Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

এইতো সমাজ --১১


            এইতো সমাজ 

             ( ধারাবাহিক নাটক ) 

    

( মানুষ কেন বিপথে যায় , কি করেই বা ঘুরে দাঁড়ায় , সেই কাহিনীই এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।স্কুল জীবনে লেখা সেই নাটকই ধারাবাহিক ভবে তুলে ধরা হল আপনাদের দরবারে । নজর রাখুন ।সঙ্গে থাকুন।ধন্যবাদ )
                           
               
                                    অর্ঘ্য ঘোষ 



                      ষোড়শ দৃশ্য



      (   স্থান - পুর্বোক্ত ধর্মরাজতলা   ।   আয়ুব আর চন্দনের কথোপকটোল ) 

চুন্দন - জান আয়ুব কাকা , মলয় আমাদের ম্যাজিস্ট্রট হয়েছে।

আয়ুব - তু সত্যি বুলছিস ?

চন্দন - হ্যা গো সত্যি না তো কি মিথ্যা, জেল থেকে ছাড়াও পেয়ে গ্যাছে।

আয়ুব- উর বাপুজী আজ বেঁচে থাকলে খুব খুশী হতো-রে।

চন্দন - তাইতো আয়ুব কাকা, আজ সব থেকে যে বেশী আনন্দ পেত সেই নাই।

আয়ুব - তাই তুরে।


    ( কালো জামার উপরে সার্ট প্যান্ট, টাই, ঘড়ি ও চোখে চশমা পরিহিত মলয়ের প্রবেশ )


মলয় - এই যে চন্দনদা, আয়ুব কাকা তোমার সব ভালো তো ?

চন্দন -তা এক রকম ভালোই।

আয়ুব - তু কেমন আছিস  ?

মলয় - দেখে নিশ্চয় বুঝতে পারছ ?

আয়ুব - তু মেজিসটেট হয়েছিস ?

মলয় - তোমরা কেমন করে শুনলে ? 

আয়ুব - ওরে  চাঁদে গ্রেরণ লাগলে ঢাকা থাকে না রে , ঢাকা থাকে না।


                                                                                         ( পালমশাই ও প্রণবের প্রবেশ )

পালমশাই - না , মলয়ের মতো ছেলে হয় না , আমাদের গ্রামের রত্ন।

চন্দন- পালমশাই,  আপনি -

পালমশাই - আহা , মলয় আমাদের বড় ভালো ছেলে।

প্রণব - হ্যাঁরে মলয় , তোকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

মলয় - ভনিতা না করে আসল কথাটা বলে ফেললেই ভাল হয়।

পালমশাই -বলছি বাবা বলছি , বলবার জন্যেই তো এসেছি। তা মলয় তোমার মতো দয়ালু তো কেউ হয় না , প্রণব তো অনেক  দিন বসে আছে ওকে একটা চাকরি করে দিও বাবা।

মলয় - পালমশাই

চন্দন - আপনাদের লজ্জা করে না ? যাকে একদিন আপনারা ফাঁসির দড়িতে লটকে দিতে চেয়েছিলেন, তারই কাছে হাত পাততে লজ্জা করে না ?

আয়ুব - তুরাতো আচ্ছা বেসরম রে , যা ইখান থেকে যা।

                                               ( বলে আয়ুব প্রণব আর পালমশাইকে ষ্টেজ থেকে বের করে দেয় )


মলয় - দেখলে চন্দনদা মানুষের স্বরূপ দেখলে ? একদিন যারা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল আজ তারাই আমার দীর্ঘজীবন কামনা করছে।

চন্দন - সেদিন কার সেই দরিদ্র মলয় আর আজকের এই মলয় যে এক নয় রে ! মানুষের স্বরূপটাই যে এই রকম রে।যারা বড়ো হতে চাই, সমাজ তাকে বড়ো হতে দেয় না, এবং সমাজের সেই বাধা স্বত্তেও যদি সে বড়ো হয়ে যায়, তবে তখনই তার কদর বাড়ে রে মলয়।

আয়ুব- তু ঠিক বলেছিস চন্দন, তু ঠিক  বলেছিস।

মলয় - চন্দনদা, কৃষ্ণার খবর কি ?

চন্দন - কৃষ্ণা তোর বিচারের রায় বেরোনোর পরদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে গ্যাছে, কেউ কোন খোঁজ পায়নি।

আয়ুব - তু দুখু করিস না রে।

মলয় - হায় কৃষ্ণা , তুমি একবারও দেখলে না , তুমি যে স্বপ্ন দেখতে তোমার মলয় বড়ো  হবে তোমার সেই স্বপ্ন আমি সফল করেছি কৃষ্ণা।

চন্দন - মলয় হতাশ না হয়ে তুই কৃষ্ণার খোঁজ কর না।

আয়ুব - হুঁ তু তাই কুর।

মলয় - হা , কৃষ্ণার খোজই করব আমি , কলকাতার বড়ো বড়ো  হোটেলগুলোতে খোঁজ করব , কৃষ্ণাকে খুঁজে যে আমাকে বের করতেই হবে, কৃষ্ণাই যে আমার অগ্রগতির মূল,কৃষ্ণা আমার ধন, আমার মান,সম্পদ, কৃষ্ণাই আমার সব।

                                                                                                                      ( পর্দা নেমে আসে )



                                                         সপ্তদশ দৃশ্য


   (  স্থান- গ্রান্ড হোটেল , হোটেলের এককোণে কৃষ্ণা কিছুটা অন্ধকারের মধ্যে বসে , পর্দা উন্মোচিত হয় । মলয়ের প্রবেশ ) 


মলয় - বয়,   (চেয়ারের উপর বসে অন্ধকার থেকে কৃষ্ণা  লক্ষ করে )

বয় - কেয়া বাত বাবু সাব ? ( বয়ের প্রবেশ )

মলয় - বিয়ার নিয়ে এসো। ( হোটেলের আলমারি থেকে বয় বিয়র এনে মলয়ের টেবিলে দেয়, মলয় চুমুক দিতে যাবে এমন সময় কৃষ্ণা এসে হাতে ধরে।)

কৃষ্ণা - না , আমি তোমাকে কিছুতেই মদ খেতে দোব না, এত নীচে নামতে তুমি পাবে না।

মলয় - কে তুমি কামিনী ?   [চোখ না খুলেই নেশাগ্রস্থভাবে বলে ]

কৃষ্ণা- হাঁ আজ আমি কামিনী ঠিকই, কিন্তু একদিন আমি কামিনী ছিলাম না, পরিস্থিতিই আমাকে আমাকে এ পথে নামিয়েছে । ক

মলয় - কৃষ্ণা তুমি ? তুমি এখানে ?  তোমাকে  কত খুঁজেছি জানো , কিন্তু পাইনি। তোমাকে হারানোর দুঃখেই আমি মদ খাওয়া ধরেছি কৃষ্ণা।( বলে কৃষ্ণাকে জড়িয়ে ধরতে যায় কিন্তু কৃষ্ণা বাধা দেয় )

কৃষ্ণা- না মলয়, আজ আমি কৃষ্ণা নই। আজ আমি আমি ছন্দা বাঈ।আমার আর তোমার মতো মলয়ের অভাব হবে না। কিন্তু তোমার অভাবে আমি আর একটি মেয়েকে কষ্ট পেতে দেতে দেব না । তুমি ফিরে যাও তোমার  অগ্নিস্বাক্ষী রেখে বিয়ে করা স্ত্রীর কাছে।

মলয় - জানি কৃষ্ণা, কিন্ত পরিস্থিতি তোমাকে ছন্দা বাঈ বানালেও তুমি আমার কাছে সেই কৃষ্ণাই আছো, আর যেদিন থেকে তোমাকে ভালোবেসেছি সেদিন থেকেই তোমাকে মনে মনে স্ত্রী মেনেছি।

কৃষ্ণা -- কিন্তু আজ আর তোমার যোগ্য নই , আমার শরীরে আজ অনেক পাপ , আমি আজ ো
পবিত্র ।

মলয় -- ভালোবাসার যোগ্যতার কোন মাপকাঠি হয় না কৃষ্ণা । তুমি যদি পাপী তাহলে তাহলে সারা পৃথিবী পাপী হয়ে যাবে । তুমি যদি অপবিত্র হয় তাহলে আর পাপস্খালনের জন্য কেউ আর গঙ্গাস্নানে যাবে না , কেউ আর গঙ্গাস্তব করবে না।

         

        ( বলে কৃষ্ণাকে জড়িয়ে  ধরে , কৃষ্ণাও জড়িয়ে ধরে মলয়কে,  নেপথ্যে  ভেসে আসে গঙ্গাস্তোত্র  )  


                    



                                   যবনিকা

                                (   সমাপ্ত  )


                                                

নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


     শীঘ্রই আসছে ----

সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --

                   


                                                                       

----০----

No comments:

Post a Comment