( কিস্তি --- ৭৭ )
আলাপনবাবু একাই একের পর এক আবৃত্তি করে জমিয়ে দেন বাসর রাত। শ্রাবণী , সঞ্চিতারা সব মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনে সেই সব আবৃত্তি। আবৃত্তি শেষ হয়ে গেলেও যেন বেশ কিছুক্ষণ রেশ থেকে যায় ঘরে। সবাই যেন মোহাচ্ছন্ন হয়ে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।একসময় শ্রাবণী বলে ওঠে -- জামাইবাবু আপনি এত সুন্দর আবৃত্তি করেন , আমাদের কই শোনান নি তো আগে। সব কি এতদিন একা দিদিকেই শুনিয়েছেন বুঝি ?
আলাপনবাবু প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়ে বলেন , তোমার দিদিও কিন্তু আমাকে অনেক গান শুনিয়েছে। খুব ভালো গায় ও।
আর যাই কোথাই ? শ্রাবণীরা অঞ্জলিকে চেপে ধরে, কই তুমিও তো আমাদের কোনদিন শোনাও নি গান। শোনাও শোনাও, আজ আর ছাড়ছি না তোমায়।
অগত্যা তাকেও একের পর এক গাইতে হয় সাঁওতালি গান। তার গান শুনেও শ্রাবণীরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। তাই শুনে আলাপনবাবু বলেন , কি ঠিক বলেছিলাম তো ? তোমাদের দিদিও গুণী মানুষ।
অঞ্জলি বলে -- গুণী না আরও কিছু, আপনি না ---
তার কথা শেষ হতে দেয় না শ্রাবণীরা। সমস্বরে বলে ওঠে -- উহু উহু , আর আপনি -- আজ্ঞে চলবে না। তুমি বলা শুরু করো।
তবু অঞ্জলি চুপ করে থাকে। দুজনে একান্তে তুমি-তুমি করে কথা বললেও এতদিন সে সবার সামনে আপনি--আজ্ঞে করেই কথা বলে এসেছে।
তাই তার খুব লজ্জা করে।কিছুতেই সে সবার সামনে তুমি বলতে পারবে না। কিন্তু শ্রাবণীরাও ছাড়বার পাত্রী নয়। বার বার তাকে নাড়া দিয়ে বলতে থাকে -- কই কি হোল বলো ?
অগত্যা সে দুহাত দিয়ে মুখ চাপা দিয়ে কোন রকমে উচ্চারণ করে --- তু ---
আর তখন শ্রাবণী তার মাথায় আলতো করে চাঁটি মেরে বলে, আর মি ' টা কে বলবে ?
সেই চাঁটি খেয়েই অঞ্জলি বলে ওঠে -- তুমি।
আর সবাই চিৎকার করে ওঠে --- বলেছে ,বলেছে, তুমি বলেছে।
অঞ্জলি চেয়ে দেখে আলাপনবাবু আবেশ ভরা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার দিকে। তারও বিয়ের সাজে প্রিয় মানুষটার দিকে চেয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু সবার সামনে লজ্জায় তা পারে না সে। তাই মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেটা চোখ এড়ায় না শ্রাবণীর। তাই সে আবার তাকে নিয়ে পড়ে। তার মুখটা আলাপনবাবুর দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলে, অমনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেই হবে ? আরও একটা কাজ বাকি আছে, সেটা যে তোমাকে বরের মুখের দিকে চেয়েই করতে হবে।
অঞ্জলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে শ্রাবণীর মুখের দিকে চায়।
শ্রাবণী বলে, ভয় পেতে হবে না কাজটা এমন কিছু কঠিন নয়। জামাইবাবু তোমাকে যে অঞ্জু বলে ডাকেন তা আমরা শুনে ফেলেছি।
কিন্তু তোমাকেও তো তাকে একটা নামে ডাকতে হবে। অত বড়ো একজন অফিসারের গ্রামসেবিকা বৌয়ের ওগো ,হ্যা গো বলা তো আর মানাবে না।
সঞ্জিতারাও শ্রাবণীর সঙ্গে গলা মেলায় -- ঠিক বলেছো শ্রাবণীদি। অঞ্জুদি বলো তুমি জামাইবাবুকে কি নামে ডাকবে ঠিক করেছো।
এবারে আর বেশি চাপাচাপি করতে হয় না অঞ্জলিকে। তার মুখ থেকে আপনা থেকেই বেরিয়ে আসে ' আলো '।
আর আসবেই না বা কেন ? এ নামেই যে তার প্রেমাস্পদকে সে হাজারদুয়ারীর সেই রাতে ডেকেছিল।তার অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনটাকে ওই মানুষটাই তো আলোর ঠিকানায় পৌঁচ্ছে দিয়েছেন। তার মুখে নামটা শুনে সবাই বলে ওঠে, বাঃ সার্থক নাম। তুমি কি আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলে তাই না ?
ঘাড় নাড়ে। কিন্তু খোলসা করে বলতে পারে না আসল কথা। শ্রাবণীরাও আর জোর করে না। অঞ্জলি দেখতে পায় তার উপর এসে পড়েছে আলোর মুগ্ধতা। ওইভাবেই হাসি ঠাট্টায় এক সময় রাত ভোর হয়ে আসে। আর ব্যস্ততা ছড়িয়ে পড়ে সবার মধ্যে।কিছুক্ষণের মধ্যেইএসে পড়বে মিনিবাস। তখন তাদেরও বেরিয়ে পড়তে হবে সাবিত্রীদির বাড়ির উদ্দেশ্যে।
তারা প্রস্তুত হতে না হতেই গেটের বাইরে মিনিবাসের হর্ণ বেজে ওঠে। আলাপনবাবু জনে জনে তাড়া দিয়ে সবাইকে বাসে গিয়ে তোলেন। সবাই অঞ্জলি আর আলোর জন্য পাশাপাশি একটা সিট ছেড়ে রাখে। সবার সামনে এক সঙ্গে বসতে কেন যেন আড়ষ্টতা লাগে অঞ্জলির। তার আড়ষ্ট ভাব লক্ষ্য করে শ্রাবণী এসে আলাপনবাবুর পাশে তার হাত ধরে বসিয়ে দিয়ে যায়।তারপর শ্রাবণী দিদির পাশে গিয়ে বসে।অঞ্জলি লক্ষ্য করে শ্রাবণীর সঙ্গে চুপিচুপি কি যেন আলোচনা করছে দিদি। বাসটা তখন শহর ঢুকছে। হঠাৎ ড্রাইভারকে বলে বাস দাঁড় করিয়ে ' একটু আসছি ' বলে দিদি আর শ্রাবণী নেমে যায়। কিছুক্ষণ পরেই বেশ কিছু ফুলমালা আরও কিছু টুকিটাকি জিনিসপত্র নিয়ে ফেরে তারা।শ্রাবণী সেগুলো আলাপনবাবুর মুখের সামনে তুলে ধরে বলে, এই যে মশাই আপনাদের ফুলশয্যা সে খেয়াল আছে? ফুল - তত্ত্ব না হলে সেটা হবে কি করে ? যেখানে যাচ্ছি সেখানে তো আর বাজার নেই , তখন ফুল ছাড়াই যে শয্যা করতে হবে।বলে অঞ্জলির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টি হেনে দিদির পাশে গিয়ে বসে শ্রাবণী। আর অঞ্জলি ফুলশয্যার কথা ভেবে লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। পুলকানুভূতিতে ভরে যায় মন। সব মেয়েই তো এই দিনটার জন্য প্রতীক্ষায় থাকে। কত রকম কল্পনা করে রাখে। সে'ও তার ভালোবাসা মানুষটাকে নিয়ে এতদিন সেই কল্পনারই জ্বাল বুনে এসেছে। সেইসব কথা ভাবতে ভাবতেই সাবিত্রীদিদের বাড়িতে পৌঁচ্ছে যায় তারা।
বাড়ির দরজায় পা রাখতেই অবাক হয়ে যায় অঞ্জলি। বোঝাই যায় না অনাত্মীয় কোন মেয়ের বিয়ে হচ্ছে বাড়িতে।বরং আড়ম্বর - আয়োজনে মনে হয়ে যেন বাড়ির আদরের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। সানাই -- প্যাণ্ডেল -- হাঁক ডাকে জমজমাট বিয়ে বাড়ি। সাবিত্রীদির দুই দাদা কোমরে গামছা বেঁধে রান্না বান্নার তদারকি করছেন। দুই বৌদি আর সাবিত্রীদি এগিয়ে এসে তাদের নিয়ে গিয়ে ঘরে বসায়। ততক্ষণে অরুণস্যার আর সুব্রতবাবু পৌঁচ্ছে গিয়েছেন। তারাও অঞ্জলির সঙ্গে একবার দেখা করে গিয়ে বিয়ের তদারকিতে মেতে উঠেন। সাবিত্রীদির সেল্ফ হেল্ফ গ্রুপের মেয়েরা এসে তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসে। তারা একটা আদিবাসী দম্পতির সুন্দর স্ট্যাচু উপহার দেয়।তার তো ভালো লাগেই , আলোরও খুব পচ্ছন্দ হয়ে যায়। গ্রুপের মেয়েদের বলেন --- দিদির কথা ভেবেই বুঝি আদিবাসী দম্পতির স্ট্যাচু পচ্ছন্দ করেছো তোমরা ?
---- কেন আপনার পচ্ছন্দ হয় নি ?
--- না না, খুব সুন্দর স্ট্যাচুটা। আমাদের বসার ঘরে সাজিয়ে রাখব।
অঞ্জলি লক্ষ্য করে আলো খুব দ্রুত লজ্জা কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।অনায়াসে কেমন বলে দিল আমাদের বসার ঘরে। কথাটা শুনে তার খুব ভালো লাগে। হোমের মেয়েদের সঙ্গে গ্রুপের মেয়েদের পরিচয় করিয়ে দেয় অঞ্জলি। পরিচয় পর্ব শেষ হতেই ওরা পুকুরে স্নান করতে যাওয়ার বায়না ধরে। অঞ্জলি চোখ পাকিয়ে না করে দেয়। সঞ্চিতারা অভিমানে ঠোট ফুলিয়ে বলে -- কেন গেলে কি হবে ? এমন সুযোগ তো আর পাব না। দাও না গো দিদি যেতে।
--- হোম থেকে তোদের নিয়ে এসেছি। কোথাও কিছু অঘটন ঘটলে ডি, এম সাহেবকে জবাবদিহি করতে হবে আমাকে।
এবারেও সঞ্চিতা বাচ্চা মেয়েদের মতো -- উহু--হু করে ওঠে। সঞ্চিতাদের ছেলেমানুষি করতে দেখে শেষপর্যন্ত আলোই বলে ওঠে -- যাক না , এত করে বলছে যখন। কিছু হবে না।
আলোর কথা শেষ হয় না। সঞ্চিতারা সবাই চিৎকার করে ওঠে --- জিও স্যার জিও।
স্যরি, স্যর নয় জামাইবাবু। আর কিন্তু আমরা আপনাকে স্যর বলতে পারব না। দিদিকে যখন বিয়ে করছেন তখন জামাইবাবুই বলব কিন্তু।
তারপর গামছা - কাপড় , সাবান-শ্যাম্পু নিয়ে তাকে দেখিয়ে বুড়ো আঙুল নাড়াতে নাড়াতে বেরিয়ে যায় ওরা। আর তা লক্ষ্য করে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে আলাপন। তাকে হাসতে দেখে অঞ্জলি কপট রাগের ভাব দেখিয়ে বলে, বাহ তোমার আশকারা পেয়ে ওরা আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ওইভাবে আঙুল নাড়িয়ে চলে গেল , আর তাই দেখে তুমি হাসছ ?
তার কথা শুনে এবারে শব্দ করে হেসে ওঠে আলাপন। অঞ্জলি তত রেগে ওঠে। রেগে রেগেই বলে , তোমার তো হাসি পাবেই।
আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলেও তোমাকে তো জিও বলেছে।
--- আরে তুমি ভুল বুঝছো। ওরা তোমাকে নিজের দিদির মতোই ভালোবাসে, মান্য করে। তা ছাড়া আমাকে কেউ জিও বললে বুঝি তোমার ভালো লাগে না, হিংসা হয় ? তোমার প্রংশসা করলে আমার কিন্তু গর্বে বুকটা ভরে যায়।
অঞ্জলি দেখে নিজের কথার জালে সে নিজেই জড়িয়ে পড়েছে। তাই কথা ঘোরাবার জন্য বলে-- তা নয়, তুমি ওদের যেতে দিলে কেন ?
---- যেতে দিলাম কারণ তিনদিন ধরে তোমাকে কিছুতেই একা পাচ্ছিলাম না। কেউ না কেউ ঘিরে থাকছিল। নতুন বিয়ে করা বৌটাকে দুচোখ ভরে যে একটু দেখব তার সুযোগ
পাচ্ছিলাম না। তাই তোমাক একা পাওয়ার সুযোগটা কাজে লাগাতেই ওদের যেতে দেওয়ার কথা বলেছি।
---- আর তর সইছে না বুঝি ?
--- সইছেই না তো। টানা ৯ টা বছর তোমার জন্য প্রতীক্ষা করে আছি। সাধকদের তাদের আরাধ্যাকে পেতে এতদিন সাধনা করতে হয় কি না কে জানে ?
---- হয় মশাই হয়, বছরের পর বছর গুহা-জঙ্গলে কিম্বা বরফের উপর তাদের সাধনা করতে হয়।
তাদের কথার মাঝে এসে পৌঁছোন দুই বৌদি। তার মধ্য ছোটবৌদি অঞ্জলির গাল টিপে দিয়ে বলে, কি সুন্দর মানিয়েছে গো দুজনকে। যারা দেখছে সবাই বলছে রাজযোটক। আর বড়বৌদি বলেন, কি ভাই মিলল তো ? প্রথম দিন দেখেই কি বলেছিলাম মনে আছে তো ? সেই কথা মনে পড়তেই আবার অঞ্জলির মুখে রক্ত জমে উঠে। সে মুখ নামিয়ে নেয়। আর দুই বৌদি তার চিবুক ছুঁয়ে চুমু খেয়ে বলে, লজ্জা কি ভাই? তোমরা পরস্পরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছো, এতে তো লজ্জার কিছু নেই। তোমরা গল্প করো। যাই দেখি এবার খাওয়া শুরু হবে।
একটার পর একটা ব্যাচ খাওয়া হয় আর দুঃশ্চিন্তা শুরু হয় অঞ্জলির। শেষ ব্যাচের খাওয়ার আগে পর্যন্ত সঞ্চিতারা না ফেরায় উদ্বিগ্ন দেখায় আলাপনকেও। সঞ্চিতাদের খোঁজে অমলবাবুকে পাঠানোর তোড়জোড় করতেই বাড়ির বাইরে ওদের গলা শোনা যায়। অঞ্জলি দেখতে পায়, কেউ কয়েদবেল, কেউ আখ আবার কেউ বা অইরি কলাই চিবুতে চিবুতে বাড়ি ঢুকছে। খুব রাগ হয়ে যায় যার অঞ্জলির। আচ্ছা করে দু'কথা শুনিয়ে দেওয়ার উপক্রম করতেই ওরা এগিয়ে এসে বলে , দিদি কি বলব ? মনে হচ্ছিল যে যেন ফেলে আসা সেই ছোটবেলাটাতেই ছিলাম এতক্ষণ। সেই জন্যই তো ফিরতে এত দেরি হয়ে গেল। প্লিজ দিদি রাগ কোর না।
আর ওদের বকতে পারে না অঞ্জলি। যেন নিজের ছোটবেলাটাই ভেসে ওঠে চোখের সামনে।তাই কিছুটা প্রচ্ছন্ন পশ্রয়ের সুরে ওদের বলে -- খুব ভালো করেছো। এখন তাড়াতাড়ি সব তৈরি হয়ে এসো দেখি। তোমাদের জন্য এখনও আমাদের কারও খাওয়া হয় নি। ওরা আসতেই শেষ ব্যাচে বাড়ি আর কাজের লোকেদের সঙ্গে খেতে বসে তারা সবাই। খেতে খেতেই ঠিক হয় আজ আর কেউ বাড়ি যাবেন না। কাল সকালে সঞ্চিতারা হোমে ফিরে যাবে। অঞ্জলি আর আলাপনকে তো সমন্বয় মঞ্চের অনুষ্ঠানে গ্রামে যেতে হবে। তাদের গাড়িতেই দিদি , জ্যেঠু আর অরুণস্যররা দিব্যি চলে যেতে পারবেন।খাওয়া--দাওয়ার পর কেউ ক্লান্তিতে গা গড়ায়, কেউ বা তাস পিটতে বসে , অঞ্জলি আর আলাপন আগামী কালের অনুষ্ঠান নিয়ে অরুণস্যর আর জ্যেঠুদের নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠে। শ্রাবণী -- সঞ্চিতারা যায় ফুলশয্যার খাট সাজাতে। সাবিত্রীদির ঘরে তাদের ফুলশয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রাবণীরা তাকেও ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। লজ্জায় সে যেতে পারে নি। কালকের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওদের হাত থেকে রেহাই পাই সে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ওরা এসে আলাপন আর তাকে হাতে ধরে নিয়ে যায় ফুলশয্যার ঘরে। ঘরে ঢুকেই অঞ্জলির চোখ জুড়িয়ে যায়। কেমন যেন একটা মোহময় পরিবেশ। সারা ঘর রজনীগন্ধার সুগন্ধে মৌ --মৌ করছে। রজনী গন্ধার মালায় খাটটাকে মনে হচ্ছে যেন একটা মন্দির। বিছানার উপরে ছড়ানো রয়েছে গোলাপের পাপড়ি। ওই খাটেই আজ তাদের ফুলশয্যা হবে।সে একান্ত করে পাবে তার প্রিয় মানুষটাকে।সেই কথা ভেবেই মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে অঞ্জলি। সেটা লক্ষ্য করে শ্রাবণী এসে তাকে নাড়া দিয়ে বলে-- কি গো এখন থেকে ফুলশয্যার কথা ভাবতে শুরু করে দিলে নাকি ?
অঞ্জলি বলে -- যাঃ কি যে বলিস না তুই ?
শ্রাবণীকে যাঃ বলে এড়িয়ে গেলেও বাকি সময়টুকু ফুলশয্যার কথা ভাবতে ভাবতেই কেটে যায় অঞ্জলির।সবার খাওয়া-দাওয়ার পর বৌদিরা থালার উপরে এক গ্লাস দুধ, মিস্টি আরপান দিয়ে কানে কানে সেদিনের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করে ঘরের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যায় তাকে। সে ঘরের দরজায় পা রাখতেই বেজে ওঠে আলাপনের ফোন।



No comments:
Post a Comment