এইতো সমাজ
( ধারাবাহিক নাটক )
( মানুষ কেন বিপথে যায় , কি করেই বা ঘুরে দাঁড়ায় , সেই কাহিনীই এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।স্কুল জীবনে লেখা সেই নাটকই ধারাবাহিক ভবে তুলে ধরা হল আপনাদের দরবারে । নজর রাখুন ।সঙ্গে থাকুন।ধন্যবাদ )
অর্ঘ্য ঘোষ
পঞ্চম দৃশ্য
( স্থান - নির্জন রাস্তা )
( ধুতি পাঞ্জাবী পরিহিত পালমশাই আর চেক জামা , কালো প্যান্ট পরিহিত প্রণবের কথপোকথন )
পালবাবু - মলয় ছোঁড়াটাকে কী করে পুলিশের সু নজরে ফেলা যায় বল দেখি ?
প্রণব - কেন বাবা , আমাদের বর্গাদার হাঙ্গামায় ওর নামটাও জড়িয়ে দাও না কেন ?
পালবাবু - ঠিক বলেছিস , এরকম করেই ওকে জেলে পুরতে হবে।
( চন্দন আর আয়ুবের প্রবেশ )
চন্দন - ছিঃ ছিঃ একটা নিঃ কলঙ্ক নিঃপাপ ছেলেকে কলঙ্কিত করতে তোমাদের লজ্জা করে না ? কি দোষ করেছে ও বলতে পার ? কি ক্ষতি করেছে ও তোমাদের ?
আয়ুব - উ পাশ কুরলে তুদের ছেলের কদর কমে যাবে লয় ?
চন্দন - ঠিক বলেছো , মলয় যদি ভালো করে পাশ করে বেরোতে পারে তো ওর ছেলে প্রণবের যে আর কোন দামই থাকবে না। ওর প্রণব যে চার চারটে টুইশনি পরেও ছাঁচড়াতে ছাঁচড়াতে পাশ করে আর ঐ চা ওয়ালার ছেলেটা কেমন ভালো করে পাশ করে যাচ্ছে একি ওনারা সহ্য করতে পারেন ?
পালবাবু - তোমাদের অত মাথা ব্যাথার দরকার কি ? নিজের চরকায় তেল দাও গে যাও ।
প্রণব - হ্যাঁ যাও , অয়েল ইয়োর ওন মেসিন।
আয়ুব - এই দ্যাখ মাথা যার থাকে, মাথা ব্যাথাও তার থাকে, আর চরকার ত্যাল দে'র কথা যখন বুললি তখন বুঝছি শুন , চরকার তেল দ্যা যাদের সুভাব, তারা নিজের চরকায় ত্যাল তো দেয়ই পরের চরকা পেলেও ত্যাল দেয়।
প্রণব - যার পেটে ভাত জোটেনা , যে কিনা কারখানার মজুর তার মুখে লম্বা লম্বা কথা শোন কেমন ?
চন্দন - কিন্তু এদের পেটে ভাত জোটে না কেন বলতে পার ? তোমাদের শোষনের কাছে এরা সব হারিয়েছে তাই আজ এরা রিক্ত নিস্ব আর সর্বাহারা।
আয়ুব - তু ঠিক বুলেছিস, উয়াদের যোগ্য জুবাব দিয়েছিস।
পালবাবু -- যাও , এখান থেকে দুর হয়ে যাও ।
চন্দন - যাচ্ছি , কিন্তু যাবার আগে বলে যাচ্ছি , অনেক সয়েছি কিন্তু আর না।
আয়ুব - হুঁ,এনেক সঁয়েছি, আর সুঁইছিনে।
( চন্দন ও আয়ুবের প্রস্থান )
পালবাবু - আয় প্রণব বাড়ী আয় , বাড়ী গিয়ে যা হয় করা যাবে।
প্রণব - তাই চলো।
( একদিকে প্রণব আর পালবাবুর প্রস্থান অন্যদিকে মলয়ের প্রবেশ )
মলয় - না , কৃষ্ণাকে আমার জীবনে পাওয়া সম্ভব নয়, ওকে বুঝিয়ে বলতে হবে, এই ছেলেখেলা আর সাজে না , এবার আমরা বড়ো হয়েছি।
( সালোয়ার কামিজ পরিহিতা কৃষ্ণার প্রবেশ )
কৃষ্ণা- আচ্ছা , তুমি কী এত ভাব বলো তো ?
মলয় - কি ভাবি ? ভাবি অনেক কিছু।
কৃষ্ণা - এইবার শুরু করলে তোমার কবিত্ব ?
মলয় - সবই যদি কবিতার মত মধুর হতো ?
কৃষ্ণা- আমি জানি না যাও।
মলয় - জানো , জানো , বলো বলব না।
কৃষ্ণা- কী বলব না ?
মলয় - বলবে না এই কথাটাই , সবই কবিতার মতো মধুর হলে আমি আরও গভীর ভাবে ভালবাসতে পারাতাম কোন সংকোচ না রেখে।
কৃষ্ণা - কেন আমি কি বলেছি তোমার ভালোবাসার গভীরতার কমতি আছে কিছু ?
মলয় - না তা তুমি বলেনি , কিন্তু আমার যে তোমাকে আরও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।
কৃষ্ণা - বাস না , যত ইচ্ছা ভালোবাসো , আরও ভালোবাসো । আমি কী তোমাকে ভালোবাসতে বারণ করেছি ?
মলয় - বারণ! তুমি করো নি ঠিকই , কিন্তু বারণ করেছে আমার বিবেক।
কৃষ্ণা- এই রে , আবার তেমার কবিত্ব শুরু হলো তো ? এত পার বাপু তুমি , এই আজ আমি চলি বেশ।
মলয় - যাবে, আচ্ছা যাও।
কৃষ্ণা - লক্ষীটি কিছু মনে কোর না।
( প্রস্থান )
( অন্যদিকে শর্মাজীর প্রবেশ )
শর্মাজী - হ্যা , রে খোকা তুই কবে যাবি মিলিকে আনতে ?
মলয় - কাল যাব বাপুজী।
শর্মাজী - মিলিদের জামা কাপড় কেনা হয়েছে ?
মলয় - ওই টাকাতে আজকের দিনে আর কি'ই বা কেনা যায় বাপু্জী ? তবুও অল্প দামে কিছু জামা কাপড় কিনেছি।
শর্মাজী - তা হোক, তুই ঐ নিয়েই চলে যা । মেয়েটা অনেক দিন আসেনি, ওর ও তো আসতে ইচ্ছা করে।
মলয় - আচ্ছা বাপুজী আমি কালই যাব।
( পর্দা নেমে আসে )



No comments:
Post a Comment