ঠাকরুন মা
অর্ঘ্য ঘোষ
( ধারাবাহিক উপন্যাস )
এখন তো ছেলেমেয়েরাও সব জেনে গিয়েছে। তাই মাঝে মধ্যে তাদের চোখে যেন ফুটে ওঠে প্রশ্ন চিহ্ন। অন্নপূর্ণা তাদের সমস্ত ব্যাপারটা খুলে বলে। বোঝায় , তাদের বাবা সৎই থাকতে চেয়েছিল। এই সমাজ তাকে সৎ থাকতে দেয়নি। তাদের জন্যই , তাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্যই বাবাকে বাধ্য হয়ে ওই পথ বেছে নিতে হয়েছে। সব শোনার পর সৌরভ বলে , আমি চাকরি করে বাবাকে আর ওইসব কাজ করতে দেব না। সবাইকে সুখী করব। অন্নপূর্ণা বলে , সেই আশাতেই তো আমরা বেঁচে আছি বাবা। অন্নপূর্ণা মনে মনে হিসাব করে একটা পাশ দিয়ে বেরোতে সৌরভের বছর তিনেক বাকি আছে। একটা পাশ দিয়ে বেরোতে পারলেই বাসন্তীর দেওর সন্দীপন ওর একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে বলেছে। বাসন্তীর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তেমন যোগাযোগ না থাকলেও সন্দীপনের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র ছিন্ন হয়নি। সন্দীপন রামপুরহাট কোর্টের উকিল। সেইজন্য সায়ন্তনের মামলার সুবাদে তার সঙ্গে যোগাযোগটা রয়ে গিয়েছে। তার উপরে সে ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্যও বটে। শাসক দলের হোমরা চোমরা লোক সে। লোকে বলে তার কলমে নাকি কালি খায়। কারও জন্য কিছু লিখে দিলে তার সেই কাজ হবেই। তাই সৌরভকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধে অন্নপূর্ণা। সৌরভের কিছু একটা হিল্লে হলেই সবার আগে সায়ন্তনকে সে ওই পথ থেকে সরিয়ে আনবে। তারপর একে একে মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। হৈমন্তীকে কেই বা আর বিয়ে করবে , তাদের অবর্তমানে তার যাতে খাওয়া পড়ার কোন সমস্যা না হয় তার একটা ব্যবস্থা করে যেতে হবে। গৌরবের যা মাথা তাতে লেখাপড়া হবে বলে মনে হয় না। তাই তাকে স্থিতু করার জন্য কোন একটা ব্যবসাপাতি করতে হবে। আর একটা কর্তব্য তার রয়েছে। গোমস্তাকাকা তার বাবার মতো। তার কাছে অন্নপূর্ণার অনেক ঋণ। তাদের কোন বিপদ আপদ হলে একমাত্র তিনিই ছুটে আসেন। পারুন বা নাই পারুন বিপদ থেকে উদ্ধারের সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। গোমস্তাকাকীও তাকে মেয়ের মতোই স্নেহ করেন। সায়ন্তন যখন জেলে থাকে তখন রোজ দুবেলা খোঁজখবর নিয়ে যান। সেই ঋণ অন্নপূর্ণা ভুলবে কেমন করে ? বাবা-- মায়ের ঋণ তো শোধ করা যায় না। শোধ করতেও সে চাই না। ছেলে চাকরি পেলে তাদের দুঃখের দিনের ভাগীদার গোমস্তাকাকাদেরও সে সুখের ভাগীদার করে নিতে চাই। কিন্তু সে সুখ কি বিধাতা তার কপালে লিখেছেন ?
সেই কথাই ভাবে অন্নপূর্ণা। নাহলে একের পর এক উটকো ঝামেলা এসে চাপে তাদেরই ঘাড়ে ? দিন কয়েক পরে সকাল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম। অবিরাম বেজে চলে সানাই। কখনও কখনও সানাইয়ের শব্দ ছাপিয়ে কানে যেন তালা ধরিয়ে দেয় ব্যান্ডের বাজনা। হবে না'ই বা কেন ? তিনআনিদের বড় ছেলের রাতুলের বিয়ে বলে কথা। পরিবারে প্রথম অনুষ্ঠান করে বড়ো ছেলের বিয়ে হচ্ছে বলে আড়ম্বরের কোন ঘাটতি রাখে নি ওরা। আড়ম্বরের ঘাটতি পাত্রীপক্ষেরও নেই। বিয়ে হচ্ছে পাশের গ্রামের ডাক্তার বামাপদ চট্টোরাজের ছোটমেয়ে ঝর্নার সঙ্গে । তাদের পরিবারেও শেষ বিয়ে। তাছাড়া বামাপদবাবু শুধু তো ডাক্তারই নন , অনেক জমিজমার মালিকও। গ্রাম থেকে শহরে একটা বাসও চলে তার। অন্নপূর্ণাদের বাড়ি থেকেই দুই পক্ষের বাড়িই নজরে পড়ে। একটা কাঁদরের এপার - ওপার। সকাল থেকেই হাওয়ায় ভেসে আসছে দু'বাড়ির ভোজের লোভনীয় রান্নার গন্ধ। তাদের বাড়ি থেকে দেখাও যাচ্ছে তিনআনিদের লোকজন খাওনোর জায়গাটা। গোটা গ্রামের নিমন্ত্রণ আছে। এমনকি তার ভাসুর--জা'দেরও নিমন্ত্রণ রয়েছে। নেই কেবল তাদেরই।
গৌরবটা একটু খেতে ভালোবাসে। সকাল থেকে বাতাসে ভেসে আসা পোলাও , মাছ, মাংস রান্নার সুগন্ধ গভীর ভাবে নাকে টানে গৌরব। বলে কি সুন্দর গন্ধ গো মা ? অন্নপূর্ণা মনে মনে ভাবে , গোটা গ্রামের নিমন্ত্রণ , তাদের করলে কি এমন ক্ষতি হোত। কথাবার্তা না থাকলেও ভোজ কাজে নিমন্ত্রণ তো অনেকেই করে। তারা যেত না কিন্তু ছেলেমেয়েগুলো তো একটু ভালো খেতে পেত। ভালো খাবার তো ওরা বহুদিন খায় নি। ছেলেকে কাছে ডেকে নেয় অন্নপূর্ণা। জড়িয়ে ধরে বলে, দাদা চাকরিটা পেয়ে যাক একবার , দেখ না তারপর আমরাও কি করি। দিদিদের বিয়েতে আমরাও ওর চেয়েও বড় ভোজ করব।
----- সে তো অনেক দেরি মা। আজ ওদের বাড়িতে চুপিচুপি খেয়ে চলে আসব ?
----- ছিঃ, বাবা কেউ দেখলে কি বলবে ?
----- কেউ দেখতে পাবে না মা। আমি চুপি চুপি যাব , আর ভিড়ের মধ্যে মিশে ঠিক খেয়ে চলে আসব।
এবারে মেজাজ হারিয়ে ফেলে অন্নপূর্ণা। চিৎকার করে বলে --- না। বিনা নিমন্ত্রেণে তুমি চোরের মতো খেতে যাবে না।
চোরের মতো ? 'চোরের মতো' কথাটা খট করে নিজের কানেই লাগে অন্নপূর্ণার। অবচেতন মনে এ কি বলল সে। বারান্দাতেই বসেছিল সায়ন্তন। সেও ঘুরে তাকায় তার দিকে। অন্নপূর্ণা বোঝে কথাটা সায়ন্তনেরও কানে লেগেছে। তাই ক্ষণেকে তার মুখটা কেমন গম্ভীর হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অন্নপূর্ণা বলে -- বিশ্বাস করো আমি কিছু ভেবে বলি নি। মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছে। তুমি রাগ কোর না যেন।
----- না , না এতে রাগ করার কি আছে ?
তাদের কথাবার্তার ফাঁকে কখন গৌরব বেড়িয়ে যায় টের পায় না অন্নপূর্ণা। কিছুক্ষণ পরেই গালে হাত বোলাতে বোলাতে কেঁদে বাড়ি ফেরে গৌরব। তার দুটো কানই লাল, গালে পাঁচটা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট। অন্নপূর্ণার আর বুঝতে বাকি থাকে না কি ঘটেছে। গৌরব মুখ খোলার আগেই তার গালে সজোরে চড় কষিয়ে দেয় সায়ন্তন। বলে, হারামজাদা ছেলে মা অত পই পই করে বারণ করল , তারপরেও চোরের মতো খেতে চলে গেলি ? ঠিক হয়েছে তোর।
বাবার চড় খেয়ে ককিয়ে ওঠে গৌরব। ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে অন্নপূর্ণা বলে , তুমি কি ? ছোট ছেলে লোভ সামলাতে পারে নি। তার শাস্তি তো ও নিয়েই ফিরেছে। তারপরেও তুমি ওর গায়ে হাত তুললে। আমার রাগ কি তুমি ওর উপর মেটাচ্ছো ? নিজে কোন দিন ছেলেমেয়েদের ভাল খাওয়াতে পেরেছ ? সে ক্ষমতাই যখন নেই তখন ওদের গায়ে হাত তোল কেন ?
কেউ আর কোন কথা বলে না। নিমেষেই মার খাওয়ার কথা ভুলে যায় গৌরব। তার চড় খেয়ে লাল হয়ে থাকা গালে চোখের জলের দাগ তখনও স্পষ্ট হয়ে আছে। অন্নপূর্ণা ভাবে , আহারে ছেলেটা কত আশা নিয়ে খেতে গিয়েছিল। ওইটুকু তো একটা পেট। খেলে কি কম পড়ে যেত ? ভোজবাড়িতে তো কত খাবার ফেলা যায়। ছেলেকে কাছে ডেকে অন্নপূর্ণা জিজ্ঞেস করে -- ওদের মারে তোর খুব লেগেছে নারে ?
কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে গৌরব বলে , না মা তেমন একটুও লাগেনি। জানো আর একটু হলেই খাওয়া হয়ে যেত। ভিড়ের মধ্যে কেউ চিনতেও পারে নি। পাতাতে ভাত দিয়েছিল, ওদের বাড়ির ছোটকর্তা ডালও দিয়েছিল। আমি মেখে খেতে যাব সেইসময় আমার দিকে চোখ পড়তেই বলে উঠল --- আরে এটা সেই চোরের ব্যাটাটা না ?
অন্নপূর্ণা - সায়ন্তন দুজনেই চমকে ছেলের মুখের দিকে তাকায়। আর একটু থেমে গৌরব ফের বলতে শুরু করে -- জানো মা , ওই কথাটা শোনার পরই সবাই খাওয়া ফেলে আমার দিকে চেয়ে থাকে। আমি ছুটে পালিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছোটকর্তা খপ করে আমাকে ধরে ফেলে মার লাগায়। তারপর আমার পাতার খাবারটা কুকুরকে খাইয়ে দিল জানো। ডালটাই যা হয়েছিল না মা , তাহলে অন্য রান্নাগুলো কেমন হবে ভাবো।
আমাকে না হয় সব কিছু নাই দিত , ডাল ভাতটা তো দিতে পারত বলো। সেই তো কুকুরকেই খাইয়ে দিল , আমাকে দিলে কি এমন ক্ষতি হত বলো ?
ছেলের প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেনা অন্নপূর্ণা। তার চোখের কোন দুটো চিকচিক করে ওঠে।আর ছেলের কথা শুনে সায়ন্তনের চোখে যেন জ্বলে ওঠে আগুন। এই সায়ন্তনকে কেমন যেন অচেনা লাগে অন্নপূর্ণার। পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করতে ছেলেকে নিয়ে পড়ে সে। বলে শোন , না দিক ওরা খেতে , আজ আবার সেদিনের মতো রুটি পায়েস হবে। আজ সেজদির জন্মদিন। কথাটা শুনেই হই হই করে দাদা - দিদিদের সেই খবর দিতে ছোটে গৌরব।
তিনআনিদের বাড়িতেও তখন বেশ হই চই। অন্নপূর্ণাদের বাড়ি থেকেই সামিয়ানা খাটানো খাওয়ানোর জায়গাটা স্পষ্ট দেখা যায়। সেখানে তখন আলাদা করে ব্রাহ্মণদের খাওয়ানোর আয়োজন চলছে। হঠাৎই ভীষণ রকম চঞ্চল হয়ে উঠে সায়ন্তন। দাঁড়িয়ে কি যেন দেখার চেষ্টা করে। তারপর অন্নপূর্ণাকে কাছে ডেকে বলে, আচ্ছা দেখ তো পরিবেশন করেছে ওই যে কালো মতো ছেলেটা ওদের সেই বড়ো জামাই নয় ?
---- হ্যা , তাতে কি হয়েছে ?
----- আরে বুঝছো না কেন ? ছেলেটি তো ব্রাহ্মণ নয়। কলেজে পড়তে পড়তে ওদের বড়ো মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করছিল। তাই নিয়ে দীর্ঘদিন কোন সম্পর্ক ছিল না। মনে পড়েছে এবার ?
--- হ্যা মনে পড়েছে। তা ওদের ব্যাপার ওরা বুঝবে। তোমার এত মাথাব্যাথা কেন ?
---- তাই হয় ? আমাদের সব ব্যাপারে ওদের মাথাব্যাথা হলে ওদের এক--আধটা ব্যাপারে মাথা না ঘামালে চলে ?
----- কি করতে চাও তুমি ?
----- দেখ না , শালাদের ঘোল ঘেঁটে দিয়ে আসছি। জাতের অহংকার ঘুচিয়ে ছাড়ব আজ। অন্নপূর্ণা বুঝে যায় কি ঘটতে চলেছে। সে স্বামীকে আটকানোর চেষ্টা করে।
----- না , তুমি শত্রুতা বাড়াতে যাবে না। ওরা সব পারে। কি করতে কি করে ফেলবে তা কেউ আগে থেকে জানতেও পারবে না।
----- করতে আর বাকিটা কি রেখেছে ? এরপর যা পারে করুক। আমিও এবার থেকে কি করতে পারি দেখাচ্ছি ওদের।
অন্নপূর্নাকে ঠেলে সরিয়ে সোঁজা খাওয়ার জায়গায় হাজির হয় সায়ন্তন। স্বামীর বিপদের কথা ভেবে লজ্জার মাথা খেয়ে পিছনে পিছনে ছোটে অন্নপূর্ণাও। সেখানে তখন ডাল মেখে সবে ভাতের গ্রাস মুখে তোলার উপক্রম করেছে ব্রাহ্মণেরা। হঠাৎ তাদের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়ায় সায়ন্তন। তিনআনিরা তাকে ওই অবস্থায় দেখে কিছুটা হকচকিয়ে যায়। বুঝতেই পারে না কি ঘটতে চলেছে। সায়ন্তন কিন্তু কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই বলতে শুরু করে , মাননীয় ব্রাহ্মণ সমাজ আমি এখানে নিমন্ত্রিত নই , তবুও আপনাদের কথা ভেবেই আমাকে ছুটে আসতে হয়েছে। আমি চোর হতে পারি কিন্তু আমিও ব্রাহ্মণ সন্তান। আর তাই ব্রাহ্মণ হয়ে ব্রাহ্মণের অবমাননা সইতে না পেরেই ছুটে এসেছি। আপনারা হয়তো জানেন না এই তিনআনিরবাবুরা জেনেশুনে আপনাদের জাত মারার উপক্রম করেছেন। ওই যে দেখছেন ডাল পরিবেশন করছে যে ছেলেটি , সে বাবুদের বড় জামাই। সে আসলে জল অচল অব্রাহ্মণ। এখন আপনারই বিবেচনা করুন আপনারা কি করবেন ?
সায়ন্তনের কথা শুনতে শুনতে অন্নপূর্ণা কোথাই যেন হারিয়ে যায়। সায়ন্তন যে এমন গুছিয়ে কথা বলতে পারে তা তো জানা ছিল না। তার সম্বিত ফেরে তুমুল হই হট্টগোলে। চেয়ে দেখে ব্রাহ্মণেরা খাবারের পাতা ছেড়ে উঠে পড়েছেন। সবার গলায় এক সুর ---- কাজটা কিন্তু আপনারা ভালো করলেন না। এরপর আপনাদের বাড়িতে আমরা পাত পাড়ব কিনা ভাবতে হবে। বিশেষ করে সেই অনুষ্ঠানে তোমার এই জামাইটা থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই।
রাগে ফেটে পড়ে তিনআনিরা। ছোটছেলেটা সায়ন্তনের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ার উপক্রম করতেই সে বলে , মারবি তো মার। কিন্তু মনে রাখিস রাত কারো বাবার নয়। যে অন্ধকারে চড়ে বেড়াতে পারে রাত তার। আমাকে এখন মারলে রাতের অন্ধকারে চোরা টানে মেরে তোদের ঠাং ভেঙে দেব। সারাজীবন ল্যাংচাবি। সায়ন্তনের কথা শুনে ' থ ' হয়ে যায় অন্নপূর্না।এ কে কথা বলছে ? ' থ ' হয়ে যায় ওদের বাড়ির ছোটছেলেটাও। কিন্তু ফের হাত তুলে মারতে আসে সায়ন্তনকে। আর সায়ন্তনও তার দিকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বলে , নে মার দেখি তোর হিম্মত কত। এবার থেকে গায়ে হাত দিলেই তোদের পুকুরে বিষ ঢালব , ধানের মড়াইয়ে আগুন লাগাব। পুলিশে দিবি তো ? জেল থেকে ফিরে এসে তোদের ভালো পা'টাও ভেঙে দেব।
সারাজীবন বিছানায় পড়ে থাকবি। ক'বার জেলে পাঠাবি। ১২৫ টা কেস আমার
নামে। আরও কয়েকটা বাড়বে বড়োজোর। আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে , কিন্তু আমি যদি মার খেয়ে মরে যায় , তোদের জেলে যেতে হলে তোরা মরে যাবি। ইয়া বড়ো বড়ো মশা , তোদের মতো বাবুদের রক্ত পেলে চুষে খেয়ে নেবে। আর জেলে যে সব দাগি আসামীরা আছে তারা আমার বন্ধু। যখনই শুনবে তোরা আমাকে মেরে জেলে গিয়েছিস তখন ওরা তোদের মেরে সাইজ করে দেবে। কই হাত গুটিয়ে নিলি কেন ? কই মার দেখি ?
সবাই নির্বাক হয়ে যায় সায়ন্তনের কথা শুনে। ব্রাহ্মণেরা বলে , এক্ষেত্রে বাপু ওর গায়ে হাত তোলাটা তোমাদের অন্যায় হবে। ওই তো আমাদের জাতটা বাঁচালো। অগ্যতা কিল খেয়ে কিল হজম করতে হয় তিনআনিদের। আর নিঝঙ্ঝাটেই বাড়ি ফিরে আসে অন্নপূর্না -- সায়ন্তন। বাড়ি ফিরেই সায়ন্তকে নিয়ে পড়ে অন্নপূর্ণা। বলে --- আচ্ছা, তুমি এত সাহস পেলে কি করে ?
----- মানুষের দেওয়ালে পিঠ গেলে তখন সাহস আপনা থেকেই জন্মায়। আর ভয় কেটে যাওয়া মানুযকে তখন ভয় দেখানো মানুষেরাই ভয় পেতে শুরু করে। অন্নপূর্ণাও তা উপলব্ধি করে। সেদিনের ওই ঘটনার পর থেকে আর হুট করে সায়ন্তনকে কেউ ঘাঁটায় না।কিন্তু ভয় কাটে না অন্নপূর্ণার। তার চোখে ভেসে উঠে তিনআনিদের আক্রোশ ভরা চাউনি।


No comments:
Post a Comment