Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ঠাকরুন মা -- ১১ /


          ঠাকরুন মা 


      ( ধারাবাহিক উপন্যাস ) 



                 অর্ঘ্য ঘোষ 


শাশুড়িমায়ের মৃতদেহ সৎকারে জটিলতা দেখা দেয়। একে অর্থাভাব , তার উপরে আত্মহত্যা জনিত মৃত্যুর কারণে ময়না তদন্তের ঝামেলা। তাই পুলিশকে ধরে কয়ে গোপনে গ্রামের শ্মশানেই সৎকারের ব্যবস্থা করেন গোমস্তাকাকা। তাতে খরচের ধাক্কা অনেকটাই কমে আসে। কিন্তু ভাসুররা সেটুকু দিতেও কার্পণ্য করেন। অগত্যা অন্নপূর্ণাকেই শেষ সম্বল ছোট ছেলে গৌরবের মুখে ভাতের চুলোটিটা এনে তুলে দিতে হয় গোমস্তাকাকার হাতে। শ্মশানবন্ধুরা শাশুড়িমায়ের মৃতদেহ নিয়ে বেরিয়ে যেতেই জিনিসপত্র নিয়ে জমিদারবাড়ি ছেড়ে বৈঠকখানাবাড়িতে গিয়ে ওঠে অন্নপূর্ণা।তাছাড়া আর কোন উপায়ও ছিল না তার। ভাসুররা জানিয়েই দিয়েছিলেন , জমিদারবাড়িতে থাকার মেয়াদ তাদের শেষ। শাশুড়িমায়ের কাজের দোহাই দিয়ে আর পড়ে থাকা চলবে না। খড়ের ওই চালাঘরটুকু তো তার নামে লিখে দিয়েছেন শ্বশুরমশাই। তাই সেখানে গিয়েই উঠতে হবে তাদের। তাই নিয়ে দু' কথা শুনিয়ে দিতে ছাড়ে না দুই জা'ও। তাকে শুনিয়ে শুনিয়েই তারা বলেন , তোমার বাবা তো তোমাদের কথা ভাবেনি। ছোট বৌমায়ের নামে একটা বাড়ি লিখে দিয়েছেন। যদি পাওনাদারের কাছে থেকে আমাদের বাবারা বাড়িটি ছাড়িয়ে না নিত তাহলে আমাদের তো ওদের দয়ায় থাকতে হত কিম্বা পথে গিয়ে দাঁড়াতে হত। কই আমাদের কথা তো ভাবেন নি তোমার বাবা।
জা'রা এমন ভাব করছিল যেন তাকে একটা সাতমহলা প্রাসাদ লিখে দেওয়া হয়েছে। সে তো একার জন্য কোনদিন কিছু চায়নি। আর শুনতে পারছিল না সে। তাই শুন্য হাতে বেরিয়ে আসে জমিদার বাড়ি থেকে। আর আনবেই বা কি ?
ওই তো কিছু বাসনকোসন আর বিছানাপত্র। আর নিয়ে আসে শ্বশুর--শাশুড়ির একটা করে ছবি। বৈঠকখানাবাড়িতেই শাশুড়ির তে'রাত্রি অশৌচ পালন করে অন্নপূর্নারা। সে এক মাসই অশৌচ পালন করতে চেয়েছিল। কিন্তু খরচের ভয়ে গোমস্তাকাকা পুরোহিতের কাছে গিয়ে বিধান নিয়ে আসেন অপঘাতে মৃতদের ক্ষেত্রে নাকি তিনদিনই অশৌচ পালনের নিয়ম। ভাসুর -- জা ' রা অবশ্য সেটুকুও পালন করে না। দিব্যি তারা বন্ধুবান্ধব এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নিয়ে আমোদ ফুর্তি করে। 

                  সবই কানে আসে অন্নপূর্ণার। সে ভেবে পায় না যাদের বাবা-মায়ের স্মৃতি এখনও দগদগে হয়ে আছে তারা কি করে এমন হই হুল্লোড় করতে পারে ? তাই সে ভাসুরদের উপর আর কোন ভরসাই করে না। গোমস্তাকাকার সাহায্যে গুটি কয়েক আত্মীয় স্বজন আর শ্মশানবন্ধুদের খাওয়ানোরও ব্যবস্থা করে। তিন দিনেই সব কাজ চুকে যায়। এক্ষেত্রেও ভাসুররা হাত গুটিয়ে থাকেন। বাবা--মায়ের কোন দায়ই তার পালন করে না। কিন্তু বাবা মায়ের সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা করার সময় চুলচেরা  হিসাবের বেলায় তাদের উৎসাহের অন্ত নেই। জমি সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সায়ন্তনের তেমন কোন আগ্রহ নেই। আর ভাগ বাটোয়ার করার মতো আছেই বা কি ? বেশিরভাগই তো ভেষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর যেটুকু ছিল তার সিংহভাগ বিকিয়ে গিয়েছে মামলার পিছনে। গোমস্তাকাকা বার বার বলে দিয়েছিলেন , মা তুমি কিন্তু যোগলকূণ্ডুর বাগানের জমি আর শিবসাগর পুকুরটা চাইবে। তোমার ভাসুরদের তো চিনি , ভালো ভালো সম্পত্তিগুলো নিজেরা নিয়ে তোমাদের ডাঙা--ডহরগুলো দেবে। 
কিন্তু অন্নপূর্ণার প্রবৃত্তি হয় না ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ভাসুরদের কাছে নিজের দাবি জানাতে। এতদিন যাদের সামনে গলা তুলে কথা বলেনি তাদের সামনে কি করে গিয়ে সে নিজের দাবি নিয়ে দাঁড়াবে ? তার ফলে গোমস্তাকাকা যা আশংকা করেছিলেন তাইই ঘটে। বন্টননামাপত্রে সায়ন্তনের সই করাতে এসে গোমস্তা কাকা বললেন, মা যা ভেবেছিলাম , তাই হয়েছে। ভালো ভালো জমিজমাগুলো  নিজেরা নিয়ে ওরা তোমাদের দিয়েছে ডোবা আর ডাঙা ডহর। কিছুই চাষ হবে না। আধা দামে সব বিক্রি করে দিতে হবে। তবে তোমরা যদি চাও তাহলে সই না করে নাহ্য ভাগের দাবি জানাতে পারো।
 ---- তা হয় না কাকা। আগে যখন বলেছি হাতে তুলে ওরা যা দেবেন তাই আমরা মেনে নেব তখন আর কথা পাল্টাতে পারব না।
----- তাহলে তোমাদের চলবে কি করে মা ?
----- জমি সম্পত্তি থাকলেই যে চলে না তা আপনি তো আমার চেয়ে ভালো জানেন কাকা। আপনিই তো জমিদারদের চকমিলানো দালানে সুখ গড়াগড়ি খেতে দেখেছেন। সেই জমিদারবাড়ির কর্তা--কর্ত্রীকে গৃহহারা হওয়ার ভয়ে ধরাধাম ছেড়ে চলে যেত হল।
---- কিন্তু তাহলে এতগুলি পেট তোমাদের চলবে কি করে মা ?
---- ভগবান যদি চান তো চলবে। নাহলে যা হওয়ার হবে। ভেবেও তো কিছু করতে পারব না।
----- তা অবশ্য ঠিক মা। দুর্বলের তো ভগবান ছাড়া কেউ নেই। কিন্তু ভগবানও যে দুর্বলকে দেখার সময় পান না। তাই তো বড়ো চিন্তা হয় মা। সায়ন্তনের সই করিয়ে নিয়ে চলে যান গোমস্তাকাকা।


                              আর অন্নপূর্ণা ভাবতে বসে অনাগত ভবিষ্যতের কথা।নিশ্চিত আয়ের কোন সংস্থান নেই। অথচ ৯ টা পেট। শুধু তাই নয় , রয়েছে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার চিন্তা। সেটা অবশ্য আর বেশিদিন করতে হবে না। কারণ অর্থাভাবে না পারে ওদের বই কিনে দিতে , না পারে টিউশনি মাস্টারের ব্যবস্থা করে দিতে। তাই মাস্টার মশাইরা বলে দিয়েছেন বছর বছর ফেল করার জন্য স্কুলে আর না আসাই ভালো। কিন্তু তারা একবারও খতিয়ে দেখেন নি কেন ছেলেমেয়েগুলো বছর বছর ফেল করছে। তার উপরে রয়েছে মেয়েদের চিন্তা। সব মেয়েগুলো একেবারে মাথায় মাথায়। বলতে নেই গুণে সরস্বতী না হলেও রূপে তাদের কেউ অলক্ষী বলবে না। সব থেকে চিন্তা হৈমন্তীকে নিয়ে। ভগবান তাকেও রূপ দিতে কার্পণ্য করেন নি। কিন্তু দেন নি চলার ক্ষমতা। বিপদে  পড়লে ছুটে পালিয়ে আত্মরক্ষা করতেও পারবে না। মেয়েটাকে নিয়ে যে কি করবে ভেবে পায় না অন্নপূর্ণা। সবকিছু নিয়ে প্রথমেই সে সায়ন্তনের সঙ্গেই আলোচনা করবে বলে ঠিক করে।সেইমত রাতে খাওয়াদাওয়ার পর ছেলেমেয়েদের ঘুম পাড়িয়ে তারা দুজনে খেতে খেতে কথা শুরু করে। বিয়ে হয়ে এসে থেকে দেখছে সায়ন্তন এমনিতে তেমন বৈষয়িক নয়। কিন্তু পর পর বাবা - মাকে হারিয়ে সেই লোকটাই যেন ক' টা দিনেই  চিনে ফেলেছে বাস্তবটাকে। তবে তারও তো হাত পা বাঁধা। পরিবারের ছোট ছেলে বলে চাদর ছেঁড়া আদরে মানুষ হয়েছে। আদরের জন্যই না হয়েছে লেখাপড়া , না হয়েছে কোন কাজ শেখা। বাবা- মা তার শরীরে কোনদিন কোন ঝড়ঝাপটাই লাগতে দেননি। তাই এই পরিস্থিতেতে তাকে চরম অসহায় দেখায়। অস্বস্তি কাটাতে সে বলে , তোমার দুশ্চিন্তা আমার চোখ এড়ায় না গো। দুশ্চিন্তা আমারও হয়। এতদিন মাথার উপর বাবা--মা ছিলেন তাই আমাকে গায়ে কাঠি নিতে হয়নি। কুটোটি কেটেও দুটো করতে হয়নি। আয়েসেই কাটিয়ে দিয়েছি। স্বামী হিসাবে তোমার কোন শখ আহ্লাদই পূরণ করতে পারি নি। সেই সব কথা ভেবে আজ আমার খুব খারাপ লাগে জানো। কিন্তু এবার ছেলেমেয়েগুলোর মুখ চেয়ে আমাকে কিছু একটা করতেই হবে। আমাকে মুনিস খাটতে তো কেউ নেবে না , নাহলে মুনিসই খাটতাম। ভাবছি তিনআনিদের মুদির দোকানে ডালিদারি করব। ওরা লোক নেবে শুনছি।


          স্বামীর কথা শুনে চোখ ফেটে জল আসে অন্নপূর্ণার। আবার ভালোও লাগে। স্বামীর উদ্যোমী মনোভাবটা তাকে ভরসা দেয় , সাহস যোগায়। সে ভাবে , পরিস্থিতিই মানুষকে কত বদলে দেয়। জমিদারবাড়ির ছোট ছেলে হওয়ার সুবাদে সায়ন্তনকে কোন কাজই  করতে হয়নি বলে কাজ করার মানসিকতাই ছিল না এতদিন। কিছু করার উদ্যোমটাই হারিয়ে ফেলেছিল।কিন্তু সব উপেক্ষা করে সে যে কিছু করব বলেছে তাতেই খুব খুশী হয় অন্নপূর্ণা। তার কেবল খারাপ লাগে জমিদারবাড়ির ছেলে হয়ে সায়ন্তনকে আর এক জমিদারের মুদিখানায় কাজ করতে হবে ভেবে। তাই সে বলে , শোন তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। যতদিন কিছু না পাওয়া যায় ততদিন ডাঙা--ডহর বিক্রি করে চলুক। তুমি দেখ আরও ভালো কিছু কাজ পাও কিনা। আর সৌরভটাকে প্রাইভেট মাস্টার দিয়ে পড়িয়ে যদি মানুষ করা যায় তাহলে একদিন হয়তো আর আমাদের দুঃচিন্তা করতে হবে না। হতাশার মধ্যে সৌরভই একমাত্র আশার আলো। অন্যান্য ছেলেমেয়েরা বছর বছর ফেল করে। কিন্তু সৌরভ প্রতিবছর ক্লাসে ফার্স্ট হয়। বই, টিউশানি জোটে না, তবু পরের বই ধার করে নিজের চেষ্টায় সে এগিয়ে চলেছে।  তার কথা ভেবে গর্ব হয় সায়ন্তনেরও। সে বলে, তাহলে গোমস্তাকাকার সঙ্গে আলোচনা করে কিছু জমি বিক্রি করে দিয়ে সংসার চালাও , আর ওর পড়াশোনার পিছনে একটু নজর দাও। পারলে ছেলেমেয়েগুলোর জন্য একটু দুধ--ঘি, মাছ -- মাংসের ব্যবস্থা কোর। তাতে শক্তি এবং বুদ্ধি দুইই বাড়বে।
অন্নপূর্ণাও তা জানে। তার ভাসুরের মেয়েদের জন্য কত এলাহি আয়োজন। তার ছেলেমেয়েদের দেখিয়ে দেখিয়ে কত সব নাম না জানা খাবার খায় তারা খোলা বারন্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।  আর তার ছেলেমেয়েরা পেট ভরে সবদিন খেতেও পায় না। তাদের মা'রা কপট শাসন করে বলে , ছিঃ ওইভাবে দেখিয়ে দেখিয়ে খেতে আছে মা ? দেখছ না কেমন তাকিয়ে আছে। নজর লেগে যাবে যে। পেটে ব্যাথা করবে তখন বুঝবে। দাও -- দাও ওদের নাম করে থুতু দিয়ে এক টুকরো খাবার মাটিতে ফেলে দাও। যত সব রাক্ষসের দল এসে জুটেছে।


                      তারপর বারন্দা থেকে থুতু দেওয়া একটুকুরো খাবার এসে পড়ে তার ছেলেমেয়েদের সামনে। তখন আর কোনদিকে না তাকিয়ে মেয়েদের হাত ধরে অন্যদিকে নিয়ে চলে যায় ছোট জা। চোখ ফেটে জল আসে অন্নপূর্ণার। সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে ছেলেমেয়েদের উপর। ছোটটাকে কান ধরে কয়েকটা চড় কসিয়ে দেয়। চোখ পাকিয়ে বলে , রাক্ষস ছেলে তোদের এত নোলা কেন ? পেট না ভরে তো এবার সবাই মিলে আমার মুন্ডুটাই চিবিয়ে খা। তোদেরও পেটের জ্বালা জুড়োক, আমিও শান্তি পায়।
মার খেয়ে সশব্দে কেঁদে ওঠে গৌরব। বাসন্তী ছুটে এসেমায়ের মারের হাত থেকে ভাইকে বাঁচায়। বলে , মা তুমি শুধু শুধু ভাইকে মারলে। ওরকি দোষ বলো ? ওদের তো কত জায়গা , আমাদের তো এইটুকুই। ওরা তো খাওয়ার সময় এদিকে না এলেই পারে।  
অন্নপূর্ণাও সব বোঝে , তবু কেন যেন মাঝে মাঝে এমন করে মেজাজহারিয়ে ফেলে বুঝতে পারে না। শুধুই কি খাবার ?  ভাসুরের মেয়েরা কত সুন্দর সুন্দর জামা - প্যাণ্ট পড়ে। কত দামী দামী খেলনা তাদের। তার ছেলেমেয়েরা দূর থেকে লোভাতুর চোখে চেয়ে থাকে। ছেলেমেয়েগুলোর মুখ দেখেই অন্নপূর্ণা বুঝতে পারে খেলনাগুলো একবার ছুঁয়ে দেখতে খুব ইচ্ছে ওদের। কিন্তু ভাসুরের মেয়েরা ওদের কাছেই ঘেঁষতে দেয়না। ছেলেমেয়েগুলো কেমন করে যেন বুঝে যায় , ওই রকম পোশাক, খেলনা কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের বাবা-- মায়ের নেই। তাই কোনদিন ওসবের জন্য বায়না করে না তারা। কিন্তু শিশু মন তো! ভাসুরের মেয়েদের ভালো পোশাক, খেলনা দেখে অবাক চোখে চেয়ে থাকে। খুব কষ্ট হয় অন্নপূর্ণার। অক্ষমতার জ্বালা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।  তারও ইচ্ছা হয় ছেলেমেদের মুখে একটু ভালো খাবার , গায়ে একটা ভালো পোশাক কিম্বা হাতে একটা পচ্ছন্দসই খেলনা  তুলে দিতে, কিন্তু কোনদিন ছেলেমেয়েদের হাতে তা তুলে দিতে পারবে কিনা তা ভেবে পায়না সে। চোখ দিয়ে তার গড়িয়ে পড়ে জলের ধারা। আজই গৌরবের জন্মদিন , আর আজই কিনা সে তার গায়ে হাত তুলল? দূরে দাঁড়িয়ে তখনও ঠোট ফুলিয়ে চলেছে ছোট্ট ছেলেটা। হাতের ইশারায় তাকে কাছে ডাকে অন্নপূর্ণা। কিন্তু গৌরব তখন অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে গোঁ ধরে দাঁড়ায়। অন্নপূর্ণা বোঝে মারের জ্বালার থেকে থেকেও বিনা দোষে শাস্তি পাওয়ার অভিমান তার বুকে বেশি বেজেছে। তখন ছেলের অভিমান ভাঙাতে তৎপর হয় মা। সে বলে ওঠে , ঠিক আছে , ঠিক আছে। মেরেছি বলে আমার ডাকে আসবি না তো , বেশ তাহলে যে হাত দিয়ে তোকে মেরেছি এই দেখ সেই হাতই আমি ঠুকে ভেঙে দিচ্ছি। বলে নিজের হাত দুটো সত্যি সত্যি সান বাঁধানো মেঝেতে ঠুকতে শুরু করে অন্নপূর্ণা। আর নিমেষে গৌরব ছুটে এসে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। কেঁদে ওঠে মা'ও।অন্য ছেলেমেয়েরাও ছুটে এসে মা'কে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিছুক্ষণ পর সবাইকে শান্ত করে অন্নপূর্ণা বলে , শোন আজ বিকালে মোড়ের দোকান থেকে এক প্যাকেট গুড়ো দুধ আর ভেলিগুড় নিয়ে আসবি দেখি। পায়েস আর গরম গরম রুটি করে দেব তোদের। ওই সঙ্গে একটা লুডোও নিয়ে আসবি। আজ আর সন্ধ্যায় কাউকে পড়তে হবে না। সবাই একসঙ্গে লুডো খেলব।তার মুখের কথা শেষ হয় না। ছেলেমেয়েরা কলরব করে ওঠে -- আজ আমাদের ছুটি, গরমগরম রুটি। সামন্য একটু  পায়েস আর রুটি, তাতেই ওদের মুখে ফুটে ওঠে কেমন স্বর্গীয় হাসি। অন্নপূর্ণা ভাবে, এই জন্যই বোধহয় বলে শিশুর মধ্যেই ঈশ্বরের বাস।

          ( ক্রমশ ) 

No comments:

Post a Comment