অন্তরালে
অর্ঘ্য ঘোষ
( ধারাবাহিক উপন্যাস )
সেই সমাধান সূত্র খুঁজতে যাওয়ার জন্যই সকালে সৌরভকে ফোন করে কথাটা বলে আর্য।
সৌরভ বলে , চলে আসুন দাদা। আমি রাস্তার মোড়েই আপনাদের আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকব। স্ত্রী'কে কথাটা জানিয়ে দিয়ে বাজারের থলে হাতে বেরিয়ে পড়ে সে। কিছুক্ষণের মধ্যে হ্যান্ডেলে বাজারের থলে ঝুলিয়ে একটি নতুন সাইকেল নিয়ে স্বামীকে ফিরতে দেখে ভ্রু কু্ঁচকে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বৈশাখী।
সেটা দেখে স্ত্রীর সঙ্গে মজা করার নেশাটা আবার পেয়ে বসে আর্যর। ইশারায় সে স্ত্রীর কাছে চৈতী কোথায় জানতে চায়।
বৈশাখী বলে , বার কয়েক ঘরবার করে এখন পড়ার ঘরে বইয়ের সামনে বসে রয়েছে।
---- ঘর বার কেন ?
---- কেন আবার ? এখনও তার শঙ্খদা এলো না তাই। কই বললে না তো নতুন সাইকেল কেন ?
---- এটা দিয়ে তোমার হবু জামাইকে আর্শিবাদ করব ভাবছি।
---- মানে ?
---- আরে কাল যে বললে দুটিকে খুব নাকি মানায়। তা আজ তো দু'টিতেই একসঙ্গে কলেজে যাবে। তোমার মেয়ের না হয় সাইকেল আছে। কিন্তু শঙ্খ যাবে কিসে ? হয় তোমার মেয়ের সাইকেলে, নয়তো রিক্সা করে। কিন্তু সেটা বেমানান লাগবে। তাই পিযুষদের দোকান থেকে সাইকেলটা নিয়ে এলাম।
এ কথাটা বৈশাখীর মাথায় আসে নি তা নয়। ভেবেছিল দু'চারদিন পর স্বামীকে শঙ্খর জন্য একটা সাইকেল কেনার কথা বলবে। কিন্তু আর্য যে আজই সাইকেল কিনে নিয়ে চলে আসবে তা সে ভাবে নি। তাই সে বলে , সাইকেলটা এনে খুব ভালো করেছে। সত্যি এটার খুব দরকার ছিল।
সেইসময় পড়ার ঘর থেকে বাইরে আসে চৈতী। তারপর সাইকেলটার কাছে এসে বলে -- ইমা , সাইকেলটা কি সুন্দর। কার গো বাবা সাইকেলটা ?
--- শঙ্খর কলেজ যাওয়ার জন্য নিয়ে এলাম।
---- ইসঃ শঙ্খদার সাইকেলটা কেমন ঝাঁ চকচকে। আমারটা পুরনো পুরনো হয়ে গিয়েছে। আমি এটা নিয়ে নেব। শঙ্খদাকে আমারটা দিয়ে দেব।
এই আশঙ্কাটাই করছিল আর্য। মেয়েদের এই স্বভাবটা তার অজানা নয়। অধিকাংশ মেয়েই পরের জিনিসটাকে ভালো দেখে।
কিন্তু যখন দেখে নিজের জিনিসটা নিয়েই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তখন সেই জিনিসটা নিয়ে অন্যের কাছে গর্বের অন্ত থাকে না। কিন্তু মনে খুঁতখু্ঁতানি থেকেই যায়। আর্যর মনে হয় এটা অধিকাংশ মেয়েরই সহজাত স্বভাব। চৈতীও তার ব্যতিক্রম নয়। তার সাইকেলটা এমন কিছু পুরনো হয়ে যায় নি। গতবছরই একই দোকান থেকে কিনে দিয়েছে। তার উপরে অন্যান্য জিনিসের মতো সাইকেলটাকেও খুব যত্নে রাখে চৈতী। তাই আর্য বলে , কেন তোর সাইকেলটা খারাপ কিসের ? এখনও ভালোই হয়ে আছে।
---- ভালোই যখন হয়ে আছে তাহলে শঙ্খদা নিলেই বা ক্ষতি কিসের ?
---- সে আমি বলতে পারব না। তবে অনেকেই মনে মনে ভাবতে পারে , দেখছ নিজের মেয়েকে কেমন নতুন সাইকেল কিনে দিয়ে পরের ছেলেটাকে মেয়ের পুরনো সাইকেলটা দিয়েছে।
---- বাবা তুমিই তো বলো লোকে কত কি বলে, কত কি ভাবে তা নিয়ে ভাবলে চলে না। তাহলে এখন লোকের দোহাই দিচ্ছ কেন ?
--- ওরে বাবা এ যে দেখেছি আমার অস্ত্রেই আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা। বেশ মা তোমরা তাহলে নিজেরাই ব্যাপারটা ঠিক করে নাও।
---- ঠিক আছে আমরা নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নেব। নাহয় পালা করে চালাব।
সেইসময় এসে পৌঁছোয় শঙ্খ।সাইকেলটা দেখিয়ে তাকে দেখিয়ে আর্য বলে , এটা তোমার কলেজ যাওয়ার জন্য এনেছি। পচ্ছন্দ হয়েছে ?
---- খুব সুন্দর হয়েছে। কিন্তু এখনই এটা টাকা খরচ করে না কিনলে হত। কিলোমিটার খানেক তো রাস্তা। দিব্যি হেঁটে চলে যেতে পারতাম।
---- তা হয়তো পারতে। কিন্তু তাতে যে আমার মন সায় দিত না। চৈতী যাবে সাইকেলে , আর তুমি হেঁটে যাবে তা কেমন করে হয় ?
--- আসলে বাবার চিকিৎসা , আমার কলেজের খরচ সবই তো আপনাকে দিতে হচ্ছে। তাই বলছিলাম --।
---- খরচ নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনাটা কর।
শঙ্খ কিছু বলার আগেই চৈতী বলে , ঠিক বলেছো বাবা। তারপর শঙ্খর দিকে তাকিয়ে বলে , আচ্ছা তোমার সাইকেলটা যদি আমি মাঝে মধ্যে চালায় তাহলে তোমার কোন আপত্তি আছে ?
----- না না, কোন আপত্তি নেই। তুমিই চালাও না সাইকেলটা। আমি তোমারটাই নেব। যাওয়া নিয়ে তো ব্যাপার , একটা হলেই হোল।
আর্যকেই স্বাক্ষী খাড়া করে চৈতী বলে , দেখছো বাবা আমি বলেছিলাম না শঙ্খদা না করতে পারবে না। তবে শঙ্খদা তোমাকেও বলি, আমার বাবার মতো এভাবে সবাইকে নিজের অধিকার পুরোপুরি ছেড়ে দিতে যেও না।
আমাকে বলেছ ঠিক আছে। আর কাউকে যেন বলতে যেও না। আমি নাহয় তোমার নতুন সাইকেলটা একবারে নিয়ে নেব না। কিন্তু সবাই তো আর সমান নয় , তারা কিন্তু সুযোগ নেবে।
মেয়ের কথা শুনে আর্যর মনে হয় , কলেজে পড়লেও মেয়েটা যেন সেই ছোট্টটি হয়ে আছে।
মুচকি হেসে স্ত্রীর দিকে তাকায় সে। হাসি চেপে বৈশাখী বলে , ঠিক আছে তোমাকে আর পাকা গিন্নির মতো কথা বলতে হবে না। স্থান করে খেয়ে নেবে এসো। তোমরা কলেজে বেরিয়ে গেলে তোমার বাবা আর আমি এক জায়গায় যাব।পাশের বাড়ির বাসন্তী কাকীমায়ের কাছে চাবি রাখা থাকবে , আমাদের ফিরতে দেরি হলে নিও।
---- কোথায় যাবে তোমারা ?
---- সেটা ফিরে এসে বলব।
---- ওঃ সারপ্রাইজ ?
---- ধরতে পারো তাই। যাও এবার স্নান করে এসো।
বাকি রান্নাটুকু শেষ করতে রান্নাঘরে চলে যায় বৈশাখী। আর্য ফোনে ধরে সোমনাথকে ধরে। সামনের সপ্তাহের পত্রিকা প্রকাশের ব্যাপারে আলোচনার জন্য চন্দনদের নিয়ে সময়মতো একবার আসতে বলে তাকে।কথা শেষ হতেই রান্নাঘর থেকে বৈশাখী বলে -- কই , তোমার হলো ? ওরা বেরোবে এবার।
---- হ্যা হয়ে গিয়েছে , আসছি।
বাইরে আসতেই দেখতে পায় দু'টিতে সাইকেল নিয়ে বেরনোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। চৈতীকে নতুন সাইকেলটাই দিয়েছে শঙ্খ। বিষয়টি তার খুব ভালো লাগে। যে ছেলে এত বুঝদার , অন্যের চাওয়া পাওয়াকে এত গুরুত্ব দেয়, সেই ছেলের কাছে মেয়েটা যে সুখী হবে তা নিয়ে আর আর্যর মনে আর কোন সংশয়ই থাকে না। সেই সময় চৈতী বলে , আমরা তাহলে আসছি বাবা। বলেই সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দেয় তারা। সমান তালে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতে বৈশাখী বলে -- দেখ দেখ কি সুন্দর দেখাচ্ছে দুটিকে। ঠিক যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো লাগছে।
--- আমরাও যদি ওভাবেই যেতে পারতাম।
---- আহা , আর দেখে বাঁচি না। ওদের দেখে বাবুরও রোমান্স যেন উপচে পড়ছে।
স্বামীর দিকে আবেশভরা দৃষ্টিতে চেয়েই অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বৈশাখী।
আর্য স্ত্রী'র হাত দুটো ধরে সুর করে গেয়ে ওঠে -- ' এক পলকের একটু দেখা আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কি ? '
---- অ্যাই রে আবার পাগলামিটা বোধ হয় মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আরে ছাড়ো ছাড়ো , বাসন্তীবৌদির চোখে পড়লেই আমার পিছনে লাগবে। আমাকে রাগিয়ে মারবে তখন।
আর্য তবু তার হাত ছাড়ে না। স্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে থাকে সে। মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না বৈশাখী। তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফেলে আসা দিনের ছবি। বিয়ের পর মোটর বাইকে সিনেমাটা দেখে তারা সুরে সুর মিলিয়ে গানটা গাইতে গাইতে ফিরেছিল। ফেলে আসা দিনের সেই সুখ স্মৃতিটাকে ফিরে পাওয়ার জন্য খুব ভালো লাগে তার। তাই আচমকা স্বামীর ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে হাত ছাড়িয়ে কিশোরী মেয়ের মতো রান্নাঘরে দিকে ছুটে পালায়। সেখান থেকে চিৎকার করে বলে, চটপট স্নান করে চলো এসো। নাহলে বেরোতে দেরী হয়ে যাবে।
বৈশাখীর তাড়ায় দ্রুত স্নান খাওয়া সেরে নিতে হয়। তারপর বাইক নিয়ে সৌমিকদের বাড়ির উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়ে তারা। সৌরভ তাদের জন্য রাস্তার
মোড়ে অপেক্ষা করছিল। তাকে নিয়ে পৌঁছোয় সৌমিকদের বাড়ি। বাড়ি ঢোকার মুখেই বৈঠকখানা ঘরে দেখা হয়ে যায় সৌমিকের আর তার বোন মৌরির সঙ্গে। সৌরভ আর্যদের সঙ্গে তার পরচিয় করিয়ে দেয়। সৌমিক আর মৌরি সবাইকে প্রণাম করে। আর্য মৌরিকে বলে , যাও তো মামনি তোমার বাবা-মাকে আমাদের আসার কথা বলে এসোতো। আমরা তোমার দাদার সঙ্গে একটু কথা বলে নিই।
মৌরি একবার দাদার দিকে আড়চোখে ভিতরের দিকে চলে যায়। আর আর্য সৌভিককে বলে , তোমার আর মালার ব্যাপার নিয়ে কথা বলতেই তোমার বাবা- মায়ের কাছে এসেছি আমরা। তার আগে তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে। আমরা নাক গলাচ্ছি ভেবে তোমার কোন আপত্তি নেই তো ?
---- না না। ছি- ছি একি কথা বলছেন, বলুন কি বলতে চান ?
----- দেখ আমরা তোমার বাবা-মায়ের সমবয়সী হলেও কিন্তু ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই মিশতে পচ্ছন্দ করি। সে সুবাদেই তোমার কাছে একটা কথা জানতে চাই। আশাকরি তুমি সত্যিটা বলবে ?
---- নিশ্চয় ?
---- তুমি কি মালাকে এখনও ভালোবাসো ?
সৌমিক কোন উত্তর দিতে পারে না।মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তা দেখে আর্য ফের বলে , তার মানে আমরা মৌনতা সম্মতির লক্ষণ ধরেই নিতে পারি তাই তো ?
এবারে মুখ তুলে চায় সৌমিক। শান্ত গলায় বলে -- বিশ্বাস করুন আমি ওকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু বাবা-মায়ের চাপে সেই সময় মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।
---- কিন্তু ওদের ওই বিপদের দিনে কি সেটা করা কি উচিত হয়েছিল ?
---- না , একবারেই উচিত হয় নি। সেটা বুঝতে পেরেছিলাম কিন্তু বাবা মা, সমাজকে উপেক্ষা করে বিপদের দিনে ছুটে গিয়ে ওর পাশে দাঁড়াতেও পারিনি। মানসিক টানাপোড়নে আমি বিবেচনা বোধটাই হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাই আমি এখনও অহরহ অনুতাপ আর অপরাধ বোধে ভুগি।
---- এখন বুঝতে পারছ তো তুমি ভুল করেছিলে ?
---- হ্যা, বুঝতে পারছি চরমতম ভুল করেছিলাম। তাও মালার কাছে ক্ষমা চাইতে যাওয়ার মুখ নেই।
---- এই তো হলো এখনকার ছেলেমেয়েদের দোষ।উত্তম- সুচিত্রার সিনেমা দেখা হয় ?
সৌমিক কোন কথা বলে না। বৈশাখীই বলে ওঠে , এই দেখ কোন কথা থেকে কোন কথায় চলে গেলে তুমি ? এখন ক'টা হলে ওসব সিনেমা দেখানো হয় ? ক'টা চ্যানেলই বা দেখায় ওইসব ছবি, যে এখনকার ছেলেমেয়েরা দেখবে ?
---- সেই জন্যই তো এত সমস্যা। উত্তম - সুচিত্রার বই দেখেনা বলেই তো ভুল বোঝাবুঝি দূরে সরিয়ে কি করে কাছাকাছি হতে হয় জানে না। জীবনে ভুল ভ্রান্তি আছে। কিন্ত সেই ভুলটাকে আঁকড়ে ধরে থাকাটা ঠিক নয়। যাকে ভালোবাসি তার কাছে ভুল স্বীকার করতে অসুবিধা কোথায় ? নতজানু হয়ে ক্ষমা চাইতে পারলেই সব রাগ - দুঃখ - অভিমান দূর হয়ে যাবে।
---- বিশ্বাস করুন। বহুবার ভেবেছি কিন্তু সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি নি।
---- ঠিক আছে আজ আমাদের সঙ্গে যাবে।
আর্যর কথা শুনে খুব ভালো লেগে যায় সৌমিকের। সে বলে , আপনারা বসুন। আমি বাবা মাকে ডেকে দিচ্ছি।
--- বেশ যাও। তুমিও ধারে পাশেই থেক। যাওয়ার সময় তোমাকে ডেকে নেব।
---- বেশ। বলে হাসিমুখে ভিতরের ঘরের দিকে চলে যায় সৌমিক। কিছুক্ষণের মধ্যেই - নমস্কার কি সৌভাগ্য আপনাদের মতো লোকের পায়ের ধুলো পড়ল আমাদের বাড়িতে, বলতে বলতে হাতজোড় করে ঘরে ঢোকেন সৌমিকের বাবা অরবিন্দবাবু। মিস্টি জল হাতে আসেন প্রতিভাদেবীও। আর্যও উঠে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দেওয়া শুরু করতেই অরবিন্দ বাবু বলে ওঠেন , থাক থাক আর পরিচয় দিতে হবে না। সৌমিক আপনাদের কথা সব বলেছে। তাছাড়া আপনার নাম খুব শুনেছি।
সবাই বলে আপনার জন্যই নাকি মনোহরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ফিরেছে।
--- আপনি যা শুনেছেন তায় কিন্তু ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ফিরেছে ওই গ্রামের মানুষের আন্দোলনের জন্য। সে যাই হোক, আমরা একটা বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।
--- কি কথা ?
---- আমরা সৌমিক আর মালার ভেঙে যাওয়া বিয়েটা জোড়া লাগানোর কথা বলেতে এসেছি।
--- ওঃ তাই ? খুব ভালো কথা। ছেলের মাও আছে। বেশ তো বলুন না , কি বলতে চান ?
---- বলছি ওদের বিয়েটা কি আর দেওয়া যায় না ?
---- দেখুন একদিন আমরা লোকলজ্জার ভয়ে বিয়েটা ভেঙে দিয়ে ছেলের অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ছেলে অন্য জায়গায় বিয়ে করবে না বলে ধনুক ভাঙা পণ করে বসে আছে। নিজে মুখে যেখানে জবাব দিয়েছি সেখানে লজ্জায় আবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারি নি। তাছাড়া অন্য আশঙ্কা ও ছিল।
--- কি আশঙ্কা ?
---- আমরা চাইলেও ওরা আর বিয়েতে রাজি হবেন কিনা সে আশঙ্কাটাও ছিল। আপনারা এসেছেন , খুব ভালো হয়েছে। দেখুন কিছু করতে পারেন কিনা।
--- আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনার কাছে শুধু একটা অনুরোধ আছে।
---- কি অনুরোধ ?
---- সৌমিককে একবার প্রিয়র বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিন। মালাও অভিমান করে বিয়ে করব না বলে বসে আছে। দুটিতে মুখোমুখি হলে সব জলের জল হয়ে যাবে।
---- তাই বুঝি ? বেশ তো নিয়ে গিয়ে ওদের ভুল বোঝবুঝিটা দুর করে দিন।
প্রতিভাদেবী বৈশাখীর হাত দুটো জড়িয়ে ধরে বলে , তখন বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিলাম বলে নিজেদের খুব অপরাধী মনে হয় জানেন ? ছেলেটার মুখের দিকে চাইতে পারি না। অত হাসিখুশী ছেলেটা হাসতে ভুলে গিয়েছে। আপনারা ওর হাসিটা ফিরিয়ে দিন। আর আমাদের কিছু চাই না।
তাকে আশ্বস্ত করে বৈশাখী বলে -- চিন্তা করবেন না। আমরা তো সেই উদ্দেশ্যেই এসেছি।
আড়াল থেকে কথাগুলো শুনে সৌমিককে উদ্দেশ্য করে টিপ্পনী কাটে মৌরি --- কি রে দাদা , ওদের সঙ্গে যেতে পারবি তো ? একটু আগেই মেলা দেখতে যেতে বললাম। আমাকে তো মুখের উপর না বলে দিলি।
বোনের কথার কোন জবাব দিতে পারে না সৌমিক। মৌরির কথাটা তো মিথ্যা নয়। কিছুক্ষণ আগেই মৌরি মালাদের পাশের গ্রামে মেলা দেখতে যেতে বলেছিল। কিন্তু মালার জন্য মনটা বিষন্ন থাকায় সে না করে দেয়। দাদাকে চুপ করে থাকতে দেখে মৌরি তার হাত ধরে বলে , তুই মুখে না বললেও কেন মেলা যেতে চাস নি তা আমি বুঝেছিলাম। তাই তোকে পীড়াপীড়ি করে নি। কিন্তু যখন তোকে মালার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা শুনলাম তখন খুব ভাল লাগল জানিস। যা ঘুরে আয়। উইস ইউ বেষ্ট লাক।
--- তবে রে, খুব পেকেছিস না ?
সৌমিক চড় তুলতেই মৌরি ছুটে বৈঠকখানা ঘরে ঢুকে যায়। কথা শেষ করে সৌমিককে নিয়ে প্রিয়র বাড়ি অভিমুখে রওনা দেয় আর্যরা।
( ক্রমশ )
----০---



No comments:
Post a Comment