানে ?
---- ক্যানে আবার , মাস্টারবাবু ডেকে পাঠানছেল।কি সব বুললে গো , মেছেল না কি হবে। তুমাকে সাঁঝবেলায় যেতে বুললে। কাল খাঁ সাহিবদের ধান কাটা হবে।
--- সে হবে ক্ষণ।
আলের উপরে বসেই নাজিমার আনা ভাত খুলে খেতে শুরু করে আহাদ । নাজিমা অদুরের পুকুরঘাট থেকে ঘটিতে করে জল আনতে যায়।আর তার চলন ভঙ্গির দিকে চেয়ে চেয়ে খেতে থাকে আহাদ।নাঃ বউটা তার বেশ সুন্দরীই হয়েছ , সবাই বলে ঘর আলো করা বউ।পাড়ার অনেক ছেলেরই চোখ ছিল নাজিমার উপর।অনেকে তাকে ঘিরে ছোঁক ছোঁকও করত। কিন্তু নাজিমা তাকে ভালোবেসে তার ঘরেই আসে।সেই কোন ছোট বেলাকার ভালোবাসা তাদের।নাজিমা জল নিয়ে ফেরে।রোদটা মাথার উপর চড়া দিয়ে ওঠে।সামনে টানা দেওয়া গরু দুটো ডেকে ওঠে। খাওয়া শেষে আহাদ গরু দুটোকে পুকুরে জল খাওয়াতে নিয়ে যায়। এবারে খেতে বসে নাজিমা।
গরু দুটোকে ফের টানা দিয়ে ফিরতেই আহাদের সামনে এক রাশ অভিমানে ফেটে পড়ে নাজিমা । অনুযোগ ভরা গলায় বলে , আবার তুমি আমার লেগে আধেক খানা ডিম থুয়ে দিয়েছ ? কতবার বুলেছি আমার ডিম খেতি ভালো লাগে না , তাও তুমি শুনবা না।
---- আমার কাছে আর কিছু লুকোতে হবে না তুকে ? ভালো জিনিস কার না খেতি ভালো লাগে বুল । আসলে আমার ভাগে কম পড়ি যাবে বুলেই তু এমনি বাহানা কুরিস।
---- মুটেই তা লয় , আসলে সারা দিনমান তুমি খাটি খাটি মরো , তুমার একটু ভালোমন্দ খাওয়া না হলি শরীলটা থাকবে ?
---- ও , আর তু বুঝি বাবুদের বৌ গুলানের মতু পায়ের উপর পা তুলে খাস ? সারা দিনমান সংসারের লেগে তুও তো চরকিপাক দিছিস ? তুর বুঝি শরীলটা তো শরীল লয় ? তুর শরীলের কিছু হলি আমার বুঝি ভালো লাগবে ?
খাওয়া শেষ হতেই বাসনপত্র গুছিয়ে নিয়ে ফেরার জন্য উঠে দাঁড়ায় নাজিমা।আহাদ ওকে ডেকে কাছে বসায়। সোহাগের সুরে বলে --- নাজিমা তুর বেজায় দুখখু লয়রে ? তুকে ভালো খেতে পড়তি দিতি পারি না। একটো ভালো শাড়ি ব্লাউজ কি সাজার জিনিস কিনি দিতি পারি না।তোর সোন্দর পানা মুখ , একটু সাজন-গোজন করলি তুকে একেবারে বাবুদের বাড়ির দুগদি পিতিমের পারা লাগবে। আমার খুব কষ্ট হয় রে। ত্যাবে দেখিস নাজিমা , চেরটাকাল ইমুন যাবে না । একদিন আমাদের দুখের দিন সুকের হবে।
--- কে বুললে আমার খুব দুখু ? তুমার ভালোবাসা আমাকে সব দুখু ভুলিন দিনছে গো।
--- তু খুব ভালো রে নাজিমা।
--- লাও , লাও খুব হলছে , ইবার ছাড়ান দাও তো দেখি। সাঁঝবেলাতে মাস্টারবাবুর বাড়ি যেতি ভুলো না যেন।
তারপরই বাড়ির পথ ধরে নাজিমা।সেদিকে চেয়ে থাকে আহাদ। আলপথের বাঁকে নাজিমা মিলিয়ে যেতেই একটা বিড়ি ধরায় সে।বিড়ি খাওয়া দেখলে নাজিমা খুব বকাবকি করে। দিনে ৫ টা মাত্র বিড়ি বরাদ্দ করে দিয়েছে সে। সে কোটা তো কখন শেষ হয়ে গিয়েছে।তাই খাওয়ার পর একটা বিড়ির জন্য মনটা খুব ছোঁকছোঁক করলেও নাজিমার সামনে ধরাতে সাহস পায় নি সে। বিড়িতে সুখটানটা দিয়েই আবার জমিতে নিরান শুরু করে।
সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি ফিরে মাস্টারবাবুর ওখানে যায় আহাদ।সেখানে তখন অনেক লোক। পতাকা , লাঠি , বল্লম , তীর- ধনুক হাতে সবাই এগিয়ে চলে খাঁ সাহেবের জমির দিকে। মাস্টারবাবু সবার আগে আগে।কত সব শ্লোগান দিতে দিতে যায় সবাই। আহাদ ওসব ঠিক বলতে পারে না।কিন্তু হাত মুঠো করে বলার আপ্রাণ চেষ্টা করে।খাঁ সাহেবরাও কম যান না।তারা ভাড়া করে লাঠিয়াল আনে। লড়াই বেঁধে যায়।সে সময় মাস্টারবাবুকে আর দেখা যায় না। তাই দ্বিধা-দ্বন্দ তৈরি হয় অনেকের মনে।কিন্তু আহাদরা লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যেতে পারে না।তারা প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যায়।
লড়াইয়ের একেবারে সামনে গিয়ে পড়ে আহাদ। আজ যেন মরণপণ করেছে সে । গা গরম করা শ্লোগান তার মনে যেন আগুন জ্বেলে দিয়েছে।মাস্টারবাবুর মুখে অনেক লড়াইয়ের কথা শুনেছে সে , শুনেছে অনেক জয়-পরাজয়ের কাহিনী। তাই কিছুতেই হার মানবে না আহাদ। জোর লড়াই চলতে থাকে। কিন্তু মাস্টারবাবু এইসময় গেলেন কোথা ? তিনি থাকলে তারা আরও সাহস পেত।আহাদ ভেবে পায় না , যে মাস্টারবাবু মাইকে লড়াইয়ের কথা বলে রক্ত গরম করে দেন , মুখে সবসময় তাদের পাশে থাকার কথা বলেন , সেই মাস্টারবাবু কি করে তাদের এই বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে চলে গেলেন ? মাস্টারবাবুর কথা ভাবতে গিয়ে কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে আহাদ।আর তখনই একটা বিষাক্ত তীর এসে বেঁধে আহাদের ডান পায়ে।যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়ে সে।
যখন জ্ঞান ফেরে তখন আহাদ কান্দী হাসপাতালে। স্যালাইন চলছে । পায়ের কাছে বসে সমানে কেঁদে চলেছে নাজিমা। দুরে পার্টির নেতা আর ডাক্তারের সঙ্গে কিসব আলোচনা করছেন মাস্টারবাবু।তারপর একবার তার সঙ্গে দেখা করে একে একে সবাই চলে যায়। নাজিমা কেবল পায়ের কাছে বসে কেঁদেই চলে।আহাদ মনে মনে বলে , কাঁদিস নে নাজিমা , দেখিস আমি ঠিক ভালো হঁয়ে যাবু। তারপর ওই শালা খাঁ সাহিবকে দেখে লুব। কিন্তু মুখে কোন কথাই উচ্চারণ করতে পারে না সে।
বেশ কয়েকটা দিন হাসপাতালেই কেটে যায়। আহাদের পা আর ভালো হয় না।পচা পচা গন্ধ ছড়ায় , আর তীব্র যন্ত্রণা হয়। তারই মাঝে একদিন আবার মাষ্টারবাবু আসেন।ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কি যেন চুপি চুপি আলোচনা হয়।কিছু অনুমানও করতে পারে না আহাদ। পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে বেশ বেলায়।নিজেকে কেমন যেন হালকা হালকা লাগে তার। হাত দিয়ে দেখে হাঁটুর নিচে থেকে ডান পা'টা আর নেই।বেশ মোটা করে ব্যান্ডেজ বাঁধা রয়েছে। আহাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না , তার অজান্তেই ডাক্তারবাবুরা তাকে অজ্ঞান করে পা'টা কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছে।ডুঁকরে কেঁদে ওঠে আহাদ।নিজের মনকেই সান্ত্বনা দেওয়ার কোন ভাষা খুঁজে পায় না সে।
মাথার কাছে দাঁড়িয়ে মাষ্টারবাবু সান্ত্বনা দেন , কেঁদো না আহাদ। দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে।তুমি সমাজের জন্য লড়েছো , সমাজের মানুষ তোমাকে কোনদিন ভুলবে না।আহাদ চুপ করে যায়।নাজিমা বুঝতে চায় না।কোন সান্ত্বনা মানে না। সে কেঁদেই চলে , মাস্টারবাবু তুমার কথা শুনে আমার ই কি বেপদ হোল গো।তুমার কথা যদি উকে না বুলতাম তা হলি ই বেপদ আমার হতো নি।অস্বস্তি এড়াতে কাউকে কিছু না বলে অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান মাস্টারবাবু। আহাদের কাটা পায়ে হাত বোলাতে বোলাতে নাজিমা তখনও কেঁদেই চলে। আহাদের চোখ দিয়েও গড়িয়ে পড়ে জল।
একদিন হাসপাতালের ছুটি হয় । নাজিমার কাঁধে ভর দিয়ে বাড়ি ফেরে আহাদ।কয়েকদিন বেশ ভালো ভাবেই কাটে সকলের সমবেদনা আর সাহার্য্যে। তারপর ক্রমশ ভাঁটা পড়ে আসে সমবেদনার। মাস্টারবাবুও আর আসেন না। ঠিক মতো গ্রাহ্যও করেন না।তবু নাজিমা বেহায়ার মতো যায়। ভিখারির মতো চেয়ে আনে কিছু চাল-ডাল।মাষ্টারবাবু খুব বিরক্ত হন।সব শুনে মেজাজ খিঁচড়ে যায় আহাদের।চিৎকার করে ওঠে সে , আর গেরাজ্যি কুরবে ক্যানে শালারা ? আমার যি একটো পা নাই।আর তু শালাদের মিটিন মেছলে যেতি পারব নি। শালাদের কাছে যতদিন গতর ততদিন কদর।শালা মাষ্টার আর খাঁ সাহিব, শালারা সুবাই তলায় তলায় এক কেলাসের লুক। শালারা সুবাই ধান্ধাবাজ , নেমকহারাম , স্বার্থপর।ছোট ছেলের মতো হাউহাউ করে কেঁদে ওঠে আহাদ।
আহাদের কথাটা যে কত বড়ো সত্যি কয়েকদিনের মধ্যে তা টের পায় নাজিমা।ততদিনে অভাব অনটন গ্রাস করে নিয়েছে সংসারটাকে। পেটের দায়ে বিকিয়ে গিয়েছে ঘটিবাটি দু'একটা যা ছিল সব। সেদিন বিকালে মেঘ ঝামরে বৃষ্টি নেমেছে। বাড়িতে খাওয়ার মতো একদানাও কিছু নেই। আহাদের মুখে কি তুলে তা ভেবে কিছু কুলকিনারা পায় না নাজিমা। তাই বৃষ্টি মাথায় সে মাস্টারবাবুর বাড়িতেই যায়। মাষ্টারবাবুর বাড়ি সেদিন সুনসান । কেউ কোথাও নেই। তাকে দেখেই ঘরের ভিতরে ডেকে নেন মাস্টারবাবু। ঘরে ঢুকতেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ভদ্রলোকের মুখোশধারী মাঝ বয়সী লোকটা। সে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতেই , মুখোশ খুলে যায় তার। নাজিমার মনে হয় মানুষ নয় , যেন জঙ্গলের কোন জানোয়ার তাকে জড়িয়ে ধরে আছে।জানোয়ারের গলাতেই লোকটা কেটে কেটে বলে , আমার বাপের কি হুন্ডি আছে। সারা জীবন তোদের খাবার যোগাব ? এক হাতে তালি বাজে না। কিছু পেতে গেলে কিছু দিতে হয়।আমার ইচ্ছা তুই যদি পূরণ করে দিস , তাহলে তোদেরও খাওয়া পড়ার অভাব থাকবে না।
নির্বাক হয়ে যায় নাজিমা। এই লোকটাই মাইক ধরে কি সুন্দর সুন্দর কথা বলেন।মা-বোন বলে সম্বোধন করেন মেয়েদের। লোকে কত সম্মান করেন। হাততালি দেয়। তত আরও ভালোভাল কথা বলেন। তারই ভিতরে যে এমন একটা জানোয়ার বাস করে তা কে বিশ্বাস করবে ? পরক্ষণের আহাদের ক্ষুধাতুর মুখটা ভেসে ওঠে তার চোখের সামনে। সে হয়তো তার খাবার নিয়ে ফেরার অপেক্ষায় অধীর হয়ে উঠেছে। সেই কথা মনে পড়তেই সমস্ত প্রতিরোধ শক্তি হারিয়ে ফেলে নাজিমা।আর সেই সুযোগের পূর্ণ সদব্যবহার করে নেন মাস্টারবাবু।শেষে কয়েকটা ১০ টাকার নোট নাজিমাদের হাতে গুঁজে দিয়ে বলেন, মাঝে মধ্যে এরকম আসবি।তোদের খাওয়া পাওয়ার অভাব থাকবে না।
মুখে আঁচল চাপা দিয়ে ছুটে যেন শয়তানের গুহা থেকে বেরিয়ে আসে নাজমা। গা'টা ঘিনঘিন করে ওঠে। খুব বমি পায় তার। কিছুতেই ওই টাকায় আহাদের জন্য খাবার কিনতে পারে না সে। মাথা নিচু করে বাড়ি ফিরে আসে।আহাদ তখন উঠে বসে। তাকে কাছে ডাকে। স্বামীর কাছে যেতে পারে না নাজিমা। পা'টা যেন পাথর হয়ে যায় তার। ফের স্ত্রীকে কাছে ডাকে আহাদ -- আয় , আমার কাছে এসে বুস। তুর অদৃষ্টটো খুব মুন্দ রে হতভাগী। এবারে আর স্বামীর ডাক উপেক্ষা করতে পারে না নাজিমা। হাতের মুঠোয় ধরা নোট ক'টা দলা পাকিয়ে দরজার বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আহাদের পাশে গিয়ে বসে। নিজের হাতের মুঠোয় নাজিমার হাত দুটো তুলে নেয় আহাদ।কোন কথা বলতে পারে না নাজিমা।সারা শরীর কেঁপে ওঠে তার।আহাদের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে ওঠে অব্যক্ত যন্ত্রনায়।বাইরে তখন পশ্চিমাকাশে আস্তে আস্তে সুর্য ডুবে যায়।
( স্কুল জীবনে লেখা এই গল্পটি আমার লেখালিখির আঁতুড়ঘর শ্রদ্ধেয় সন্তু সেনগুপ্ত সম্পাদিত ' মাসিক দিদিভাই' পত্রিকায় বাংলার ১৩৯২ সালের শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। পুরনো কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ হাতে এলো সেই সংখ্যাটি। মনে হল আহাদের ঘটনা এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। তাই হারিয়ে যেতে বসা ' দিদিভাই' পত্রিকার ধূসর পাতা থেকে অবিকৃত অবস্থায় আহাদ-নাজিমার কথা তুলে ধরলাম।)


No comments:
Post a Comment