অর্ঘ্য ঘোষ
( এই কলমে এমনই কিছু হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হবে যারা নিতান্তই প্রান্তজীবি। বৃহত্তর সমাজে তাদের স্থান নেই বলেলেই চলে। তাদের জন্ম মৃত্যু এমনকি আসল নামও আজ সংগ্রহ করা কঠিন।তাদের পরিবারের লোকেরাও সে তথ্য ঠিকঠাক দিতে পারেন নি।প্রচলিত নামেই তারা আজও এলাকার কারও কারও মনে ধুসর স্মৃতি হয়ে রয়েছেন। স্মৃতির চাদর সরালেই অবয়বটা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আমার ছোটবেলায় দেখা মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেওয়া ওইসব চরিত্রের সঙ্গে আপনিও মিল খুঁজে পেতে পারেন আপনার দেখা কোন মানুষের মধ্যে )
ভক্তা হেমব্রমের বাড়ি ছিল লাভপুরের লা'ঘাটা আদিবাসী পাড়া। বেঁটে খাটো চেহারার মানুষটি ছিলেন পুরোপুরি অন্ধ। কিন্তু তার গানের গলাটি ছিল ভারি সুন্দর। ময়ূরেশ্বর থানা এলাকার বেলিয়া গ্রামে ছিল তার আত্মীয়বাড়ি। সেই সূত্রে মাঝে মধ্যেই বেলিয়া আসতেন তিনি। সঙ্গে থাকতেন তার স্ত্রী। আর থাকত বেহালার মতো দেখতে কাঠের তৈরি একটি বাদ্যযন্ত্র। সেই যন্ত্র বাজিয়েই সাঁওতালি গান গাইতেন তিনি।
বেলিয়া যাওয়া আসার পথে অনেকবার লোকপাড়া মোড়ে দেখা হয়েছে তার সঙ্গে। বোধন ভল্লার দোকানে বসিয়ে গান শুনতে চেয়েছি প্রত্যেকবার। উনিও সেই চাহিদা পূরণ করছেন। দিব্যি যন্ত্র বাজিয়ে আর ঘুরে ঘুরে নেচে গেয়েছেন সাঁওতালি গান। সেই সব গানের একটা কলি আজও মনে আছে।খুব দরদ দিয়ে তিনি সেই গানটা গাইতেন। গানটার প্রথম কলি ছিল ' পথে যেতে শ্যাম অন্তরে কাঁদে।' সেই সময় ছিলাম পুরোপুরি বেকার। সবে সাপ্তাহিক এবং মাসিক ' দিদিভাই' পত্রিকায় হাত পাকাতে শুরু করেছি। তাই চা-বিস্কুট খাওয়ানো আর ২/৩ টাকার বেশি তার হাতে তুলে দিতে পারি নি।কিন্তু তিনি কোন দিন আমাদের গান শোনানোর আবদার থেকে বঞ্চিত করেন নি।
গ্রামে গ্রামে ওই গান শুনিয়ে ভিক্ষা করেই তার গ্রাসাচ্ছাদন হত। মাঝে মধ্যে আকাশবাণীর সাঁওতালি গানের অনুষ্ঠানেও তার গান প্রচারিত হয়েছে। তাও তার দিন কেটেছে অর্ধাহারে - অনাহারে।কারণ সে সময় তার মুখেই শুনেছি বোলপুরে ওই গান করতে যাওয়ার জন্য মিলত নাকি একটা টিফিনের প্যাকেট আর যাওয়া আসার ভাড়া। তার ওই বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে সে সময় 'দিদিভাই' পত্রিকায় ' অর্ধাহারে আকাশবাণীর শিল্পী ' শীর্ষক সংবাদও করেছিলাম। কিন্তু কোন লাভ হয় নি।
তারপর আর তাকে বেলেড়া আসতে দেখতাম না।পরে লা'ঘাটাতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি অর্ধাহারে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে তার। ভক্তা হেমব্রমের সেই গানের কলিটা আজও রয়ে গিয়েছে মনের মণিকোঠায়।
তার আসল নাম অনাথশরণ মুখার্জী হলেও এলাকায় তিনি নাকুমশাই বা নাকা হিসাবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। কারণ তার ডাক নাম ছিল নাকফোঁড়া। ময়ূরেশ্বরের কুলিয়াড়া গ্রামে ছিল তার বাড়ি। আমার দাদুর বন্ধু স্থানীয় ছিলেন। সেই সূত্রে আমি নাকুদাদু বলতাম। তিনি পেশায় ছিলেন লোকপাড়া গ্রামীণ গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক।
লাইব্রেরী পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন খুব কড়া ধাতের মানুষ। ছোটদের গ্রন্থাগারের ধারে পাশে ঘেঁষতেই দিতেন না।এমন কি দাদু বলে ডাকা স্বত্ত্বেও আমাকেও না। কিন্তু আমার ছিল ছোট থেকেই খুব বই পড়ার নেশা। ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি তখন গিয়েছিলাম লাইব্রেরীর মেম্বার হতে। সব শুনে প্রথমেই তো না করে দিলেন। তারপর অনেক কাকুতি মিনতি করার পর বললেন, মেম্বার করতে পারি একটা শর্তে , হেডমাস্টারের কাছে লিখে আনতে হবে। শর্ত শুনেই তো থরহরি কম্পমান অবস্থা। এর চেয়ে অনেক সহজ ছিল মাঘের রাতে পুকুরে ডুবে আসা।কিন্তু হেডমাষ্টারের কাছে লিখে আনা মানে প্রায় আকাশের চাঁদ ধরার সামিল।
সে সময় লোকপাড়া হাইস্কুলের হেডমাষ্টার ছিলেন শ্রদ্ধেয় প্রয়াত নবকিশোর হাজারা।তিনি আবার নাকুমশাইয়ের থেকে হাজার গুণ কড়া ধাতের মানুষ। তাছাড়া ফাঁকিবাজ , পিছন বেঞ্চে বসা দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে হিসাবে যথেষ্ট সুখ্যাতিও ছিল আমাদের। তাই হেডমাষ্টার মশাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। সেই ছোট বয়েসই ভগবান আমাকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো বুদ্ধি বোধহয় দিয়েছিলেন। সেই বুদ্ধির দৌলতে একটা সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখে পিওন প্রয়াত অনাদি'দার হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম হেডস্যারের কাছে। টিফিনের পরই হেডস্যারের সই সহ সেই দরখাস্ত অনাদি'দার হাত মারফত ফেরতও পেয়েছিলাম।
কার্যত রাজ্য জয়ের আনন্দ নিয়ে ছুটে গিয়ে কাগজটা ধরিয়ে দিয়েছিলাম নাকু দাদুর হাতে। নাকুদাদু আমাকে মেম্বার করার পর বলেছিলেন , তুমি কিন্তু উপন্যাস পড়তে পাবে না। আমি বলেছিলাম , কেন ? উনি আমার আনা কাগজটা সামনে মেলে ধরেছিলেন।দেখি তার কোনায় , হেডস্যার নোট দিয়েছেন , উপন্যাস পড়িতে পারিবে না এই শর্তে সভ্য করা যাইতে পারে। তখন আমার আফশোসে মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছিল। আগে কেন দেখি নি ? দেখলে তো ওই লেখাটা রাবার দিয়ে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা যেত। তারপর বহুদিন নাকুদাদু আমার বই বাছার উপর সেন্সর বোর্ডের নজরদারি চালিয়েছেন। আমিও অবশ্য বাইপাশ রাস্তা খুঁজে নিয়েছিলাম। নাকুদাদুর অনুপস্থিতির দিনগুলোতে পিওন অনিলদার ( দাস ) কাছে বই পাল্টাতাম। কারণ তখন আমাকে দেবদাস , কালবেলার মতো বইগুলো চুম্বকের মতো টানতে শুরু করেছে।
লাইব্রেরীর প্রতিটি বইয়ের হিসাব ছিল তার নখদর্পণে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই জমা না দিলে তিনি সোঁজা মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে দু'কথা শুনিয়ে দিতে ছাড়তেন না। তাই নিয়ে সে সময় অনেকেই তার উপর খাপ্পা ছিলেন।কিন্তু সামনাসামনি কিছু বলতেও পারতেন না। শোধ তুলতেন লাইব্রেরীর বইয়ে। বইয়ের যেখানে যেখানে 'না' শব্দ আছে তার পাশে পেন দিয়ে হয় 'কা' নয়তো 'কু' লিখে শোধ নিয়েছেন। বলাবাহুল্য আমিও তার ব্যতিক্রম নয়। ওই গ্রন্থাগারে সেই আমলের এমন কোন বই নেই , যার প্রতিটি পাতায় রাগ মেটানোর ওই নির্দশন নেই। আজ নাকুদাদু নেই , কিন্তু মনে মনে ভাবি রাগ মেটাতে গিয়ে পাঠকেরা কার্যত তাকে অমর করে দিয়ে গিয়েছেন। ওইসব বই যতদিন থাকবে ততদিন ওই রাগ মেটানোর ব্যাখ্যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাহিত হয়ে নাকুদাদুর কথা মনে পড়িয়ে দেবে।
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।
ভক্তা হেমব্রমের কথা
( ৩১ )
ভক্তা হেমব্রমের বাড়ি ছিল লাভপুরের লা'ঘাটা আদিবাসী পাড়া। বেঁটে খাটো চেহারার মানুষটি ছিলেন পুরোপুরি অন্ধ। কিন্তু তার গানের গলাটি ছিল ভারি সুন্দর। ময়ূরেশ্বর থানা এলাকার বেলিয়া গ্রামে ছিল তার আত্মীয়বাড়ি। সেই সূত্রে মাঝে মধ্যেই বেলিয়া আসতেন তিনি। সঙ্গে থাকতেন তার স্ত্রী। আর থাকত বেহালার মতো দেখতে কাঠের তৈরি একটি বাদ্যযন্ত্র। সেই যন্ত্র বাজিয়েই সাঁওতালি গান গাইতেন তিনি।
বেলিয়া যাওয়া আসার পথে অনেকবার লোকপাড়া মোড়ে দেখা হয়েছে তার সঙ্গে। বোধন ভল্লার দোকানে বসিয়ে গান শুনতে চেয়েছি প্রত্যেকবার। উনিও সেই চাহিদা পূরণ করছেন। দিব্যি যন্ত্র বাজিয়ে আর ঘুরে ঘুরে নেচে গেয়েছেন সাঁওতালি গান। সেই সব গানের একটা কলি আজও মনে আছে।খুব দরদ দিয়ে তিনি সেই গানটা গাইতেন। গানটার প্রথম কলি ছিল ' পথে যেতে শ্যাম অন্তরে কাঁদে।' সেই সময় ছিলাম পুরোপুরি বেকার। সবে সাপ্তাহিক এবং মাসিক ' দিদিভাই' পত্রিকায় হাত পাকাতে শুরু করেছি। তাই চা-বিস্কুট খাওয়ানো আর ২/৩ টাকার বেশি তার হাতে তুলে দিতে পারি নি।কিন্তু তিনি কোন দিন আমাদের গান শোনানোর আবদার থেকে বঞ্চিত করেন নি।
গ্রামে গ্রামে ওই গান শুনিয়ে ভিক্ষা করেই তার গ্রাসাচ্ছাদন হত। মাঝে মধ্যে আকাশবাণীর সাঁওতালি গানের অনুষ্ঠানেও তার গান প্রচারিত হয়েছে। তাও তার দিন কেটেছে অর্ধাহারে - অনাহারে।কারণ সে সময় তার মুখেই শুনেছি বোলপুরে ওই গান করতে যাওয়ার জন্য মিলত নাকি একটা টিফিনের প্যাকেট আর যাওয়া আসার ভাড়া। তার ওই বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে সে সময় 'দিদিভাই' পত্রিকায় ' অর্ধাহারে আকাশবাণীর শিল্পী ' শীর্ষক সংবাদও করেছিলাম। কিন্তু কোন লাভ হয় নি।
তারপর আর তাকে বেলেড়া আসতে দেখতাম না।পরে লা'ঘাটাতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি অর্ধাহারে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে তার। ভক্তা হেমব্রমের সেই গানের কলিটা আজও রয়ে গিয়েছে মনের মণিকোঠায়।
-----০-----
নাকু মশাইয়ের কথা
( ৩২ )
তার আসল নাম অনাথশরণ মুখার্জী হলেও এলাকায় তিনি নাকুমশাই বা নাকা হিসাবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। কারণ তার ডাক নাম ছিল নাকফোঁড়া। ময়ূরেশ্বরের কুলিয়াড়া গ্রামে ছিল তার বাড়ি। আমার দাদুর বন্ধু স্থানীয় ছিলেন। সেই সূত্রে আমি নাকুদাদু বলতাম। তিনি পেশায় ছিলেন লোকপাড়া গ্রামীণ গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক।
লাইব্রেরী পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন খুব কড়া ধাতের মানুষ। ছোটদের গ্রন্থাগারের ধারে পাশে ঘেঁষতেই দিতেন না।এমন কি দাদু বলে ডাকা স্বত্ত্বেও আমাকেও না। কিন্তু আমার ছিল ছোট থেকেই খুব বই পড়ার নেশা। ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি তখন গিয়েছিলাম লাইব্রেরীর মেম্বার হতে। সব শুনে প্রথমেই তো না করে দিলেন। তারপর অনেক কাকুতি মিনতি করার পর বললেন, মেম্বার করতে পারি একটা শর্তে , হেডমাস্টারের কাছে লিখে আনতে হবে। শর্ত শুনেই তো থরহরি কম্পমান অবস্থা। এর চেয়ে অনেক সহজ ছিল মাঘের রাতে পুকুরে ডুবে আসা।কিন্তু হেডমাষ্টারের কাছে লিখে আনা মানে প্রায় আকাশের চাঁদ ধরার সামিল।
সে সময় লোকপাড়া হাইস্কুলের হেডমাষ্টার ছিলেন শ্রদ্ধেয় প্রয়াত নবকিশোর হাজারা।তিনি আবার নাকুমশাইয়ের থেকে হাজার গুণ কড়া ধাতের মানুষ। তাছাড়া ফাঁকিবাজ , পিছন বেঞ্চে বসা দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে হিসাবে যথেষ্ট সুখ্যাতিও ছিল আমাদের। তাই হেডমাষ্টার মশাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। সেই ছোট বয়েসই ভগবান আমাকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো বুদ্ধি বোধহয় দিয়েছিলেন। সেই বুদ্ধির দৌলতে একটা সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখে পিওন প্রয়াত অনাদি'দার হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম হেডস্যারের কাছে। টিফিনের পরই হেডস্যারের সই সহ সেই দরখাস্ত অনাদি'দার হাত মারফত ফেরতও পেয়েছিলাম।
কার্যত রাজ্য জয়ের আনন্দ নিয়ে ছুটে গিয়ে কাগজটা ধরিয়ে দিয়েছিলাম নাকু দাদুর হাতে। নাকুদাদু আমাকে মেম্বার করার পর বলেছিলেন , তুমি কিন্তু উপন্যাস পড়তে পাবে না। আমি বলেছিলাম , কেন ? উনি আমার আনা কাগজটা সামনে মেলে ধরেছিলেন।দেখি তার কোনায় , হেডস্যার নোট দিয়েছেন , উপন্যাস পড়িতে পারিবে না এই শর্তে সভ্য করা যাইতে পারে। তখন আমার আফশোসে মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছিল। আগে কেন দেখি নি ? দেখলে তো ওই লেখাটা রাবার দিয়ে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা যেত। তারপর বহুদিন নাকুদাদু আমার বই বাছার উপর সেন্সর বোর্ডের নজরদারি চালিয়েছেন। আমিও অবশ্য বাইপাশ রাস্তা খুঁজে নিয়েছিলাম। নাকুদাদুর অনুপস্থিতির দিনগুলোতে পিওন অনিলদার ( দাস ) কাছে বই পাল্টাতাম। কারণ তখন আমাকে দেবদাস , কালবেলার মতো বইগুলো চুম্বকের মতো টানতে শুরু করেছে।
লাইব্রেরীর প্রতিটি বইয়ের হিসাব ছিল তার নখদর্পণে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই জমা না দিলে তিনি সোঁজা মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে দু'কথা শুনিয়ে দিতে ছাড়তেন না। তাই নিয়ে সে সময় অনেকেই তার উপর খাপ্পা ছিলেন।কিন্তু সামনাসামনি কিছু বলতেও পারতেন না। শোধ তুলতেন লাইব্রেরীর বইয়ে। বইয়ের যেখানে যেখানে 'না' শব্দ আছে তার পাশে পেন দিয়ে হয় 'কা' নয়তো 'কু' লিখে শোধ নিয়েছেন। বলাবাহুল্য আমিও তার ব্যতিক্রম নয়। ওই গ্রন্থাগারে সেই আমলের এমন কোন বই নেই , যার প্রতিটি পাতায় রাগ মেটানোর ওই নির্দশন নেই। আজ নাকুদাদু নেই , কিন্তু মনে মনে ভাবি রাগ মেটাতে গিয়ে পাঠকেরা কার্যত তাকে অমর করে দিয়ে গিয়েছেন। ওইসব বই যতদিন থাকবে ততদিন ওই রাগ মেটানোর ব্যাখ্যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাহিত হয়ে নাকুদাদুর কথা মনে পড়িয়ে দেবে।
( চলবে )
পড়ুন / পড়ান
নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন
১৯ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ টার মধ্যে প্রকাশিত হচ্ছে
ধারাবাহিক উপন্যাস
সালিশির রায়
সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , অন্যকে দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।



No comments:
Post a Comment