Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

এইতো সমাজ- ৪


  

            এইতো সমাজ  

             

             ( ধারাবাহিক নাটক )

                 
                                                                                                         

                                
( মানুষ কেন বিপথে যায় , কি করেই বা ঘুরে দাঁড়ায় , সেই কাহিনীই এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।স্কুল জীবনে লেখা সেই নাটকই ধারাবাহিক ভবে তুলে ধরা হল আপনাদের দরবারে । নজর রাখুন ।সঙ্গে থাকুন।ধন্যবাদ )
    


                                                               অর্ঘ্য ঘোষ 

                                                               পঞ্চম দৃশ্য


                                                       (  স্থান - নির্জন রাস্তা  )

    ( ধুতি পাঞ্জাবী পরিহিত পালমশাই আর চেক জামা , কালো প্যান্ট পরিহিত প্রণবের কথপোকথন )

পালবাবু - মলয় ছোঁড়াটাকে কী করে পুলিশের সু নজরে ফেলা যায় বল দেখি  ?

প্রণব - কেন বাবা , আমাদের বর্গাদার হাঙ্গামায় ওর নামটাও জড়িয়ে দাও না কেন ?

পালবাবু - ঠিক বলেছিস , এরকম করেই ওকে জেলে পুরতে হবে।

                                                                         ( চন্দন আর আয়ুবের প্রবেশ ) 

চন্দন - ছিঃ ছিঃ একটা নিঃ কলঙ্ক নিঃপাপ ছেলেকে কলঙ্কিত করতে তোমাদের লজ্জা করে না ? কি দোষ করেছে  ও বলতে পার ? কি ক্ষতি করেছে ও তোমাদের ?

আয়ুব - উ পাশ কুরলে তুদের ছেলের কদর  কমে যাবে লয় ?

চন্দন - ঠিক বলেছো , মলয় যদি ভালো করে পাশ করে বেরোতে পারে তো ওর ছেলে প্রণবের যে আর কোন দামই থাকবে না। ওর প্রণব যে চার চারটে টুইশনি পরেও ছাঁচড়াতে ছাঁচড়াতে পাশ করে আর ঐ চা ওয়ালার ছেলেটা কেমন ভালো করে পাশ করে যাচ্ছে একি ওনারা সহ্য করতে পারেন ?

পালবাবু - তোমাদের  অত মাথা ব্যাথার দরকার কি ? নিজের চরকায় তেল দাও গে যাও ।

প্রণব -  হ্যাঁ যাও , অয়েল ইয়োর ওন মেসিন।

আয়ুব - এই দ্যাখ মাথা যার থাকে, মাথা ব্যাথাও তার থাকে, আর চরকার ত্যাল দে'র কথা যখন বুললি তখন বুঝছি শুন , চরকার তেল দ্যা যাদের সুভাব, তারা নিজের চরকায় ত্যাল তো দেয়ই পরের চরকা পেলেও ত্যাল দেয়।

প্রণব - যার  পেটে ভাত জোটেনা , যে কিনা কারখানার মজুর তার মুখে লম্বা লম্বা কথা শোন কেমন ?

চন্দন - কিন্তু এদের পেটে ভাত জোটে না কেন বলতে পার ? তোমাদের শোষনের কাছে  এরা সব হারিয়েছে তাই আজ এরা রিক্ত নিস্ব আর সর্বাহারা।

আয়ুব - তু ঠিক বুলেছিস, উয়াদের যোগ্য জুবাব দিয়েছিস।

পালবাবু -- যাও , এখান থেকে দুর হয়ে যাও ।  

চন্দন - যাচ্ছি , কিন্তু যাবার আগে বলে যাচ্ছি , অনেক সয়েছি কিন্তু আর না।

আয়ুব - হুঁ,এনেক সঁয়েছি, আর সুঁইছিনে।


                                                                                                        ( চন্দন ও আয়ুবের প্রস্থান ) 

পালবাবু - আয় প্রণব বাড়ী আয় , বাড়ী গিয়ে যা হয় করা যাবে।

প্রণব - তাই চলো।

                                                           ( একদিকে প্রণব আর পালবাবুর প্রস্থান অন্যদিকে মলয়ের প্রবেশ ) 


মলয় - না , কৃষ্ণাকে  আমার জীবনে পাওয়া সম্ভব নয়, ওকে বুঝিয়ে বলতে হবে, এই ছেলেখেলা আর সাজে না , এবার আমরা বড়ো হয়েছি।


                                                                                       ( সালোয়ার কামিজ পরিহিতা কৃষ্ণার প্রবেশ )


কৃষ্ণা-  আচ্ছা , তুমি কী এত ভাব বলো তো ?

মলয় - কি ভাবি ?  ভাবি অনেক কিছু।

কৃষ্ণা - এইবার শুরু করলে তোমার কবিত্ব ?

মলয় -  সবই যদি কবিতার মত মধুর হতো ?

কৃষ্ণা- আমি  জানি না যাও।

মলয় - জানো , জানো  , বলো বলব না।

কৃষ্ণা- কী বলব না ?

মলয় - বলবে না এই কথাটাই , সবই কবিতার মতো মধুর হলে আমি আরও গভীর ভাবে ভালবাসতে পারাতাম কোন সংকোচ না রেখে।

কৃষ্ণা - কেন আমি কি বলেছি তোমার ভালোবাসার গভীরতার কমতি আছে কিছু ?

মলয় - না তা তুমি বলেনি , কিন্তু আমার যে তোমাকে আরও  ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।

কৃষ্ণা - বাস  না , যত ইচ্ছা ভালোবাসো , আরও ভালোবাসো । আমি কী তোমাকে  ভালোবাসতে বারণ করেছি ?

মলয় - বারণ! তুমি করো নি ঠিকই , কিন্তু বারণ করেছে আমার বিবেক।

কৃষ্ণা- এই রে , আবার তেমার কবিত্ব শুরু হলো তো ? এত পার বাপু তুমি , এই আজ আমি চলি বেশ।

মলয় - যাবে, আচ্ছা যাও।

কৃষ্ণা - লক্ষীটি কিছু মনে কোর না।

                                                                                                                      ( প্রস্থান ) 

                                                              ( অন্যদিকে শর্মাজীর প্রবেশ )


শর্মাজী -  হ্যা , রে খোকা তুই কবে যাবি মিলিকে আনতে ?

মলয় - কাল যাব বাপুজী।

শর্মাজী - মিলিদের জামা কাপড় কেনা হয়েছে ?

মলয় - ওই টাকাতে আজকের দিনে আর কি'ই বা কেনা যায় বাপু্জী ? তবুও অল্প দামে কিছু জামা কাপড় কিনেছি।

শর্মাজী - তা হোক, তুই ঐ নিয়েই চলে যা । মেয়েটা অনেক দিন আসেনি, ওর ও তো আসতে ইচ্ছা করে।

মলয় - আচ্ছা বাপুজী আমি কালই যাব।

                                                                                                            ( পর্দা নেমে আসে )

            ( চলবে )

                                

নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


     শীঘ্রই আসছে ----

সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --

                   


                                                                       

----০----






No comments:

Post a Comment