অর্ঘ্য ঘোষ
( এই কলমে এমনই কিছু হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হবে যারা নিতান্তই প্রান্তজীবি। বৃহত্তর সমাজে তাদের স্থান নেই বলেলেই চলে। তাদের জন্ম মৃত্যু এমনকি আসল নামও আজ সংগ্রহ করা কঠিন।তাদের পরিবারের লোকেরাও সে তথ্য ঠিকঠাক দিতে পারেন নি ।প্রচলিত নামেই তারা আজও এলাকার কারও কারও মনে ধুসর স্মৃতি হয়ে রয়েছেন। স্মৃতির চাদর সরালেই অবয়বটা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আমার ছোটবেলায় দেখা মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেওয়া ওইসব চরিত্রের সঙ্গে আপনিও মিল খুঁজে পেতে পারেন আপনার দেখা কোন মানুষের মধ্যে )
শাহজীর কথা
( ৫ )
পড়নে লালচে হয়ে যাওয়া হাফ হাত গেঞ্জি আর গুটিয়ে পড়া ধুতি।ঈষৎ কুঁজো হয়ে হাঁটা ছোট খাটো চেহেরার লোকটির পোশাকি নাম ছিল দু'কড়ি বাগদি। বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের ঢেকা গ্রামে ছিল তার বাড়ি। বেশিরভাগ লোকের কাছেই তিনি শাহজী হিসাবে পরিচিত ছিলেন।কেন যে তার ওই রকম নামকরণ হয়েছিল তা অবশ্য আজ আর জানার উপায় নেই।
খুব সরল মনের মানুষ ছিলেন শাহজী। মুদ্রাদোষের মতো প্রতিটি কথার আগে পরে নানা অশ্লীল শব্দ যোগ করতেন।তবে তা নিয়ে তার কোন বিকার ছিল না।কারণ শ্লীল-অশ্লীল বোধটাই যেন চাপা পড়ে পড়ে যেত তার সরলতার আড়ালে।যারা শুনতেন তারাও বেশ মজা পেতেন। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা কায়দায় তাকে কথা বলাতেন ওই অশ্লীল শব্দ শোনার জন্যই। কারণ ওইসব শব্দ ছাড়া শাহজীর কথাই যেন অম্পূর্ণ থেকে যেত।
আমার এক আত্মীয় বিশিষ্ট চিকিৎসক দুর্গাচরণ ঘোষের জমিতে কৃষাণী করতেন তিনি। সেই সুবাদে ওই বাড়ির এক জামাই সুনীল পালের খুব প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন দু'কড়ি বাগদি। দূর্গাপুজোর সময় লোকপাড়াতে আসতেন সুনীলবাবুরা।তখন দু'কড়ি বাগদির কাজ হয়ে উঠত দশাসই সুনীলবাবুর সারা শরীরে তেল মাখানো। সুনীলবাবু আর তাকে ঘিরে বেশ মজার মজার ঘটনার কথা প্রচলিত রয়েছে এলাকায়।
হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা সুনীলবাবু সে সময় ছিলেন রেলের ডাক্তার। একবার সুনীলবাবুকে সাঁইথিয়া স্টেশনে তুলে দিতে গিয়েছিলেন শাহজী। সে সময় রেলব্রীজ পার হচ্ছিল বিশাল এক মালগাড়ি।তা দেখে শাহজী সুনীলবাবুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন , হা গো বাবু গাড়িটো পুরোই 'ল'র ( লোহার ) ? সুনীলবাবু হ্যা বলার পর বিস্ময় ঝড়ে পড়েছিল শাহজীর গলায় -- বাপরে ল' , আমরা ফালের ( লাঙ্গলের ফলা ) টোগেয় ( অগ্রভাগে) দিতে একটুকুন 'ল' পায় না , এত 'ল' ওরা পেলে কোথা গো ?
সব থেকে মজার ঘটনাটা ঘটেছিল সুনীলবাবুর বাড়ি যাওয়ার সময় । সেবারে গুড় -মুড়ি , সবজি-পাতি নিয়ে সুনীলবাবুর বাড়িতে দিতে যাচ্ছিলেন শাহজী।কিন্তু টিকিট কাটেন নি।যথারীতি হাওড়া স্টেশন পার হওয়ার সময় চেকাররা তাকে চপ করে ধরে। শাহজী যত সুনীলবাবুর নাম করে বলেন আমি ওর লোক তত সন্দেহ বাড়ে চেকারদের। আদব-কায়দা , চলন -বলন , বেশ-ভুষা কিছুতেই সুনীলবাবুর সঙ্গে শাহজীকে মেলাতে পারেন না তারা।
শেষে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে ফাইন দাবি করেন তারা।সেই ফাইন না পেলে জেলে যেতে হবে বলে জানিয়েও দেওয়া হয় তাকে।শাহজী তাদের বলেন , ফাইন মাইন আমি কোথা পাব , তোমারা সুনীলবাবুকে খপর দাও তো , তারপর দেখ তোমাদের ফাইন গাঁ--- ভরে দিছি।চেকাররাও তার ওই ধরণের কথা শুনে মজা পেয়ে যান। তারই মধ্যে একজন ' দেখিই তো' বলে ফোন করে বসেন সুনীলবাবুকে। পরিচয় জানার পর শাহজীকে তারাই গাড়ি ভাড়া করে সুনীলবাবুর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
শাহজী বাড়ি পৌঁছানো মাত্র রেলের অফিসাররা সুনীলবাবুকে ফোন করে সে ঠিকঠাক পৌঁছোল কিনা জানতে চান। বিষয়টি আন্দাজ করে শাহজী বলে ওঠেন-- দাও তো , দাও তো আমাকে একবার ফোনটো দাও তো। শালোদের গা---টো গরম করে দিই। তখন কথা কানে তোলা হল না , এখন তেলতেলামো ওদের গা-- ভরে দিই।
সুনীলবাবু দ্রুত একহাতে হাতে ফোন চাপা দেন। অন্য হাতে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলেন-- চুপ ,চুপ। কারণ ততক্ষণে ঘরে এসে দাঁড়িয়েছেন ছেলে-মেয়ে সহ সুনীলবাবুর স্ত্রী'ও। আজ শাহজী নেই , কিন্তু তাকে ঘিরে ওইসব ঘটনার কথা এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
( ৬ )
কনকপিসি ছিলেন বাল্য বিধবা।ময়ূরেশ্বরের তিলডাঙা গ্রামে তার বিয়ে হয়েছিল।কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসন্তান কনকপিসির শ্বশুড়বাড়িতে ঠাঁই হয়নি। তাই আশ্রয় নিয়েছেলেন বাপের বাড়িতে। তার বাপের বাড়ি ময়ূরেশ্বরেরই ছামনা গ্রামে। ওই গ্রামেই আমার মামার বাড়ি। প্রয়াত উমাশঙ্কর মজুমদার ছিলেন আমার মাতামহ।সেই সূত্রেই কনকপিসির সঙ্গে আমার চেনাশোনা।
একে ব্রাহ্মণের বিধবা , তার উপরে কনকপিসির দাদাদের অবস্থাও বিশেষ ভালো ছিল না। সেই সময় বিধবারা ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্য পরের বাড়িতে ধান সিদ্ধ , মুড়ি ভাজার কাজ করতেন।কনকপিসিও আমার দাদুর বাড়িতে মুড়ি ভাজতেন। সাদা খোলের শাড়িতে সেই বয়সেই আমার তাকে মনে হোত যেন বিষণ্ণতার প্রতিমূর্তি। দাদুকে তিনি দাদা , আর দিদিমা আনন্দময়ীকে বৌদি বলে সম্বোধন করতেন। সেই সূত্রে তিনি ছিলেন মা-মাসিদের পিসি।কিন্তু তাদের দেখাদেখি আমিও তাকে পিসি বলেই ডাকতাম। কতবার মা-মাসীরা সংশোধন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন , তোরা চুপ কর তো।তোদের চেয়ে দাদুভাইয়ের পিসি ডাকটাই বেশি মিষ্টি।
যখন মামার বাড়িতে থাকতাম তখন দেখতাম কি শীত , কি বর্ষা মুড়ি ভাজার দিনগুলিতে একপ্রহর রাত্রি থাকতেই একটা টিমটিমে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে নিয়ে দিদিমাকে উদ্দেশ্য করে বৌদি বৌদি করে ডাকতেন।দিদিমা দরজা খুলে দিতেন।তারপর যে-যার আবার শুয়ে পড়তেন। কনকপিসিই একাকী কেবল খোলায় চাল নেড়ে যেতেন। বিছানায় শুয়ে শুয়েই আমি চাল নাড়ার খসর-খসর শব্দ শুনতাম আর ভাবতাম -- কনকপিসির শীত করে না , ঘুম পায় না ?
ঘুম কিম্বা শীতের চেয়েও যে পেটের জ্বালা যে আরও তীব্র তা বোঝার বয়েস তখন হয় নি।তাই সেই প্রশ্ন করে করে দাদু-দিদিমা আর কনকপিসিকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতাম। সকালে যখন উঠতাম তখন দেখতাম উনুনের পাশে ডাঁই হয়ে আছে মুড়ি।তারপরেও তাকে কলাই , খই ভাজতে হত। তারপর নিজের প্রাপ্য মুড়িটুকু শাড়ির আঁচলে বেঁধে বাড়ির পথ ধরতেন কনকপিসি। ততক্ষণে কনক পিসির ঘাম আর কালিতে মাখামাখি মুখে ক্লান্তির ছাপ। আজ কনকপিসি নেই। কিন্তু তার সেই করুণ মুখটা আঁকা রয়েছে আমার মানস পটে।
----০---
পড়নে লালচে হয়ে যাওয়া হাফ হাত গেঞ্জি আর গুটিয়ে পড়া ধুতি।ঈষৎ কুঁজো হয়ে হাঁটা ছোট খাটো চেহেরার লোকটির পোশাকি নাম ছিল দু'কড়ি বাগদি। বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের ঢেকা গ্রামে ছিল তার বাড়ি। বেশিরভাগ লোকের কাছেই তিনি শাহজী হিসাবে পরিচিত ছিলেন।কেন যে তার ওই রকম নামকরণ হয়েছিল তা অবশ্য আজ আর জানার উপায় নেই।
খুব সরল মনের মানুষ ছিলেন শাহজী। মুদ্রাদোষের মতো প্রতিটি কথার আগে পরে নানা অশ্লীল শব্দ যোগ করতেন।তবে তা নিয়ে তার কোন বিকার ছিল না।কারণ শ্লীল-অশ্লীল বোধটাই যেন চাপা পড়ে পড়ে যেত তার সরলতার আড়ালে।যারা শুনতেন তারাও বেশ মজা পেতেন। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা কায়দায় তাকে কথা বলাতেন ওই অশ্লীল শব্দ শোনার জন্যই। কারণ ওইসব শব্দ ছাড়া শাহজীর কথাই যেন অম্পূর্ণ থেকে যেত।
আমার এক আত্মীয় বিশিষ্ট চিকিৎসক দুর্গাচরণ ঘোষের জমিতে কৃষাণী করতেন তিনি। সেই সুবাদে ওই বাড়ির এক জামাই সুনীল পালের খুব প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন দু'কড়ি বাগদি। দূর্গাপুজোর সময় লোকপাড়াতে আসতেন সুনীলবাবুরা।তখন দু'কড়ি বাগদির কাজ হয়ে উঠত দশাসই সুনীলবাবুর সারা শরীরে তেল মাখানো। সুনীলবাবু আর তাকে ঘিরে বেশ মজার মজার ঘটনার কথা প্রচলিত রয়েছে এলাকায়।
হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা সুনীলবাবু সে সময় ছিলেন রেলের ডাক্তার। একবার সুনীলবাবুকে সাঁইথিয়া স্টেশনে তুলে দিতে গিয়েছিলেন শাহজী। সে সময় রেলব্রীজ পার হচ্ছিল বিশাল এক মালগাড়ি।তা দেখে শাহজী সুনীলবাবুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন , হা গো বাবু গাড়িটো পুরোই 'ল'র ( লোহার ) ? সুনীলবাবু হ্যা বলার পর বিস্ময় ঝড়ে পড়েছিল শাহজীর গলায় -- বাপরে ল' , আমরা ফালের ( লাঙ্গলের ফলা ) টোগেয় ( অগ্রভাগে) দিতে একটুকুন 'ল' পায় না , এত 'ল' ওরা পেলে কোথা গো ?
সব থেকে মজার ঘটনাটা ঘটেছিল সুনীলবাবুর বাড়ি যাওয়ার সময় । সেবারে গুড় -মুড়ি , সবজি-পাতি নিয়ে সুনীলবাবুর বাড়িতে দিতে যাচ্ছিলেন শাহজী।কিন্তু টিকিট কাটেন নি।যথারীতি হাওড়া স্টেশন পার হওয়ার সময় চেকাররা তাকে চপ করে ধরে। শাহজী যত সুনীলবাবুর নাম করে বলেন আমি ওর লোক তত সন্দেহ বাড়ে চেকারদের। আদব-কায়দা , চলন -বলন , বেশ-ভুষা কিছুতেই সুনীলবাবুর সঙ্গে শাহজীকে মেলাতে পারেন না তারা।
শেষে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে ফাইন দাবি করেন তারা।সেই ফাইন না পেলে জেলে যেতে হবে বলে জানিয়েও দেওয়া হয় তাকে।শাহজী তাদের বলেন , ফাইন মাইন আমি কোথা পাব , তোমারা সুনীলবাবুকে খপর দাও তো , তারপর দেখ তোমাদের ফাইন গাঁ--- ভরে দিছি।চেকাররাও তার ওই ধরণের কথা শুনে মজা পেয়ে যান। তারই মধ্যে একজন ' দেখিই তো' বলে ফোন করে বসেন সুনীলবাবুকে। পরিচয় জানার পর শাহজীকে তারাই গাড়ি ভাড়া করে সুনীলবাবুর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
শাহজী বাড়ি পৌঁছানো মাত্র রেলের অফিসাররা সুনীলবাবুকে ফোন করে সে ঠিকঠাক পৌঁছোল কিনা জানতে চান। বিষয়টি আন্দাজ করে শাহজী বলে ওঠেন-- দাও তো , দাও তো আমাকে একবার ফোনটো দাও তো। শালোদের গা---টো গরম করে দিই। তখন কথা কানে তোলা হল না , এখন তেলতেলামো ওদের গা-- ভরে দিই।
সুনীলবাবু দ্রুত একহাতে হাতে ফোন চাপা দেন। অন্য হাতে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলেন-- চুপ ,চুপ। কারণ ততক্ষণে ঘরে এসে দাঁড়িয়েছেন ছেলে-মেয়ে সহ সুনীলবাবুর স্ত্রী'ও। আজ শাহজী নেই , কিন্তু তাকে ঘিরে ওইসব ঘটনার কথা এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
----০---
কনকপিসির কথা
( ৬ )
কনকপিসি ছিলেন বাল্য বিধবা।ময়ূরেশ্বরের তিলডাঙা গ্রামে তার বিয়ে হয়েছিল।কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসন্তান কনকপিসির শ্বশুড়বাড়িতে ঠাঁই হয়নি। তাই আশ্রয় নিয়েছেলেন বাপের বাড়িতে। তার বাপের বাড়ি ময়ূরেশ্বরেরই ছামনা গ্রামে। ওই গ্রামেই আমার মামার বাড়ি। প্রয়াত উমাশঙ্কর মজুমদার ছিলেন আমার মাতামহ।সেই সূত্রেই কনকপিসির সঙ্গে আমার চেনাশোনা।
একে ব্রাহ্মণের বিধবা , তার উপরে কনকপিসির দাদাদের অবস্থাও বিশেষ ভালো ছিল না। সেই সময় বিধবারা ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্য পরের বাড়িতে ধান সিদ্ধ , মুড়ি ভাজার কাজ করতেন।কনকপিসিও আমার দাদুর বাড়িতে মুড়ি ভাজতেন। সাদা খোলের শাড়িতে সেই বয়সেই আমার তাকে মনে হোত যেন বিষণ্ণতার প্রতিমূর্তি। দাদুকে তিনি দাদা , আর দিদিমা আনন্দময়ীকে বৌদি বলে সম্বোধন করতেন। সেই সূত্রে তিনি ছিলেন মা-মাসিদের পিসি।কিন্তু তাদের দেখাদেখি আমিও তাকে পিসি বলেই ডাকতাম। কতবার মা-মাসীরা সংশোধন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন , তোরা চুপ কর তো।তোদের চেয়ে দাদুভাইয়ের পিসি ডাকটাই বেশি মিষ্টি।
যখন মামার বাড়িতে থাকতাম তখন দেখতাম কি শীত , কি বর্ষা মুড়ি ভাজার দিনগুলিতে একপ্রহর রাত্রি থাকতেই একটা টিমটিমে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে নিয়ে দিদিমাকে উদ্দেশ্য করে বৌদি বৌদি করে ডাকতেন।দিদিমা দরজা খুলে দিতেন।তারপর যে-যার আবার শুয়ে পড়তেন। কনকপিসিই একাকী কেবল খোলায় চাল নেড়ে যেতেন। বিছানায় শুয়ে শুয়েই আমি চাল নাড়ার খসর-খসর শব্দ শুনতাম আর ভাবতাম -- কনকপিসির শীত করে না , ঘুম পায় না ?
ঘুম কিম্বা শীতের চেয়েও যে পেটের জ্বালা যে আরও তীব্র তা বোঝার বয়েস তখন হয় নি।তাই সেই প্রশ্ন করে করে দাদু-দিদিমা আর কনকপিসিকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতাম। সকালে যখন উঠতাম তখন দেখতাম উনুনের পাশে ডাঁই হয়ে আছে মুড়ি।তারপরেও তাকে কলাই , খই ভাজতে হত। তারপর নিজের প্রাপ্য মুড়িটুকু শাড়ির আঁচলে বেঁধে বাড়ির পথ ধরতেন কনকপিসি। ততক্ষণে কনক পিসির ঘাম আর কালিতে মাখামাখি মুখে ক্লান্তির ছাপ। আজ কনকপিসি নেই। কিন্তু তার সেই করুণ মুখটা আঁকা রয়েছে আমার মানস পটে।


No comments:
Post a Comment