লোকগান
অর্ঘ্য ঘোষ
বলি বুঝে সুঝে করো পীরিত , সবখানেতে মজে যেও না।
কানাগলিতে পড়লে তুমি আর উঠতে পারবা না।
জগত জোড়া এমনি যে রীত
বৌ'য়ের বারা শালীর পীরিত ,
ও পীরিতে মজলে তুমি সারাজীবন শান্তি পাবা না।
পেটে খেলে সয় যেটুকু , তার বেশি খেতে যেও না।
আঁটুনি বাড়লে পড়ে টেরটি পাবা জনম যন্ত্রনা।
ভাইয়ের বারা শালার আদর ,
দিনে দিনে ছিঁড়ছে চাদর
ও আদরে মজলে তুমি চাদর কিনে কুল পাবা না।
তাই তো বলি , ঘরের ঠাকুর ফেলে পরের কুকুর পুজো না।
ও কুকুরে কামড়ে দিলে পেটে ফুঁড়েও রেহাই মিলবে না।
নিজের মাকে পায়ে দলে
বৌ'য়ের মাকে মাথায় নিলে
মাথা আর কোনদিন সোঁজা করে তুলতে পারবা না ।।
----০----
রেল ষ্টেশনের গান
অর্ঘ্য ঘোষ
মজার খেলা দেখবি যদি সাঁইথিয়ার ইস্টিশানে আয়।
দেখে যা হেথায় কেমন বেদের কামাই বাঁদরেতে খায়।
এখানে পেটের টানে কয়লা আনে
গরীব দুঃখী মেয়েরা সব অন্ডালের ট্রেনে ,
কালো কোট আর খাঁকি জামার বাবুরা সব বখরা চায়।
হায় মরি হায় মরি , লাজে মুখ কোথায় লুকায়।
এখানে কে'ই বা রাজা , কে'ই বা প্রজা বোঝা বড়ো দায়।
রাজার বেশে বাবুরাও সব দু'হাত পেতে ভিক্ষা চায়।
হেথায় চার আনাতে ভিখারি নাচে দিনরাত।
চার টাকাতে বাবুরাও সব কুপোকাত।
বাবুদের রকম সকম দেখে লাজে মরে যায়।
টাকা পয়সা না পেলে ভাই তারা ব্লাউজেও হাত সেঁধায়।।
---০---
গুণনিধি
অর্ঘ্য ঘোষ
ও বিধি গুণনিধি , এমনি রে তোর গুণ ।
পান্তা দিয়ে কারিস শুধু নুন।
খরায় মেলি যত পেলি
ধান ধুকুরি সব ডুবালি ,
আমার মুখে দিলি শুধু চুন।
বিধি এমনি রে তোর গুণ।।
আমার চালের বাতায় লেগেছে ঘুণ।
ভেবে মরি কি করি এখন।
ঝড়তি পড়তি যাই বা ছিল
ল্যাদা আর মাজরায় তাও তো খেল ,
বাঁচায় রেখে তুই করলি আমায় খুন।
বিধি এমনি রে তোর গুণ।
ও গুণমণি , অপার তোমার গুণ
বলো আমি কি করি এখন ?
বিটির বিয়ে দেব কেমনে
গিন্নি আমার চাঁদ ধরেছে স্বপনে
কইলকাতায় দেবে না।
বিহারী জামাই নেবে না।
কেমন করে চাঁদ ধরি এখন ?
বিধি , এমনিরে তোর গুণ।
---০---
বৌদির গান
অর্ঘ্য ঘোষ
বলি ও বৌদি , কাজের তোমার নেইকো মাথাছাতা ।
কচি পেঁপে গাছে তুলেছো তুমি বুড়ো পো'য়ের লতা।
তোমার ওই হাইব্রিডের পিঁপিয়া
পো'য়ের চাপে যাবে চুপসিয়া।
শ্রী হারিয়ে হয়ে যাবে ঝড়া বাঁশের পাতা।।
যদি ঘরের চালে বেআক্কেলে তোল পো'য়ের লতা ,
চালের ফুটোয় গুনবে তখন শুকনো বাঁশের পাতা।
তিন পয়সার কের্তনে এসে
তিনশো টাকার খোল যাবে গো ফেঁসে
হাজার চাঁটি মারলে তখন ও খোল সুরে কইবে না কথা।।
---০---
কাকের গান
অর্ঘ্য ঘোষ
দাদা গো পড়েছি এক মুসকিলে।
কাকের বাসায় পেড়েছে ডিম কোকিলে।
এখন ডিমে ডিমে গ্যাছে মিশে
কাক বেচারী মরে তাই সন্দেহের বিষে।
কান ভাঙানি দিয়েছে তার পড়শি শাঁখচিলে।।
কালে কালে হলো কি হাল এ কলিকালে ,
বৌয়ের গর্ভে পোয়ের জন্ম হচ্ছে শেষেকালে।
তাই তো বলি জমিন রেখ না ফেলে
জবরদখল হয়ে যাবে কোন ফাঁকতালে।
শাস্ত্র বলে , পরের জমি চষেছে ভাই কালাচাঁদের হালে।
---০---
No comments:
Post a Comment