এইতো সমাজ
( ধারাবাহিক নাটক )
সপ্তম দৃশ্য
( স্থান - মলয়ের বাড়ি , মলয় আর চন্দনের কথোপকথন )
চন্দন - হ্যাঁ রে মলয় মিলি এলো ?
মলয় - না চন্দনদা , আমাদের কি সে সৌভাগ্য আছে যে বোনকে আনতে পারি।
চন্দন- কেন কি বলল তোর জামাইবাবু ?
মলয় - কি আর বলবে বরপণের টাকার জন্য খুব করে অপমান করে তাড়ালে।
চন্দন - তুই যেন একথা আবার জ্যাঠামশাইকে বলিস না , তিনি ভীষন কষ্ট পাবেন। আজ আম চলি রে , পরে আবার আসব।
( একদিনে চন্দনের প্রস্থান অন্যদিকে শর্মাজীর প্রবেশ )
শর্মাজী - মিলি এলো না কে নরে খোঁকা, ওরা কি পাঠাল না ?
মলয় - না বাপুজী তা নয়, মিলি বলল ও ভাই ফোঁটাতে আসবে।
শর্মাজী - ও তাই নাকি ?
মলয় - হাঁ বাপুজী।
শর্মাজী - তা ভালো, পরপর দু বছর ও ফোঁটা দিতে পাইনাই, এবার হয়তো দেবার মন হয়েছে, তাই এলো না , না রে খোঁকা ?
মলয় - কি জানি , তাই হবে হয়তো বাপুজী।
শর্মাজী - তা ছাড়া ওরা তো বারে বারে পাঠাবে না।
মলয় - হ্যাঁ।
শর্মাজী - আমি একটু দোকানের ওদিকে যাচ্ছি বুঝলি রে খোঁকা ।
মলয় - আচ্ছা যাও।
( শর্মাজীর প্রস্থান )
( মাইকে বেজে ওঠে মিলির কণ্ঠস্বর , দাদা তুই --- )
মলয় - না -না , আর অপমান সইব না ।অনেক সয়েছি আর না। যতদিন না পণের টাকা দিতে না পারি ততদিন আর মিলিকে আনতেও যাবো না। ভাই ফোঁটা ! হাঁ ভাই ফোটাতেই শোধ করবো বাকি পণের টাকা। পড়াশুনা ছেড়ে এবার একটা চাকরির খোঁজ করবো। কি লাভ আর পড়ে, শুধু শুধু কৃষ্ণার টাকাগুলো খরচ করা।
( কৃষ্ণার প্রবেশ )
কৃষ্ণা- কি ব্যাপার আজ কলেজ যাও নি যে বড়ো ?
মলয় - গিয়ে লাভ ?
কৃষ্ণা- বাঃ , বেশ একটা কথা বললে বটে, কলেজ গিয়ে লাভ ? জানো আজ টেস্টের রেজাল্ট আউট হয়েছে। তুমি ফাস্ট চান্সে অ্যালাউ হয়েছো।
মলয় - আর তুমি ?
কৃষ্ণা - আমি লাস্ট চান্সে।
মলয় - তাতেও তুমি এত আনন্দিত ?
কৃষ্ণা - আমি আনন্দিত তোমার জন্য মলয় , আমার জন্য নয়। আমি তো জানতামই লাষ্ট চান্স ছাড়া আমার কোন গতি নেই।শুধু তোমার রেজাল্টের জন্যই আমার এত এত আগ্রহ , এত আনন্দ।
মলয় - কৃষ্ণা তুমি কি ভালো , তুমি সত্যিই আমাকে খুব ভালোবাসো।
কৃষ্ণা - তুমি কি এতদিনে সেটা জানলে নাকি ?
মলয় - কৃষ্ণা আজ তোমাকে একটা কথা বলছি , কিছু মনে কোর না প্লিজ। আমার পক্ষে আর পড়াশোনা করা সম্ভব নয়।এবারে একটা চাকরি - বাকরি দেখতে হবে।তুমি আর আমাকে পড়াশোনা করতে অনুরোধ কোর না।
কৃষ্ণা - ফের পাগলামি ? সোমবার ফর্ম ফিলাপের ডেট দিয়েছে।আমি এলাম কিনা সেটা বলতে , আর উনি কিনা বলছেন আমার তো আর পড়া সম্ভব নয়। ফর্ম ফিলাপের টাকার জন্য তুমি ভেব না , সেটা আমি ব্যবস্থা করে দেব।
মলয় - কিন্তু তুমি আর কত দেবে কৃষ্ণা ? কবেই বা আমি তোমার ঋণ শোধ করব ?
কৃষ্ণা - আমার ঋণ নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামালেও চলবে । তুমি শুধু তোমার পড়াশোনা নিয়ে মাথা ঘামাও।তাছাড়া আমার যা আছে সবই তো তোমার। তুমি বড়ো হও , অনেক বড়ো হবে তুমি। সেটাই তো আমার স্বপ্ন।সেই স্বপ্নটা সত্যি করলেই তোমার সব ঋণ শোধ হয়ে যাবে।
মলয় - সত্যি কৃষ্ণা , সবাই যদি তোমার মতো হত , তোমার মতো করে সবাই যদি অন্যের দুঃখটা বুঝত , গরীবের দুঃখে সবার অন্তর যদি তোমার মতো কাঁদত ---
কৃষ্ণা - তাহলে তোমার পাগলামিটা আরও বেড়ে যেত বুঝেলে । শোন অনেকক্ষণ এসেছি , এবার না ফিরলে বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে যাবে।আজ আমি আসি কেমন ?
মলয় - আচ্ছা এসো।
( কৃষ্ণার প্রস্থান )
( নেপথ্যে মাইকে বাজে আগমনী গানের সুর , ভেসে আসে ঢাকের আওয়াজ )
মলয় - আজ সপ্তমী , দুরের কোন পুজো প্যান্ডেল থেকে ভেসে আসছে আগমনী গানের সুর। আসছে ঢাক আর কাঁসির শব্দও।মনে হচ্ছে যেন ওই সুরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মিলির বুক নিংড়ানো উপছে পড়া কান্না। মিলি এখন কি করছে কে জানে ? সবাই আনন্দ করে পুজো দেখে বেড়াচ্ছে , মিলি হয়তো ঘরের কোনে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে।
( সেই সময় নেপথ্যে ভেসে আসে মিলির কন্ঠ -- দাদা তুই ---)
( শর্মাজীর প্রবেশ )
শর্মাজী - আপন মনে এতক্ষণ কি বলছিলি রে খোঁকা ?
মলয় - কই কিছু না তো বাপুজী।
শর্মাজী - বুঝি রে মলয় , সব বুঝি। কিন্তু কি করবি বল ? আমি তোদের অক্ষম বাপ , আমারও কি দুঃখ হয় না ভাবিস ? হয় রে , আমারও খুব দুঃখ হয়।পাড়ার মেয়েরা সব কেমন নতুন কাপড় পড়ে দল বেঁধে ঠাকুর দেখতে যাচ্ছে , আর আমার মিলি ? মিলির কথা ভেবে দুঃখে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে রে খোঁকা।
মলয় - বাপুজী --
শর্মাজী - আমাদের মিলি এলে ওতো এমনি করে যেতে পারত।নুতন শাড়ী না'ই বা জুটল, ভালো খাবার নাই বা হলো , তবুও তো যেতে পারত রে।
মলয় - - বাপুজী --
শর্মাজী - কোন বাবা না চাই তার ছেলে মেয়েরা সুখে থাকুক, আনন্দ করুক। চায় রে , এইটুকু সবাই চায়। কিন্তু কি করবি বল,অক্ষম বাপ তোদের, চা বিক্রী করাই যার সম্বল সে তো অক্ষমই রে।
( কান্না )
মলয় - বাপুজী তুমি এমনি করে আর আমাকে কাঁদিও না।
( বলে কাঁদতে থাকে )
( পর্দা নেমে আসে )
( অষ্টম দৃশ্য )
( স্থান - মলয়ের বাড়ি তক্তার উপর একাকী বসে ছেড়াঁ পাজামা ময়লা সেলাই করা জামা পরিহিত মলয় )
মলয় - ক্রমে ক্রমে কেটে গেল সপ্তমী , অষ্টমী , নবমী , দশমী । চারদিনই কোথাও যাওয়া হয়নি।কানে শুধু বেজেছে দাদা তুই..... ।দাঁড়া বোন আর কিছুদিন দাঁড়া। ভাই ফোঁটাতে মিটিয়ে দেব ওদের টাকা। আর তোকে সইতে হবে না লাঞ্চনা, খোঁটাও শুনতে হবে না।
( কৃষ্ণার প্রবেশ )
কৃষ্ণা- শুভ বিজয়ার আন্তরিক অভিনন্দন।
মলয় - শুভ বিজয়ার আন্তরিক অভিনন্দন!
( হাতে হাত মেলায় দুজনে )
কৃষ্ণা- জান মলয় তোমাকে আমার খুব ভাল লাগে, তুমি কী ভালো।
মলয় - তুমি যে তার চেয়েও ভালো। তোমার ঋণ যে আমি জীবনে শোধ করতে পারব না।
কৃষ্ণা - তুমি সব সময় এত ঋণ ঋণ করো কেন বলো তো ? ওই কথা শুনতে আমার খুব খারাপ লাগে।
মলয় - কিন্তু ভেবে দেখ , কথাটা তো মিথ্যা নয়।
কৃষ্ণা - থাক আমার আর ভাবা ভাবিতে কাজ নেই ।এই নাও ফর্ম ফিলাপের টাকা। আজই জমা দিয়ে দিও কিন্তু। আগামী সোমবার পরীক্ষা।
( মলয়কে টাকা দেয় )
মলয় - জান কৃষ্ণা বড় বিচিত্র এই দেশ, শুধু কি আর সেকেন্দার শাহ বলে গ্যাছেন- "সত্য সেলুকাস বড় বিচিত্র এই দেশ"। হ্যাঁ বড় বিচিত্রই তো ।বিচিত্রতাই এই দেশের ধর্ম। প্রকৃতির নিত্য নতুন দানে এদেশ সর্বদা মুখরিত।
কৃষ্ণা - সত্যি মলয় , বড় বিচিত্র এই দেশ।
( শর্মাজীর প্রবেশ )
শর্মাজী- কে রে খোঁকা , কার সঙ্গে কথা বলছিস ? ( তারপর কৃষ্ণাকে দেখে ) অঃ মা তুমি কখন এলে ?
কৃষ্ণা- এই তো এক্ষুনি।
কৃষ্ণা- জান মলয় তোমাকে আমার খুব ভাল লাগে, তুমি কী ভালো।
মলয় - তুমি যে তার চেয়েও ভালো। তোমার ঋণ যে আমি জীবনে শোধ করতে পারব না।
কৃষ্ণা - তুমি সব সময় এত ঋণ ঋণ করো কেন বলো তো ? ওই কথা শুনতে আমার খুব খারাপ লাগে।
মলয় - কিন্তু ভেবে দেখ , কথাটা তো মিথ্যা নয়।
কৃষ্ণা - থাক আমার আর ভাবা ভাবিতে কাজ নেই ।এই নাও ফর্ম ফিলাপের টাকা। আজই জমা দিয়ে দিও কিন্তু। আগামী সোমবার পরীক্ষা।
( মলয়কে টাকা দেয় )
মলয় - জান কৃষ্ণা বড় বিচিত্র এই দেশ, শুধু কি আর সেকেন্দার শাহ বলে গ্যাছেন- "সত্য সেলুকাস বড় বিচিত্র এই দেশ"। হ্যাঁ বড় বিচিত্রই তো ।বিচিত্রতাই এই দেশের ধর্ম। প্রকৃতির নিত্য নতুন দানে এদেশ সর্বদা মুখরিত।
কৃষ্ণা - সত্যি মলয় , বড় বিচিত্র এই দেশ।
( শর্মাজীর প্রবেশ )
শর্মাজী- কে রে খোঁকা , কার সঙ্গে কথা বলছিস ? ( তারপর কৃষ্ণাকে দেখে ) অঃ মা তুমি কখন এলে ?
কৃষ্ণা- এই তো এক্ষুনি।
( শর্মাজীকে প্রণাম করে )
শর্মাজী - থাক থাক , আমাদের আবার প্রণাম কেন ?
কৃষ্ণা- কেন আপনাদের প্রণাম করতে দোষ কি ?
শর্মাজী - আমরা সামান্য দরিদ্র মানুষ, আর তোমরা কত ধনী।
কৃষ্ণা- দেখুন জ্যাঠামশাই , আপনিও রকম করে আমাকে লজ্জা দিলে, আমি আর আসব না বলে দিচ্ছি।
শর্মাজী - বেশ বেশ মা , এই ঘাট মানছি , আর কখনও বলব না ?
কৃষ্ণা - আর ভুল হবে না তো ?
শর্মাজী - জীবনে আর ভুলব না।
কৃষ্ণা -- হ্যা জ্যাঠামশাই , আমাদের ভুললে চলবে না ধনী - দরিদ্র , উপর- নীচের ব্যবধান আমাদের সৃষ্টি।ভগবানের নয় , ভগবানের নয়।
( প্রস্থান )
শর্মাজী - হ্যাঁরে খোকা কৃষ্ণা কি তোকে ভালোবাসে ?
মলয় - বাপুজী তেমার যত অদ্ভুত কল্পনা।
শর্মাজী - না রে না, তা নয়, দেখিস না তোকে পড়াবার জন্য ওর কত চেষ্টা।সত্যি মেয়েটা বড়ো ভালো , একেবারে ঠিক নিজের মেয়ের মতো।
মলয় -পড়াশুনোর খরচ দেয় সেটা দয়া করে দেয়, এখানে ভালোবাসার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা চাওয়ালা আর ওরা যে বড়োলোক তাও বোঝনা ?
শর্মাজী - হ্যাঁরে খোঁকা তুই ঠিক বলেছিস , আমি যে চাওয়ালা , কি করবি বল ? অক্ষম,অধম বাপ তোর। আমি অক্ষম রে এটাই যে আমার সবচেয়ে বড় পরাজয়। [ কান্না ]
মলয় - বাপুজী তুমি ও রকম করে বোল না, আমি ঠিক ও ভাবে কথাটা বলিনি বাপুজী , আমাকে ক্ষমা করেো বাপুজী।
[ শর্মাজীকে জড়িয়ে ধরে দুজনের কান্না,কান্না শেষে শর্মাজীর প্রস্থান ]
মলয় - ভগবান কেন তুমি আমাকে বুদ্ধি দিলে বিদ্যা দিলে ? বিদ্যা দিলেতো কেন অর্থ দিলে না , আমি আমার বুদ্ধিটাকে কোন কাজে লগাতেই পারলাম না অর্থাভাবে।
[ চন্দন ও আয়ুবের প্রবেশ ]
চন্দন - হতাশ হোস না রে মলয় , আশা রাখ , আশাই তো জীবন, আশাই তো পথশ্রান্ত মানুষের প্রেরণা , আশাই তো শরাহত পথিকের অমরত্ব।
আয়ুব - হুঁ হুঁ তু ও তো ক্যারে ভ্যাজ্ঞা পরিস নে। আমরা তু রুয়েছি তুদের লগে।
মলয় - হ্যাঁ , তোমরা রয়েছ এটাই আমাদের জীবনের মূলধন। তোমরাই যে আমাদের ভগবান।
আয়ুব - এই দে, ভুগবান ভুগবান করিসনে, ভুগবান বলে আছে কিছু ? ভুগবানই যুদি থাকবে তো তুদের আমাদের এমন দশা কেনে ?
মলয় - ঠিক বলেছ আয়ুব কাকা , তুমি ঠিক, ঠিক বলেছ। দারিদ্রের কাছে আমাদের পরাজয় হলেও ভগবানের দুয়ারে আর আমরা মাথা নোয়াব না। ভগবানের নামও আর মুখে আনব না।
চন্দন - তুই ফাইনাল পরীক্ষা , তাহলে দিতে যাচ্ছিস তো ?
মলয় - তা যাচ্ছি বটে কিন্তু আমার আর পড়ার ইচ্ছা ছিল না,নেহাতই কৃষ্ণার অনুরোধ তাই যেতে হবে।তাছাড়া আর পড়েই বা কি হবে ? আমাদের তো আর মামা কাকার জোড় নেই , টাকা পয়সাও নেই , যে পাশ করলেই চাকরি হয়ে যাবে।
চন্দন - তা জানি রে মলয় , কিন্তু কি করবি বল ? যেমন আমাদের ভাগ্য তেমনি আমাদের ফল। কিন্তু কি করবি বল , এ আমাদের কপাল।
আয়ুব - তু ঠিক বুলেছিস, দুঃখ করবি কেনে বুকে বল বাঁধ।
চন্দন - চল মলয় একটু ঘুরে আসি।
মলয় - চলো।
[ তিন জনের প্রস্থান , অপরদিকে পালমশাই আর প্রণবের প্রবেশ ]
প্রণব - পারলে বাবা , মলয়টাকে একটা পুলিশ কেসে ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে ?
পালমশাই- এখনো পারি নি তবে, আর বেশী দেরিও নেই ঝুলিয়ে দিতে। ভালোমতো যদি জাল সাক্ষীও পাওয়া যেত , তাহলে ছোঁড়াটার ঠিক জেল হয়ে যেত।
প্রণব - তবে তুমি যে বলেছিলে ঠিক করেছি ?
পালমশাই- হ্যাঁ পুলিশের বড়োবাবুকে দুটো মাছ দিয়ে এসেছি ওতেই কাজ হবে মনে হয়।
প্রণব - ভালো করেছ জীবনে আর চাকরির মুখ দেখতে হবে না , আর বড়ো হতেও হবে না।
( কৃষ্ণার প্রবেশ )
কৃষ্ণা- বড় যে হবার বড় সে হবেই পালবাবু , মলয় তো আর আপনার ক্রীতদাস প্রজা নয় , যে আপনার বিধিলিপিই হবে ওর ভাগ্যলিপি।
প্রণব -তুমি কি বলতে চাও কৃষ্ণা ?
কৃষ্ণা - যা বলছি তা নিশ্চয় ভালো করেই বুঝতে পারছিস। ছি ছি তোদের লজ্জা করল না একটা আলোকবর্তিকার গায়ে অন্ধকারের কালিমা লেপন করতে ?
পালমশাই - তুমি হেডমাস্টারের ভাইঝি হয়ে ওই চা ওয়ালার ছেলেটার সঙ্গে মিশতে যাও কেন বুঝিনা ?
কৃষ্ণা - মিশব না তো কি আপনার এই লম্পট ছেলেটার সঙ্গে মিশব ? আপনার এই কৃর্তিমানটার সঙ্গে মলয়ের তুলনা কি জানেন ? লম্পটটা খেঁকশিয়াল হলে মলয় হবে সিংহ।
প্রণব - সাবধান এক চড়ে লম্বা কথা ঘুচিয়ে দোব।
( বলে কৃষ্ণাকে চড় মারতে যায় এমন সময় মলয় প্রবেশ করে হাতটা ধরে ফেলে )
মলয় - কিন্তু তার সুযোগ তো তুমি আর পেলে না বন্ধু। এখন দরকার হলে চড়টা ওর কাছ থেকে খেয়ে তোমার শিক্ষাটাই হয়ে যেতে পারে , অবশ্য কৃষ্ণা যদি ইচ্ছা করে।
পালমশাই- কেহে তুমি, এখান থেকে বেরিয়ে যাও।
মলয় - আমি কে ? জানেন না ? আমি তো সেই সুখেন চাওয়ালার ছেলে। যার বাবার কাছে আপনি চা খেয়ে প্রায়ই পয়সা দেন না।
প্রণব - কী আমার বাবাকে অপমান ?
( বলে প্রণব মলয়ের কলার ধরে, সেই সময় চন্দন এসে ওর হাতটা ধরে )
চন্দন - কলার ছাড় ভায়া , ভদ্র হয়ে কথা বলতে শেখ নইলে, ভদ্রতাটা আমাদের কাছেই শিক্ষা নিতে হতে পারে।
পালমশাই- তোমাদের আমি পুলিশে দেব।
( আয়ুবের প্রবেশ )
আয়ুব - কি বুললি, পুলিশে দিবি, তা যা তাই দিগা যা।
( বলে প্রণব ও পালবাবুকে স্টেজ থেকে বের করে দেয় )
( পর্দা নেমে আসে )



No comments:
Post a Comment