Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

সদিচ্ছার প্রশ্ন

         সদিচ্ছার প্রশ্নে রক্তেরও রঙ বদল  

                                      
                                               
 

                                       

                                   অর্ঘ্য ঘোষ



রাজনীতির ছোঁওয়া লাগলে রক্তের  রঙও কখনও  কখনও বদলে যায় । রাজনীতির নেতাদের আচার-আচরণ  অন্তত সে কথাই বলে । বর্তমানে  জেলার ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের হাহাকার চলছে প্রয়োজনীয় রক্তের জন্য চরম নাকাল হতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের কোথাও কোথাও চড়া দাম দিয়ে রক্ত কিনতেও হচ্ছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী রক্তের আকাল মেটাতে থানায় থানায় রক্তদান শিবির করার নির্দেশ দিয়েছেন অথচ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেও অনুমতি মিলল না  রাজনৈতিক ভেদবুদ্ধির জন্যই অনুমতি মিলল না বলে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ


                    
                          আজ বৃহস্পতিবার নানুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল ডি,ওয়াই,এফ,আই কর্মসূচির কথা ৩১ অক্টোবর নানুরের বি,এম,এইচ এবং নভেম্বর বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপারকে লিখিত ভাবে জানানোও হয় কিন্তু ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা উদ্যোক্তাদের একেবারে শেষ মুহুর্তে ফোন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্তদানের অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন

     
                             তারপরই আকাশ ভেঙে পড়ে উদ্যোক্তাদের মাথায়।কারণ রক্তদাতাদের জানানো সহ সমস্ত রকম ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে । তাই শেষ পর্যন্ত সি,পি,এমের স্থানীয় সাকুলিপুরের জোনাল কার্যালয়ে রক্তদান শিবিরের ব্যবস্থা করেছেন তারা । এভাবে পরিস্থিতির সামাল হয়তো দেওয়া গেল , কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। কেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্তদান শিবির করার অনুমতি দেওয়া গেল না? এমন নয় যে , স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনদিন রক্তদান শিবির করা হয় নি। এমন নয় যে , রোগীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোন অনুষ্ঠান হয় না। উদ্যোক্তারাই জানিয়েছেন , বাম আমলে বহু রক্তদান শিবির হয়েছে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে , স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয়।


        প্রশ্ন জাগে তাহলে কেন বাম আমলে দেওয়া হয়েছিল রক্তদানের অনুমতি , কেনই বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্যান্য অনুষ্ঠান হয় । কেনই বা লিখিত অনুমতির আবেদনের প্রেক্ষিতে একেবারে শেষ মুহুর্তে মৌখিক ভাবে অনুমতি বাতিল করা হয় রক্তদানের মতো একটা মহৎ কর্মসূচির ক্ষেত্রে ? রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই কি সেই সব প্রচলিত নিয়মও বদলে গিয়েছে ? 

                
              এতে রাজনৈতিক রেষারেষির জেরে উদ্যোক্তাদের হয়তো কিছুটা বিপাকে ফেলা গেল ঠিকই, আখেরে কিন্তু ক্ষতি হল আমজনতার । উদ্যোক্তারা জানাছেন , রাজনৈতিক ছুৎমার্গ দুরে সরিয়ে যাতে অন্যরাও সামিল হন তারজন্যই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলেন তারা। সেক্ষেত্রে রক্ত সংকটে ভুক্তভোগী মানুষ মাত্রেরই সামিল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দলীয় কার্যালয়ে সেই সম্ভাবনা বিনষ্ট হলো । 

                        উদ্যোক্তাদের দাবি যদি ১ শতাংশও ঠিক হয় তাহলেই আমজনতার অনেক বড়ো ক্ষতি। এক বোতল বেশি রক্ত সংগৃহিত হলেই তা সুফল হতে পারত সুদুর প্রসারী । কারণ সংগৃহিত রক্ত তো শুধুমাত্র উদ্যোক্তাদের পরিবার পরিজনের প্রয়োজনে লাগত তা নয় , দলমত নির্বিশেষে সেই রক্ত অনেকের প্রাণ বাঁচিয়ে দিতে পারত । ভুক্তভোগী মানুষ মাত্রেই রক্ত সংকটে কি রকম নাজেহাল হতে হয় তা জানেন। কিন্তু তা নিয়ে কারই বা মাথা ব্যাথা আছে ? কারণ দেশ ও দশের মাথাদের তো সেই সমস্যায় পড়তে হয় না । তারা ফোন করলেই বরাদ্দ হয়ে যায় সংরক্ষিত রক্ত ।                       


               ডি,ওয়াই, এফ আইয়ের নানুর এড়িয়া সম্পাদক আসগর আলি জানান , একেবারে শেষ মূহুর্তে বি,এম,এইচ ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন ব্লক রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতির আপত্তিতে রক্তদান শিবিরের অনুমতি দেওয়া যাবে না আসেলে শাসক দল চাইলে যেকোন দিন যে কোন জায়গায় রক্তদান শিবিরের অনুমতি পাচ্ছে। কিন্তু আমরা বিরোধী দল বলেই অনুমতি দেওয়া হল না  


             বি,এম,এইচ সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন , রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতির আপত্তির কথা আমি বলি নি আসলে এই মুহুর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে সেইজন্যই রক্তদান শিবিরের অনুমতি দেওয়া যায় নিব্লক রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি গদাধর হাজরা জানান , রাজনৈতিক কোন কারণ নয় , স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্তদান শিবির করার নিশ্চয়ই কোন অসুবিধা রয়েছে বলেই হয়তো অনুমতি দেওয়া যায় নি । 

                              কারণটা যাই হোক , রক্তদান শিবিরের মতো কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যদফতরেরই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সমস্ত ধরণের সাহার্য্য করা উচিত বলেই মনে করেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের একাংশ।আমজনতার কথা ভেবে আমরা কি রাজনৈতিক ছুঁৎমার্গ দুরে সরিয়ে সেই সদিচ্ছা দেখাতে পারি না ? ?

       
                               ---০----                                                

         

No comments:

Post a Comment