কবিতা গুচ্ছ -- ১৮
অর্ঘ্য ঘোষ
ভোরের প্রত্যাশায়
জন্ম নিচ্ছে প্রতিদিন , প্রতিনিয়ত
আমাদের সমস্ত চেতনা জুড়ে এক গভীর নৈরাশ্য বোধ।
সভ্যতার অরণ্যে মাকড়সার জালে বন্দী বিবেক
মুক্তি খোঁজে দিনরাত।
বিশ্বাসের সোনালি সুতো ছিঁড়ে কালের ঘুড়ি শুধু লাট খায়।
চোরাবালিতে ডুবে যায় আত্মবিশ্বাস।
সীমিত আলো , পর্যাপ্ত আশা মাথা কুটে মরে আঘাটায় ,
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বৃথা হয় রক্ত ক্ষয়।
ময়লা জমতে জমতে উপচে পড়ছে ডাস্টবিন
আমরা শুধু নাকে রুমাল চাপা দিয়ে
করে চলেছি ব্যাঙের ছাতা প্রদক্ষিণ।
ছাতা ছেড়ে বেরোতেই ভয় হয় ,
বেমক্কা ভুলে যায় , সব ছাতা ছাতা নয় ,
বেজে চলে কালের সাইরেন
তবু তাবৎ জগত ভাতঘুমে অচেতন
শুধু স্বপ্নেরা রাত জাগে
একটি নতুন ভোরের প্রত্যাশায়।
-----০----
বেঁচেবর্তে আছি
আজ বরং পড়ে থাক সব চিন্তা ,
যান্ত্রিক সুখ খুঁজে নিক সলিল সমাধি।
অতিক্রান্ত সময়ের পালক সরিয়ে
আমারা খুঁজে নিই ওম।
জীবনের সব থেকে খিদে কাকে বলে কেউ জানে না।
চরম পরিতৃপ্তির সংজ্ঞাও জানে না কেউ।
ভন্ডের নিক্তিতে জীবন মেপে মেপে হারায় ওজন।
নিজের ওজন জানেই বা ক'জন ?
দিব্যি একেকজন একেক রকম ওজন মেপে দেয়।
আমরাও মেনে নিই ওজনের ভিন্নতা।
এই নিয়েই তো বেশ আছি।
ক্ষনিকের বুদবুদের ভিতের বেশ বেঁচেবর্তে আছি।
শুধু জনা কয় আহমক উটের মতো ঘাড় উঁচু করে
মতবাদের পরকাষ্ঠা আউরায়।
আর পারা যায় না , পারা যায় না করে
মাথায় করে জগত।
এই করে করেই তো মানুষ সব পারে ,
মানুষকে সব পারতে হয়।
বেঁচেবর্তে থাকার জন্য মানুষই
অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে জীয়নকাঠি।
রাক্ষস পুরীতে তারাই ইচ্ছে মতো বাঁচায় ,
মারেও ইচ্ছে মতো।
---০---
স্বর্গের নাগাল
ক্রমাগত কষ্টি পাথরে ঘষে ঘষে
চাঁদের মতো ক্ষয়ে গ্যাছে প্রেম অবশেষে।
বৈষ্ণবের আখড়ায় এখন নাগিনী ফোঁসে ,
বৈষ্ণবীর টিকালো নাক ভেজে রসকলি রসে।
সহজিয়া - পরকীয়া সব একাকার।
পারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে দর্পণে মুখও কদাকার।
নদীর কিনার ছুয়ে বেঁধেছে যে ঘর
কে না জানে ,বারোমাস ভাবনা তাহার।
মুক্তোর খোঁজে সাগর তোলাপাড় ,
সাগরের খোঁজ কে নেয় আর ?
স্পর্ধিত অহংকারে সিঁড়ি সাজানোই যায় ,
স্বর্গের নাগাল ক'জনই বা পায় ?
----০----
'


No comments:
Post a Comment