পদচিহ্ন
অর্ঘ্য ঘোষ
আজ পা ফেলতেই বড়ো ভয় হয় ,
মানুষ হেঁটে গেলে কখনও কখনও
জানোয়ারের পদচিহ্ন ফুটে ওঠে ।
সারা উঠোনময় ছড়িয়ে আছে
আজ শুধু জানোয়ারের পদচিহ্ন।
তবু জনা ক'য় মানুষের বুকে
জ্বলে যায় হলুদ সরষে খেত।
বাদ বাকি জ্বলন পোড়ন
সোহাগী অহংকারের মতোন।
এ সময় নয়ানজুলিতে পড়ে
কাতরায় বিবেক ,
মুমুর্ষ সৈনিকের মতো।
তবুও যুদ্ধ হয় অবিরত
নিজের ভিতরে নিজে
অদৃশ্য ক্ষরণে যায় ভিজে।
দিনরাত নিশব্দ ভাঙচুর চলে ,
সব কিছু নিঃশেষ হলে
যে যার নিজস্ব ক্ষরণে ভেজায়
যার যতটুকু ভূমি ,
পুরোন বাসগৃহ , ভিটেমাটি
যাবতীয় গৃহস্থালি
একটি বলয়ে ঘোরে।
বলয় ছোট ছোট হতে হতে
বিন্দুতে সিন্ধুতে দর্শায় ।
জানোয়ারের পদচিহ্নে পা রেখে
কে কবে বিন্দুতে দেখেছে সিন্ধু।
তার চেয়ে ঢের ভালো
আকাশ প্রদীপের আলো।
এসো , এই শীত রাতে
হাত রাখো হাতে
জানোয়ারের পদচিহ্ন মুছে ফেলি।
কপালে এঁকে নিই কালের রসকলি।
---০---
নিশান
অর্ঘ্য ঘোষ
যত বড়োই হোক না হৃদয়
তত বেশি লম্বা নয় তো হাত
যে অনায়াসেই মগডাল থেকে
ছিঁড়ে আনবি সুখ।
সে যারা পারার , তারাই পারে
পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে
দিব্যি রসে বশে কাটাতে জীবন।
শুধু জনা ক'য় মানুষ
পরের মাথায় ছাতা ধরে
ভেজে সারাটি জীবন।
তুই না হয় সে দলেরই হ'লি
স্কুল মাস্টারের নাক উঁচু মেয়েটাকে
ভালোবেসে শুধুই বাজারের থলে বয়ে গেলি।
যত বিস্তৃত হোক না পথ ,
তত সোঁজা নয় পথ চলা।
সে যারা পারার তারাই পারে
আলগোছে হেঁটে যেতে চুপিসারে।
শুধু জনা ক'য় মানুষ প্রতিটি পথের বাঁকে
দিনরাত চলার নিশান আঁকে।
তুই না হয় সে দলেরই হ'লি
সারাটা জীবন শুধু নিশান এঁকেই গেলি।
---০---
একটি বারের জন্য
অর্ঘ্য ঘোষ
অন্তত একটি বারের জন্যও
ফিরে পেতে দিও প্রেম কিম্বা পাপ।
হিম রাতে বুকে মুখ রেখে
নিতে দিও একটু উত্তাপ।
জলসত্রের খোঁজে বহু পথ হেঁটে
তোমার দুয়ারে পেতেছি দুহাত।
তোমার শরিরী গন্ধে
এখন বিভোর বাতাস ।
যদি এসময় ছিঁড়ে ফেলি সব সংযম
পদ্মগন্ধ পেতে দিও নাভিতে তোমার।
একটি বারের জন্য সব ভুল ভুলে
নরম হাত দুখানি হাতে দিও তুলে।
অন্তত একটি বারের জন্য
আমায় পেতে দিও প্রেম কিম্বা পাপ।
হাত ধরে পৌঁছে দিও
শেষতম ধাপ।
---০---


No comments:
Post a Comment