Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

সালিশির রায় -- ৭৪




              সালিশির রায়


                          

        

                                    অর্ঘ্য ঘোষ

        (   কিস্তি --- ৭৪  )




ওসির ঘরে ঢুকেই চমকে যায় অঞ্জলি। টেবিলের উল্টো দিকের চেয়ারে বসা এ কাকে দেখছে সে ? ১০ বছর পরেও লোকটাকে এখানে দেখবে ভাবতে পারে নি সে। তাকে দেখেই কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে চেয়ে থাকে লোকটা। তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলে --- আরে তু ---
লোকটাকে কথা শেষ করতে দেন না আলাপনবাবু। মাঝপথেই হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে বলেন -- থাক থাক, একজন ভদ্রমহিলার সঙ্গে কি ভাবে কথা বলতে হয় তা ওই চেয়ারটাতে বসেও শেখেন নি ?
  --- কে রে তুই ব্যাটা লাটের বাঁট আমাকে কথা বলা শেখাতে এসেছিস ?  হাতের এই রুলারটা দেখেছিস, পিছনে ঢুকিয়ে যখন চার পাক ঘুরিয়ে দেব তখন মজা  টের পাবি শালা।
লোকটার ওই কথা শুনেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন আলাপনবাবু। সশব্দে টেবিল চাপড়ে বলেন , চোপ, আর বেশি এগোলে আপনার পিছনে বসার জন্য চেয়ারটা আর থাকবে না। দাঁড়িয়েই থাকতে হবে।
তারপরই আলাপনবাবু পকেট থেকে আই কার্ডটা বের করে লোকটার চোখের সামনে মেলে ধরেন। আর সেটা দেখেই থতমত খেয়ে ওঠে লোকটা। তারপর হাত কচলাতে শুরু করে। হাত কচলাতে কচলাতেই আমতা আমতা করে বলে , ও স্যার আপনি ?  আগে পরিচয় দেবেন তো স্যর। কিছু মনে করবেন না স্যার। প্লিজ, বসুন স্যার।
  --- বসতে আসি নি। একটা কাজের কথা বলতে এসেছিলাম। সেটা বলেই চলে যাব।
---- বলুন স্যার, কি করতে পারি আপনার জন্য ?
---- আমার জন্য আপাতত কিছুই করতে হবে না।এই ভদ্রমহিলাকে দেখছেন না, উনি আমাদের ডি,এম সাহেবের বিশেষ স্নেহধন্যা। ওনাকে এই এলাকায় রোল মডেল করে গ্রাম সেবিকার দায়িত্ব দিয়ে পাঠাচ্ছেন। ওনার কাজে সাহার্য্য করার জন্য  আমাকে আপনার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে বলেছেন।
  --- ও তো স্যর
--- ও নয়, উনি আমার ভাবী স্ত্রী।



                       অঞ্জলি লক্ষ্য করে ওই কথা শোনার পরই লোকটার মুখটা কেমন ঝুলে যায়। নিজের কানকেও যেন সে বিশ্বাস করতে পারে। সেদিনের সেই মেয়েটা কি করে এই রকম একটা অফিসারের হবু স্ত্রী  হতে পারে তা বোধ হয় ভেবে পায় না সে। তাই কিছু একটা বলার জন্য মুখ খোলার উপক্রম করতেই তার হাত ধরে ঘর থেকে বের করে  নিয়ে চলে আসেন আলাপনবাবু।তারপর আর কোন দিনে না তাকিয়ে মোটরবাইকে স্টার্ট দেন। থানা চত্বর ছাড়ার আগে অস্ফুটে বলেন --- রাসকেল একটা।
অঞ্জলি বুঝতে পারে আলাপনবাবু আজ সত্যি সত্যিই খুব রেগে গিয়েছেন। না হলে সচরাচর সে তার মুখে গালাগালি শোনে নি। তাই আলাপনবাবুর কোমরটা জড়িয়ে ধরে আরো একটু ঘন হয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলে, অ্যাই তুমি হঠাৎ এত রেগে গেলে কেন ? আসলে এই লোকটাই আমার ওই ঘটনার সময় মেজবাবু ছিল। তাই সেদিন যেমন ব্যবহার করেছিল , আজও তাই করতে চেয়েছিল। কি করে জানবে বলে আমি তোমার মতো অফিসারের বৌ হতে চলেছি।
  --- সেই জন্যই তো আমার মাথাটা গরম হয়ে গেল। সাধারণ মানুষের তো এদের কাছে কানাকড়ি মূল্য নেই। ইচ্ছে হচ্ছিল ঠাঁস ঠাঁস করে গালে কয়েকটা চড় কসিয়ে দিয়ে ডি,এম সাহেবের কাছে রিপোর্ট করে ইডিয়েটটার চাকরির বারোটা বাজিয়ে দিই।
অঞ্জলি বোঝে এ ব্যাপারে এখন যতই আলোচনা করবে ততই রাগ বেড়ে যাবে আলাপনবাবুর।
তাই সেই মুখ বাড়িয়ে আলতোভাবে আলাপনবাবুর গালে একটা চুমু খেয়ে বলে -- প্লিজ লক্ষীটি আর রাগ করে থেক না। রাগী রাগী মুখে তোমাকে একদম মানায় না।তাছাড়া ভেবে দেখ ডি,এম সাহেবকে রিপোর্ট করে তুমি হয়তো লোকটাকে সরাবে, কিন্তু যে আসবে সে"ও যে এই রকম হবে না তার নিশ্চয়তা কি আছে ? কত জনের বিরুদ্ধে তুমি রিপোর্ট করবে ? তার চেয়ে আমাদের নিজেদের সম্মান নিজেই আদায় করে নিতে হবে। তাই এখন ওইসব কথা ভুলে বরং আবৃত্তি করো শুনি। তার অনুরোধ ফেরাতে পারেন আলাপনবাবু। তার উদাত্ত
কন্ঠে উচ্চারিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ---
"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শতরূপে শতবার /
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার /
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার /
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার /
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার - - - --------------/
অঞ্জলিও গলা মেলায়। আবেগ বিহ্বল গলায় সেও আবৃত্তি করে -- 
আমরা দুজনে ভাসিয়া
এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে /
অনাদি কালের হৃদয় উৎস হতে /
আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা কোটি প্রেমিকের মাঝে /
বিরহবিধুর নয়ন সলিলে, মিলন মধুর লাজে /
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।।



                                              আবৃত্তি শেষ হলে কেউ কোন কথা বলতে পারে না। যেন এক অন্যরকম ভালোবাসার রেশ দীর্ঘক্ষণ নির্বাক করে রাখে দুজনকে। কেবল অঞ্জলির ঠোঁট ছুঁয়ে যায় তার প্রিয়জনের গাল।  নির্জন রাস্তায় সেই গালে তার ঠোঁট একের পর এক এঁকে চলে আলপনা। এক সময় দুজনেই গেয়ে ওঠে --- "তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা "। গান শেষ হওয়ার আগেই তারা পৌঁছে যায় সাবিত্রীদির বাড়ি। তাদের বাইকের আওয়াজ পেয়েই বেরিয়ে আসেন সাবিত্রীদিরা। তাদের হাত ধরে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যান। ভিতরে গিয়ে তারা তাড়াহুড়ো করে একসঙ্গে সাবিত্রীদিকে প্রনাম করতে যেতেই দু'জনের মাথায় ঢুঁ লেগে যায়। আর উ: বলে মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে  উঠতে যাওয়ার উপক্রম করতেই বৌদিরা হাততালি দিয়ে উঠেন। ছোট বৌদি তো এগিয়ে এসে বলেন , উহু , উঠো না উঠো না। এক ঢুঁয়ে শিং  বেরোবে। বলেই ফের দুজনের মাথায় হালকা করে ঢুঁ লাগিয়ে দিয়ে দেন। আর তারা পরস্পর পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায় অঞ্জলির।এইভাবে কতবার তারা একবার মাথায় মাথায় ধাক্কা লাগলে শিঙ বেরনোর ভয়ে আবার ঢুঁ নিয়েছে তার ঠিক করে নেই। তাদের ওইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে এবার বড়বৌদি গলা খাঁকারি দিয়ে বলেন, হয়েছে হয়েছে - শুভদৃষ্টিটা আজকেই সেরে না নিলেও চলবে।
বৌদির কথা শুনেই চট করে উঠে পড়ে তারা। সাবিত্রীদি আর দাদাদের সামনে ওই কথায় খুব লজ্জা পেয়ে যায় দু'জনে।তাই কেউ কোন কথা বলতে পারে না।সাবিত্রীদিই শেষ পর্যন্ত তাদের ওই পরিস্থিতিতে উদ্ধার করেন। বৌদিদের সোহাগ মিশ্রিত শাসনের সুরে বলেন, তোরা কিন্তু খুব দুষ্টু আছিস। সবসময় ছেলে--মেয়েদুটোর পিছনে অমন করে লাগিস কেন বলতো ?
বৌদিরা বলেন, তুমিই বা আমাদের এত খুঁত ধরো কেন বলতো ?  আমাদের তো ওদের সঙ্গে পিছনে লাগারই সম্পর্ক। তাই তো লাগি , আর ভবিষ্যতে ও লাগব।



                      বৌদিরা মুখে ওই কথা বলল বটে কিন্তু তখনকার মতো তাদের রেহাই দেন। আসলে বৌদিরা সম্পর্কে সাবিত্রীদির বৌদি হলেও বয়সে অনেক ছোট। তাই সাবিত্রীদিকে তারাও দিদি সম্বোধন করেন। আর সাবিত্রীদি তাদের তুই-তুই করে কথা বলেন। দাদারাও সাবিত্রীদিকে সমীহ করে চলেন। অঞ্জলি বুঝতে পারে এখন সাবিত্রীদিই এই পরিবারের কর্ত্রী হয়ে উঠছেন। কথাটা ভেবেই তার মন খুশিতে ভরে যায়। এই ঘটনায় সে'ই তো অণুঘটকের কাজ করেছিল। হঠাৎ বৌদিরা বলে বসেন ,  বেশ ওরা যখন বেলা পার করে এসেছে তখন শাস্তি হিসাবে আজ কিন্তু রাতটা কাটিয়ে যেতে হবে এখানে। চাইলে --- তারপর অঞ্জলির দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টি হানে। ইঙ্গিতটার অর্থ বোঝে অঞ্জলি। তাই মরমে মরে যায়  সে। অস্বস্তিকর ওই পরিস্থিতির হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেন আলাপনবাবু।
তিনি বলেন, কিন্তু বৌদি আজ তো সেই সুযোগ হবে না। আজ আপনাদের তিনটে সুখবর দিতে এলাম।
---- তিনটে সুখবর, একটা অঞ্জলি ভালোভাবে পাশ করেছে ,তাই তো ?
  ---- সে তো বটেই। চাকরিও পেয়ে গিয়েছে। আর শেষ সুখবরটা হলো আগামী মঙ্গলবার আমাদের বিয়ের দিন ঠিক হয়েছে।
আলাপনবাবুর কথা শেষ হয় না। বৌদিরা দুজনে এসে অঞ্জলির দুই হাত ধরে বলে, ওরে বাবারে এত বড়ো খরব কেমন এতক্ষণ চেপে রেখেছিল দেখ।সাবিত্রীদিও তখন বৌদিদের সঙ্গে তালে তাল মেলান। অনুযোগের সুরে বলেন, এই খবরটা আগে বলবি তো ?
অঞ্জলিও রাগ দেখিয়ে বলে, বারে বলার সুযোগ দেবে তবেই না বলব । আসার পর থেকেই তো বৌদিরা আমাদের নিয়ে পড়ে গেল।
সাবিত্রী বলেন , হয়েছে হয়েছে।আর এর ওর ঘাড়ে দোষ চাপাচাপি করতে হবে না। কই আমার কাছেটিতে একবার আয় তো  দেখি।
সেই কথা শুনে অঞ্জলি কাছে যেতেই সাবিত্রীদি নিজের গলা থেকে সোনার হারটা খুলে তার গলায় পড়িয়ে দেয়। অঞ্জলি বলে ওঠে -- না না, একি। আমি তোমার হার নেব কেন ?
---- কেন আমার হারটা বুঝি পচ্ছন্দ হয় নি ? না হওয়ারই কথা , পুরনো হালকা পাতলা বইতো নয়। তোর আর এই হার পড়ার দিন নেই তা জানি। কিন্তু তোর দিদির তো এর বেশি সামর্থ্যও নেই রে।
--- আমি কি তাই বলছি ? তুমি গলা খালি রেখে আমাকে হারটা দিয়ে দিলে তাই বলছি। হার পুরনো কি সরু তাতে কি'ই বা এসে যায়। যাতে তোমার আর্শিবাদ মিশে আছে তার চেয়ে আমার কাছে আর কি'ই দামি হতে পারে দিদি ?
---- আমার আর্শিবাদ তো সব সময়ই তোদের সঙ্গে রয়েছে। ক'দিন বাদেই তোর বিয়ে। তোর গলা খালি পড়ে থাকবে আর দিদি হয়ে আমি পড়ে ঘুড়ে বেড়াব ?



                     আর কেউই কোন কথা বলতে পারে না। অঞ্জলি আর সাবিত্রীদির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে জলের ধারা।এক আবেগ ঘন পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়। তারই মধ্যে এসে পড়েন অমলবাবুও। বিয়ের খবর শুনে তিনিও মহাখুশী।
বলে ওঠেন, তাহলে তো আমরা একদিন আগে থেকেই হোমে কবজি ডুবিয়ে খেতে হাজির হয়ে যাব। শুনে সাবিত্রীদি কপট শাসনের সুরে বলেন, খুব না ?  খাওয়া করাচ্ছি। আমাদের এখানেই বৌভাত হবে। মঙ্গলবারেই  বিয়ে। আজ থেকেই সব কোমর বেধে নেমে পড়তে হবে। শুনে অমলবাবু আহ্লাদে আরও আটখানা হয়ে বলেন -- এতো আরও ভালো হলো। ঘুরব--ফিরব আর যখন যেটা ইচ্ছে হবে খাব।
অঞ্জলির খুব ভালো লাগে। তাদের বিয়ে ঘিরে অনাত্মীয় এই মানুষগুলোর উচ্ছাস তাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু এরা কি আদৌ আর তার অনাত্মীয় আছেন ? স্নেহ ভালোবাসায় সবাই তো আজ তার আত্মার আত্মীয় হয়ে উঠেছেন। রক্তের সম্পর্কের থেকে তা কোন অংশেই কম নয়।কিছুক্ষণ পর আরও একবার তা প্রমান হয়ে যায়। বিদায় নেওয়ার আগে আলাপনবাবু বৌভাতের খরচ বাবদ বড়দার হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে গিয়ে চরম শিক্ষা পান। কিছুটা অভিমানের সঙ্গে বড়দা  বলেন , ভাই কেন আমাদের আবার লজ্জায় ফেলছ ? নিজের বোনের বিয়ের সময় আমরা কসাই ছিলাম ঠিকই। তার জন্য অহরহ অনুশোচনা ভোগ করি। তাই ভালো কিছু একটা করে মনটাকে শান্ত করতে চায়। অঞ্জলি তো আমাদের আর একটা বোন। ওর সুখের জন্য যদি কিছু করতে পারি তাহলে একটু শান্তি পাবো। আমাদের সেই সুযোগটুকু দাও।
কেউ আর কোন কথা বলতে পারে না। সবার চোখই জলে ভরে ওঠে। মোটরবাইকের চাকা গড়াতেই ভেসে আসে দুই বৌদির গলা -- আমরা প্রথমদিন যে কথা বলেছিলাম তা মিলে গেল কিন্তু।
অঞ্জলি কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই মিলিয়ে যায় বৌদিদের কথার রেশ। আর তারা টুকটাক গল্প করতে করতে শ্রাবণীর বাড়ি পৌঁছোয়। সন্দীপ তখন বাড়িতে ছিল না। তাই মাসীমাকে প্রনাম করে তারা বিয়ের দিন হোমের যাওয়ার নিমন্ত্রণ করে। মাসীমা বলেন, শুনে খুব খুশী হলাম মা। আর শ্রাবণী তো ছাড়তেই চায় না। বিয়ের পর তাদের বাড়িতে রাত্রিবাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তবে ছাড় পায় তারা। শ্রাবণী বলে, সেদিন কিন্তু সারারাত গল্প হবে। জবাবে আলাপনবাবু বলেন, সে না হয় হবে। কিন্তু তোমাকে তো সোমবারেই যেতে হবে। তুমি গেলে অঞ্জলির পক্ষে কেনা কাটা করা অনেক সুবিধা হবে।
---- সে তো আপনি বলছেন। যার সুবিধা হবে সে তো কিছু বলছে না।
তখন অঞ্জলি বলে -- বোনকে বুঝি সবেতেই নেমতন্ন করে বলতে হবে ? দিদির প্রতি তার বুঝি কোন কর্তব্য নেই ?
--- আছে কিনা  সেটা আর প্রমান করার সুযোগ পেলাম কই। নিমন্ত্রণ করতে না এসে দেখলে না কেন, আমরা যায় কিনা।
--- সে বিশ্বাস আমার আছে। আমি ভুল করলে আমার বোনটা যে অভিমান করে বসে থাকতে পারবে না তা আমি ভালোই জানি।  তারপর তারা দুজনে শ্রাবণীর বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে আসে।  দিনভর ঘোরাঘুরি করে খুব ক্লান্ত লাগে অঞ্জলির। মোটর বাইকে উঠে আলাপনবাবুর পিঠে মাথা এলিয়ে গুন গুন সুরে গান করে। আলাপনবাবু মাঝে মধ্যে তার সঙ্গে গলা মেলান। ওই ভাবেই একসময়  পৌঁছে যায় হোমের গেটে।

        

      ( ক্রমশ )




        নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


                   শীঘ্রই আসছে 

           ধারাবাহিক নাটক ----                                 

                                                               


                                    

                -----০----

   
     

No comments:

Post a Comment