Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ঠাকরুন মা -১২ /

     ঠাকরুন মা 


  ( ধারাবাহিক উপন্যাস ) 


          অর্ঘ্য ঘোষ 

দিনটা ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব আনন্দে কাটে। সায়ন্তনও সেদিন বাড়িতেই ছিল। এসেছিলেন গোমস্তাকাকা। নিজের ওই অভাবের মধ্যেও গোমস্তাকাকা গৌরবের জন্য লাল টুকটুকে একটা জামা আনেন। জামাটা পেয়ে ছেলের সে কি আনন্দ। বেশ সুন্দর মানায় গৌরবকে। মাঝে একবার অন্নপূর্ণা মুখ ফসকে বলে ফেলে , আপনি আবার এসময় এসব আনতে গেলেন কেন ? 
আর গোমস্তাকাকার রাগ দেখে কে ?
 কিছুটা অভিমানহত হয়ে তিনি বলেন, কেন আমি কি এতই গরীব হয়ে গিয়েছি যে আমার নাতির জন্মদিনে একটা জামাও দিতে পারব না ?
---- বেশ কাকা, আমার ঘাট হয়েছে। আমার আর কোনদিন এমন কথা বলব না। আর কথা এগোয় না। হই হই করে এসে পড়ে ছেলেমেয়ের বন্ধুর দল। তারা অধিকাংশ নিন্মবর্গ অর্থাৎ সমাজ যাদের ছোটলোক বলে দাগিয়ে দিয়েছে সেইসব পরিবারের ছেলে। তথাকথিত ভদ্রলোক তথা বড়োলোকের ছেলেমেয়েরা তো তাদের সঙ্গে মেশে না। তার ছেলেমেয়েরাও বড়োলোকের ছেলেমেয়েদের এড়িয়েই চলে। এ ব্যাপারে বাবার ধারা পেয়েছে ছেলেমেয়েরাও। বাবার মেলামেশার লোকও সেই বাগদি-ভল্লার দল। দাদাঠাকুরের ছেলের জন্মদিনের খবর পেয়ে হাজির হয় তারাও। তাদের মধ্যে কেউ এনেছেন জমির একটা কুমড়ো , কেউ বা আলু ,  কেউ বা এক ধামা চাল। সেসব অন্নপূর্ণার পায়ের সামনে নামিয়ে রেখে ওরা বলে, ঠাকুরুনমা আমরা সব চাষাভুষো মানুষ। অন্য কিছু তো দেওয়ার সামর্থ্য নেই , তাই বাড়িতে যা ছিল খেতের ফসল তাই এনেছি। ঠাকুরুনমা! সম্বোধনটা খট করে কানে লাগে। এতদিন লোকে শ্বাশুড়িমাকেই ওই সম্বোধন করেছে। সে ছিল বউঠাকুরুন। সাধারনত পরিবারের বড় বউই ওই সম্বোধনে সম্বোধিত হন। সেই প্রসঙ্গ তুলতেই ওরা হই হই করে ওঠে , আপনারা ছাড়া তো জমিদারবাড়ির কেউ আমাদেরই মানুষই মনে করে না। তাই আপনিই আমাদের ঠাকরুনমা। সেই থেকেই অন্নপূর্ণা ঠাকরুনমা হয়ে ওঠে। কথায় কথায় রাত গড়ায় , লোকগুলোর খাবারের কি হবে ভেবে উতলা হয়ে পড়ে অন্নপূর্ণা। কারণ রুটি - পায়েস ছেলেমেয়ে আর বন্ধুদের দিতেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই খুব অপ্রস্তুত দেখায় তাকে। তার ওই অবস্থা দেখে অনেকেই ধরে ফেলে ব্যাপারটা। সবাই এগিয়ে এসে বলে ,  মা ঠাকরুন আপনাকে কোন দুঃশ্চিন্তা করতে হবে না। আপনি কেবল হাঁড়িকু্ঁড়িগুলো একটু বের করে দিন। দেখুন আমরা কি করি। এগিয়ে আসেন গোমস্তাকাকাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই  ওরা নিজেদেরই আনা চাল -ডাল- সবজি দিয়ে বানিয়ে ফেলে খিঁচুড়ি আর টক। গোমস্তাকাকা , সায়ন্তন এবং সেও ওদের সঙ্গে বসে পড়ে। খেতে -খেতেই অন্নপূর্ণা লক্ষ্য করে জমিদারবাড়ির বারন্দা থেকে তার ভাসুর - জা'রা তাকে উদ্দেশ্য করে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিচ্ছে নানা টিকা টিপ্পনী। অন্নপূর্ণার আজ আর ওই কথা গায়ে লাগে না। তার ছেলের জন্মদিনে ওদের মতো কেক কাটা হয়নি ,  মোমের নরম আলো জ্বলেনি, বক্সে ' হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ' গানও বাজে নি। কিন্তু চাষাভুষো মানুষগুলো যখন খিচুড়ি - টক খেয়েই পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলে , কি সোয়াদ গো মা ঠাকুরুন। অনেকদিন মুখে লেগে থাকবে। তখন সমস্ত অপ্রাপ্তি ছাপিয়ে এক অপার্থিব আনন্দে বুক ভরে যায় অন্নপূর্ণার।

                               খাওয়া দাওয়ার পর বিদায় নেওয়ার সময়  সবাই যখন উচ্চস্বরে তার ছেলের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে , অন্নপূর্ণা দেখে তখন একে একে জমিদারবাড়ির বারন্দা থেকে মুখগুলো সব সরে যাচ্ছে। একে একে সবাই চলে যায়। তারপরই একরাশ দুশ্চিন্তা গ্রাস করে অন্নপূর্ণাকে। একদিন সমস্যার কথা সে খুলে বলে গোমস্তাকাকাকে।  খুব শীঘ্রি কিছু টাকা যোগাড় করতেই হবে। বাড়িতে আর মাত্র দুদিনের চাল-ডাল রয়েছে। তারপর কি হবে ?  অগত্যা জমি বিক্রির কথা গোমস্তাকাকাকে বলে সে। সব শুনে গোমস্তাকাকা বলেন , জমি-জিরেত বিক্রি করা একটা দুরারোগ্য রোগের মতো। একবার ধরলে আর আর ছাড়তে চায় না। শেষে গড়াতে গড়াতে ঘটির জল একদিন নিঃশেষ হয়ে যায়। তাছাড়া তাড়াহুড়ো করলে লোকে সুযোগ নেবে। আধা দামে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে সবাই।
 ----- কিন্তু কাকা , জমি বিক্রি করা ছাড়া আমার যে আর কোন উপায় নেই। জমিদারবাড়ির ছেলে হয়ে উনি তিনআনিদের মুদিখানায় ডালিদারি করবেন বলছেন , এর থেকে খারাপ অবস্থা আর  কি হয় ?
----- বুঝি, মা সবই বুঝি। ভগবান যে কেন এত পরীক্ষা নিচ্ছেন সেটাই বুঝি না। আমারও তো সেই অবস্থা নয় মা , যে এই অবস্থায় তোমাদের পাশে দাঁড়াব। কর্তাবাবু গত হওয়ার পর থেকেই তো আমার বেতন বন্ধ। কোন রকমে একবেলা -- আধবেলা খেয়ে দিন কাটছে।--- সে তো জানি কাকা।আপনার সামর্থ্য থাকলে কি আমার আর চিন্তা ছিল ? 
না জমি বিক্রির কথা ভাবতে হতো ? জন্ম না দিলেও আপনি তো আমার বাবাই।
 আবেগঘন পরিস্থিতিতে দুজনেরই চোখ শুকনো থাকে না। কান্না লুকোতে চা করতে যায় অন্নপূর্ণা। কিছুক্ষণ পর গোমস্তাকাকাকে চা দিয়ে সে বলে, কাকা আপনি বেছে বেছে খারাপ জমিগুলো আগে বিক্রি করার ব্যবস্থা করুন। সেই টাকা দিয়ে একটা ছেলেমেয়েকেও যদি মানুষ করতে পারি তাহলে ওইসব জমিজমা আবার হবে।
 ---- তাই যেন হয় মা। ভগবান যেন এবার তোমার প্রতি মুখ তুলে চান।


           কয়েকদিন পর গোমস্তাকাকা একজন জমির খরিদ্দার নিয়ে আসেন। দাম দর ঠিক করে গোমস্তাকাকার হতে টাকা মিটিয়ে দেন তিনি। খরিদ্দার চলে যাওয়ার পর গোমস্তাকাকা টাকাগুলো অন্নপূর্ণার হাতে তুলে দিয়ে বলেন , সাবধানে তুলে রেখ মা। পরে একদিন জমিটা রেজিস্ট্রি করে দিতে হবে।
গোমস্তাকাকা চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিতেই অন্নপূর্ণা এগিয়ে গিয়ে তার হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে যায়। কিন্তু সবেগে হাত সরিয়ে নেন গোমস্তাকাকা। বলেন , না-না, এ আমি নিতে পারব না। ওই টাকায় তোমাদেরই ক'দিন চলবে তার ঠিক নেই।
----- আমাদের যতদিন চলবে আপনারও ততদিন চলবে। বাবা অনাহারে থাকলে মেয়ের বুঝি মুখে ভাত উঠবে ?
গোমস্তাকাকাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে টাকাটা তার হাতে গুঁজে দেয় অন্নপূর্ণা। তারপর থেকেই জমি বিক্রি করেই সংসার চলে অন্নপূর্ণার। সায়ন্তন ছোটখাটো কাজের চেষ্টা করেছে , অন্নপূর্ণাই তাকে ওইসব কাজ করতে দেয়নি। খুব দ্রুত ঘটির জল শেষ হয়ে আসছে। অন্নপূর্ণা ভেবে পায় না , তারপর কি হবে। তার মধ্যেই বাসন্তীকে নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়তে হয় তাকে। আর তাকে ঘরে রাখা যায় না। এবার তার বিয়ে না দিলেই নয়। তাকে এখন পার করতে না পারলে বাকি মেয়েগুলোর বিয়ে কবে দেবে সে ? তাই নিয়ে গোমস্তাকাকার সঙ্গে কথা বলে সে। সব শুনে গোমস্তাকাকা বলেন , ঠিকই বলেছো মা , কিন্তু মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে তো পণ -যৌতুক - দান সামগ্রী সব দিতে হবে। সব জমি বিক্রি করেও তো তা হবে না। তাছাড়া একটা মেয়ের বিয়েতে সব বিক্রি করে দিলে খাবে কি , বাকি  ছেলেমেয়েদেরই বা কি হবে ?
 --- তাহলে কি হবে কাকা ? 
----- সেই তো মা , খুবই চিন্তার বিষয়। সবাই তো আর কর্তাবাবুর মতো নন , পছন্দ হলো তো ছেলের বৌ করে ঘরে তুলবেন। 
---- ওই রকম কিছু হয় না কাকা ? 
---- সে রকম সম্ভাবনা খুব কম। তবে একটা খবর পেয়েছি বাতাসপুরের জমিদার চন্দ্রকান্ত গাঙ্গুলী  তার বড় ছেলের জন্য একটি পাত্রী খুঁজছেন। কোন দাবিদাওয়া নেই। কিন্তু একটা সমস্যা আছে ---।
------ কি সমস্যা কাকা ?
 ---- এমনিতে সবই ঠিক আছে। ওরা পড়তি জমিদার বংশ হলেও এখনো যথেষ্ট জমিজমা আছে।এলাকায় ভালোমানুষ বলে পরিচিতিও রয়েছে।
 ---- তাহলে ?
---- কথাটা বলতে আমার কেমন বাধো বাধো লাগছে মা। আসলে ছেলেটাই একটু ন্যালাক্ষেপা। এমনিতে ভালো ছেলে , শরীর স্বাস্থ্যও ভালো।আমাদের বাসন্তী মা তো লক্ষী প্রতিমা। ওই ছেলের হাতে তুলে দেওয়ার কথা মনে স্থান দিতেই ইচ্ছা করছে না। কিন্তু পরিস্থিতিই ভাবতে বাধ্য করছে মা।
 --- সত্যিই তো কাকা। কি করব কিছুই ঠিক করতে পারছি না বেশ ওদের বাবার সঙ্গে কথা বলে দেখি। সন্ধ্যাবেলায় স্বামীর কাছে কথাটা পাড়ে অন্নপূর্ণা। শুনে এক কথাতেই না করে দেয় সায়ন্তন। তখন অন্নপূর্ণা তাকে বোঝায় -- দেখ আমাদের যা পরিস্থিতি তাতে এছাড়া গতি কি ?  একটা মেয়ে হলে তাও কথা ছিল। বাসন্তীকে আর ধরে রাখা যায় না। তার বয়সী গ্রামের সব মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ওর মনের কথাটা একবার ভাবো। এত রূপ থাকা স্বত্ত্বেও আমরা ওর বিয়ে দিতে পারছি না। মা হয়ে আমার যে কি দুঃশ্চিন্তা তা আমিই জানি। রাতে ঘুমোতে পারি না। 
অগত্যা নিমরাজি হতে হয় সায়ন্তনকে। তার সম্মতি পাওয়ার পরই গোমস্তাকাকা সব পাকা করে ফেলেন। কেবল বাসন্তীর মুখের দিকে চাইতে পারে না অন্নপূর্ণা। কেমন যেন একটা অপরাধ বোধ কাজ করে। মনে হয় সোনার প্রতিমা যেন জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এক বিকালে মেয়ের মাথায় চুল বেঁধে দিতে দিতে বলে , মন খারাপ করিস না মা। কথায় আছে, জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে -- তিন বিধাতা নিয়ে। যার যেখানে লেখা আছে তার তো সেখানে বিয়ে হবে মা। কপালে সুখ থাকলে দেখিস , ওতেই তুই সুখী হবি।
বলে বটে, কিন্তু অন্নপূর্ণা নিজেও বোঝে মনকে তার প্রবোধ দেওয়া হচ্ছে। বাসন্তী অবশ্য মাকে জড়িয়ে ধরে বলে -- তুমি অত ভেব না তো মা। আমার কপালে যা আছে তাই হবে।  


           পাত্রপক্ষের দাবি  কিছু নেই।  তবু বিয়ে বলে কথা , টুকটাক কেনাকাটা আছে, দু'চারজন আত্মীয় স্বজন - পাড়া প্রতিবেশীকে নিমন্ত্রণও করতে হবে। সব মিলিয়ে একটা বড়ো খরচের ধাক্কা। গোমস্তাকাকাকে বলে তাই  বাড়ির পিছনের গোটা  বাগানটাই বিক্রি করে দিতে হয়।  নির্ধারিত  দিনে অয়নের সঙ্গে  বিয়ে হয়ে যায় বাসন্তীর। অয়নকে দেখে পাড়া প্রতিবেশীরা কত টিকা টিপ্পনী করে। সুযোগ ছাড়ে না ভাসুর- জা'রাও। অন্নপূর্ণা শুধু মনে মনে বলে, ঠাকুর মেয়েটাকে সুখী কোর।  অন্য সবকিছু ঠিকঠাক মিটে গেলেও , গোল বাঁধে খাওয়া দাওয়ার সময়। গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে একজন করে নিমন্ত্রণ করা করা হয়েছিল। নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল ভাসুর--জা'দেরও। অন্নপূর্ণা নিজে গিয়ে বলে এসেছিল , দিদি তোমরা ছাড়া তো আমাদের কেউ নেই। যদি বিয়ের আগের দিন গিয়ে একটু দেখেশুনে দাও , তাহলে খুব ভালো হয়। জা'রা সেদিন কোন প্রত্যুত্তর করেন নি। আগের দিন তো দুরের কথা , ভোজের দিনও তারা আসে নি। বারান্দা থেকে দেখেছে আর নাক কুঁচকে হাওয়ায় নানা মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছে। শুধু তারাই নয় , গ্রামের বেশিরভাগ অবস্থাপন্ন লোকেরা আসে নি। আসার মধ্যে এসেছিল তার বাবা -- মা আর সায়ন্তনের বাগদি - হাড়ি- ডোম সম্প্রদায়ের অনুগামীররা। তারাই সব কাজকর্ম করে। আর তারই জন্য গোলমাল বেঁধে যায়।  হাতে গোনা কয়েক জন বরযাত্রী এসেছিল। তাদের মধ্য একজন আবার তিনআনিদের আত্মীয়। টিফিন খাওয়ার পর সে তাদের সঙ্গে দেখা করতে যায়। বরযাত্রীদের খেতে বসার সময় সে ফেরে। আর ফিরেই গন্ডগোল বাঁধিয়ে দেয়। খাওয়ার আসরেই সে সবাইকে শুনিয়ে বলে ওঠে , শুনুন সবাই পাত্রীপক্ষ আমাদের জাত মারার চেষ্টা করেছে। আমাদের খাওয়ার জন্য  নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণের পরিবর্তে জল অচল ছোটলোকদের দিয়ে রান্না করানো হয়েছে। ওই কথা শোনার পরই হই হই করে খাওয়া ফেলে উঠে পড়ে সবাই। হাতে পায়ে ধরেও তাদের আর কিছুতেই বসাতে পারে না সায়ন্তন --- অন্নপূর্ণা। তারা ভাবে , জাতটাই এত বড়ো হলো ? জাত-পাতের  অহংঙ্কারে যারা পাশে এসে দাঁড়ায় নি তাদের তুলনায় এইসব বাগদি - ভল্লাদের আন্তরিকতাকে তারা কি করে অস্বীকার করবে ? চায় না তাদের বড়োলোকী অনুকম্পা ,বাগদি- ভল্লাদের ভালোবাসাকে তারা কোনদিন অসম্মান করতে পারবে না।ওই পরিস্থিতিতে অপ্রস্তুতে পড়ে যান চন্দ্রকান্তবাবু। ছেলের বিয়ে দিতে এসে যে এই অবস্থায় পড়তে হবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেন নি। তবে তিনি বিচক্ষণ এবং ভালোমানুষ। তাই সে আর সায়ন্তন যখন তার কাছে এই পরিস্থিতির জন্য হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে যায় তখন তাদের হাত জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন , ছি ছি, এ রকমভাবে বলে আমাকে অপরাধী করবেন না। আপনাদের পরিস্থিতি আমি বুঝি। ও ব্যাটারা না খাক, আমার বাড়িতে ওদের দুদিন খাইয়ে পুষিয়ে দেব। আমি কিন্তু না খেয়ে যাচ্ছি না। হবু বেয়াইয়ের ব্যবহারে অবাক হয়ে যায় তারা। নিপাট ভদ্রলোক বোধহয় এদেরই বলে। সে বাকরুদ্ধ গলায় বলে, আপনি ভালোমানুষ শুনেছিলাম, কিন্তু এতটা যে ভালোমানুষ তা ভাবিনি।
----- এই শুরু করলেন আবার , আমাকে লজ্জায় ফেলে সময় নষ্ট না করে কারা পিছন থেকে কলকাঠিটা নাড়ল তা খুঁজে বের করুন দেখি ?  
মুখে না বললেও কারও আর বুঝতে বাকি থাকে না তিনআনির জমিদারবাড়ি লোকেরাই তাদের আত্মীয়ের কানে বিষ ঢেলেছে। কিন্তু কেন তারা এমনটা করল তা ভেবে পায় না অন্নপূর্ণারা। ওরা তো কার‍ও সাতে পাঁচে থাকে না। তবু তাদের সঙ্গেই কেন বার এমন হয় ভেবে পায় না অন্নপূর্ণা।

            ( ক্রমশ ) 

No comments:

Post a Comment