অর্ঘ্য ঘোষ
( এই কলমে এমনই কিছু হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হবে যারা নিতান্তই প্রান্তজীবি। বৃহত্তর সমাজে তাদের স্থান নেই বলেলেই চলে। তাদের জন্ম মৃত্যু এমনকি আসল নামও আজ সংগ্রহ করা কঠিন।তাদের পরিবারের লোকেরাও সে তথ্য ঠিকঠাক দিতে পারেন নি।প্রচলিত নামেই তারা আজও এলাকার কারও কারও মনে ধুসর স্মৃতি হয়ে রয়েছেন। স্মৃতির চাদর সরালেই অবয়বটা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আমার ছোটবেলায় দেখা মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেওয়া ওইসব চরিত্রের সঙ্গে আপনিও মিল খুঁজে পেতে পারেন আপনার দেখা কোন মানুষের মধ্যে )
মৃণাল সেখের বাড়ি ছিল ময়ূরেশ্বর। সে একাধারে ছিল সাংবাদিক আবার সাহিত্যিকও। কবিতা ছোট গল্প লেখার হাতটাও বেশ ভালো ছিল । আমার থেকে কয়েক বছরের ছোট ছিল সে। সেই হিসাবে সে আমায় অর্ঘ্যদা বলে ডাকত। সাংবাদিকতার সূত্রেই তার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ। আমি তখন রামপুরহাট থেকে প্রকাশিত ' অধিকার ' নামে একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলাম। সাংবাদিক হিসাবে অধিকারেই মৃণালের প্রথম হাতেখড়ি হয়।
( মৃণালের লেখা সংবাদ )
দেখার চোখ এবং সংবাদ পরিবেশনের মুন্সীয়ানায় তখনই মৃণাল বহু দৈনিকের সাংবাদিকদের পিছনে ফেলে দেওয়ার যোগ্য ছিল। তার লেখনীতে উঠে আসত প্রান্তজীবি মানুষের বঞ্চনা, লাঞ্চনা আর শোষণের কথা। যেন মাটির গন্ধ পাওয়া যেত তার লেখায়।তারপর আমি আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগ দিই। মৃণালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ক্রমে বেড়েই চলে। তখন মোবাইল ফোনের চল হয়নি।সবে ল্যান্ড ফোন এসেছে আমাদের বাড়িতে।মৃণালের বাড়িতে তাও ছিল না। তবু আমাদের নিয়মিত কথা হত। কোন একটা নং দিয়ে মৃণাল বলত , অর্ঘ্যদা রিং ব্যাক করো।তারপর সংবাদ- সাহিত্য নিয়ে কথা হোত দীর্ঘক্ষণ। কেন জানি না মুদ্রাদোষের মতো কথায় কথায় মৃণাল একটা কথা খুব বলত -- ' দাদা গরীব তো'। তাই নিয়ে আমি আর আশিস ( সাংবাদিক আশিস মণ্ডল - তদানীন্তন অধিকার পত্রিকার প্রকাশক ও বর্তমান সম্পাদক ) খুব খ্যাপাতাম ওকে। ও শুধু হাসত।
মৃণাল বহুবার আমাদের বাড়ি এসেছে। খাওয়া -দাওয়া করে সারাদিন গল্প করেছি। আমিও গিয়েছি বহুবার। সংবাদ সংগ্রহে গেলে তার বাড়িতে একবার ঢুঁ তো মারতামই , ওদের পরবে যেতেই হত।আমার সঙ্গে কখনও থাকত ফটোগ্রাফার কিম্বা অন্য কেউ একজন।যখনই গিয়েছি প্রচুর সমাদর পেয়েছি। মৃণালদের বাড়ির সর্বত্র তখন ছিল দৈন্যতার ছাপ।তার বাবা ছিলেন সামান্য বেতনের পুলিশ কর্মী। তার আয়েই তাদের ৫ সদস্যের সংসার চলত।দু'কামরার ছোট্ট একটা বাড়িতে ছিল তাদের বাস। তবু আমরা গেলেই এলাহি আয়োজনের ব্যবস্থা করত। মৃণালের পড়ার ঘরের চৌকিটা ভরে যেত মাত্র দুজনের খাবারের থালা , বাটি আর প্লেটে। খুব অস্বস্তি হত আমাদের।
মৃদু আপত্তি জানালে মৃণাল বলত , বেশি বকবক না করে খাও তো। তুমি ভাবছ তোমরা এসেছো বলে এতসব করেছি ? মোটেও তা নয়।আমাদের পরবে এরকমই হয়। হয়তো হয় , তবু মনে হত আমাদের জন্যই বুঝি অভাবের সংসারে এতগুলো টাকা বেরিয়ে গেল। তারপর মৃণালও একদিন ' দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন ' পত্রিকায় রামপুরহাটের প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দেয়।প্রথম দিকে ময়ূরেশ্বর থেকে কাজ করত। তখনও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরে কাজের সুবিধার জন্য সে রামপুরহাটে উঠে যায়। থাকত একটি আবাসিক লজে। কাজের চাপে যোগাযোগটা অনেকটাই কমে যায়।তারপর একদিন মানসিক অবসাদে ওই লজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় মৃণাল।
আজ মৃণাল নেই , কিন্তু তার হাতে লেখা বেশ কিছু সংবাদের কপি আজও আছে আমার কাছে। আমি সযত্নে তা রেখে দিয়েছি।মনে হয় ওই কাগজে মৃণালের স্পর্শ লেগে আছে।সেই লেখায় হাত রাখলে আমি আজও মৃণালের স্পর্শ পাই।
ভুলির ভালো নাম ছিল খাঁদুবালা মণ্ডল। ময়ূরেশ্বরের ঢেকা গ্রামে ছিল তার বাড়ি। বাল্য বিধবা ভুলি আমাদের বাড়িতে মুড়ি ভাজত। মুড়ি ভেজেই দুই ছেলেকে মানুষ করতে হয়েছে তাকে। তার সর্বাঙ্গে ছিল দৈন্যতার ছাপ। হলদে হয়ে যাওয়া সরু পাড়ের একটা মোটা কাপড় পড়েই থাকতে দেখেছি তাকে। কি শীত , কি বর্ষা ভোরে মুড়ি ভাজতে আসতেন।শীতের সময় আর একটা ছেঁড়া কাপড় গায়ে দু'ভাঁজ করে ফেলা থাকত। সবাই তাকে ভুলি বলত , কিন্তু আমি তাকে ভোলন বলে ডাকতাম।
একটা হারিকেন নিয়েই মুড়ি ভাজতে চলে আসতেন। আমি তখন দাদু - ঠাকুমার কাছে থাকতাম। ভোর বেলায় তার ডাক শুনতে পেতাম-- কই গো প্রভাতের ( আমার বাবার নাম ) মা , দরজা খোল।সবদিন ঠাকুমার ঘুম ভাঙ্গত না । আমি ঠাকুমা ঠেলা দিয়ে ডেকে বলতাম -- ঠাকুমা উঠ , ভোলন ডাকছে।তখন ঠাকুরমা উঠে দরজা খুলে দিতেন।
যখন হাইস্কুলে পড়ি তখন বাৎসরিক পরীক্ষার আগে ভোরে দাদুর তাড়নায় পড়তে উঠতে হত। সেইসময় ভোলনের ডাক শুনে আমিই দরজা খুলে দিতাম। তারপর ভোলন মুড়ি ভাজার জন্য উনুন জ্বাললে প্রথমে আমি তাতে তিন কাপ চায়ের জল বসিয়ে দিতাম। তার মধ্যে দাদু উঠে আসতেন। চা করে দাদুকে এককাপ দিয়ে উনুনের পাশে বসে আমি আর ভোলন বসে বসে চা খেতাম।মাঝে মাঝে ভোলন বলতেন , আজ তোমার চা'টো ভারি স্বদ হয়েছে গো। আমিও কোন কোন দিন বলতাম - তোমার আজকের ভাজা ছোলাগুলো দারুন ফুটেছে গো।মুখে কিছু না বললেও তার মুখ দেখে বুঝতে পারতাম আমার প্রশংসায় খুশী হয়েছেন।
তারপর আমি পড়তে উপরে চলে যেতাম । আর ভুলি একা মুড়ির চাল নাড়া শুরু করত। পড়তে পড়তেই শুনতে পেতাম তার চাল নাড়ার খসর -খসর ছন্দোবদ্ধ শব্দ। পড়া শেষ করে যখন নীচে নামতাম তখন দেখতাম উনুনের পাশে মুড়ি ভেজে ডাঁই করে রেখেছে ভোলন। তারপরেও তাকে ভাজত হত কলাই - গম সহ কত কিছু। সবশেষে উনুনশালে বসেই মুড়ি খেতেন। তারপর আঁচলে ছেলেদের জন্য চাট্টি মুড়ি বেঁধে নিয়ে বাড়ি যেতেন।
ভুলির মৃত্যুর পর থেকেই কার্যত আমাদের বাড়িতে মুড়ি ভাজানোর চল উঠে গিয়েছে । মিলে ভাজিয়ে কিম্বা দোকানে কিনেই খাওয়া হয়।কিন্তু ওইসব মুড়ির স্বাদ ভুলির ভাজা মুড়ির ধারে কাছেও ঘেষতে পাড়ে না।তুলনামূলক বিচারে তখনই উঠে আসে ভুলির নাম। ভুলিকে আমরা আজও ভুলি নি।
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।
মৃণালের কথা
( ৫১ )
মৃণাল সেখের বাড়ি ছিল ময়ূরেশ্বর। সে একাধারে ছিল সাংবাদিক আবার সাহিত্যিকও। কবিতা ছোট গল্প লেখার হাতটাও বেশ ভালো ছিল । আমার থেকে কয়েক বছরের ছোট ছিল সে। সেই হিসাবে সে আমায় অর্ঘ্যদা বলে ডাকত। সাংবাদিকতার সূত্রেই তার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ। আমি তখন রামপুরহাট থেকে প্রকাশিত ' অধিকার ' নামে একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলাম। সাংবাদিক হিসাবে অধিকারেই মৃণালের প্রথম হাতেখড়ি হয়।
( মৃণালের লেখা সংবাদ )
দেখার চোখ এবং সংবাদ পরিবেশনের মুন্সীয়ানায় তখনই মৃণাল বহু দৈনিকের সাংবাদিকদের পিছনে ফেলে দেওয়ার যোগ্য ছিল। তার লেখনীতে উঠে আসত প্রান্তজীবি মানুষের বঞ্চনা, লাঞ্চনা আর শোষণের কথা। যেন মাটির গন্ধ পাওয়া যেত তার লেখায়।তারপর আমি আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগ দিই। মৃণালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ক্রমে বেড়েই চলে। তখন মোবাইল ফোনের চল হয়নি।সবে ল্যান্ড ফোন এসেছে আমাদের বাড়িতে।মৃণালের বাড়িতে তাও ছিল না। তবু আমাদের নিয়মিত কথা হত। কোন একটা নং দিয়ে মৃণাল বলত , অর্ঘ্যদা রিং ব্যাক করো।তারপর সংবাদ- সাহিত্য নিয়ে কথা হোত দীর্ঘক্ষণ। কেন জানি না মুদ্রাদোষের মতো কথায় কথায় মৃণাল একটা কথা খুব বলত -- ' দাদা গরীব তো'। তাই নিয়ে আমি আর আশিস ( সাংবাদিক আশিস মণ্ডল - তদানীন্তন অধিকার পত্রিকার প্রকাশক ও বর্তমান সম্পাদক ) খুব খ্যাপাতাম ওকে। ও শুধু হাসত।
মৃণাল বহুবার আমাদের বাড়ি এসেছে। খাওয়া -দাওয়া করে সারাদিন গল্প করেছি। আমিও গিয়েছি বহুবার। সংবাদ সংগ্রহে গেলে তার বাড়িতে একবার ঢুঁ তো মারতামই , ওদের পরবে যেতেই হত।আমার সঙ্গে কখনও থাকত ফটোগ্রাফার কিম্বা অন্য কেউ একজন।যখনই গিয়েছি প্রচুর সমাদর পেয়েছি। মৃণালদের বাড়ির সর্বত্র তখন ছিল দৈন্যতার ছাপ।তার বাবা ছিলেন সামান্য বেতনের পুলিশ কর্মী। তার আয়েই তাদের ৫ সদস্যের সংসার চলত।দু'কামরার ছোট্ট একটা বাড়িতে ছিল তাদের বাস। তবু আমরা গেলেই এলাহি আয়োজনের ব্যবস্থা করত। মৃণালের পড়ার ঘরের চৌকিটা ভরে যেত মাত্র দুজনের খাবারের থালা , বাটি আর প্লেটে। খুব অস্বস্তি হত আমাদের।
মৃদু আপত্তি জানালে মৃণাল বলত , বেশি বকবক না করে খাও তো। তুমি ভাবছ তোমরা এসেছো বলে এতসব করেছি ? মোটেও তা নয়।আমাদের পরবে এরকমই হয়। হয়তো হয় , তবু মনে হত আমাদের জন্যই বুঝি অভাবের সংসারে এতগুলো টাকা বেরিয়ে গেল। তারপর মৃণালও একদিন ' দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন ' পত্রিকায় রামপুরহাটের প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দেয়।প্রথম দিকে ময়ূরেশ্বর থেকে কাজ করত। তখনও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরে কাজের সুবিধার জন্য সে রামপুরহাটে উঠে যায়। থাকত একটি আবাসিক লজে। কাজের চাপে যোগাযোগটা অনেকটাই কমে যায়।তারপর একদিন মানসিক অবসাদে ওই লজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় মৃণাল।
আজ মৃণাল নেই , কিন্তু তার হাতে লেখা বেশ কিছু সংবাদের কপি আজও আছে আমার কাছে। আমি সযত্নে তা রেখে দিয়েছি।মনে হয় ওই কাগজে মৃণালের স্পর্শ লেগে আছে।সেই লেখায় হাত রাখলে আমি আজও মৃণালের স্পর্শ পাই।
------০-----
ভুলির কথা
( ৫২ )
ভুলির ভালো নাম ছিল খাঁদুবালা মণ্ডল। ময়ূরেশ্বরের ঢেকা গ্রামে ছিল তার বাড়ি। বাল্য বিধবা ভুলি আমাদের বাড়িতে মুড়ি ভাজত। মুড়ি ভেজেই দুই ছেলেকে মানুষ করতে হয়েছে তাকে। তার সর্বাঙ্গে ছিল দৈন্যতার ছাপ। হলদে হয়ে যাওয়া সরু পাড়ের একটা মোটা কাপড় পড়েই থাকতে দেখেছি তাকে। কি শীত , কি বর্ষা ভোরে মুড়ি ভাজতে আসতেন।শীতের সময় আর একটা ছেঁড়া কাপড় গায়ে দু'ভাঁজ করে ফেলা থাকত। সবাই তাকে ভুলি বলত , কিন্তু আমি তাকে ভোলন বলে ডাকতাম।
একটা হারিকেন নিয়েই মুড়ি ভাজতে চলে আসতেন। আমি তখন দাদু - ঠাকুমার কাছে থাকতাম। ভোর বেলায় তার ডাক শুনতে পেতাম-- কই গো প্রভাতের ( আমার বাবার নাম ) মা , দরজা খোল।সবদিন ঠাকুমার ঘুম ভাঙ্গত না । আমি ঠাকুমা ঠেলা দিয়ে ডেকে বলতাম -- ঠাকুমা উঠ , ভোলন ডাকছে।তখন ঠাকুরমা উঠে দরজা খুলে দিতেন।
যখন হাইস্কুলে পড়ি তখন বাৎসরিক পরীক্ষার আগে ভোরে দাদুর তাড়নায় পড়তে উঠতে হত। সেইসময় ভোলনের ডাক শুনে আমিই দরজা খুলে দিতাম। তারপর ভোলন মুড়ি ভাজার জন্য উনুন জ্বাললে প্রথমে আমি তাতে তিন কাপ চায়ের জল বসিয়ে দিতাম। তার মধ্যে দাদু উঠে আসতেন। চা করে দাদুকে এককাপ দিয়ে উনুনের পাশে বসে আমি আর ভোলন বসে বসে চা খেতাম।মাঝে মাঝে ভোলন বলতেন , আজ তোমার চা'টো ভারি স্বদ হয়েছে গো। আমিও কোন কোন দিন বলতাম - তোমার আজকের ভাজা ছোলাগুলো দারুন ফুটেছে গো।মুখে কিছু না বললেও তার মুখ দেখে বুঝতে পারতাম আমার প্রশংসায় খুশী হয়েছেন।
তারপর আমি পড়তে উপরে চলে যেতাম । আর ভুলি একা মুড়ির চাল নাড়া শুরু করত। পড়তে পড়তেই শুনতে পেতাম তার চাল নাড়ার খসর -খসর ছন্দোবদ্ধ শব্দ। পড়া শেষ করে যখন নীচে নামতাম তখন দেখতাম উনুনের পাশে মুড়ি ভেজে ডাঁই করে রেখেছে ভোলন। তারপরেও তাকে ভাজত হত কলাই - গম সহ কত কিছু। সবশেষে উনুনশালে বসেই মুড়ি খেতেন। তারপর আঁচলে ছেলেদের জন্য চাট্টি মুড়ি বেঁধে নিয়ে বাড়ি যেতেন।
ভুলির মৃত্যুর পর থেকেই কার্যত আমাদের বাড়িতে মুড়ি ভাজানোর চল উঠে গিয়েছে । মিলে ভাজিয়ে কিম্বা দোকানে কিনেই খাওয়া হয়।কিন্তু ওইসব মুড়ির স্বাদ ভুলির ভাজা মুড়ির ধারে কাছেও ঘেষতে পাড়ে না।তুলনামূলক বিচারে তখনই উঠে আসে ভুলির নাম। ভুলিকে আমরা আজও ভুলি নি।
( চলবে )
পড়ুন / পড়ান
নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন
১৯ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ টার মধ্যে প্রকাশিত হচ্ছে
ধারাবাহিক উপন্যাস
সালিশির রায়
সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , অন্যকে দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।




পট দেখেছি , পটুয়ার পিছু পিছু ঘুরেছি এবাড়ি ওবাড়ি কিন্তু তাদের পিছনে এত করুন কাহিনীর খবর জানতামই না ॥ Thank You , দাদা ॥ ॥
ReplyDelete