সুসভ্য সমাজ
অর্ঘ্য ঘোষ
এরই নাম সমাজ , সুসভ্য সমাজ।
এখানে বেকারের হাহাকার , খিদের ক্লান্তি , শোষণের ফাঁদ
সবই আছে , শুধু নেই কোন প্রতিকার।
আছে জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত পতিতা মেয়ের কান্না ,
আছে পশুত্বের চেয়েও অধম ধনীর লালসা।
আছেন মালা হাতে ভণ্ড কিছু হরিভক্তের দল ,
যাদের জপমালার থলি উপচে পড়ে অপহৃত সম্পদে।
এখানে দুবেলা দুমুঠোর অভাব আছে ,
আবার লক্ষ মুঠো হেলায় উড়িয়ে দেওয়ার বিলাস আছে।
এখানে শরীর ঢাকার অভাব আছে ,
পোশাক ছাপিয়ে যাওয়া শরীরও আছে।
এখানে নেই কো ওষুধ ,
লিপস্টিকের প্রাচুর্য্য আছে।
আর আমরা আছি সভ্য সমাজের ধ্বজা ধরে।
এখানে পচা নর্দমার ধারে মানুষ থাকে
আদ্দির পাঞ্জাবী আর বাটিকের ব্লাউজে
দামি ফরেন সেন্টের সুগন্ধও থাকে।
পিছনে পড়ে থাকা মানুষের কান্না আছে ,
উগ্র আধুনিকতায় পুরোদস্তুর মস্তি আছে।
ধর্ষিতা মেয়ের নিশ্চিত আত্মহনন আছে ,
লোক দেখানো ধার করা মনন আছে।
এই সমাজই মানুষকে শিক্ষিত করে ,
গুণ্ডা , মাস্তান , ঘুষখোরও করে।
এখানেই মানুষের পরিচয়ে আমরা বেঁচে আছি ,
মনুষ্যত্ব কাকে বলে কেই'বা জানে ?
এরই নাম সমাজ - সুসভ্য সমাজ ,
সমাজের সুসভ্য নাগরিক নাকি আমরা ??
----০---
কথার কথা
কথা দাও , কথাটা বলি না আর।
কে'ই বা কথা রাখে কার ?
কথাটাই আজ হয়ে গ্যাছে কথার কথা।
বুকের ভিতর গুমরে মরে কত না কথা হারানোর ব্যাথা।
কথা ছিল যদি জীবনের সব রঙ শুঁষে নিয়ে আঁধার নামে ,
যদি সব পথ গিয়ে খাদের কিনারে থামে
তাহলে হাতে হাত রেখে নেব আলোর শপথ ,
তারা জ্বলা রাতে একসাথে খুঁজে নেব পথ।
এখন তোমার বড়ো বেশি কলরব তোমার আঙ্গিনা জুড়ে ,
কথারা হারিয়ে গ্যাছে অর্থহীন অবাঞ্ছিত ভিড়ে।
কথা ছিল , কুয়াশা সরিয়ে সোনালি রোদে হেঁটে যাব পায়ে পায়ে ,
আমাদের অনাগত সন্তানেরা সবটুকু রোদ মেখে নেবে গায়ে।
এখন কুয়াশা ঢাকা পাহাড়ের প্রতি খাঁজে খাঁজে
কথারা ব্যঙ্গধ্বনি হয়ে বড়ো বেশি বাজে।


No comments:
Post a Comment