অর্ঘ্য ঘোষ
আড়াগাড়ির ব্যয়ের কথা
( ৫৩ )
তার আসল নাম ছিল হেরম্ব বায়েন । লোকে বলত হেরা বায়েন। ময়ূরেশ্বরের রামসাগরের পাড়ে ছিল তার বাড়ি। ভিক্ষাই ছিল একমাত্র জীবিকা। দু'চোখেই দেখতে পেতেন না। তার একটি ছোট্ট মেয়ে একহাতে একটা ভিক্ষার পাত্র অন্যহাতে একটা লাঠির প্রান্ত ধরে আগে আগে হেঁটে যেত। আর লাঠির অন্য প্রান্ত ধরে আন্দাজে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে বেড়াতেন তিনি।কিন্তু তার অন্ধত্ব নিয়ে অনেকেই অবিশ্বাসী ছিলেন। অনেকেই মনে করতেন তিনি দেখতে পান , করুণা কুড়ানোর জন্যই অন্ধের অভিনয় করেন। তা নিয়ে অনেকেই তাকে টিকা-টিপন্নী কেটেছেন , তাকে নিয়ে মজাও করতে দেখেছি অনেককে। তখন তার মুখে ফুটে উঠেছে করুণ হাসি। হাসি দিয়েই ঢেকে দিতে চেয়েছেন অপমানের জ্বালা।
আসলে এসবের পিছনে রয়েছে একটি করুণ কাহিনী। সে সময় তার বাড়ির কাছে আড়া ( বাঁশ বা পাটকাঠির তৈরি এক ধরণের চৌকো নেট। কোন জলধারার মুখে সেটিকে পাতা হয়। আর সেই নেটের মুখে থাকে একটি গর্ত।স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় আড়াগাড়ি।জলধারার মাছ নেটের উপর দিয়ে গিয়ে জমা হয় আড়াগাড়িতে।আড়ার মালিক মাঝেমধ্যে আড়াগাড়ি থেকে মাছ তুলে নিয়ে যান ) পেতেছিলেন তারই এক ব্যয় ( বৈবাহিক)। পাশাপাশি আরও একজনের আড়া ছিল। হেরম্ব ভোরের দিকে লাঠি ঠুঁকতে ঠুঁকতে সেদিকে প্রাতকৃত করতে যেতেন।
একদিন প্রাতকৃত করে ফেরার পথে তিনি ওই আড়াগাড়িতে পড়ে যান।সেইসময় আড়ার মালিক এসে হাজির হন। পায়ের শব্দে হেরম্ব তা টেরও পান।তিনি ভেবেছিলেন হয়তো ব্যয়ের আড়াগাড়িতেই পড়েছেন। তাই বলেন , দেখ দেখি ব্যয় কি বিপদ , মাঠে এসে তোমার আড়াগাড়িতে পড়ে গেলাম। আড়ামালিক তার সেই কথা বিশ্বাস করেন নি।ধরে নিয়েছিলেন হেরা তার আড়ার মাছ চুরি করতে এসেছেন। তাই তিনি কটাক্ষ করে বলেছিলেন , হ্যা তুমি আমার আড়াগাড়ির ব্যয়।তারপর নাকি মারধোরও করেন।পরে আড়ার মাছ নিতে এসে তার ব্যয় তাকে উদ্ধার করেন।
সে যাত্রা ব্যয়ের হস্তক্ষেপে ছাড়া পেলেও ওই অপবাদ থেকে আজীবন মুক্তি পান নি তিনি। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল ওই ঘটনার কথা।তাই তাকে দেখলেই সবাই আড়াগাড়ির ব্যয় বলে কটাক্ষ করতেন। তার অন্ধত্ব নিয়েও নানা প্রশ্ন করে তাকে বিরক্ত করতেন। পেটের দায়ে সব হাসি মুখে সইতে হত তাকে।আজ হেরম্ব নেই। কিন্তু মেয়ের বাড়ানো লাঠির প্রান্ত ধরে পা টেনে টেনে হাঁটার দৃশ্যটা যেন আজও চোখের সামনে ভাসে।
ঝুলফুলিদিদি আসলে ছিলেন দাইমা। তার নাম ছিল বাসন্তী হাজরা । ছোটদের কাছে তিনি ঝুলফুলি দিদি হিসাবেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া গ্রামে ছিল তার বাড়ি। সেসময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিম্বা হাসপাতালে প্রসবের এত রেওয়াজ ছিল না। মেয়েরা সন্তান সম্ভবা হলেই প্রসবের জন্য তারা শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে চলে আসতেন। তাকে বলা হত 'ছেলে হতে ' আসা। অধিকাংশ পরিবারে বাড়িতেই প্রসবের রেওয়াজ ছিল। এজন্য বহু পরিবারে বৈঠকখানা , ঠাকুরঘর কিম্বা রান্নাঘরের মতোই আঁতুড়ঘর হিসাবেও আলাদা একটা ঘরই থাকত।মূলত প্রসবের জন্যই ঘরটি ব্যবহৃত হত। বাকি সময় গৃহস্থালির জিনিসপত্র ভরে রাখা হত সেই ঘরে। আমার মামার বাড়িতেই সেই রকম একটা ঘর ছিল। আমার ভাইয়ের জন্ম সেই ঘরেই হয়েছিল।
আঁতুড়ঘরের মতোই সেসময় প্রতিটি পরিবারে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দাইমায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। প্রসবের সময় তারাই ছিলেন মুসকিল আসান। আমাদের গ্রামেও সন্তানসম্ভবা মেয়েরা প্রসবের জন্য বাপের বাড়িতে এলেই ঝুলফুলি দিদি হাজির হতেন তাদের বাড়িতে। তারপর প্রসবের দিনক্ষণ জেনে নির্ধারিত দিনে হাজির হতেন সেই বাড়ি। সঙ্গে করে আনতেন একটা বাঁশের ছিলা। প্রসব না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের লোকেদের মতোই ঠাই বসে থাকতেন প্রসুতির পাশে।তার চোখে মুখেও ঝড়ে পড়ত উদ্বেগ আর উৎকঠা। প্রসব ব্যথা নিরাময়ের জন্য প্রসুতির পেটে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলতেন , একটু সহ্য করো মা , সন্তানের জন্ম দেওয়া কি মুখের কথা। তাকে পেয়ে সে সময় ভরসা পেতেন পরিবারের লোকেরা।
প্রসব হওয়ার পর বাঁশের সেই ছিলা দিয়েই মা এবং সন্তানের নাড়ী কেটে প্রসব পরবর্তী দেহাংশ একটি মাটির হাঁড়িতে ভরে মাথায় নিয়ে হাঁড়ি ফেলায় ফেলতে যেতেন ঝুলফুলিদিদি। যাওয়ার সময় সুর করে বলতে বলতে যেতেন -- ছেলেপিলে যে যেখানে আছো সরে যাও , ঝুলফুলি নিয়ে চললাম।বাতাস লাগল শুকিয়ে যাবে সব।কতবার যে তার মুখে ওই সাবধানবানী শুনেছি তার ঠিক নেই। কেন জানি না ওই সুর শুনতে পেলেই মা-ঠাকুরমা আমাদের ঘরে আটকে রাখতেন।মনেহয় পচনজনিত কোন দুর্গন্ধ যাতে আমদের নাকে না লাগে সেই জন্যই আগাম জানান দিতে তিনি ওই রকম বলতেন। সেই থেকেই আমাদের কাছে উনি ঝুলফুলি দিদি হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
আজ বাড়িতে প্রসবের চল আর নেই । প্রয়োজন ফুরিয়েছে দাইমায়ের। গ্রামাঞ্চলে ঝুলফুলি নিয়ে যাওয়ার সেই সাবধানবানীও আর শোনা যায় না। নেই ঝুলিফুলি দিদিও।কিন্তু তার সেই সাবধানবানী আজও যেন কানে লেগে আছে।
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।
আসলে এসবের পিছনে রয়েছে একটি করুণ কাহিনী। সে সময় তার বাড়ির কাছে আড়া ( বাঁশ বা পাটকাঠির তৈরি এক ধরণের চৌকো নেট। কোন জলধারার মুখে সেটিকে পাতা হয়। আর সেই নেটের মুখে থাকে একটি গর্ত।স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় আড়াগাড়ি।জলধারার মাছ নেটের উপর দিয়ে গিয়ে জমা হয় আড়াগাড়িতে।আড়ার মালিক মাঝেমধ্যে আড়াগাড়ি থেকে মাছ তুলে নিয়ে যান ) পেতেছিলেন তারই এক ব্যয় ( বৈবাহিক)। পাশাপাশি আরও একজনের আড়া ছিল। হেরম্ব ভোরের দিকে লাঠি ঠুঁকতে ঠুঁকতে সেদিকে প্রাতকৃত করতে যেতেন।
একদিন প্রাতকৃত করে ফেরার পথে তিনি ওই আড়াগাড়িতে পড়ে যান।সেইসময় আড়ার মালিক এসে হাজির হন। পায়ের শব্দে হেরম্ব তা টেরও পান।তিনি ভেবেছিলেন হয়তো ব্যয়ের আড়াগাড়িতেই পড়েছেন। তাই বলেন , দেখ দেখি ব্যয় কি বিপদ , মাঠে এসে তোমার আড়াগাড়িতে পড়ে গেলাম। আড়ামালিক তার সেই কথা বিশ্বাস করেন নি।ধরে নিয়েছিলেন হেরা তার আড়ার মাছ চুরি করতে এসেছেন। তাই তিনি কটাক্ষ করে বলেছিলেন , হ্যা তুমি আমার আড়াগাড়ির ব্যয়।তারপর নাকি মারধোরও করেন।পরে আড়ার মাছ নিতে এসে তার ব্যয় তাকে উদ্ধার করেন।
সে যাত্রা ব্যয়ের হস্তক্ষেপে ছাড়া পেলেও ওই অপবাদ থেকে আজীবন মুক্তি পান নি তিনি। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল ওই ঘটনার কথা।তাই তাকে দেখলেই সবাই আড়াগাড়ির ব্যয় বলে কটাক্ষ করতেন। তার অন্ধত্ব নিয়েও নানা প্রশ্ন করে তাকে বিরক্ত করতেন। পেটের দায়ে সব হাসি মুখে সইতে হত তাকে।আজ হেরম্ব নেই। কিন্তু মেয়ের বাড়ানো লাঠির প্রান্ত ধরে পা টেনে টেনে হাঁটার দৃশ্যটা যেন আজও চোখের সামনে ভাসে।
-----০-----
ঝুলফুলি দিদির কথা
( ৫৪ )
ঝুলফুলিদিদি আসলে ছিলেন দাইমা। তার নাম ছিল বাসন্তী হাজরা । ছোটদের কাছে তিনি ঝুলফুলি দিদি হিসাবেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া গ্রামে ছিল তার বাড়ি। সেসময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিম্বা হাসপাতালে প্রসবের এত রেওয়াজ ছিল না। মেয়েরা সন্তান সম্ভবা হলেই প্রসবের জন্য তারা শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে চলে আসতেন। তাকে বলা হত 'ছেলে হতে ' আসা। অধিকাংশ পরিবারে বাড়িতেই প্রসবের রেওয়াজ ছিল। এজন্য বহু পরিবারে বৈঠকখানা , ঠাকুরঘর কিম্বা রান্নাঘরের মতোই আঁতুড়ঘর হিসাবেও আলাদা একটা ঘরই থাকত।মূলত প্রসবের জন্যই ঘরটি ব্যবহৃত হত। বাকি সময় গৃহস্থালির জিনিসপত্র ভরে রাখা হত সেই ঘরে। আমার মামার বাড়িতেই সেই রকম একটা ঘর ছিল। আমার ভাইয়ের জন্ম সেই ঘরেই হয়েছিল।
আঁতুড়ঘরের মতোই সেসময় প্রতিটি পরিবারে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দাইমায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। প্রসবের সময় তারাই ছিলেন মুসকিল আসান। আমাদের গ্রামেও সন্তানসম্ভবা মেয়েরা প্রসবের জন্য বাপের বাড়িতে এলেই ঝুলফুলি দিদি হাজির হতেন তাদের বাড়িতে। তারপর প্রসবের দিনক্ষণ জেনে নির্ধারিত দিনে হাজির হতেন সেই বাড়ি। সঙ্গে করে আনতেন একটা বাঁশের ছিলা। প্রসব না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের লোকেদের মতোই ঠাই বসে থাকতেন প্রসুতির পাশে।তার চোখে মুখেও ঝড়ে পড়ত উদ্বেগ আর উৎকঠা। প্রসব ব্যথা নিরাময়ের জন্য প্রসুতির পেটে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলতেন , একটু সহ্য করো মা , সন্তানের জন্ম দেওয়া কি মুখের কথা। তাকে পেয়ে সে সময় ভরসা পেতেন পরিবারের লোকেরা।
প্রসব হওয়ার পর বাঁশের সেই ছিলা দিয়েই মা এবং সন্তানের নাড়ী কেটে প্রসব পরবর্তী দেহাংশ একটি মাটির হাঁড়িতে ভরে মাথায় নিয়ে হাঁড়ি ফেলায় ফেলতে যেতেন ঝুলফুলিদিদি। যাওয়ার সময় সুর করে বলতে বলতে যেতেন -- ছেলেপিলে যে যেখানে আছো সরে যাও , ঝুলফুলি নিয়ে চললাম।বাতাস লাগল শুকিয়ে যাবে সব।কতবার যে তার মুখে ওই সাবধানবানী শুনেছি তার ঠিক নেই। কেন জানি না ওই সুর শুনতে পেলেই মা-ঠাকুরমা আমাদের ঘরে আটকে রাখতেন।মনেহয় পচনজনিত কোন দুর্গন্ধ যাতে আমদের নাকে না লাগে সেই জন্যই আগাম জানান দিতে তিনি ওই রকম বলতেন। সেই থেকেই আমাদের কাছে উনি ঝুলফুলি দিদি হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
আজ বাড়িতে প্রসবের চল আর নেই । প্রয়োজন ফুরিয়েছে দাইমায়ের। গ্রামাঞ্চলে ঝুলফুলি নিয়ে যাওয়ার সেই সাবধানবানীও আর শোনা যায় না। নেই ঝুলিফুলি দিদিও।কিন্তু তার সেই সাবধানবানী আজও যেন কানে লেগে আছে।
( চলবে )
পড়ুন / পড়ান
নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন
১৯ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ টার মধ্যে প্রকাশিত হচ্ছে
ধারাবাহিক উপন্যাস
সালিশির রায়
সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , অন্যকে দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।



বেশ কিছু বিষয়ে সম্যক ধারনা ছিলো না ॥ সেই বিষয়গুলোই এখন জানতে পেরে বেশ ভালো লাগছে ॥ ॥
ReplyDelete