উচ্চাশা
অর্ঘ্য ঘোষ
সেদিন শাসক দলের দাপুটে নেতা বানীব্রত ওরফে বেষ্ট মন্ডলের মেয়ের জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে মরমে মরে গেলেন জেলা পুলিশ সুপারের স্ত্রী অনিন্দিতা। কনভেণ্ট পাশ করা ওই মহিলা সেদিন কার্যত পালিয়ে বেঁচেছিলেন। জন্মদিনের পার্টিতে সেদিন চাঁদেরহাট। কে নেই সেখানে ? মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ থেকে রূপালী পর্দার নায়ক নায়িকারা পর্যন্ত বাদ যান নি। জেলার দন্ডমুন্ডের কর্তা বলে কথা। নিমন্ত্রণ ছিল প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদেরও।
পার্টি জমে উঠতেই কর্তারা সব গ্লাসে গ্লাস ঠেকিয়ে চিয়ার্সে ব্যস্ত। আর মহিলা মহলে স্বামী গরবে গরবিণী বেষ্টর স্ত্রী মহিমা। ওইসব আসরে পদস্থ কর্তাদের স্ত্রী'রা যা করে থাকেন এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় না। কেউ ছেলের হাত ধরে নিয়ে এসে বলেন , বাবা সেই রাইমসটা শুনিয়ে দাও তো , আবার কেউ বলেন , মা সেই যে গান করে তুমি প্রাইজ পেয়েছিলে সেইটা সবাইকে শুনিয়ে দাও তো। অনিন্দিতাই বা কম যান কিসে ? ছেলে ঋত্বিকের হাত ধরে মহিলা মহলে টেনে আনেন তিনিও।সকলকে শুনিয়ে বলেন, জানেন তো এখন থেকেই ও হাইলি আম্বিসিয়াস। তারপর ছেলের
দিকে চেয়ে বলেন, বলো তো ঋত্বিক বড়ো হয়ে তুমি কি হতে চাও ? ছেলে একটুও সময় না নিয়েই বলে ওঠে, আমি বেষ্টকাকুর মতো হতে চাই।
ছেলের জবাব শুনে 'থ' হয়ে যান মা। নামী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ছেলে কিনা শেষ পর্যন্ত এইট পাশ বেষ্ট মোড়ল হতে চাই। মরমে মরে যান অনিন্দিতা।বেষ্টর স্ত্রীর সামনে মুখে হাসি ঝুলিয়ে রাখা ছাড়া কিছু বলতেও পারেন না।কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো জ্বলুনি ধরায় ছেলের উচ্চাশার কথা শুনে জেলাশাসকের স্ত্রী তুহিনার মুখ টিপে হাসি।
পার্টি শেষে ফেরার পথে কেউ কারও সঙ্গে একটাও কথা বলে না। বাংলোয় ফিরেই ফেটে পড়েন অনিন্দিতা। সব শুনে পুলিশ সুপার বালোক বাজোরিয়া ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেন, বাবার মতো বড় পুলিশের অফিসার না হয়ে তুমি কেন বেষ্টবাবুর মতো হতে চাও বলেছো ? ছেলেও এক মুহূর্ত না ভেবে বলে , বাবা তুমিই তো বলেছো সবার থেকে বড় হতে। তোমাকে যখন অন্য পুলিশ কাকুদের গালিগালাজ করতে দেখি তখন তারা মাথা নিচু করে হাত কচলায়। আর সেই তোমাকে যখন বেষ্টকাকু গালিগালাজ করে তখন তুমিও একই ভাবে হাত কচলাও। তাহলে কে বড়, তুমি না
বেষ্টকাকু ? তাছাড়া তুমি যে পুলিশ কাকুকে দিয়ে জুতোর ফিতে বাঁধিয়েছিলে তার ছেলেকে নিয়ে আমার স্কুলের বন্ধুরা কত হাসাহাসি করে। ছেলেটা কিছু বলতেও পারেনা। এরপর বেষ্টকাকু যদি তোমাকে দিয়েও ওইভাবে জূতোর ফিতে বাঁধায় আর টিভি কাগজে সেই ছবি বেরোয় তাহলে স্কুলে আর আমি বন্ধুদের কাছে মুখ দেখাতে পারব ? তার থেকে
বেষ্টকাকুর মতো হলে তোমার মতো অফিসারদের দিয়ে কেমন জুতোর ফিতেও বাঁধিয়ে নিতে পারব।
আর নিতে পারলেন না এস, পি, সাহেব। সরোষে ছেলের গালে একটা চড় কষিয়ে সটান বেডরুমে। সেখানে তখন উলটো দিকে পাশ ফিরে শুয়ে রয়েছেন স্ত্রী অনিন্দিতা। তাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে প্রবোধ দেওয়ার মতো বোঝাতে চেষ্টা করেন পুলিশ কর্তা। বলেন, দেখ রাজনৈতিক ক্ষমতা কিম্বা সম্মান সীমিত সময়ের। তুলনামূলক আমাদের বেশি। স্বামীর কথা শেষ না হতেই মুখ ঝামটা দিয়ে ওঠেন অনিন্দিতা, কিসের সীমিত সময় , বেষ্টর জায়গায় তুষ্ট আসবে। ছেলে তখন তার মতো হতে চাইবে। তাছাড়া সত্যিই তো তোমাদের থেকে কেষ্ট বিষ্টু হওয়াই ভালো।
আর কোন জবাব দিতে পারেন না পুলিশকর্তা। ভাবতে থাকেন কোনটা ঠিক, শীতের রাতের কনকনে ঠাণ্ডা , মশার কামড় উপেক্ষা করে পড়াশোনার পর পুলিশ সুপার হওয়া ?না তোলাবাজি, সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করে
রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়ে কেষ্টবিষ্টু হওয়া ? এস,পি সাহেব ভাবতেই থাকেন। কিছুতেই কাটতে চায় না লেট নাইট পার্টির হ্যাংওভার।
------০-----
দিকে চেয়ে বলেন, বলো তো ঋত্বিক বড়ো হয়ে তুমি কি হতে চাও ? ছেলে একটুও সময় না নিয়েই বলে ওঠে, আমি বেষ্টকাকুর মতো হতে চাই।
বেষ্টকাকু ? তাছাড়া তুমি যে পুলিশ কাকুকে দিয়ে জুতোর ফিতে বাঁধিয়েছিলে তার ছেলেকে নিয়ে আমার স্কুলের বন্ধুরা কত হাসাহাসি করে। ছেলেটা কিছু বলতেও পারেনা। এরপর বেষ্টকাকু যদি তোমাকে দিয়েও ওইভাবে জূতোর ফিতে বাঁধায় আর টিভি কাগজে সেই ছবি বেরোয় তাহলে স্কুলে আর আমি বন্ধুদের কাছে মুখ দেখাতে পারব ? তার থেকে
বেষ্টকাকুর মতো হলে তোমার মতো অফিসারদের দিয়ে কেমন জুতোর ফিতেও বাঁধিয়ে নিতে পারব।
রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়ে কেষ্টবিষ্টু হওয়া ? এস,পি সাহেব ভাবতেই থাকেন। কিছুতেই কাটতে চায় না লেট নাইট পার্টির হ্যাংওভার।
অজুহাত
চৌহাট্টা বাসস্ট্যান্ডের প্রতীক্ষালয়ে একই থালা থেকে পান্তা খাচ্ছিল ওরা দুজনে। সেদিকে চেয়েছিল সন্দীপন। কিন্তু খাওয়া শেষে হাটুর নিচে থেকে দু'পা কাটা লোকটাকে ছেলেটা বাবা বলে সম্বোধন করতেই সম্বিত ফেরে তার। আরে কাছা পড়া ছেলেটাই তো সেদিন লাভপুরের বাসে বাবার শ্রাদ্ধের কথা বলে ১০ টাকা ভিক্ষে নিয়েছে।
সেকথা মনে পড়তেই খপ করে ছেলেটার হাত চেপে ধরে সন্দীপন। বলে, আচ্ছা ছেলে তো তুই বাপ বেঁচে থাকতেও তার শ্রাদ্ধ দিচ্ছিস। ছেলেটার চেয়েও অস্বস্তিতে পড়ে যায় লোকটি।বলে ওঠে , বাবু একটু ওদিকে চলুন।সব বলছি। তারপর চাইলে আপনার দেওয়া টাকাটা ফেরত নেবেন। অগ্যতা বাপ ছেলের সঙ্গে একটু আড়ালে যায় সে। সব শুনে কথা হারিয়ে যায় তার।
লোকটির বাড়ি বিবিডাঙা। দিনমজুরী করে দুই ছেলে মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে কোন রকমে চলত সংসার। একদিন ছোটলাইনের ট্রেন থেকে ঘাসের বোঝা নিয়ে নামতে গিয়ে পা দুটি চলে যায়। তার কিছুদিন পরই ছোট ছেলে মেয়ে দুটোকে ফেলে চলে যায় স্ত্রীও। তারপর থেকেই মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে ছেলেকে নিয়ে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছোয় সে। ছেলেকে কোন বাসে তুলে দিয়ে পান্তা নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকে।
বাসে বাসে ভিক্ষা করে দিনান্তে ছেলে যা আনে তাতে পেট ভরে না। তার উপরে ছোট লাইন ভেঙ্গে বড়ো লাইন তৈরি হচ্ছে বলে ট্রেন থাকায় বেশিদুর যাওয়াও যায়। ভাড়া না পেয়ে বাসকর্মীরা মাঝপথে নামিয়ে দেয়। নাগাড়ে জীবনের ইতিবৃত্ত আউড়ে এবার লোকটিই প্রশ্ন ছুড়ে দেয় , আচ্ছা বলুন তো বাবু আমাদের অজুহাতটা মিথ্যা হতে পারে , অভাবটা কি মিথ্যা ? ভেক ছাড়া কি ভিক্ষা মেলে ? এই যে আপনি শ্রাদ্ধের কথা শুনে ১০ টাকা দিয়েছেন , শুধু ভিক্ষা চাইলে কত আর দিতেন চার আনা কিম্বা আট আনা। তাছাড়া আমি তো মরারই সামিল। না হলে নিজের শ্রাদ্ধের ভিক্ষান্ন কেউ খাই। নিন বাবু , আপনার দেওয়া টাকাটা ফেরত নিন।
সন্দীপন চেয়ে দেখে ছেলেটির পরণে তখনও কাছা। গলায় ঝুলছে চাবি। হাতে ধরা ১০ টাকার নোট। দিনান্তের সঞ্চয়। পালাবার পথ পায় না সমাজ কল্যাণ দফতরের পদস্থ আধিকারিক সন্দীপন হাজরা।
-----০----
চৌহাট্টা বাসস্ট্যান্ডের প্রতীক্ষালয়ে একই থালা থেকে পান্তা খাচ্ছিল ওরা দুজনে। সেদিকে চেয়েছিল সন্দীপন। কিন্তু খাওয়া শেষে হাটুর নিচে থেকে দু'পা কাটা লোকটাকে ছেলেটা বাবা বলে সম্বোধন করতেই সম্বিত ফেরে তার। আরে কাছা পড়া ছেলেটাই তো সেদিন লাভপুরের বাসে বাবার শ্রাদ্ধের কথা বলে ১০ টাকা ভিক্ষে নিয়েছে।
সেকথা মনে পড়তেই খপ করে ছেলেটার হাত চেপে ধরে সন্দীপন। বলে, আচ্ছা ছেলে তো তুই বাপ বেঁচে থাকতেও তার শ্রাদ্ধ দিচ্ছিস। ছেলেটার চেয়েও অস্বস্তিতে পড়ে যায় লোকটি।বলে ওঠে , বাবু একটু ওদিকে চলুন।সব বলছি। তারপর চাইলে আপনার দেওয়া টাকাটা ফেরত নেবেন। অগ্যতা বাপ ছেলের সঙ্গে একটু আড়ালে যায় সে। সব শুনে কথা হারিয়ে যায় তার।
লোকটির বাড়ি বিবিডাঙা। দিনমজুরী করে দুই ছেলে মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে কোন রকমে চলত সংসার। একদিন ছোটলাইনের ট্রেন থেকে ঘাসের বোঝা নিয়ে নামতে গিয়ে পা দুটি চলে যায়। তার কিছুদিন পরই ছোট ছেলে মেয়ে দুটোকে ফেলে চলে যায় স্ত্রীও। তারপর থেকেই মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে ছেলেকে নিয়ে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছোয় সে। ছেলেকে কোন বাসে তুলে দিয়ে পান্তা নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকে।
বাসে বাসে ভিক্ষা করে দিনান্তে ছেলে যা আনে তাতে পেট ভরে না। তার উপরে ছোট লাইন ভেঙ্গে বড়ো লাইন তৈরি হচ্ছে বলে ট্রেন থাকায় বেশিদুর যাওয়াও যায়। ভাড়া না পেয়ে বাসকর্মীরা মাঝপথে নামিয়ে দেয়। নাগাড়ে জীবনের ইতিবৃত্ত আউড়ে এবার লোকটিই প্রশ্ন ছুড়ে দেয় , আচ্ছা বলুন তো বাবু আমাদের অজুহাতটা মিথ্যা হতে পারে , অভাবটা কি মিথ্যা ? ভেক ছাড়া কি ভিক্ষা মেলে ? এই যে আপনি শ্রাদ্ধের কথা শুনে ১০ টাকা দিয়েছেন , শুধু ভিক্ষা চাইলে কত আর দিতেন চার আনা কিম্বা আট আনা। তাছাড়া আমি তো মরারই সামিল। না হলে নিজের শ্রাদ্ধের ভিক্ষান্ন কেউ খাই। নিন বাবু , আপনার দেওয়া টাকাটা ফেরত নিন।
সন্দীপন চেয়ে দেখে ছেলেটির পরণে তখনও কাছা। গলায় ঝুলছে চাবি। হাতে ধরা ১০ টাকার নোট। দিনান্তের সঞ্চয়। পালাবার পথ পায় না সমাজ কল্যাণ দফতরের পদস্থ আধিকারিক সন্দীপন হাজরা।
-----০----
পাইকারি
সাত সকালেই বটতলায় ভেঙ্গে পড়েছে গোটা গ্রাম। সুনীল দাসের তৃতীয় পক্ষের বউটাও নাকি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কানাঘুষোয় নাকি শোনা যাচ্ছে আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধ করে মেরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বৌ'টাকে ! কারণ এর আগে সে দক্ষতার পরিচয় সুনীল আর তার পরিবার দিয়েছে।
প্রতিবার সালিসি সভা বসিয়ে পার পেয়ে গিয়েছে সুনীল। এবারই বা তার অন্যথা হবে কেন ? বাঁশের খাটের উপর সাদা কাপড়ে ঢাকা রয়েছে সুনীলের স্ত্রীর মৃতদেহ।মায়ের শব ছুঁয়ে বসে রয়েছে বছর তিনেকের মেয়ে মনি।বটতলার দুইদিকে বসে রয়েছে দুইপক্ষ। মাঝে মাতবর গোছের কিছু লোক ।
মাতবররাই সুনীলের শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বোঝান, দেখুন যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে। থানা পুলিশ করে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। উকিল-- পুলিশেই সব খেয়ে নেবে। মেয়েটা আছে। ওর মুখের দিকে চেয়ে কিছু টাকা পয়সা নিয়ে বরং মীমাংসা করে নিন। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বলে ওঠেন, ৮ বছর আগে ১লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে দিয়েছি। টাকাটা এতদিনে ডবল হয়ে যেত।সেই হিসাবে আমাদের দু'লাখ দিতে হবে।
সুনীলরাও কম যায় না দরদামে। তারা বলে, এই আট বছর খাওয়াতে পড়াতে আমাদের কম খরচ হয় নি। এক লাখ টাকার বেশি এক পয়সাও দেব না। বেশ তাহলে আইনেই যা হওয়ার হবে বলে শ্বশুরবাড়ির লোকের মৃতদেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার উপক্রম করতেই তা ছিনিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে চলে আসে সুনীলরা। আর ছোট্ট মেয়েটি একবার এদিক আর একবার ওদিক করে। আর একবার করে মায়ের মুখের ঢাকা সরিয়ে বলে ওঠে, মা ও মা ওঠ না।আর কতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকবি ? চা-মুড়ি দিবি না ? আমার খুব খিদে পেয়েছে মা।
তার কথা কারো কানে যায় না।সবাই তখন মৃতদেহটাকে সামনে রেখে গরু ছাগলের মতো পাইকারিতে ব্যস্ত।দীর্ঘ টানা পোড়ানের পর সন্ধ্যার মুখে দেড় লাখ টাকায় রফা হয়। কিন্তু গোল বাঁধে মনিকে নিয়ে।তাকে খাড়া করেই
মীমাংসা হলেও কোনপক্ষই তার দায় নিতে রাজী হয় না ।শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সাফ জানিয়ে দেয়, মেয়ে তোমাদের। তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব। সুনীলরাও জানিয়ে দেয়, মেয়ের দায় তারাও নিতে পারবে না।
শ্বশুরবাড়ির লোকেরা জানে , মেয়ের দায়িত্ব নেওয়া মানে বড়ো টাকার গাড্ডায় পড়া। আর সুনীল হিসাব কষে, ঘরে মেয়ে থাকলে চতুর্থ পক্ষ ঘরে আনার সময় মোটা দাঁও মারা যাবে না। টাকার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় রক্ত -নাড়ীর টান।
মেয়েটির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তই হয় না।শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে টাকা গুনে নিতে। আর সুনীলরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে আধ পোড়া দেহটা পুড়িয়ে ঝামেলা চুকিয়ে ফেলতে। কেবল মনি তখনও একবার করে মায়ের মুখের কাপড় খুলছে আর একবার করে ঢাকা দিয়ে চলেছে। মাঝে মাঝে মায়ের মুখটা নাড়িয়ে সমানে বলে চলেছে, ও মা বাড়ি যাবি না ,চল।কখন খেতে দিবি মা ? বেচারা অবোধ শিশু জানে না মায়ের মতো তার বাড়িও হারিয়ে গিয়েছে।
সাত সকালেই বটতলায় ভেঙ্গে পড়েছে গোটা গ্রাম। সুনীল দাসের তৃতীয় পক্ষের বউটাও নাকি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কানাঘুষোয় নাকি শোনা যাচ্ছে আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধ করে মেরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বৌ'টাকে ! কারণ এর আগে সে দক্ষতার পরিচয় সুনীল আর তার পরিবার দিয়েছে।
প্রতিবার সালিসি সভা বসিয়ে পার পেয়ে গিয়েছে সুনীল। এবারই বা তার অন্যথা হবে কেন ? বাঁশের খাটের উপর সাদা কাপড়ে ঢাকা রয়েছে সুনীলের স্ত্রীর মৃতদেহ।মায়ের শব ছুঁয়ে বসে রয়েছে বছর তিনেকের মেয়ে মনি।বটতলার দুইদিকে বসে রয়েছে দুইপক্ষ। মাঝে মাতবর গোছের কিছু লোক ।
মাতবররাই সুনীলের শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বোঝান, দেখুন যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে। থানা পুলিশ করে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। উকিল-- পুলিশেই সব খেয়ে নেবে। মেয়েটা আছে। ওর মুখের দিকে চেয়ে কিছু টাকা পয়সা নিয়ে বরং মীমাংসা করে নিন। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বলে ওঠেন, ৮ বছর আগে ১লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে দিয়েছি। টাকাটা এতদিনে ডবল হয়ে যেত।সেই হিসাবে আমাদের দু'লাখ দিতে হবে।
সুনীলরাও কম যায় না দরদামে। তারা বলে, এই আট বছর খাওয়াতে পড়াতে আমাদের কম খরচ হয় নি। এক লাখ টাকার বেশি এক পয়সাও দেব না। বেশ তাহলে আইনেই যা হওয়ার হবে বলে শ্বশুরবাড়ির লোকের মৃতদেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার উপক্রম করতেই তা ছিনিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে চলে আসে সুনীলরা। আর ছোট্ট মেয়েটি একবার এদিক আর একবার ওদিক করে। আর একবার করে মায়ের মুখের ঢাকা সরিয়ে বলে ওঠে, মা ও মা ওঠ না।আর কতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকবি ? চা-মুড়ি দিবি না ? আমার খুব খিদে পেয়েছে মা।
তার কথা কারো কানে যায় না।সবাই তখন মৃতদেহটাকে সামনে রেখে গরু ছাগলের মতো পাইকারিতে ব্যস্ত।দীর্ঘ টানা পোড়ানের পর সন্ধ্যার মুখে দেড় লাখ টাকায় রফা হয়। কিন্তু গোল বাঁধে মনিকে নিয়ে।তাকে খাড়া করেই
মীমাংসা হলেও কোনপক্ষই তার দায় নিতে রাজী হয় না ।শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সাফ জানিয়ে দেয়, মেয়ে তোমাদের। তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব। সুনীলরাও জানিয়ে দেয়, মেয়ের দায় তারাও নিতে পারবে না।
শ্বশুরবাড়ির লোকেরা জানে , মেয়ের দায়িত্ব নেওয়া মানে বড়ো টাকার গাড্ডায় পড়া। আর সুনীল হিসাব কষে, ঘরে মেয়ে থাকলে চতুর্থ পক্ষ ঘরে আনার সময় মোটা দাঁও মারা যাবে না। টাকার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় রক্ত -নাড়ীর টান।
মেয়েটির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তই হয় না।শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে টাকা গুনে নিতে। আর সুনীলরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে আধ পোড়া দেহটা পুড়িয়ে ঝামেলা চুকিয়ে ফেলতে। কেবল মনি তখনও একবার করে মায়ের মুখের কাপড় খুলছে আর একবার করে ঢাকা দিয়ে চলেছে। মাঝে মাঝে মায়ের মুখটা নাড়িয়ে সমানে বলে চলেছে, ও মা বাড়ি যাবি না ,চল।কখন খেতে দিবি মা ? বেচারা অবোধ শিশু জানে না মায়ের মতো তার বাড়িও হারিয়ে গিয়েছে।


asadharan apner dekha. anubhav aneke kare. prakasher khaamta koi ? Satyi netader murkha athacha asfalita khamata dekle bachte valo lage na.
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
ReplyDelete