( কিস্তি -- ৮৩ )
তাই দ্বিগুণ উৎসাহে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে অঞ্জলি।এজন্য আলাপনের সঙ্গে বসে সে গ্রামটাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেয়।অঞ্জলি শুনেছে আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দফতরে কেন্দ্র কিম্বা রাজ্য সরকারের বহু প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সেগুলো রূপায়ণের ব্যাপারে কেউ মাথা ঘামান না বললেই চলে। তাই বছরের শেষে ওইসব টাকা কেন্দ্র কিম্বা রাজ্যের কাছে ফেরত চলে যায়। অঞ্জলি ওইসব প্রকল্পের টাকা তাদের পাড়ায় যথাযথ উন্নয়নের কাজে লাগাতে চায়। ওইসব প্রকল্পের সুলুক সন্ধান জানার জন্য আলাপনের পরিচিত পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরের অবসরপ্রাপ্ত এক আধিকারিককে তাদের কর্মযজ্ঞে সামিল করে অঞ্জলি।
ভদ্রলোকের নাম বিমল সোম। অঞ্জলি তার পরিকল্পনার কথা একে একে খুলে বলে বিমলবাবুকে। অঞ্জলি বলে , আমি যতদুর জানি একটা জাতির উন্ননয়নের সূচক হলো তার ক্রয় ক্ষমতা। সেই ক্রয়ক্ষমতা নির্ভর করে তার আর্থসামাজিক পরিকাঠামোর সমৃদ্ধির উপর। আর সেই সমৃদ্ধি ঘটে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। আদিবাসীদের কর্মসংস্থান বলতে রয়েছে একমাত্র দিনমজুরী।কিন্তু বছরে সামান্য কয়েকটি দিন মাত্র সেই কাজ মেলে। তাই কাজের খোঁজে তাদের বাইরে ছুটতে হয়। এর ফলে তাদের পরিবারে নানা বিরূপ প্রভাব পড়ে। অভিভাবকহীন পরিবারে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শিকেয় ওঠে , মেয়ে বৌ'রা যৌন শোষণের শিকার হয়। তাই সর্বাগ্রে চাই কর্মসংস্থান।
--- কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব ?
--- কেন,আমরা পাড়ার ছেলেদের নিয়ে লেবার কোঅপারেটিভ খুলে কাজের সংস্থান করতে পারি না ? সেটা হলে সমন্বয় মঞ্চ নির্মাণ সহ গ্রামে যত সরকারি কাজ হবে তাতে কোঅপারেটিভের সদস্যরাই কাজ করতে পারবে। তাছাড়া পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি কিম্বা জেলা স্তরে এখন ব্যপক সরকারি কাজ হচ্ছে। ওইসব ক্ষেত্রেও আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ পেতে পারি।
--- বাঃ, এটা খুবই ভালো চিন্তা। আমি যত দ্রুত সম্ভব লেবার কোঅপারেটিভের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করছি।
রঞ্জিতরা বলে ওঠে -- এটা হলে সত্যিই দিদি খুব ভালো হবে।
সেই মতো কাগজপত্র তৈরী করে আলাপন আর বিমলবাবু ডি,এম সাহেবকে ধরে একদিনেই লেবার কোঅপারেটিভ অনুমোদন করিয়ে আনে। তারপরের দিন থেকেই কোঅপারেটিভের সদস্যরা সমন্বয় মঞ্চের বিল্ডিং নির্মাণের কাজে নেমে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার জন্য একে একে সমন্বয় মঞ্চে পাড়ার অন্যান্য ছেলেমেয়েরা এগিয়ে আসে। লেবার কো-অপারেটিভ পুরোদ্যমে চালু হতেই অঞ্জলি মেয়েদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াতেও উদ্যোগী হয়। এমনিতেই পাড়ায় ৭/৮ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ছিলোই। সেগুলিকে একত্রিত করে একটি মহাসংঘ করে নানা প্রকল্প রূপায়নের মাধ্যমে মেয়েদের স্বনির্ভরতার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এজন্য ওইসব স্বসহায়ক গোষ্ঠীর সদস্যদের একদিন মিটিং - এ ডাকে সে। ততদিনে পাড়ায় উন্নয়নে তার সদিচ্ছা দেখে অনেকের মধ্যেই দুরত্বটা কমে এসেছে। তাই মিটিং -এ মোড়লের পরিবারের মেয়েরা ছাড়া সবাই পৌঁছোয়। সেদিনই গড়ে ওঠে মহাসংঘ। সঞ্চিতাকে দলনেত্রী , মালতিকে সহ দলনেত্রী আর প্রতিমাকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করে ওই মহাসংঘ পরিচালনার প্রস্তাব দেয় অঞ্জলি। গ্রামের মেয়েরা একবাক্যে ওই প্রস্তাবে সায় দেয়।
সঞ্চিতাদের সহযোগিতার জন্য দাদা এবং ভাই দুলাল আর রঞ্জিতকেও দায়িত্ব দেয় সে। অঞ্জলি লক্ষ্য করে দাদাদের ওই কাজে যুক্ত করায় সঞ্চিতাদের কিছুটা খুশী খুশী দেখায়। অঞ্জলি মনে মনে ভাবে তাহলে কি ? সে যা আন্দাজ করেছে তাই ঘটতে চলছে। সে যেদিন যা ঘটার তা ঘটবে। এখনই সে তা নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না। আপতত সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের কাজ নিয়েই সে মাথা ঘামাতে চায়। কিছুদিনের মধ্যেই সঞ্চিতাদের প্রচেষ্টায় মহাসংঘ সরকারি অনুমোদন লাভ করে।আলাপন আর বিমলবাবু জেলা শাসককে ধরে তাদের জন্য মোটা টাকার ঋণও বের করে আনেন। মহিলারাও কাজ পেয়ে উচ্ছসিত। শর্মাণীকাকী, ভবাণীজ্যেঠিরা তো মহাখুশী। এখন আর সবদিন কাজে না গেলেও চলে তাদের। তাই তারা অঞ্জলিকে চরম মান্য করে। সবাই বলে , তুমি হাল ধরার পর আমাদের পাড়ার মানুষদের দুর্গতি অনেকটাই ঘুঁচে গিয়েছে। এখন মাথা গোঁজার একটা ঠাই হলেই হয়।
বিষয়টা নিয়ে অঞ্জলিও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। নিজের অভিজ্ঞতাতেই অঞ্জলি দেখেছে , অন্যান্য আদিবাসী পাড়ার মতো তাদের পাড়ারও অধিকাংশ পরিবারে মাথা গোঁজার ঠাই বলতে রয়েছে একচিলতে খুপরি ঘর। সে ঘরে না আটকায় বৃষ্টির ছাঁট না আটকায় শীতের হিমেল হাওয়া। তারই মধ্যে পরিবারের লোকসংখ্যা বাড়ে। কিন্তু বাড়ে না ঘর। তাই একসময় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ঠাই হয় চারদিক খোলা চালাঘর। তারই একপাশে শুয়োর- ছাগল, হাস- মুরগি নিয়ে পশুর মতো বাস করে মানুষ।বছরের পর বছর অস্বাস্থ্যকর ওই পরিবেশে থাকার দরুণ নানা অসুখে ভোগেন তারা। মাঝে মধ্যে কারও কারও নামে সরকারি আবাসন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু সেই টাকা পেতে শাসক দলের নেতা কিন্বা সরকারি আধিকারিকদের একটা মোটা অংশ দিতে হয়।তার ফলে ওই টাকায় আর বাড়ি হয় না। তাই কেউ বাকি টাকা ক'টা মদ খেয়েই উড়িয়ে দেয় , কেউ বা কিছু শুয়োর কিম্বা ছাগল কিনে নেয়। আর সংস্কারের অভাবে প্রায় প্রতিটি খুপরি ঘরের চারদিকে ছেঁড়া চট, পলিথিন, চ্যাটাই ঝুলতে ঝুলতে চরম হতশ্রী আকার ধারণ করে গোটা পাড়া।অঞ্জলি সেই হতশ্রী দশা ঘুচিয়ে পাড়ার খোল নলচেই বদলে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু পাড়ার প্রতিটি পরিবার এগিয়ে না এলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। তাই সে পাড়ার লোকেদের নিয়ে মিটিং ডাকে।
সেখানেই তার পরিকল্পনার কথা সবিস্তারে খুলে বলে অঞ্জলি।পরিকল্পনা অনুযায়ী পাড়ার মধ্যস্থলের ছোট্ট পুকুরটির চারধার বাধিয়ে বসার বেঞ্চ সহ নানা সৌন্দর্যায়নেরও ব্যবস্থা সহ যৌথভাবে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হবে।সেই পুকুরটিকে ঘিরেই চারদিকে সবার জন্য তৈরি করা হবে শৌচাগার, রান্না খাওয়ার জায়গা সহ তিন কামরার একই রকমের ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি। থাকবে সজলধারা প্রকল্পের পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থাও। ওইসব বাড়ির ত্রিসীমানার মধ্যে পশু পালন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।পশুপালনের জন্য পাড়ার বাইরে যৌথ পশুখামার এবং সবজি বাগানেরও সংস্থান রাখা হয়েছে ওই প্রকল্পে। প্রতিটি পরিবার থেকে কেউ না কেউ পালাক্রমে ওই ফার্ম এবং সবজি বাগান দেখভাল করবে। বিনিময়ে যার যেমন প্রয়োজন সেই মাফিক সবজি, ডিম ,মুরগি -হাস নিতে পারবে। ভোজকাজের জন্য শুয়োর নেওয়া যাবে।
গ্রামের কচিকাঁচাদের জন্য অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রে বিনামূল্যে নিয়মিত সবজি আর সপ্তাহে ১ দিন ডিম কিম্বা মাংস সরবরাহ করা হবে। তারপর যা লাভ হবে তার মধ্যে ১০ শতাংশ পাড়ার মানুষের বিপদ আপদের জন্য জমা রাখা হবে। বাকিটা সবাই সমান হারে ভাগ পাবে। অঞ্জলির পরিকল্পনার কথাটা সবাই মন দিয়ে শোনে। কিন্তু সবাই একমত হতে পারে না। প্রথম আপত্তিটা আসে জায়গা নিয়ে। এমনিতেই সবাই সরকারি খাস জায়গায় বাস করছেন। কারও কোন বৈধ কাগজপত্রই নেই। কেউ একটু বেশি, কেউ কিছুটা কম জায়গা দখল করে রয়েছেন। যারা কম দখল করে আছেন তাদের নিয়ে সমস্যা না হলেও যারা বেশি অধিকার করে আছে তারা গোঁ ধরে বসেন। তারা জায়গা ছাড়তে রাজী হন না। অঞ্জলি তাদের বোঝায়, দেখুন আইনত এই জায়গা কিন্তু আপনাদের নয়, সরকারের। কারণ আপনাদের কোন পাট্টাও নেই। তাই সরকার চাইলে যে কোন সময় আপনাদের জায়গা বৃহত্তর কোন স্বার্থে নিয়ে নিতেই পারে।মানবিকতার কারণে হয়তো পুনঃবার্সন কিম্বা যেটুকু জায়গায় বাড়ি রয়েছে সেটুকু ছেড়ে দিতে পারে। কিন্তু আবাসন প্রকল্পে নাম লেখালে আপনারা সবাই একই রকমের বাড়ি পাবেন। পাবেন সেই বাড়ির কাগজও। আর উদ্বৃত্ত জায়গা তো পড়েই থাকবে। পরে যার যখন দরকার হবে তখন তার জন্য একই রকম বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। অঞ্জলির ওই কথা সবার মনে ধরে।শ্যামপদকাকা, হারান জ্যাঠারা বলেন, তাহলে তো কোন সমস্যা নেই। মোড়লের বাড়ির লোকেরাও কোন কথা বলে না। আসলে বাড়ির পাট্টার কাগজ পাওয়ার কথা শুনে কেউ আর আপত্তি তোলার কথা বলে নি। এতদিন তাদের মনের মধ্যেই উচ্ছেদের আশংকা কাজ করত সব সময়। সেটা দুর হতে চলেছে দেখেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসে সবাই। যৌথ খামার আর সবজি বাগান নিয়ে আপত্তি তোলেন অনেকে।চামটাকাকা , গোকুলকাকাদের মতো বেশ কয়েকজন প্রশ্ন তোলেন - সবার বাড়িতে তো সমান সংখ্যক লোক নেই। খাটার বেলায় সবাইকে সমান খাটতে হবে কিন্তু বড়ো পরিবারগুলো বেশি সবজি , ডিম , মাছ , মাংস পাবে। অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রে ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রেও তো তাই হবে। অঞ্জলি তাদের বোঝায় , সব ক্ষেত্রে অত সুক্ষ্ম হিসাব করলে চলে না। সরকার যেমন সবাইকেই তার পরিবার ভাবে তেমনি আপনারাও আমার নয়, আমাদের পরিবার ভাবুন , দেখুন হিসাবটা সহজ হয়ে যাবে। তাছাড়া আজ যাদের পরিবার ছোট রয়েছে কাল তাদের পরিবার বড়ো হবে না কে বলতে পারে ? ওই তো অবনীশকাকার ৭ মেয়ে আর কম্ফিকাকার ৩ ছেলে।অবনীকাকার মেয়েরা বিয়ের পর শ্বশুরঘর চলে গেলে তখন তো কম্ফিকাকার পরিবারই বড়ো হয়ে যাবে।
এবারের যুক্তিটাও নস্যাৎ করতে পারে না কেউ। তারপর সবাই দিনরাত এক করে কাজে নেমে পড়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বছর খানেকের মধ্যে পাল্টে যায় পাড়ার চালচিত্র।পুকুরকে মাঝে রেখে গড়ে ওঠে আদিবাসী ঘরনার সারি সারি খড়ের চালের মাটির বাড়ি। পাড়ার মহিলারাই সেইসব বাড়ির দেওয়ালে নীল রঙ করে নিপুন হাতে ফুটিয়ে তোলেন লতাপাতা, ময়ূর-ময়ূরী, ধামসা --মাদল কিম্বা আদিবাসী নাচের ছবি। তাল মিলিয়ে বাড়ি সামনে তৈরী করা হয় বাঁশের বেঞ্চ, দড়ির খাটিয়া। গড়ে ওঠে ছোট্ট উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রও। তার একদিকে সমন্বয় মঞ্চের অফিসের সামনে তৈরি হয় বাহারি ফুলের বাগান। অন্যদিকে অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র চত্বরের ছোট্ট পার্কে কচিকাঁচারা যেন সারাক্ষণ ফুল হয়ে ফুটে থাকে। তাদের কল কাকলিতে মুখর হয়ে থাকে সারা পাড়া। পাড়া থেকে কংক্রিটের রাস্তা গিয়ে অদুরের মোড়াম রাস্তায় মিশে যায়।
সেই রাস্তার দুধারে মাথা তুলে দোল খায় দেবদারু-ইউকেলিপটাসের সারি। দূর থেকে পাড়াটাকে এখন ছবির মতো মনে হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাঝে এখন একটাই কুঅভ্যাস মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় অঞ্জলির। সেটা হলো মদ্যপানের অভ্যাস। নতুন প্রজন্মের অনেকেই সমন্বয় মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর আর মদ খায় না।কিন্তু পুরনোরা এখনও মদ খেয়ে পাড়ার শান্তি নষ্ট করে। পাড়ার ছেলেদের সেটা বলতেই তারাই মদ রুখতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে। তারা ওইসব নেশারুদের সাফ জানিয়ে দেয় , পাড়ায় মদ তোলা তো দুরের কথা খাওয়াও চলবে না। মদ খেতে হলে বাইরে গিয়ে খেতে হবে আর নেশা ছুটি না হওয়া পর্যন্ত পাড়ায় ঢোকা চলবে না। মেয়েরাও মদ রুখতে এগিয়ে আসে। কারণ নেশার ধকলটা তো তাদেরই নিতে হয়। দেখা যায় ওই দাওয়াই ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এখন আর গ্রামে সালিশিসভা বসে না। পুলিশ-প্রশাসনেরও বিশেষ দরকার পড়ে না। নিজেরাই বসে ছোটখাটো সমস্যা মিটিয়ে নেয়। সংবাদমাধ্যমে ঘুরে ফিরে আসতে থাকে গ্রামের ঘুরে দাঁড়ানোর সংবাদ। তা দেখেই বার কয়েক পাড়া পরিদর্শনে আসেন বাইরের রাজ্য এবং কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি দল। তারাও ভূয়শী প্রশংসা করে কর্মযজ্ঞের। আর ডি,এম সাহেব তো প্রায়ই অন্যান্য ব্লকের বি,ডি,ও'দের নিয়ে এসে শ্রীপল্লীর মডলে গ্রাম গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। নেপথ্য কারিগর হিসাবে অঞ্জলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। অঞ্জলি তখন বিমলবাবু, আলাপন, তার দাদা-ভাই আর গ্রামের ছেলেদের পাশে ডেকে নিয়ে সবিনয়ে বলে , না স্যর আমি একা কিছু করি নি। আমরা সবাই তিল তিল করে সবকিছু গড়েছি। অঞ্জলির এই উদার্যে অভিভূত হয়ে যায় সবাই। এতদিনে যেন দম ফেলার অবকাশ পায় অঞ্জলি। কিন্তু ফের তাকে এক দমবন্ধ পরিস্থিতির সামনে পড়তে হয়।



No comments:
Post a Comment