লক্ষ্মীপুজো
পুজো দেখুন ষাটপলশায়
কোথাও মাছ বিক্রি করছেন মেছুনি , সবজি বিক্রেতা সাজিয়ে বসে রয়েছেন সবজির পসরা , কোথাও বা কামারশাল কিম্বা ছুতোরশালে গৃহস্থালীর সামগ্রী তৈরি করাচ্ছেন গৃহস্থ ।ঠিক যেন একটা আস্ত গ্রামীণ হাট । হবে না'ই বা কেন ? হাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পুজো বলে কথা ।তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাট কবিতাকে লক্ষীপুজোর থিম করেছে ময়ূরেশ্বরের হাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। পুজোর আনন্দে বাদ সেধেছে
বৃষ্টি। ষাটপলশার লক্ষীপুজোয় সেই আনন্দ ষোল আনা পুষিয়ে নিতে বুক বেঁধেছে এলাকার
শতাধিক গ্রামের মানুষ।এমনিতেই অন্যান্য বছরও ওই পুজোয় মানুষের ঢল নামে।তার
উপরে এবারে বৃষ্টির জন্য পুজোর ক’টা দিন অধিকাংশের গৃহবন্দী অবস্থায় কেটেছে। পুজোর
পর আকাশের মতোই ফুরফুরে হয়ে উঠেছে মানুষের মন। তাই তাদের গন্তব্য এখন ময়ূরেশ্বরের
ষাটপলশা হাট ।
প্রচলিত রয়েছে ,
একসময় পুজোটি ছিল পারিবারিক। শতাধিক বছর আগে এই পুজোর প্রচলন করেন স্থানীয়
বাসিন্দা প্রয়াত রাজলক্ষী পাল । তার ৩০ বছর পর ওই পুজোর দায়িত্ব বর্তায় স্থানীয়
স্থানীয় ষাটপলশা হাট ব্যবসায়ী সমিতির উপর । সেই থেকে আজও তারাই পুজোর দায়িত্ব
সামলাচ্ছেন । এলাকায় দুটি দুর্গাপুজো রয়েছে। একটি পারিবারিক , অন্যটি বারোয়ারি ।
তবে সর্বজনীন উৎসব বলতে স্থানীয়রা লক্ষ্মীপুজোকেই বোঝেন । বিবাহিত মেয়েরা
লক্ষ্মী পুজোতেই বাপের বাড়ি ফেরেন ।
পুরুষেরা ফেরেন কর্মস্থল থেকে।
এবারও তার অন্যথা হয় নি । বরং দুর্গা পুজোর আনন্দের
ঘাটতি মেটাতে উৎসাহের আধিক্য আরও বেড়ে গিয়েছে। তার উপরে এবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
হাট কবিতাকে থিম করা হয়েছে । সবজি বিক্রেতা , মাছ বিক্রেতা , থেকে শুরু করে
অবলুপ্ত প্রায় কুটিরশিল্প কামারশালা , ছুতোরশালা সহ দেখা মিলবে গ্রামীণ একটি আস্ত
হাটের । নানা অনুষ্ঠান সহ রয়েছে টানা ১০ দিনের মেলাও ।তাই এবারও হায়দ্রাবাদ
থেকে ষাটপলশায় বাপের বাড়ি এসেছেন তনুশ্রী ঘোষ , দুর্গাপুর থেকে কৃষ্ণা পালরা ।
তারা জানান , সাধারণত দুর্গা পুজোটা শ্বশুরবাড়িতে কাটিয়ে আমরা লক্ষ্মীপুজোতেই
বাপের বাড়িতে আসি । এবারে তো বৃষ্টির জন্য দুর্গাপুজোতে ঘরবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছে ।
সেই আনন্দটা পুরোপুরি পুষিয়ে নিতে চাই ।কল্যাণীর
কর্মস্থল থেকে এসেছেন শ্যামল ঘোষ , গড়িয়া থেকে পুলক পাল , হায়দ্রাবাদ থেকে বাসব
ঘোষরাও । তারাও জানান , দুর্গাপুজোর পরিবর্তে আমরা লক্ষীপুজোতেই বাড়ি ফিরি ।
সব থেকে
খুশী কঁচিকাঁচারা । তৃতীয় শ্রেণীর দেবায়ন ঘোষ , চতুর্থ শ্রেণীর স্বস্তিকা সেন ,
পঞ্চম শ্রেণীর জিৎ মন্ডল , অষ্টম শ্রেণীর গোপাল মণ্ডলরা , ভাগ্যিস লক্ষ্মীপুজোটা ছিল , না হলে তো সব আনন্দ
মাঠে মারা যেত । পুজোয় বাজি পটকা তো সব ফোটানোই হয়নি ।লক্ষ্মীপুজোয় সেগুলো ফাটাব।খুশী মেলায় আসা
দোকানদারেরাও । মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরের নিতাই দাস , আনখোনার খোকন দাস বৈরাগ্যরা
জানান , দুর্গাপুজোর মেলায় দোকান দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর লোকসান হয়েছে । বৃষ্টির
জন্য বিক্রিবাটা হয়নি বললেই চলে । সেই লোকসান উসুল করতে বহু ভরষা করে এসেছি ।
মালক্ষী নিশ্চয় লক্ষী লাভে বঞ্চিত করবেন না।পুজো কমিটির
সভাপতি ঈশ্বর পাত্র , সম্পাদক মানস ঘোষ জানান,
হাটের থিমের পাশাপাশি রয়েছে দক্ষিণেশ্বরের আদলে মন্ডপ , আইফেল টাওয়ার , আতসবাজি। এমনিতেই অন্যান্যবার দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হয় । এবারে পুজোয়
আনন্দের ঘাটতি মেটাতে সমাগম আরও বাড়বে ।
----০----
নীল সরস্বতীর কথা
কোথাও মাছ বিক্রি করছেন মেছুনি , সবজি বিক্রেতা সাজিয়ে বসে রয়েছেন সবজির পসরা , কোথাও বা কামারশাল কিম্বা ছুতোরশালে গৃহস্থালীর সামগ্রী তৈরি করাচ্ছেন গৃহস্থ ।ঠিক যেন একটা আস্ত গ্রামীণ হাট । হবে না'ই বা কেন ? হাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পুজো বলে কথা ।তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাট কবিতাকে লক্ষীপুজোর থিম করেছে ময়ূরেশ্বরের হাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। পুজোর আনন্দে বাদ সেধেছে বৃষ্টি। ষাটপলশার লক্ষীপুজোয় সেই আনন্দ ষোল আনা পুষিয়ে নিতে বুক বেঁধেছে এলাকার শতাধিক গ্রামের মানুষ।এমনিতেই অন্যান্য বছরও ওই পুজোয় মানুষের ঢল নামে।তার উপরে এবারে বৃষ্টির জন্য পুজোর ক’টা দিন অধিকাংশের গৃহবন্দী অবস্থায় কেটেছে। পুজোর পর আকাশের মতোই ফুরফুরে হয়ে উঠেছে মানুষের মন। তাই তাদের গন্তব্য এখন ময়ূরেশ্বরের ষাটপলশা হাট ।
প্রচলিত রয়েছে ,
একসময় পুজোটি ছিল পারিবারিক। শতাধিক বছর আগে এই পুজোর প্রচলন করেন স্থানীয়
বাসিন্দা প্রয়াত রাজলক্ষী পাল । তার ৩০ বছর পর ওই পুজোর দায়িত্ব বর্তায় স্থানীয়
স্থানীয় ষাটপলশা হাট ব্যবসায়ী সমিতির উপর । সেই থেকে আজও তারাই পুজোর দায়িত্ব
সামলাচ্ছেন । এলাকায় দুটি দুর্গাপুজো রয়েছে। একটি পারিবারিক , অন্যটি বারোয়ারি ।
তবে সর্বজনীন উৎসব বলতে স্থানীয়রা লক্ষ্মীপুজোকেই বোঝেন । বিবাহিত মেয়েরা
লক্ষ্মী পুজোতেই বাপের বাড়ি ফেরেন ।
পুরুষেরা ফেরেন কর্মস্থল থেকে।
এবারও তার অন্যথা হয় নি । বরং দুর্গা পুজোর আনন্দের
ঘাটতি মেটাতে উৎসাহের আধিক্য আরও বেড়ে গিয়েছে। তার উপরে এবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
হাট কবিতাকে থিম করা হয়েছে । সবজি বিক্রেতা , মাছ বিক্রেতা , থেকে শুরু করে
অবলুপ্ত প্রায় কুটিরশিল্প কামারশালা , ছুতোরশালা সহ দেখা মিলবে গ্রামীণ একটি আস্ত
হাটের । নানা অনুষ্ঠান সহ রয়েছে টানা ১০ দিনের মেলাও ।তাই এবারও হায়দ্রাবাদ
থেকে ষাটপলশায় বাপের বাড়ি এসেছেন তনুশ্রী ঘোষ , দুর্গাপুর থেকে কৃষ্ণা পালরা ।
তারা জানান , সাধারণত দুর্গা পুজোটা শ্বশুরবাড়িতে কাটিয়ে আমরা লক্ষ্মীপুজোতেই
বাপের বাড়িতে আসি । এবারে তো বৃষ্টির জন্য দুর্গাপুজোতে ঘরবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছে ।
সেই আনন্দটা পুরোপুরি পুষিয়ে নিতে চাই ।কল্যাণীর
কর্মস্থল থেকে এসেছেন শ্যামল ঘোষ , গড়িয়া থেকে পুলক পাল , হায়দ্রাবাদ থেকে বাসব
ঘোষরাও । তারাও জানান , দুর্গাপুজোর পরিবর্তে আমরা লক্ষীপুজোতেই বাড়ি ফিরি ।
সব থেকে
খুশী কঁচিকাঁচারা । তৃতীয় শ্রেণীর দেবায়ন ঘোষ , চতুর্থ শ্রেণীর স্বস্তিকা সেন ,
পঞ্চম শ্রেণীর জিৎ মন্ডল , অষ্টম শ্রেণীর গোপাল মণ্ডলরা , ভাগ্যিস লক্ষ্মীপুজোটা ছিল , না হলে তো সব আনন্দ
মাঠে মারা যেত । পুজোয় বাজি পটকা তো সব ফোটানোই হয়নি ।লক্ষ্মীপুজোয় সেগুলো ফাটাব।খুশী মেলায় আসা
দোকানদারেরাও । মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরের নিতাই দাস , আনখোনার খোকন দাস বৈরাগ্যরা
জানান , দুর্গাপুজোর মেলায় দোকান দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর লোকসান হয়েছে । বৃষ্টির
জন্য বিক্রিবাটা হয়নি বললেই চলে । সেই লোকসান উসুল করতে বহু ভরষা করে এসেছি ।
মালক্ষী নিশ্চয় লক্ষী লাভে বঞ্চিত করবেন না।পুজো কমিটির
সভাপতি ঈশ্বর পাত্র , সম্পাদক মানস ঘোষ জানান,
হাটের থিমের পাশাপাশি রয়েছে দক্ষিণেশ্বরের আদলে মন্ডপ , আইফেল টাওয়ার , আতসবাজি। এমনিতেই অন্যান্যবার দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হয় । এবারে পুজোয়
আনন্দের ঘাটতি মেটাতে সমাগম আরও বাড়বে ।
----০----
নীল সরস্বতীর কথা
নিজের সাহিত্য কীর্তির সুবাদেই তার পরিচিতির ব্যাপ্তি বলার অপেক্ষা রাখে না । তবু আজও কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলাদা ভাবে মনে পড়ায় তারামায়ের পুজো । কারণ ওই পুজোকে জড়িয়ে রয়েছে তার জন্ম বিতান্ত । প্রচলিত রয়েছে , ১৮৯৭ সালে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া একটি ডাঙ্গায় ওই পুজোর প্রচলন করেন এলাকার জমিদার হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় । একসময় তিনি ছিলেন অপুত্রক । রামোজি গোঁসাই নামে এক তান্ত্রিকের নির্দেশেই তিনি তন্ত্রমতে তারামায়ের পুজো সহ পুত্রেষ্টি যজ্ঞও করেন । ওই যজ্ঞের বছর খানেকের মধ্যেই নাকি হরিদাসবাবু পুত্র সন্তান লাভ করেন । তারামায়ের নামানুসারেই সেই ছেলের নাম রাখা হয় তারাশঙ্কর । পরবর্তীকালে সেই তারাশঙ্করই সাহিত্যিক হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন । আর ওই ডাঙ্গাটি তারামাডাঙ্গা হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে ।
সেই সময় পুজো চালানোর জন্য বরাদ্দ হয় দেবোত্তর জমিও । কিন্তু জমিদারি প্রথা বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে সেইসব জমির সিংভাগই বেহাত হয়ে যায় । নানান প্রতিকূলতায় পুজো একসময় উঠিয়ে নিয়ে আসা হয় নামো সদর হিসাবে খ্যাত সাহিত্যিকের পারিবারিক দুর্গামণ্ডপ । অব্যবহারে ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ে তারামাডাঙ্গায় জমিদারি আমলে তৈরি মন্দির । এমনিতেই জমিদার বাড়ির পারিবারিক গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ ওই পুজোয় প্রথম থেকেই সেই অর্থে অন্যদের সার্বিক অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না বললেই চলে । তার উপরে তারামাডাঙ্গা থেকে নামোসদরে স্থানান্তরিত হওয়ায় সেই গণ্ডীটা আরও ছোট হয়ে পড়ে। নিতান্তই পারিবারিক পুজোটিতে এখন সর্বজনীনতার ছোঁয়া লেগেছে। বেড়াটা ভাঙতে শুরু করে বছর পাঁচেক আগে । সাহিত্যিকের ভ্রাতুপুত্র তথা চিত্র পরিচালক পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড গড়ে তারামাডাঙ্গায় মন্দির পুননির্মান করে ফের সেখানে পুজো স্থানান্তরিত করেন । তারপর থেকেই সার্বজনীনতার ছোওয়া লেগেছে পুজোয় । চর্তুদশীর রাতে তারামায়ের পুজোয় মেতে ওঠেন লাভপুরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন ।
স্থানীয় গৃহবধু স্বপ্না বন্দ্যোপাধায় , মাধবী বন্দ্যোপাধ্যায় , কৃষ্ণা রায় , রীতা পাল, শ্যামা চক্রবর্তীরা জানান , সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মতোই তারামায়ের পুজোয় অঞ্জলি দেওয়ার জন্য আমরা রাত জেগে উপোষ করে থাকি ।রামকৃষ্ণ মণ্ডল , অনিন্দ্য রায়রা জানান , এখন সবেতেই আমরা হাত লাগাই । মনেই হয় না একদিন পারিবারিক গণ্ডীতে আবদ্ধ ছিল এই পুজো ।
বেনুকর নন্দী ,বিশ্বজিৎ রায় , তরুণ চক্রবর্তী , দানবেন্দ্র পালরা জানান , সার্বজনীনতার ছোঁওয়া লাগায় উৎসব প্রিয় বাঙ্গালীর কাছে দুর্গা থেকে লক্ষীপুজোর ফাঁকটা ভরাট করে দিয়েছে তারামায়ের পুজো।
পলাশবাবু এবং আর ভ্রাতুপুত্র বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,তারাশঙ্কর ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক । তারই জন্ম উপলক্ষ্যে প্রচলিত পুজো কখনোই পারিবারিক গণ্ডীতে আবদ্ধ থাকাটা কাম্য নয়। তাই সবার অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্যই তারামাডাঙ্গায় পুজো স্থানান্তরিত করে সার্বজনীন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি ।
চরিত্র বদলালেও কিন্তু বজায় রয়েছে সাবেকীয়ানা । প্রতিমা থেকে উপাচার আজও একই আছে । আজও সারা গায়ে সাপ জড়ানো বাঘ ছাল পরিহিতা জটাধারী নীল রঙের মূর্তি পূজিত হয় । নীল সরস্বতী হিসাবেও আখ্যায়িত হন দেবী । উপাচারে থাকে মদ , ছোলাভাজা সহ নানা সামগ্রী । বদলায় নি পুরোহিতও । পুরুষানুক্রমে ওই পুজো করে আসছেন স্থানীয় কোতলঘোঁষার ভট্টাচার্য্য পরিবার । পুরুষানুক্রমে পুজো করছেন সুভাষ ভট্টাচার্য্য । তিনি জানান , ১২০ বছরের প্রাচীন এই পুজো পরিচালনায় নানা ঘাতপ্রতিঘাত এসেছে ,বহিরঙ্গে নানা সময়ে নানা পরিবর্তনও ঘটেছে । কিন্তু পুজোর রীতি আচারের কোন পরিবর্তন কখনও হয়নি ।
নিজের সাহিত্য কীর্তির সুবাদেই তার পরিচিতির ব্যাপ্তি বলার অপেক্ষা রাখে না । তবু আজও কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলাদা ভাবে মনে পড়ায় তারামায়ের পুজো । কারণ ওই পুজোকে জড়িয়ে রয়েছে তার জন্ম বিতান্ত । প্রচলিত রয়েছে , ১৮৯৭ সালে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া একটি ডাঙ্গায় ওই পুজোর প্রচলন করেন এলাকার জমিদার হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় । একসময় তিনি ছিলেন অপুত্রক । রামোজি গোঁসাই নামে এক তান্ত্রিকের নির্দেশেই তিনি তন্ত্রমতে তারামায়ের পুজো সহ পুত্রেষ্টি যজ্ঞও করেন । ওই যজ্ঞের বছর খানেকের মধ্যেই নাকি হরিদাসবাবু পুত্র সন্তান লাভ করেন । তারামায়ের নামানুসারেই সেই ছেলের নাম রাখা হয় তারাশঙ্কর । পরবর্তীকালে সেই তারাশঙ্করই সাহিত্যিক হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন । আর ওই ডাঙ্গাটি তারামাডাঙ্গা হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে ।
সেই সময় পুজো চালানোর জন্য বরাদ্দ হয় দেবোত্তর জমিও । কিন্তু জমিদারি প্রথা বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে সেইসব জমির সিংভাগই বেহাত হয়ে যায় । নানান প্রতিকূলতায় পুজো একসময় উঠিয়ে নিয়ে আসা হয় নামো সদর হিসাবে খ্যাত সাহিত্যিকের পারিবারিক দুর্গামণ্ডপ । অব্যবহারে ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ে তারামাডাঙ্গায় জমিদারি আমলে তৈরি মন্দির । এমনিতেই জমিদার বাড়ির পারিবারিক গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ ওই পুজোয় প্রথম থেকেই সেই অর্থে অন্যদের সার্বিক অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না বললেই চলে । তার উপরে তারামাডাঙ্গা থেকে নামোসদরে স্থানান্তরিত হওয়ায় সেই গণ্ডীটা আরও ছোট হয়ে পড়ে। নিতান্তই পারিবারিক পুজোটিতে এখন সর্বজনীনতার ছোঁয়া লেগেছে। বেড়াটা ভাঙতে শুরু করে বছর পাঁচেক আগে । সাহিত্যিকের ভ্রাতুপুত্র তথা চিত্র পরিচালক পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড গড়ে তারামাডাঙ্গায় মন্দির পুননির্মান করে ফের সেখানে পুজো স্থানান্তরিত করেন । তারপর থেকেই সার্বজনীনতার ছোওয়া লেগেছে পুজোয় । চর্তুদশীর রাতে তারামায়ের পুজোয় মেতে ওঠেন লাভপুরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন ।
স্থানীয় গৃহবধু স্বপ্না বন্দ্যোপাধায় , মাধবী বন্দ্যোপাধ্যায় , কৃষ্ণা রায় , রীতা পাল, শ্যামা চক্রবর্তীরা জানান , সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মতোই তারামায়ের পুজোয় অঞ্জলি দেওয়ার জন্য আমরা রাত জেগে উপোষ করে থাকি ।রামকৃষ্ণ মণ্ডল , অনিন্দ্য রায়রা জানান , এখন সবেতেই আমরা হাত লাগাই । মনেই হয় না একদিন পারিবারিক গণ্ডীতে আবদ্ধ ছিল এই পুজো ।
বেনুকর নন্দী ,বিশ্বজিৎ রায় , তরুণ চক্রবর্তী , দানবেন্দ্র পালরা জানান , সার্বজনীনতার ছোঁওয়া লাগায় উৎসব প্রিয় বাঙ্গালীর কাছে দুর্গা থেকে লক্ষীপুজোর ফাঁকটা ভরাট করে দিয়েছে তারামায়ের পুজো।
পলাশবাবু এবং আর ভ্রাতুপুত্র বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,তারাশঙ্কর ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক । তারই জন্ম উপলক্ষ্যে প্রচলিত পুজো কখনোই পারিবারিক গণ্ডীতে আবদ্ধ থাকাটা কাম্য নয়। তাই সবার অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্যই তারামাডাঙ্গায় পুজো স্থানান্তরিত করে সার্বজনীন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি ।
চরিত্র বদলালেও কিন্তু বজায় রয়েছে সাবেকীয়ানা । প্রতিমা থেকে উপাচার আজও একই আছে । আজও সারা গায়ে সাপ জড়ানো বাঘ ছাল পরিহিতা জটাধারী নীল রঙের মূর্তি পূজিত হয় । নীল সরস্বতী হিসাবেও আখ্যায়িত হন দেবী । উপাচারে থাকে মদ , ছোলাভাজা সহ নানা সামগ্রী । বদলায় নি পুরোহিতও । পুরুষানুক্রমে ওই পুজো করে আসছেন স্থানীয় কোতলঘোঁষার ভট্টাচার্য্য পরিবার । পুরুষানুক্রমে পুজো করছেন সুভাষ ভট্টাচার্য্য । তিনি জানান , ১২০ বছরের প্রাচীন এই পুজো পরিচালনায় নানা ঘাতপ্রতিঘাত এসেছে ,বহিরঙ্গে নানা সময়ে নানা পরিবর্তনও ঘটেছে । কিন্তু পুজোর রীতি আচারের কোন পরিবর্তন কখনও হয়নি ।



No comments:
Post a Comment