Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

আলোর ঠিকানা -- ১১




                                                             


                             

ধারাবাহিক  নাটক



 নেতাবাবুদের অফিসঘরে 

 বন্দী নারীর ইজ্জত

মনের ভিতর গুমরে কাঁদে  মর্মযন্ত্রণা 

তাইতো খুঁজছি সবাই নয়া সমাজের


     ‘ আলোর ঠিকানা ’




           রচনা :- অর্ঘ্য 
ঘোষ



               একাদশ দৃশ্য





 ( স্থান- ভবতারণের বাড়ি । সেখানে ছাতনাতলায় বিয়ের পিঁড়িতে  কনের সাজে একদিকে সুচরিতা অন্যদিকে বর সাজে কালীরাম । কন্যাকর্তার আসনে মাথা নিচু করে ভবতারণ । বরকর্তার আসনে হরিসাধন । সুচরিতা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে । চেয়ারে বসে রয়েছে প্রলয় , কৃষ্ণধন । দাঁড়িয়ে তদারকিতে ব্যস্ত ক্ষান্তমণি ) ।

সুচরিতা- এ বিয়ে আমি কিছুতেই করব না ।  যেদিকে দু'চোখ যায় চলে যাব । ( বলে উঠে চলে যাওয়ার উপক্রম করে । আর তাকে টিপে ধরে ফের পিঁড়িতে বসিয়ে দেয় ক্ষান্তমণি )

ক্ষান্তমণি - তুই তো কববিই , আমি চাইলে তোর মরা বাপও এসে ঘাড় কাত করে  বিয়ে করবে।বস বলছি হারামজাদী । 
                       ( বলে সুচরিতাকে  টিপে ধরে থাকে )

কালীরাম - মানবে না বললে তো হোবে না সোন্দরী। হামি তোমাকে সাদিী করে লিয়ে যাবে বলে চারদিন ধরে পরসান করে বাঙাল মুলুকে পড়ে রয়েছি । বহুৎ টাকা ভি খরচ করিয়াছি । তোমার মত খুব সুরৎ লোড়কীক না লিয়ে হামি তো যাবে না ।

কৃষ্ণধন- কই পুরুতঠাকুর আসতে এত দেরি করছেন কেন ? যত তাড়াতাড়ি চার হাত এক হয়ে যায় ততই ভাল। কথায় বলে শুভস্য শীঘ্রম ।

হরিসাধন- দেরি দেখে ইচ্ছে করছে পুরুত ব্যাটাকে জুতো পেটা করি  ।বিয়ের ব্যাপারটা তাড়াতাড়ি ঢুকে গেলে লজে ফুলশয্যা আর মধুচন্দ্রিমা যা হবে না  । যাকে বলে একেবারে ফাটাফাটি  ।নাকি বল হে প্রলয় ভায়া ?

প্রলয়- তা যা বলেছেন এখন পুরুতঠাকুর এলেই হয় ।

( মৃত্যুজ্ঞয়, বিপুল, ও.সি রাজেশ চক্রবর্তী এবং রামদীনের প্রবেশ । রামদীনের হাতে ঝোলানো হাতকড়া , বিপুলের পরনে চুড়িদার পাঞ্জাবী )

রাজেশ-পুরুতকে আর দেখতে যেতে হবে না ।  আপনাদের দেখতেই আমরা সদলবলে হাজির হলাম ।

কৃষ্ণধন- একি বড়বাবু যে ?  আসুন আসুন , আমাদের হয়েছে এক জ্বালা । যেদিকে না দেখব সেদিকেই কিছু হওয়ার যো নেই ।

রাজেশ- জ্বালা ,  জ্বালা কিসের ? 

কৃষ্ণধন -আর বলবেন না দরিদ্র বাহ্মণ কন্যার দায় উদ্ধারের অনুরোধও আমাদের রাখতে হচ্ছে । দেখতেই তো পাচ্ছেন সব । 

রাজেশ -  সে তো দেখতেই পাচ্ছি । আপনারা মহানুভব মানুষ । আপনারা না দেখলে দেখবে কে ? 

কৃষ্ণধন- তবে আর বলছি কি ,  হাজার হোক আমরা হলাম জনপ্রতিনিধি । জনগনের অনুরোধ তো আর ফেলতে পারি না ।

হরিসাধন- যার সরষে ---- ফ্যাল ফ্যাল ।  আর লোক দেখানো জনসেবাও তো আমরা করি না  । যা করি অন্তর থেকেই করি ।

প্রলয়- অফিসার আপনি এসেছেন ভালো করেছেন। তা উটকো দুটোকে ( মৃত্যুজ্ঞয় এবং বিপুলকে দেখিয়ে ) আবার আনতে গেলেন কেন ? 

রাজেশ- ওনারাই তো আপনাদের কুকীর্তির খবরটা দিয়ে আমাকে ডেকে এনেছেন । 

হরিসাধন- যার সরষে  -- ফ্যাল ফ্যাল ।  তা কুকীর্তিটা কি হল শুনি ? 

রাজেশ- ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি অসহায় মেয়েকে বিয়ের নামে পাচারের চেষ্টা ।

প্রলয়- পাচারের চেষ্টা ?

রাজেশ-   আর সেই অভিযোগেই আপনাদের গ্রেপ্তার করা হবে ।

কৃষ্ণধন - ওরে বাবা আমরা এসবের মধ্যে নেই ।  আমরা জনগনের সেবক। জনসেবার উদ্দেশ্যেই দুঃস্থের কন্যাদায় উদ্ধার  করতে এখানে এসেছি ।

রাজেশ - করাচ্ছি উদ্ধার ।  এই ব্যাটা ছাতুখোর এদিকে আয় ( বলে কালীরামের পাঞ্জাবীর কলার ধরে তুলে আনে । তারপর পেটে ঘুঁসি মারে । যন্ত্রনায় কাতরে ওঠে কালীরাম )

কালীরাম- মৎ মারিয়ে । মেরা কুছ কসুর নেহি । 

রাজেশ- তবে বল বেটা তুই এদের সঙ্গে কি করে জুটলি ?

কালীরাম-বলছি সাব , সোব বলছি । 

রাজেশ- কিছু মিথ্যা বললে বা কিছু গোপন করার চেষ্টা করলে লকআপে পুরে রাম ক্যালানি দিয়ে বাপের নাম খগেন করে ছেড়ে দেব।

কালীরাম - ( কষ্ণধন , প্রলয়,এবং হরিসাধনকে দেখিয়ে ) সাব এই তিনজন আদমি হামাকে সাদি করানোর জন্য এখানে আনে । ৫০ হাজার টাকা ভি নেয়  , ২০ হাজার ভি মামী শাশুড়ীকে দেওয়ায় । বলে  কুছদিন তারা লজে লড়কিকে লিয়ে ফুর্তিফার্তা করে হামার পাশ ছাড়িয়ে দিবে ।

রাজেশ - কি জনসেবকরা এবার কি বলবেন ? 

কৃষ্ণধন, প্রলয় এবং হরিসাধন (একসঙ্গে )  --  আ...আমরা কিছু জানি না স্যার (বলে পালাতে উদ্যত হয় রাজেশ তাদের পথ আটকে দাঁড়ায় )

রাজেশ- রামদীন তিনজনকে হাতকড়া লাগাও । 

রামদীন- আচ্ছা স্যার (বলে তিনজনের হাতে  হাতকড়া লাগায় , হাতকড়া লাগায় ক্ষান্তমণি  এবং কালীরামের হাতেও )

কৃষ্ণধন-  আপনি আমাদের কি আর করবেন অফিসার ? গ্রেপ্তার করে আটকে রাখতে পারবেন তো ? উপরতলার নেতাদের দিয়ে এস.পি'কে ধরব তখন ? সুর সুর করে তো সেই বাড়িতেই দিয়ে যেতে হবে । আর আপনাকে চলে যেতে হবে কোন ধ্যার ধ্যারে গোবিন্দপুরে । 

হরিসাধন -  সেখানে  খোল করতাল নিয়ে গোবিন্দ নাম গান করবেন - হরি হে দিন তো গেল সন্ধ্যা হোল পার করো আমারে । 

রাজেশ- থামুন  , এতদিন চাকরি রক্ষার জন্য আপনাদের কথায় বহু নিরপরাধীকে জেলের ঘানি টানিয়েছি , বহু অপরাধীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি । কিন্তু এবার আমার জ্ঞান চক্ষু খুলে দিয়েছেন সাংবাদিক দীপ্তবাবু । 

বিপুল- অফিসার ।

রাজেশ - আর আমার মাত্র দু'বছর চাকরি আছে ।যদি তার আগেই সরে যেতে হয় যাবো।কিন্তু আর কোন নিরীহ মানুষের চোখের জলে পরকালের পথ পিছল করতে চাই না।

কৃষ্ণধন – কি করবেন ?

রাজেশ - এমনভাবে কেস সাজিয়ে আপনাদের আদালতে পাঠাবো যাতে আর ফিরে এসে জনসেবার নামে কুকর্ম করতে না পারেন।

ক্ষান্তমণি - অনামুখোরা দিল সব বানচাল করে।দিব্যি মেয়েটার বিনা পয়সায় বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল।এখন কি হবে শুনি ?

মৃত্যুঞ্জয়-যদি ভবতারণবাবু এবং সুচি মায়ের যদি কোনো আপত্তি না থাকে তাহলে এই লগ্নেই বিনাপণে আমার একমাত্র ছেলে বিপুলের বিয়ে দিতে চাই।

রাজেশ-আমি অবির্ভূত।আপনাদের এই নজির বিহীন দৃষ্টান্ত সমাজের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।কিন্তু এই শুভক্ষণে এইসব অশুভশক্তির অবতাররা এখনও এখানে কেন ? রামদীন এদের নিয়ে গিয়ে লকআপে পুরে দাও।( বলে কালীরামের মাথা থেকে টোপর খুলে বিপুলের মাথায় পড়িয়ে দেয় )

রামদীন – আচ্ছা স্যার  , এই আয় সব (বলে ঠেলতে ঠেলতে হরিসাধন,কৃষ্ণধন,কালীরাম,প্রলয়,এবং ক্ষান্তমণিকে নিয়ে প্রস্থান )

ভবতারণ -লগ্ন যে বয়ে যায় , পুরুত না হলে বিয়েটা যে দেওয়া যাবে না।

রাজেশ-বাহ্মণে র ছেলে হয়ে এই হাত দিয়ে অনেক খারাপ কাজ করেছি।তার কালি লগে রয়েছে হাতে। যদি অনুমতি দেন তাহলে এই সুযোগে নজির বিহীন বিয়েটা দিয়ে হাতটা একটু পরিস্কার করে নিতে পারি।

মৃত্যুঞ্জয় ও ভবতারণ - এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।

রাজেশ - তাহলে আর দেরি করে লাভ নেই। বিপুলবাবু আপনি গিয়ে বরের আসনে বসুন।

     ( বলে বিপুলকে বরের আসনে বসিয়ে দেয় রাজেশ।তারপর নিজে পুরোহিতের আসনে বসে  । বিপুল এবং সুচরিতার হাত বন্ধন করে।তারপর পৈতা বের করে মন্ত্রোচারণ শুরু করেন। ( নেপথ্যে বেজে ওঠে শাঁখ, উলুধ্বনি। শোনা যায় যদি দং হৃদয়ং...............মন্ত্র )

                                                ( হাততালি দিতে দিতে দীপ্ত এবং বি.ডি.ও অর্পণের প্রবেশ )

দীপ্ত – জবর খবর । আগামীকাল প্রথম পাতায় সেরা শিরোনাম -- ছাতনাতলায় পাচার রুখে তরুণীর বিয়ে দিলেন পুলিশকর্তা , সঙ্গী সহ ধৃত প্রভাবশালী নেতা ।

অর্পণ - ব্যস ,  শুধু ওইটুকুই ? 

দীপ্ত- আরও আছে ?

অর্পণ - আছে আছে। ছাদনাতলাতেই নব দম্পতিকে সরাসরি চাকরির নিয়োগপত্র উপহার । 

দীপ্ত-নিয়োগপত্র উপহার ? 

অর্পণ  - আপনি ওদের একদিন ওদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দিয়ে এসেছিলেন না ? 

দীপ্ত - হ্যাঁ হ্যাঁ । 

অর্পণ - জায়গা খালি হতেই আবেদনপত্র সহ আমি তা জমা করে দিয়েছিলাম আর তাতেই সুচরিতাদেবী পেয়েছেন এই গ্রামেরই অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের চাকরি আর বিপুলবাবু পেয়েছেন শিক্ষাবন্ধুর  চাকরি ।

রাজেশ- এমন দিনে সত্যিই এটা নব দম্পতির সেরা উপহার ।

অর্পণ - (  দুই হাতে দুটি নিয়োগপত্র নিয়ে বিপুল এবং সুচরিতাকে দিতে যায় কিন্তু বিপুল সুচরিতা তা নেওয়ার জন্য হাত বাড়ায় না ) এই নিন ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে আপনাদের উপহার ।

বিপুল ও সুচরিতা – কিন্তু বি. ডি .ও সাহেব ---- ।

অর্পণ - সংকোচের কোন কারণ নেই । শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠিতে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে সেরা হিসাবে অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীর নিয়োগপত্র পাচ্ছেন সুচরিতাদেবী ,  আর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সমাজ কল্যাণে অবদানের কথা শুনে জেলা শাসকের স্পেশাল নির্দেশেই নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে বিপুলবাবুকে।

দীপ্ত-আজকের যুগে সত্যিই এমনটা ভাবাই যায় না ,  সত্যিই বিরল ঘটনা ।

অর্পণ - নিন ধরুন আর সংকোচ করবেন না ।  নিজের যোগ্যতাতেই আপনারা চাকরি পাচ্ছেন , কেউ দয়া করে আপনাদের পাইয়ে দিচ্ছে না ।  নিন ধরুন ( বলে নিয়োগপত্র দুটি দুজনের হাতে তুলে দেয়,  তা নিয়ে দুজনে প্রনাম করতে যায় অর্পণকে ।  অর্পণ দুজনকে তুলে দু'পাশে  জড়িয়ে ধরেন ) 

বিপুল এবং সুচরিতা - আপনাকে শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা আজ আমার সত্যিই খুঁজে পাচ্ছি না ।

অর্পণ - আপনাদের প্রনাম নেবার যোগ্য আমি নই ।  রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বিনা প্রত্যাশায় যে ভাবে আপনারা একের পর এক মানুষের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলের কাজ করে চলেছেন তার জন্য  আপনারাই প্রনম্য। একদিন আমি এই ব্লক ছেড়ে চলে যাব কিন্তু আপনারা থাকবেন। আপনারাই মানুষকে দিশা দেখাবেন । 
  
সকলে-বি. ডি .ও সাহেব  --- ।

অর্পণ - ভয় নেই আমি চলে গেলেও আপনারা সব সময় পাশে একজনকে পাবেন  । তিনিই আপনাদের চলার পথের নিশানা দেবেন ।  যোগাবেন পাথেয় ।

সকলে- কে তিনি ? 

অর্পণ - তিনি সাংবাদিক দীপ্তবাবু  । আমরা জানি না , একজন সাংবাদিক জীবন বিপন্ন করে সুস্থ সমাজ গঠনে কিভাবে নীরবে অনুঘটকের কাজ করে চলেন ।  বঞ্চিত , শোষিত , নিপীড়িত মানুষের কথা তুলে ধরেন । নিরন্তর ধাক্কায় ধাক্কায় কুম্ভকর্ণ প্রশাসনের ঘুম ভাঙান ।

বিপুল-একথা সত্যি ,দীপ্তদার কাছে থেকে প্রতিনিয়ত অনুপ্ররেণা পাই আমরা । 

অর্পণ - সময় মত দীপ্তবাবুই পাচারের এই ষড়যন্ত্রের খবরটা দিয়েছিলেন বলেই কৃষ্ণধনবাবুদের অপচেষ্টা আটকানো গেল। চলি  সাংবাদিক বন্ধু যাবার আগে এই কামনা করে যাই আপনার লেখনী যেন উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল দুর করে এনে দেয়  এক সত্যিকারের শোষণহীন সমাজ। অন্যরকম আলোয় ভরে দেয় সমাজের দশদিক।সেই আলোর ঠিকানায় যেন নতুন জীবন খুঁজে পায় অন্ধকারের নাগপাশে বন্দী মানুষ।

                                                                  ( প্রস্থান )

রাজেশ - আমিও চলি দীপ্তবাবু  । একদিন কথা দিয়েছিলাম সুযোগ পেলে প্রায়চিত্ত করব ।যে হাতে একদিন রাজনৈতিক ধবজাধারীদের আদেশ পালন করতে গিয়ে একের পর এক অন্যায় করেছি ,  সেই হাত দিয়েই আজ বিপুল - সুচরিতার বিয়ে দিয়ে কিছুটা শুদ্ধ হলাম  ।এরপর যতদিন আপনাদের থানায় আছি ততদিন শুধু প্রকৃত আইন রক্ষকের ভূমিকা পালন করে যাব , প্রকৃত আইন রক্ষকের  ভূমিকা পালন করে যাব।

মৃত্যুজ্ঞয়-বাবা দীপ্ত , চলো  বাড়ি গিয়ে বিপুলের মাকে সব খুলে বলি । বধূ বরণের ব্যবস্থা করি গে ।  বিয়ের বাকি কাজগুলোও সেরে ফেলতে হবে। ভবতারণবাবু না -- না ( জিভ কেটে) বেয়াইমশাই আপনিও চলুন । 

দীপ্ত এবং ভবতারণ - হ্যাঁ -- হ্যাঁ তাই চলুন । ( বলে ভবতারণ , মৃত্যুজ্ঞয় এবং দীপ্তর প্রস্থান )

                        ( বিপুল-সুচরিতা পরস্পর এগিয়ে এসে দুজনের হাত ধরে  দুজনের মুখোমুখি দাঁড়ায় )

সুচরিতা- সময়মত তোমারা এসে না পড়লে কি হত বলো তো ? 

বিপুল- কি আবার হত  ? টিকিধারী বিহারী বরের হাত ধরে এতক্ষণে তুমি পতিগৃহে যাত্রা করতে ।

সুচরিতা- ( বিপুলের বুকে দুই হাত দিয়ে সোহাগের কিল মেরে ) ওঃ আমি কোথায় ভেবে মরছি আর বাবু এলেন মজা করতে । অ্যাই জানো আমার বুক এখনও ঢিব -- ঢিব করছে । 

বিপুল- তাই নাকি কি দেখি ? ( বলে সুচরিতার বুকে কান পাততে যায় সুচরিতা লজ্জায় সরে যায় )

সুচরিতা- অসভ্য , দুষ্টু কোথাকার ( বলে ঠেলা দিয়ে বিপুলকে সরিয়ে দেয় )

বিপুল- সারা হৃদয়পুরে কেউ আমাকে অসভ্য , দুষ্টু বলে অপবাদ দিতে পারে নি কোনদিন আর আজ তুমি আমাকে দুষ্টু , অসভ্য বললে ? 

সুচরিতা - বেশ করেছি বলেছি আবার বলব অসভ্য , দুষ্টু --  দুষ্টু -- দুষ্টু ।

বিপুল- তবে রে দেখাচ্ছি মজা ।  বিনা দোষে যখন অপবাদ নিতেই হলো তখন রীতিমতো অসভ্যতা ,দুষ্টমি করেই বদনাম নিতে হলে নেব । 

(  বলে ছুটে সুচরিতাকে ধরতে যায়  । সুচরিতা মঞ্চে পাকে পাকে ঘোরে  । এক সময় সুচরিতা ধরে ফেলে বিপুল । কাছে টেনে মুখের কাছে মুখ নিয়ে যায় )

বিপুল- এই বার শুরু করব অসভ্যতা, দুষ্টুমি ।

সুচরিতা - এই ছাড়ো ছাড়ো একদম ভাল হবে না বলছি । 

বিপুল- কেন -- কেন ভাল হবে না টা কেন শুনি ? 

সুচরিতা- তুমি না একটা যাচ্ছেতাই । 

বিপুল- যাঃ বাবা অসভ্য, দুষ্টু থেকে যাচ্ছেতাই । তাই সই  , যাচ্ছেতাই মানে তো  যা ইচ্ছে তাই ? তাহলে সদ্য বিয়ে করা সুন্দরী বৌয়ের সঙ্গে যা ইচ্ছে তাই শুরু করি  ( বলে সুচরিতাকে জাপটে ধরতে যায় বিপুল।  সুচরিতা দুরে সরে যায় )

সুচরিতা - ( চোখ পাকিয়ে  ) আবার  ? অ্যাই শোন ,  আমাকে বিয়ে করে তুমি খুশি হয়েছো তো ?

বিপুল- তুমি ?

সুচরিতা - আগে তুমি বলো ? 

বিপুল- বলতে ইচ্ছা করছে আমার খুশীর সীমা নেই  , ওগো  আমার খুশীর সীমা নেই ।

সুচরিতা - সত্যি আজকের দিনটার জন্য স্বপ্ন দেখতাম ,  আজ তা সার্থক হল ।

বিপুল- স্বপ্ন আমারও সার্থক হল । আজ থেকে আমাদের নতুন যাত্রাপথের শুরু হলো ।  হাতে হাত রেখে পায়ে পায়ে আমরা পৌছে যাব আলোর  ঠিকানায় ( বলে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে দুজনে হাত ধরে মুখোমুখি দাঁড়ায় । একে অন্যের দিকে অপলক চেয়ে থাকে )

সুচরিতা- অ্যাই কি দেখছ এমন করে ?

বিপুল- আগে তুমি বলবে ।

সুচরিতা-না তুমি বলো ।

                  ( সুচরিতা হাত ধরে ধীরে ধীরে ডায়াসে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আবৃত্তি শুরু করে )

বিপুল -  " দুজনের চোখে দেখেছি জগৎ

               দোঁহারে দেখেছি দোঁহে 

             মরুপথ তাপ দুজনে নিয়েছি সহে ।"

সুচরিতা  - " ছুটিনি মোহন- মরীচিকা পিছে পিছে ,
          
                  ভুলাই নি মন সত্যেরে করি মিছে। " 

বিপুল , সুচরিতা - ( এক সঙ্গে )

         " এই গৌরবে চলিব , এ ভবে

                যতদিন দোঁহে বাঁচি ।

        এই বানী, প্রেয়সী , হোক মহীয়সী--

              তুমি আছ , আমি আছি।"

        (  ধীরে ধীরে আলো নিভে আসে , নেপথ্যে কোরাসে জনগণমন গান শোনা যায়  )

                         ( যবনিকা )

   নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 



    





                      --------০--------

No comments:

Post a Comment