এইতো সমাজ
( ধারাবাহিক নাটক )
( মানুষ কেন বিপথে যায় , কি করেই বা ঘুরে দাঁড়ায় , সেই কাহিনীই এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।স্কুল জীবনে লেখা সেই নাটকই ধারাবাহিক ভবে তুলে ধরা হল আপনাদের দরবারে । নজর রাখুন ।সঙ্গে থাকুন।ধন্যবাদ )
অর্ঘ্য ঘোষ
তৃতীয় দৃশ্য
( স্থান - মিলির শ্বশুরবাড়ি। ছাপা শাড়ি পরিহিতা মিলি এবং পাজামা পাঞ্জাবী পরিহিত মিলির স্বামীর কথপোকথন )
জামাইবাবু - তুমি তোমার বাবাকে চিঠি লিখে দাও না, পাওনা এক হাজার টাকা আমাকে দিয়ে দিতে।
মিলি - ওরা কোথায় পাবো বলো , তোমার এক হাজার টাকা না হলেও চলে যাবে, কিন্তু এক হাজার টাকা দিতে হলে যে বাড়ী ঘর সব বিক্রি করে পথে দাঁড়াতে হবে।
জামাইবাবু - তা আমি কী করি ? আর ওদেরও কি কান্ডজ্ঞান বলতে কিছু নেই , কি করে পাওনা টাকাটা না দিয়ে দিব্যি বসে আছে।
মিলি - ওগো তুমি অমন করে বোল না। বাবার যদি থাকত তো তোমাকে ঠিকই দিয়ে দিত।
জামাইবাবু - আমি অতশত জানি না , টাকাটা না পেলে এবারও পুজোতে তোমার বাপের বাড়ী যাওয়া হবেনা বলে দিলাম।
মিলি - ওগো তুমি একবার বুঝতে চেষ্টা কর।
জামাইবাবু - মেলা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করোনা যাও, ভালো লাগে না।
( প্রস্থান )
মিলি - ভগবান তুমি এতো নিষ্ঠুর , আমার যে আর সহ্য হয় না। তোমার কি এতই কাজ ? এই অভাগিনীদের দিকে চাইবার সময় নেই , না ইচ্ছা নেই ? শাশুরীর খোঁটা , স্বামীর অত্যাচার থেকে আমাকে মুক্তি দাও ভগবান , আমাকে মুক্তি দাও।
( হাতে একটা পোস্টকার্ড নিয়ে জামাইবাবু পুনঃ প্রবেশ )
জামাইবাবু - এই নাও তোমার বাপের বাড়ী থেকে চিঠি এসেছে।
( মিলি নেয় এবং পড়তে থাকে )
জামাইবাবু - তুমি নিজের ভাই আর বাবার কথা চিন্তা করেই মরছিলে, টাকা তো ওরা দিয়ে দেবই বলছে আর তুমি বলছো টাকা ওরা দেবে কোথা থেকে।
মিলি -ওগো না গো না , তুমি বুঝতে পারছো না , বাপুজী কী করে দেবো বলেছে , বাপুজীকে বিক্রি করলেও যে হাজার টাকা হবে না , হয় বাড়ি বিক্রি করতে হবে নয়তো চুরি করে দিতে হবে।
জামাইবাবু - দরকার হলে তাই করতে হবে।
মিলি - ওগো তুমি এত নিষ্ঠুর, ওদেরকে পথে দাঁড় করাতে চাও সামান্য টাকার জন্য।
জামাইবাবু - পাওনা টাকা মেটাবার জন্য বাড়ি বিক্রী করতে চুরি করতে দোষ কি ?
মিলি - তুমি আর আমাকে এরকম করে দগ্ধে দগ্ধে কষ্ট দিও না , তার থেকে আমাকে একবারে মেরে ফেল , সব মিটে যাবে , শোধ হয়ে যাবে তোমার পাওনা।
( পর্দা নেমে আসে )
চতুর্থ দৃশ্য
স্থান -মলয়দের চায়ের দোকান
( সাদা প্যান্ট কালো জামা পরিহিত প্রণব আর ছেঁড়া পাজামা সেলাই করা জামা পরিহিত মলয়ের কথপোকথন )
মলয় - সত্যি প্রণব , তোদেরই জীবন রে , তোরা কেমন সচ্ছন্দ কোন চিন্তা নেই , ভাবনা নেই , অথচ প্রচুর ভরসা রয়েছে। খাও, দাও, ফুর্তি মারো , দারিদ্রের নিস্পৃহতার ধারে কাছে আসতে হয় না ,তোদেরকে জানতেও হয় না দারিদ্রের কশাঘাত কি জিনিস।
প্রণব - কেন তোরাই বা কম কিসে ? এই তো পকেটে বেশ টাকা রয়েছে।
( বলে মলয়ের পকেট থেকে টাকা বের করে )
মলয় - বৃত্তির টাকাটা পেলাম এক্ষুনি , তাই পকেটেই আছে।
প্রণব - তাহালে আজ সিনেমা দেখার খরচটা তো তোরই।
মলয় - না প্রণব , ও টাকা খরচ করে দিস না । ওই টাকা দিয়েই পুজোতে আমার বোনকে আনতে হবে।দোহাই প্রণব , আমার কথা রাখ।
প্রণব - ক্ষেপেছিস , একবার যখন হাতে পেয়েছি তাখন আর ছাড়ে ?
মলয় -তোর পায়ে পড়ি প্রণব, আমার কথা শোন , ও টাকা খরচ করে দিস নারে , বাপুজীর কাছে মুখ দেখাতে পারব না।
প্রণব - মেলা বাজে বকিস না তো , পড়ে পাওয়া টাকা দিয়ে কেউ কখনও বোনকে আনে , ওই টাকায় তো ফুর্তি মারে ?
মলয় - তোর কাছে হাত জোর করছি , টাকাটা ফিরিয়ে দে , তোদের কাছে ওই টাকা ফুর্তি মারা বটে ,কিন্তু আমাদের কাছে ওই টাকার মুল্য যে অনেক রে।
প্রণব - এই নে , আর এই ক'টা টাকায় সিনেমার টিকিট কাটা হবে । অবশ্য তোর জন্যেও।
( বলে অর্ধেক টাকা নিজের কাছে রাখে প্রণব )
মলয় - তুই একশো টাকা নিয়ে নিলি প্রণব সামান্য সিনেমা দেখার জন্য ? একবারও বুঝতে চাইলি না কি করে আমরা সংসার চালায়।
প্রণব - আসি রে , আর তোর বকবকানি শুনতে পারছি না।
( হাসিমুখে প্রস্থান )
মলয় - হায় ভগবান এখন কি হবে , কেমন করে আনবো মিলিকে, কি-ই বা বলব বাপুজীকে, আমার সব ভরসা শেষ হয়ে গেল, তুমি কেন আমাদের শুধু দুঃখ দিয়ে এ পৃথিবীতে দিয়ে পাঠাও ভগবান ?
( চন্দনের প্রবেশ )
চন্দন - হ্যা রে মলয় ভগবান আমাদের ভুলবেন কেমন করে ?
মলয় - চন্দন দা, প্রণব, পালবাবু ,রুদ্রমশাই এরা যদি সবাই আমাদের মতো হতো , কিংবা আমরা যদি ওদের মতো হতাম তাহলে কি ক্ষতি ছিল ?
চন্দন - ক্ষতি, হ্যাঁ হ্যাঁ ক্ষতি তো অনেক রে , আমরা যদি সবাই এক হতাম তাহলে ওই পালবাবুদের দাসত্ব কে করত শুনি ?
মলয় - জান চন্দনদা , আমার মাঝে মাঝে প্রচণ্ড দুঃখ হয়, কলেজের বন্ধুরা কত দামী জিনিস প্রেজেন্ট করে তাদের বান্ধবীদের , আর আমি ? দামী জিনিস তো দুরের কথা একটা ,অল্প পয়সার পেনও কৃষ্ণাকে দিতে পারিনা।
চন্দন - দুঃখ করিস না মলয় , আকাশে মেঘ চিরদিন থাকে না দেখিসনা বর্ষার সময় আকাশ কেমন কালো হয়ে যায় , বিদ্যুৎ চমকায় , আবার সেই আকাশই বসন্তকালে কি শান্ত কি সুন্দর তাইনা ?
মলয় - কিন্তু চন্দনদা এই প্রণবরা যে আমাদেরকে ততদিন বাঁচতে দেবে না , ভাইবোনের সম্পর্কটাও নষ্ট করে দেবে , ছিনিয়ে নেবে মরুভুমির যাত্রীর কাছে জল ভরা পাত্র , ওরা একবারও ভাববে না আমাদের কথা।
চন্দন - ওরা কবে আমাদের কথা ভেবেছে বলতে পারিস। চিরদিন তো ওদের পায়ের তলায় রাখার চেষ্টা করেছে।
মলয় - কিন্তু আর না পৃথিবী বদলাছে, বদলাছে জীবনের রীতিনীতি, বদলাছে সংস্কার।
চন্দন - ঠিক বলেছিস মলয় , সমাজ ব্যবস্থার থার্মোমিটারের পারা একটু একটু করে নিচে থেকে উপরের দিকে উঠছে ।
মলয় - ওদের বলতে গেলে কি বলে জানো ? কি হবে বোনকে এনে , দিব্যি তো আছে।কিন্তু কে না চায় বলো তার বোন বাড়ি আসুক , দুদিন থাকুক, একটু আনন্দ করুক। এইটুকু সুখ সবাই চায়।
চন্দন - কিন্তু মলয়, চাইলেই তো আর সব পাওয়া যায়না রে , চাওয়া আর পাওয়া যদি এক হয়ে যেত তাহলে চাওয়ার কাছে পাওয়ার যে কোন মুল্যই থাকত না রে , কেউ যে আর কিছু চাইত না।
মলয় - এদিকে টেস্ট পরীক্ষার ফি লাগবে, কি ই বা করি দরিদ্র বাবাকে চাওয়া মানেই তো তার বুকে আঘাত করা , একথা আর আমার চেয়ে বেশী বুঝবে কে ?
চন্দন - আমার কাছে থাকলে তোকে ভাবতে হোত না রে।তা তুই এক কাজ কর না , কৃষ্ণাকে একবার বলে দেখ না।
মলয় - চাইতে যে আমার বড় লজ্জা করে , অবশ্য কৃষ্ণা শুনলে আর চাইতে হয় না। কৃষ্ণাই তো আমারএকমাত্র ভরসা , ওই আমাকে বই কিনে দিয়েছে , সান্তনা দিয়েছে ,দিয়েছে অনেক উচ্চাশা।যে উচ্চাশা আমাকে বড়ো হওয়ার সপ্ন দেখায়।
চন্দন - হ্যাঁ রে কৃষ্ণা বড়ো ভাল মেয়ে।বড়োলোকের মেয়ে হতে পারে , ওর মধ্যে কোন বড়োলোকীপন্না নেই , ও সুন্দরী কিন্তু অহংকারী নয়, ও সমস্ত মালিন্যের উর্ধে কল্যানকামী এক কল্যাণী। আসি রে ,আজ একটু কাজ আছে।
( প্রস্থান )
( স্কার্ট, জামা পরিহিতা, কৃষ্ণার প্রবেশ )
কৃষ্ণা -আসতে পারি ?
মলয় - তোমাকে আজকাল আবার অনুমতি নিয়ে আসতে হয় নাকি ?
কৃষ্ণা - কী ব্যাপার, তোমাকে এত বিষন্ন দেখাছে কেন বলতো ?
মলয়- বিষন্নতা যাদের সঙ্গী , যাদের বন্ধু ,তাদের বিষন্ন ছাড়া আর কি দেখাতে পারে বলতে পার ?
কৃষ্ণা -এটা তোমার বড় খারাপ অভ্যাস , নিজেকে সব সময় ছোট ছোট ভাব, এতে আমার খুব খারাপ লাগে।
মলয় - যে ছোট সে কি কখনো নিজেকে বড়ো ভাবতে পারে ?
কৃষ্ণা -তুমি কোথায়,কোথায় ছোট বলতে পার ? তোমরা গরীব ঠিকই , কিন্তু স্বভাবে তোমরা তো ছোট নও মলয়।
মলয় - আমি যে চা ওয়ালার ছেলে এটাই তো আমার ছোট হওয়ার পরিচয় , তুমি ধনী হেডমাস্টারের ভাইঝি তোমার পাশে আমাকে মোটেই মানায় না।
কৃষ্ণা - মানায় না মানায় সে আমি দেখব , তোমাকে নিয়ে ভাবতে হবেনা যাও।
মলয়- না ভেবে কী আর করি বলো , আমার সঙ্গে তোমার প্রেম নিয়ে সবাই হাসাহাসি করে , কেউ বা বলে বাদঁরের গলায় চন্দ্রহার।
কৃষ্ণা -তা বলুক , যাদের হিংসা হয় তারাই বলে , এতে তোমার আমার কিছু এসে যাবেনা , আর হ্যাঁ আমাদের টেস্ট পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে , নোটিশ দিয়েছিল , এই নাও টাকাটা দিয়ে দিও কেমন। না কোর না প্লিজ , আমি ভীষন দুঃখ পাব।
( মলয়কে টাকা দিয়ে কৃষ্ণার প্রস্থান )
মলয় - একশ টাকা ! পরীক্ষার ফী দিতে এত টাকা লাগে না কৃষ্ণা বেশ ভালো করেই জানে, তবু দিয়ে গেল , ও জানে বাকিটা আমাদের অভাবের সংসারে কাজে লাগবে।
( শর্মাজীর প্রবেশ )
শর্মাজী - খোঁকা, কৃষ্ণা এসেছিল না ?
মলয় - এসেছিল বাপুজী চলে গেল।
শর্মাজী - তুই চা না খেয়ে যেতে দিলি কেন ?
মলয় - বাপুজী ও জানে, এক কাপ চা খাওয়াতেও আমাদের বেশ ক্ষতি হবে, আর সেই চা কাপটা বিক্রি করে দুটো টাকা পাওয়া যাবে , তাই আর চা খেয়ে গেল না।
শর্মাজী - তা বলে তুই চলে যেতে দিবি ?
মলয় - চলে গেল , তা কী করবো বলো ?
শর্মাজী - খোঁকা, শরৎকাল তো এসে গেল, সবার ঘরে ঘরে আনন্দ, মা আসছেন।
মলয় - কিন্তু বাপুজী আমাদের মত লোকেদেরও কি আনন্দ ? না-না বাপুজী, আনন্দ সে কেবল প্রণবদেরই , আমাদের কাছে তো অভিশাপ বাপুজী।
শর্মাজী - হ্যাঁরে খোঁকা ঠিক বলেছিস , তোদের আবার আনন্দ কিসের। তোদের মত দুঃখী ছেলেদের সু-কোমল মুখও যে দারিদ্রের মালিন্যে মালিন হয়ে যায়, হায় ভগবান তুমি কেন এদের পাঠিয়েছিলে এই দারিদ্রের হাহাকারে ভরা পৃথিবীতে ?
মলয় - হ্যাঁ বাপুজী আমিও তো বলি, কোন পাপে আমাদের আসতে হোল দরিদ্র বোনের দরিদ্র দাদা হয়ে , আমরা যে পুজোতে আমাদের বোনকে আনতেও পারি না।
শর্মাজী- তাই তো মাঝে মাঝে মনটা আমার তোর জামাইবাবুর উপর বিষিয়ে উঠে।
মলয় - তা ঠিক নয় বাপুজী জামাইবাবুর কী দোষ, দোষ তো সমাজের, দোষ সামাজিক প্রচলিত প্রথার। এই সমাজ জামাইবাবুদের মত লোককে যেমন ভাবে চালিত করবে , জামাইবাবুরাও ঠিক তেমনি ভাবে চলবে। এই সমাজই তো ওই জামাইদের বুঝতে দেয় না।প্রতিকারহীন ভাই এর কাছে অসহায় বোনের লাঞ্চনা কত মর্মান্তিক।
শর্মাজী - হ্যাঁরে তুই ঠিক বলেছিস, তা এবার পুজোতে তো মিলিকে আনতে হয় , গতবার ওরা পাঠাই নি, তাই আবার কত খোঁটা দেয় ওরা মিলিকে। মিলি কত করে লিখে পাঠায় দাদাকে একবার আসতে বলো। এই মাসে তো তুই বৃত্তির টাকা পাবি তা যা না একবার।
মলয় - আচ্ছা যাব , আমিও তো বুঝি বাপুজী , পুজোতে সকল মেয়েরাই তার বাপের বাড়ি আসার ইচ্ছা জাগে , কিন্তু আমিই বা কি করতে পারি বলো বাপুজী আমি যে বেকার আমি অসহায়।
শর্মাজী- দুঃখ করিস নারে খোঁকা , শান্ত হবার চেষ্টা কর। হতাশায় বুকের বল হারাতে নেই।
মলয় - মাঝে মাঝে আমার কি মনে হয় জানো বাপুজী, মনে হয় বিদ্রোহ করতে , বিদ্রোহী হতে। পালবাবুদের মতো জোতদারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে , প্রণবদের স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে। ইচ্ছা জাগে আরও অনেক কিছুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে।
শর্মাজী - নারে খোঁকা , তুই ও পথে যাস না। ও পথে যে বড় পিছল। তুই তোর লেখাপড়া নিয়ে থাক। লেখাপড়া শিখে তুই অনেক বড়ো হবি , তোর মত ছেলেদের তুই আলোর পথ দেখাবি।
মলয় - হ্যাঁ বাপুজী আমি বড়ো হবো । বড়ো আমাকে হতেই হবে। আমি হাইকোটের বিচারক কিম্বা জেলাশাসক হবো।বিচার করবো পালবাবুদের মতো আরো অনেকের।
শর্মাজী- হ্যাঁরে খোঁকা তুই বড়ো হবি, অনেক বড়ো হবি, এটাই যে আমার স্বপ্ন , তোর মা থাকলে তিনিও তো তাই বলতেন।
মলয় - হ্যাঁ বাবুজী আমি বড়ো হবো , মাও আমাকে উপর থেকে আশীর্বাদ করবেন।
শর্মাজী - হ্যাঁরে তিনিও তোকে আশীর্বাদ আর বলবেন "খোঁকা তুই মানুষের মত মানুষ হ "।
( প্রস্থান )
মলয় -হ্যাঁ মা গো, আমি মানুষের মতো মানুষ হবো, আমি বড়ো হবো , অনেক অনেক বড়ো , তুমি দেখো আমি ঠিক বড়ো হবো তোমার আর্শিবাদ আর বাপুজীর স্বপ্ন আমি সত্যি করে তুলব , মাগো, তুমি দেখো, আমি সত্যি করে তুলব।
( পর্দা নেমে আসে )



No comments:
Post a Comment