এখনও
অর্ঘ্য ঘোষ
এখনও ডাস্টবিন হাতড়ায়
কিছু মানুষের হাত।
এখনও পশুদের ভোজ সভায়
শুনি মানুষের আর্তনাদ।।
এখনও নীচে এসে পড়ে
তাচ্ছিল্যের দয়ার দান।
কুকুরের সাথে মানুষও ছোটে ,
মানবতা ভেঙ্গে হয় খান খান।
ম্লান হয় সভ্যতা।
বিবর্ণ ইতিহাসের পাতা।
দয়া নয় , নয় দান
আজ চাই সম্মান।
---০---
লগন
অর্ঘ্য ঘোষ
বৃথা লগন বয়ে যায় ,
এখন শুধু প্রহর গোনা
সোনালী সুতোয়
স্বপ্নের জাল বোনা।।
পিচ্ছিল দিন , ঘন কালো রাত
সাধনায় ঘটায় ব্যাঘাত।
সময়ের স্রোতে
জীবনের সোনালী মুহূর্ত যত
রয়ে যাবে ইতিহাসের মতো।
তবু অবুঝ মন
মুহূর্তের ভালোলাগা যত
পরম পরিচর্যায়
গেঁথে রাখে অ্যালবামের পাতায়।।
---০---
লাশকাটা ঘরের চাবি
অর্ঘ্য ঘোষ
চাবি
এই নাও চাবি
আলমারি থেকে নিয়ে এসো শার্ট ,
বাসন্তী রঙ শাড়ি।
ন্যাপথলিন গন্ধে বিভোর হোক বাতাস।
আজ পুরনো সেই কথা বলো ,
যে কথা বলা হয় নি এতদিন।
আজ কালের শবের সামনে দাঁড়িয়ে
হাতে পেলে চাবি
সেই সব কথা বলা যায় অনায়াসে।
পোষ্টমর্টেম
গোপনে পোপনে অনেকের
হয়ে গ্যাছে পোস্টমর্টেম।
তাদের শরীরের কটুগন্ধ
এখন শুধু বাতাসে ভাসে।
লাশকাটা ঘরের সামনে বিরাট লাইন ,
পোস্টমর্টেম টেবিলে পাশাপাশি শুয়ে
শুধু লাশের পাহাড়।
সেই নদীটিও কি আজ লাইনেই দাঁড়িয়ে আছে ?
লাজুক কিশোরীর মতো
গাঁয়ের পাশ দিয়ে বয়ে গ্যাছে যে নদী
সে নদীরও কি পোষ্টমর্টেম হয়ে গ্যাছে
কালের লাশকাটা ঘরে ?
সত্য
সত্যকে নিয়েও পোষ্টমর্টেম হয়েছে অনেক ।
জীবনের চরম সত্যকে
নগ্নভাবে জেনেছে যে মানুষ
তার পোষ্টমর্টেম হয়না কখনও।
তার হাতেই ঝোলে
লাশকাটা ঘরের চাবি।
---০---
মতিচ্ছন্ন
অর্ঘ্য ঘোষ
মতিচ্ছন্ন হয়েছে তোমার ,
নইলে কে পারে এমন করে
ছন্নছাড়া হতে ?
তোমার ভারী পায়ের দাপাদাপিতে
নড়বড়ে হয়ে যাছে
পৃথিবীর যাবতীয় নিভৃত স্থান ।
বয়স বেড়ে বেড়ে
তুমি শুধুই বয়স্ক হয়ে যাচ্ছ ।
বিজ্ঞতা কোথাই তোমার ?
ঘোর রাতে বাড়ি ফিরে
ভাঙিয়ে দিচ্ছ পাড়ার ভাতঘুম
দারুণ চিৎকারে ।
মানুষ , নিজের কাছে থেকেই
তুমি ক্রমশ দুরে সরে যাচ্ছ ।
---০---
No comments:
Post a Comment