Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

এইতো সমাজ -৭




               এইতো সমাজ 

                  ( ধারাবাহিক নাটক ) 




                                
( মানুষ কেন বিপথে যায় , কি করেই বা ঘুরে দাঁড়ায় , সেই কাহিনীই এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।স্কুল জীবনে লেখা সেই নাটকই ধারাবাহিক ভবে তুলে ধরা হল আপনাদের দরবারে । নজর রাখুন ।সঙ্গে থাকুন।ধন্যবাদ )
                           
               
                             অর্ঘ্য ঘোষ 
                                                    

                               নবম দৃশ্য 


   (   স্থান-মলয়ের বাড়ি।ভাঙা তক্তার উপর মলয় বসে আছে। গায়ে ছেঁড়া জামা আর পাজামা।মাইকে বেজে ওঠে 
 মিলির গলা  "দাদা তুই - - - )

মলয় - দাঁড়া বোন, আর একদিন দাঁড়া,ভাইফোঁটা কাল কালই তোকে আনব।

                                                                                                                  ( কৃষ্ণার প্রবেশ )

কৃষ্ণা-  তারপর বলো , তোমার পরীক্ষা কেমন হলো ?

মলয় - যেমন হওয়া উচিত।

কৃষ্ণা -  তার মানে বলো ভালো।

মলয় - তাহলে তাই।

কৃষ্ণা- এত ভনিতা তুমি জান বাপু , এই শোন আমি কিছুদিন এখানে থাকছি না , রেজাল্ট  আউটের তো এখন অনেক দেরি , আমি ততদিন বড়ো পিসিমনির বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।

মলয় - আর আমি কেমন করে থাকব তোমাকে  না দেখে ?

কৃষ্ণা- শুধু মাত্র আমার ফটো দেখে বুঝলে।

                                                                                           ( মলয়ের গালটা টিপে দেয় ) 


মলয় - ফটোতে যে তোমাকে বড়ো দুরে দুরে লাগে , তোমাকে যে কাছে পাই না।

কৃষ্ণা - এই কয়েকটা  দিন একটু কষ্ট করে কাটিয়ে নিও কেমন লক্ষীটি , আজ আমি গেলাম।                  


                                                                                             ( কৃষ্ণার প্রস্থান ) 


      (  মাইকে বেজে ওঠে মিলির কণ্ঠ দাদা তুই ---- )

মলয় - কালই ভাইফোঁটা , কেমন করেই বা মিলিকে আনি  ? ওদিকে বাপুজী মিলিকে লিখে দিয়েছে "খোঁকা ফোঁটাতে আনতে যাবে "।কিন্তু বাপুজী তো জানেনা খোঁকার হাতে একটা কানাকড়িও নাই , কি করি আমি এখন ? হাঁ হাঁ পেয়েছি, একটা পথ আছে, গভীর হতাশাচ্ছন্ন অন্ধকারের মধ্যে আলোর শিখা একটা  আছে।  সে শিখা , সে পথ দু  নম্বরের। হা'দু নম্বরী পথেই আমি নামব।

                                                                                                                        (  চন্দনের প্রবেশ )

চন্দন - কি রে মলয় ?

মলয় - হাঁ চন্দনদা, একটু  পরেই তোমার কাছে যাব  ভাবছিলাম।

চন্দন - কেন রে ?

মলয় - আমি তোমার দলে নাম লেখাতে চাই, নামতে চাই দু নম্বরী পথে।

চন্দন - মলয় তুই এ পথে আসিস না , শেওলা জমা এ পথ বড়ো পিছল রে। অন্ধকারের কানা গলিতে পথ হারিয়ে ফেলাই এ পথের বৈশিষ্ট্য।

মলয় - কি করবো বলো চন্দনদা , সরল পথে কেউ যখন আমার টাকা দিল না তখন পিছল পথ ছাড়া আমার কি'ই বা উপায় আছে বলো ?

চন্দন - হাঁ রে  মলয় , তুই ঠিকই বলেছিস , আমিও চেয়েছিলাম সৎপথে ন্যায় ও ন্যায্য ভাবে বাঁচতে , কিন্তু তা পারিনে রে।কিন্তু পারিনে কেন জানিস , সমাজের ওই ওরা , ওরাই দেয় নি আমাকে সৎভাবে বাঁচতে। তাই চেয়ে না পেয়ে ছিনিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছি। চুরিকেই  মূলমন্ত্র করে নেমে পড়ি  এ পথে।

মলয় - চন্দনদা।

চন্দন - একদিকে যারা আমাদেরই ঘর ভেঙে তৈরি করাচ্ছে টাকার পাহাড় , আর সেই পাহাড়ের ভিত্তি আমাদেরই রক্ত জলে গড়া তখন যেমন করেই হোক সে টাকা ছিনিয়ে আনতে হবে রে মলয়।

মলয় - হাঁ চন্দনদা তাই হবে , যেমন করেই হোক আনবো পাহাড়ে জমা রাশি রাশি স্তপীকৃত টাকা। আমরাও যে টাকা দরকার কালই যে মিলিকে আনতে যেতে হবে। টাকা আমার চাই'ই চাই। তবে মনে রাখতে হবে চন্দনদা , ফাঁদ যদি পাততেই হয় তবে সে অসহায় পাখীর জন্য নয় , সে নিষ্ঠুর বাঘিনীর জন্যই তৈরি করতে হবে।

চন্দন - ঠিক বলেছিস চুরি যদি করতে হয় তবে সে পালবাবুদের মতো লোকের বাড়িতেই করব।

মলয় - তবে তাই চলো চন্দনদা।

                                                                                                           (  পর্দা নেমে আসে  )


                                  দশম দৃশ্য

                           স্থান -একটা বাড়ি


                     (  মলয়ের কথোপকথন  ) 


মলয় - সত্যি বড় বিচিত্র এই পৃথিবী , কত সাধ্য সাধনা করেও কাল আমি একটা  পয়সাও যোগাড় করতে পারি নি। অথচ আজ রাত্রি এক ঘণ্টার রোজকার এক হাজার টাকা। হাঁ এটা দু নম্বরী পথের টাকা, পালবাবুর বাড়ীতে চুরি করার টাকা , হ্যাঁ  এই টাকাতেই আজ আমি মিলিকে আনতে যাব। কিন্তু, কিন্তু আমি তো চাইনি , যে হাতে আমার কলম ধরা ছিল সে হাতে ছোড়া তুলে নিতে ,  হায় সমাজ তুমি আমাকে চোর বানালে ?


                                                                       ( একদিকে মলয়ের প্রস্থান অন্যদিকে মিলির প্রবেশ )

মিলি - আজ দাদা আমাকে নিতে আসবে। বাপুজী তো তাই-ই লিখেছিল। দাদা আসবে আর শুধু শুধু অপমানিত হয়ে ফিরে যাবে। না , এ আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারব না। না - না  এ আমি দেখতে পারব না।  হ্যাঁ না দেখার পথ তো খোলাই আছে চিলে কোঠা !  ঐ যে তিন তলার চিলে কোঠা , তিন তলার চিলে কোঠা তো আমাকে অনেক আগে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে , কিন্তু আমি যায়নি। তবে আর না , এবার আমি যাবই।


 (  বলে একটি  কাগজে চিঠি লেখে। তারপর স্টেজের আলো নিভে যায় , উপর থেকে মিলি স্টেজের তক্তার উপর পড়ে , ওর মুখে লাল নীল লাইটের ফোকাসিং পড়ে , যা দেখে দর্শক বুঝতে পারে মিলি চিলে কোঠা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে , এমন সময় ছুটতে ছুটতে মলয়ের প্রবেশ, স্টেজের আলো জলে ওঠে )

মিলি - আঃ আঃ হে শান্তিময় আমাকে নিয়ে চলো চির শান্তির পথে।  ( বলে মারা যায় , হাতের মুঠোয় ভরা থাকে ওর চিঠি )

মলয় - মিলি তুই চলে গেলি , আমি যে তোকে নিতে এসেছি মিলি ? ( বলে মিলির মৃতদেহ আঁকড়ে কাঁদতে থাকে মলয় , তার কপালে মিলির মুখের রক্ত লেগে যায়, হাত থেকে পায় মিলির লেখা চিঠিটা , খুলে পড়তে আরম্ভ করে , মিলির কণ্ঠে ভেসে ওঠে মিলির লেখা চিঠি ,দুরের কোন বাড়ীতে  ভেসে আসে ভাই-ফোঁটার শঙ্খ আর উলুধ্বনি।নেপথ্যে চিঠি  পড়ে মিলি )


দাদা , জানি তুই আসবি , না এসে থাকতে পারবি না। আসবি আর শুধু শুধু অপমানিত হয়ে ফিরে যাবি তাও জানি।জানিস তো ছোট বেলা থেকে বড় জেদি আমি ,এদের জেদের কাছে অনেক পরাজয় মেনেছি। মানতামও যদি তোর জামাইবাবুটা একটু  বুঝতে চাইত আমাকে। কিন্তু সবাই যখন আমার উপর বিরূপ , তখন আর পারলাম না জয়ের গৌরবটা লাভ করার লোভ সামলাতে।তাই আমি তোদের ছেড়ে অনেক দুরে চলে গেলাম রে।জানি তুই খুব কষ্ট পাবি। কিন্তু উপায় নাই রে আমাকে যে যেতেই হবে।  বাপুজী রইল , ওকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভার তোরই। দুঃখ করিস না ,ক্ষমা করিস।

                                                                                                         - তোর অভাগিনী বোন 


মলয় - না রে বোন  না ,আর ফিরে যেতে আমাকে হোত না, অপমানও সইতে হোতনা। তুই একবারও দেখলি না , কি করে তোর দাদা টাকা যোগাড় করে তোকে নিতে এসেছে, তোর হাতে ফোঁটা নেবার বদলে তোর রক্তেই যে আমার ফোঁটা হয়ে গেল রে।  ( শঙ্খ আর উলুধ্বনি মাইকে বাজে )  বাপুজীর হাসিমুখ তুই একবারও দেখলি না। আমাদের ছেড়ে তুই চলে গেলি রে মিলি।

                                                                                                             ( বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে ) 

                   ( সেই সময় জামাইবাবুর প্রবেশ )

জামাইবাবু - এ কি মিলি, তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে মিলি ?

                                                                [ বলে কপট কান্নার ভান করে , মলয় গিয়ে ওর কলারে ধরে ]

 মলয় - না-না-না আমার বিচারে তোমার রেহাই না ই, আমার বোনকে তুমি , হ্যাঁ তুমিই নিশ্চিত  অপমৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছ , আমার বোনের অপমৃত্যুর জন্য দায়ী তুমিই , তাকে ধর্মস্বাক্ষী রেখে বিয়ে করে এনে অপমৃত্যুর হাতে সঁপে দিয়েছ , তুমি খুনি।আমার বিচারে তোমার মৃত্যু ছাড়া রেহাই নেই। না-না-না রেহাই তোমার নেই।

                                                      ( বলে পকেট থেকে ছোঁড়া বের করে জামাইবাবুর বুকে বসিয়ে দিয়ে উন্মত্তের মতো হাসতে ছুটে বেড়িয়ে যায়। জামাইবাবু মেঝেয় লুটিয়ে পড়ে  আর্ত চিৎকার সহ ছটফট করতে থাকে।


                                        ( পর্দা নেমে আসে )

                              (  চলবে  ) 

নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 

                শীঘ্রই আসছে 

       ধারাবাহিক নাটক ----                                 

                                                               

                                    

-----0---- 

No comments:

Post a Comment