Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

আলোর ঠিকানা -- ৯










                                                             


                             

ধারাবাহিক  নাটক



 নেতাবাবুদের অফিসঘরে 

 বন্দী নারীর ইজ্জত

মনের ভিতর গুমরে কাঁদে  মর্মযন্ত্রণা 

তাইতো খুঁজছি সবাই নয়া সমাজের


     ‘ আলোর ঠিকানা ’




           রচনা :- অর্ঘ্য 
ঘোষ


             নবম দৃশ্য



( স্থান- নাইট স্কুল ।  সেখানে ডায়াসে পাশাপাশি বসে রয়েছে বিপুল এবং সুচরিতা )

বিপুল- আজ তো স্কুল ছুটি ।  ছেলেমেয়েরা আসবে না । তুমি আজ আবার কষ্ট করে এলে কেন ? 

সুচরিতা- কষ্ট না করলে কেষ্টঠাকুরকে তো একা পেতাম না ।

বিপুল- তাই বুঝি ?

সুচরিতা- হ্যাঁ গো মশাই হ্যাঁ  , তোমার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য আমি সব কষ্ট স্বীকার করতে আমি রাজি আছি। দিনান্তে একবার তোমার মুখটা দেখার জন্য আমি ছুটে আসি । 

বিপুল-কেন গো ?  

সুচরিতা- কেন বোঝ না ?  ( বলে গান শুরু করে )  " তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়" (  দুজনে কখনও
ডায়াসে বসে , কখনও দাঁড়ায়। কখনও সুচরিতার কোলে  মাথা রেখে শোয় বিপুল )

বিপুল- সত্যি তুমি গানটা বড় ভাল গাও সুচি । আমাদের বিয়ের পর সারাদিন কাজের শেষে আমি যখন ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসব তখন তোমার কোলে মাথা রেখে  এমনি ভাবেই গান শুনব। শোনাবে তো সুচি ? 

সুচরিতা- শোনাব গো শোনাব । আমার জীবনের সব গান যে তোমাকে ঘিরেই । তুমিই যে আমার স্বপ্নের সওদাগর । কবে তোমার ময়ুরপঙ্খী নাও আমার ঘাটে এসে ভিড়বে আমি যে কুলে বসে তারই প্রতীক্ষা করছি।

বিপুল- আর তুমি আমার বনলতা সেন ।

সুচরিতা- বনলতা সেন ? 

বিপুল- ( সুচরিতার কোলে শুয়ে আবৃত্তি ) 

'" চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা ,

   মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য , অতিদুর সমুদ্রের ' পর

    হাল ভেঙে যে- নাবিক হারায়েছে দিশা 

   সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি- দ্বীপের ভিতর ,

   তেমনি দেখছি তারে অন্ধকারে ; বলছে সে ,  ' এতদিন কোথায় ছিলেন ? ' 

   পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সুচরিতা- অপূর্ব ,  কার লেখা ?

বিপুল- নির্জনতার কবি জীবনানন্দ দাসের । বইটা এনে দেব , পড়ে দেখবে আরও ভালো লাগবে ।

    ( নেপথ্যে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যায় । সুচরিতার কোল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়  বিপুল )

সুচরিতা-কি ব্যাপার বলতো ? 

বিপুল- কিছু বুঝতে পারছি না ,  দীপ্তর আসার কথা ছিল ওরই কোন বিপদ হল না তো ?

               ( সেই সময় কপালে হাত চেপে ছুটতে ছুটতে দীপ্তর প্রবেশ । তার কপাল থেকে রক্ত ঝরে পড়ে )

বিপুল- এ কি কাণ্ড ?  কারা করল এমন ? 

দীপ্ত- মানুষকে ভাল বাসার উপহার । 

বিপুল -- মানে ? 

দীপ্ত -- সব কথার কি মানে হয় ? হয় না , তাই মানে জানতে চেও না । 

সুচরিতা- ইসঃ কপাল তো অনেকটাই কেটে গেছে ,  দেখি দেখি ( বলে কাপড়ের আঁচল ছিড়ে বেঁধে দেয় )

            ( ছুটতে ছুটতে পরমেশ,মৃত্যুজ্ঞয়,স্পন্দন , ওসমান আলির প্রবেশ )

মৃত্যুজ্ঞয়- ছেলেটার কে এমন দশা করল বলুন তো মাস্টারমশাই ? 

পরমেশ- সংবাদ মাধ্যম গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ স্বরূপ । যারা সেই গণতন্ত্রের  কণ্ঠরোধ  করতে চায় একাজ তাদেরই ।

ওসমান- একবার তুমি তাদের নাম বলো ভাই ।এই হাত দিয়ে ( দুই হাত মুঠো করে তুলে ধরে) তাদের টুঁটি ছিঁড়ে আনি ।

দীপ্ত - শান্ত হও ওসমান ভাই  , তুমি শান্ত হও ।

স্পন্দন- তোমার কপাল ফেটে রক্ত ঝড়ছে আর তুমি বলছ শান্ত হতে ? 

বিপুল - কারও  নাম বলতে না চাও তো জোর করব না কিন্তু পুলিশের কাছে তো একটা অভিযোগ জানাতে হবে । 

দীপ্ত- কি লাভ হবে তাতে  ? কিছু সাধারণ মানুষ ফেঁসে যাবে। উকিল আর পুলিশের পাল্লায় পড়ে ঘটিবাটি বিকিয়ে রাস্তায় দাঁড়াবে তারা। আর আসল অপরাধীরা হাসবে ।

স্পন্দন- বুঝেছি , এ শালা ওই কাঠিকেষ্ট কৃষ্ণধনদের কাজ । ওরাই মদ খাইয়ে কাউকে দিয়ে এই কাজ করছে । 

ওসমান- ওই শালাদের আমরা ছাড়ব না ? 

দীপ্ত - কি করবে  ? 

স্পন্দন- তোমার যতটুকু রক্ত ওরা ঝরিয়েছে তার  পাঁচগুণ রক্ত ঝড়িয়ে ছাড়ব ওদের ।

দীপ্ত- ওইসব করতে যেও না ।  তাতে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ওরা তোমাকে জেলে পচিয়ে মারবে । সুস্থ জীবনে আর ফিরতে দেবে না।

মৃত্যুজ্ঞয়- বাবা তোমার আর রিপোর্টারি করে কাজ নেই । ওরা তোমাকে খুন করে ফেলবে । 

দীপ্ত- না কাকাবাবু তা হয় না ,  যেদিন এই পেশায় ঢুকেছি সেইদিনই জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য ব্রত নিয়েছি ।

মৃত্যুজ্ঞয়- তোমার কিছু হয়ে গেলে আমাদের পাশে কে দাঁড়াবে বাবা ?

দীপ্ত- চিন্তা করবেন না কাকাবাবু , সত্য উদঘাটনের জন্য যদি আমার মৃত্যু হয় সে মৃত্যু হবে গর্বের। তাছাড়া আরও অনেক দীপ্তকে আপনারা পাশে পাবেন কাকাবাবু। 

সুচরিতা- তাহলে কি কিছুই করার নেই দীপ্তদা ?

পরমেশ- এমন একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কি  কিছুই করার নেই ? 

দীপ্ত- আছে  , মাস্টারমশাই আছে । মানুষের দরবারে ওদের এইসব অপকর্মের কথা তুলে ধরতে হবে । গড়ে তুলতে হবে সচেতনতা বোধ। সচেতনতাবোধই  গণ প্রতিবাদ আর গণ প্রতিরোধের জন্ম দেবে। সেই গণ প্রতিবাদ  আর গণ 
প্রতিরোধের ধাক্কায় ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে কুচক্রীদের রাজ্যপাট।

স্পন্দন- তবে তাই হোক । 

বিপুল- আজ থেকে একটি সুন্দর গঠনই হোক আমাদের ব্রত ( একসঙ্গে সবাই হাতে হাত রাখে ) ।

পরমেশ-যে সমাজে রুটি রুজির জন্য নারীকে বিকিয়ে দিতে হবে না তাদের ইজ্জত । 

সুচরিতা- যে সমাজে প্রতিটি শিশু পাবে পুষ্টি , স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার অধিকার ।

মৃত্যুজ্ঞয়- যে সমাজে মনুষ্যত্বই হবে মানুষের একমাত্র পরিচয় । 

সকলে একসঙ্গে -  তেমনই সমাজ গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ হলাম ।

                    ( সমবেত  গান ) 

         "  হাতে হাত রেখে মিলি এক সাথে

          আমরা আনিব নতুন ভোর ।

          উষার দুয়ারে হানি আঘাত ,

         আমরা আনিব রাঙা প্রভাত

         আমরা টুটাব তিমির রাত

            বাধার বিন্ধ্যাচল

         চলরে চল চলরে চল " ।



        ( আলো নিভে আসে )


                 (  চলবে )


         নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 



    





                      --------০--------

No comments:

Post a Comment