Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ঠাকরুন মা - ১৬ /





               ঠাকরুন মা 
    
   

        ( ধারাবাহিক উপন্যাস ) 



                         অর্ঘ্য ঘোষ  



সে জানে তিনআনিরা বিষধর সাপের চেয়েও খল। লেজে যখন একবার পা পড়েছে তখন ওরা ছোবল না মেরে ছাড়বে না। তাই স্বামীকে বলে, সব তো চুকেবুকে গিয়েছিল। তুমি আবার ওইসব করতে গেলে কেন?
 ---- দেখ , জাতের প্রশ্ন তুলে ওরা আমাদের মেয়ের বিয়েতে ভাংচি দিয়েছিল , সেটা আমি ভুল গিয়েছিলাম। কিন্তু ওইটুকু একটা ছেলেকে খাবারের পাতা থেকে তুলে মারধোর করাটা আমার মনে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছিল। সেটা আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই ভাবলাম , আমার ছেলেকে যারা একপাতা ভাত দিতে পারে নি তাদের ভাতের অধোগতি করে ছাড়ব। 
সত্যিই অন্নপূর্ণা দেখে খাবার নিয়ে ওদের অধোগতির সীমা নেই। ব্রাহ্মণেরা না খেয়ে চলে যাওয়ায় প্রচুর খাবার বেঁচে যায়। সেইসব খাবার কাজের লোকেরা নিয়ে গিয়ে পুকুর পাড়ে ফেলে দেয়। আর কুকুরে তা কাড়াকাড়ি করে খায়। অন্নপূর্ণা ভাবে , অথচ ওই খাবারই এক পাতা তার  ছেলেকে খেতে দেয় নি ওরা। তবে এভাবে খাবার নষ্ট হওয়ায়  তার খুব খারাপও লাগে। তাদের মতোই বহু মানুষ দুবেলা পেট ভরে খেতে পায় না। অথচ কত দামী দামী খাবার নষ্ট হয়ে গেল। এজন্য পরোক্ষে নিজের স্বামীকেও কিছুটা দায়ী করে সে। সেই কথা ভাবতেই ফের তার মনে ছায়া ফেলে এক অজানা আশংকা। স্বামীকে তাই সে বলে , হ্যাগো ওরা তোমার কোন ক্ষতি করবে না তো ? 
------ সে চেষ্টা কি আর করবে না ? নাহলে যে ওদের রাতে ঘুমই হবে না। তবে যা ভড়কি দিয়েছি তাতে কিছু করার আগে এবার ওরা ভাববে। তাছাড়া এই গ্রামে আর আমরা বেশদিন থাকবও না। সৌরভ কিছু একটা কাজ পেলেই আমরা অন্য কোথাও চলে যাব। এ গ্রামে থাকলে নিজের তো বটেই , ছেলেমেয়েদেরও সারাজীবন চোর বদনাম সইতে হবে। কিন্তু মানুষ ভাবে এক , আর হয় এক। অন্নপূর্ণার জীবনে এমন ঘটনা তো বহুবার ঘটেছে। তবে  এবারে ঘটনায় সবাই বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলে। সেদিন ছিল সৌরভের  জন্মদিন। বাঁচিয়ে রাখা পয়সায় সন্ধায় পায়েস - রুটি করেছিল অন্নপূর্ণা। সৌরভরা বিকালে সেদিন বাসতলায় খেলতে গিয়েছিল। তিনআনিদের শিবপুকুরের পাড়ে বামাপদ চট্টোরাজের বাসটা দাঁড়ায় বলে জায়গাটাকে সবাই বাসতলা বলে।ওখানে রয়েছে একটা মাত্র চা - তেলেভাজার দোকান আর বামাপদবাবুর ডিসপেনসারি। সেই জন্য বিকালের দিকে অনেক লোকের আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে বাসতলা। সৌরভরাও দু'ভাই মাঝে মধ্যে যায়। আজও গিয়েছে। অন্নপূর্ণা রুটি -পায়েস তৈরি করে বসে থাকে। সৌরভরা ফিরলেই সবাইকে খেতে দেবে। কিন্তু এতক্ষণ তো ওদের চলে আসার কথা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল তবু ওদের কোন খবর নেই কেন ? হঠাৎ ছুটে আসে বাসতলার চায়ের  দোকানদার গদাই। হাঁফাতে হাঁফাতে সে বলে , ঠাকরুনমা তাড়াতাড়ি বাসতলায় চলুন। আপনাদের বড়ো বিপদ হয়ে গিয়েছে।
বিপদের কথা শুনে বুকটা ধক করে ওঠে অন্নপূর্ণার। সৌরভ-- গৌরব তো ওখানেই গিয়েছে ওদের কোন বিপদ হলো না তো ?


                                সায়ন্তন আর সে ছুটে যায় বাসতলায়। সেখানে পৌঁছোতেই মাথা ঘুরে যায় অন্নপূর্ণার। বামাপদের বাসের সামনে পড়ে রয়েছে তাদের স্বপ্ন, রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত সৌরভের নিথর দেহ। আর দাদার মাথাটা কোলে নিয়ে সমানে কেঁদে চলেছে গৌরব। ছেলের কাছে গিয়েই চেতনা হারিয়ে ফেলে অন্নপূর্ণা। বাসতলা তখন লোকে লোকারণ্য। সবার মুখেই তখন দুর্ঘটনার আলোচনা। কেউ বলে , ডাইভারের কোন দোষ নেই। সৌরভই পিছন থেকে লাফিয়ে  নামতে গিয়ে চাকার তলায় চলে যায়। কেউ বলে , বাসের লোকেদেরও লক্ষ্য রাখা উচিত ছিল। বিতর্কের মধ্যেই বাসতলায় ছুটে আসেন গোমস্তাকাকা। এসে পৌঁছোন বাসমালিক বামাপদ চট্টোরাজ , ইউনিয়ন বোর্ডর 
প্রসিডেন্ট রমাপতি চৌবে , ইউনিয়িন বোর্ডের স্থানীয় সদস্য বন্ধুবরণ ঘোষ। রমাপতি এবং বন্ধুবরণবাবু আবার বামাপদর বন্ধু স্থানীয়। তারা এসে সায়ন্তনকে বলে , যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে। এখন এ নিয়ে থানা-পুলিশ করতে গেলেই ঝামেলা বাড়বে। পোষ্টমর্টেম , হ্যানোত্যানো , বারো সতেরো করতে করতে লাশের অধোগতির শেষ থাকবে না। তার থেকে দুই পক্ষে বসে একটা মীমাংসা করে নিয়ে স্থানীয় শ্মশানে দাহ করে দিলেই ভালো হয়। অন্নপূর্ণার তখন ওই সব কথা শোনার মতো অবস্থা ছিল না। সে তখন ছেলের মৃতদেহ আঁকড়ে কেঁদেই চলেছে। ঘন ঘন চেতনাও হারাচ্ছে। খবর পেয়ে মেয়েরাও ছুটে এসেছে। তারও মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। মাথায় হাত দিয়ে ছেলের মৃতদেহের পাশে বসে আছে সায়ন্তন। তারও চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জলের ধারা। তাদের হয়ে বামাপদদের সঙ্গে কথা বলছেন গোমস্তাকাকা। উপস্থিত পাঁচজনের মধ্যস্থতায়   ঠিক হয় , বাস মালিক সৌরভের সৎকারের জন্য ১০০ এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০০ টাকা দেবেন। সৎকারেরর টাকাটা আজই দেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণের টাকাটা চূড়ান্ত করার আগে সায়ন্তনের মতামত নিতে আসেন গোমস্তাকাকা। সায়ন্তনের তখন কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না। তারই মাঝে 
কোনরকমে শুধু বলতে পারে , আপনারা যেটা ভালো মনে করবেন করুন। আমার আশার আলো নিভে গেল , আমি আর ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে কি করব ? তারপরই কান্নায় ভেঙে পড়ে সায়ন্তন। তা দেখে এগিয়ে আসেন বন্ধুবরণবাবু। তিনি সায়ন্তনের ঘাড়ে হাত রাখেন। আর তাকে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারে না সায়ন্তন। লোকে তারই মধ্য বন্ধুবরণবাবুকে বিবেচক হিসাবে কিছুটা হলেও সম্মান করেন। তার হাত ধরে সায়ন্তন বলে , জানেন দাদা 
ছেলেটার পড়াশোনায় মাথা ছিল। ভেবেছিলাম ওর একটা কিছু হয়ে গেলেই আমি আর চুরি করব না। মেয়েগুলোর বিয়ে দিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচব। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমরা কোন আশায় বাঁচব দাদা ?
 ---- তোমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই  সায়ন্তন। কিন্তু তুমি সম্মতি না দিলে কিছুই চূড়ান্ত করা যাচ্ছেনা ভাই। 
------ যেখানে আপনার মতো মানুষ আছেন , গোমস্তাকাকা আছেন সেখানে আমি কি'ই বা আর বলব ? আপনারা যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই করুন।


                           সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়। বামাপদবাবু গোমস্তাকাকার হাতে ১০০ টাকা তুলে দেন। তারপরই ধরাধরি করে বাড়ির উঠোনে এনে শোয়ানো হয় সৌরভকে। অন্নপূর্ণা সযত্নে রক্ত মুছিয়ে দিয়ে তাকে পড়িয়ে দেয় পরিস্কার জামাপ্যান্ট। কপালে দেয় চন্দনের ফোটা। তারপর নিয়ে আসে সৌরভেরই জন্মদিনে তৈরি পায়েসের বাটি। চামচে নিয়ে সেই পায়েস তুলে ধরে ছেলের মুখের সামনে। তারপর ছেলের মুখের দিকে চেয়ে বলে --- নে বাবা, 
মুখ খোল। অভিমান করে থাকিস না। দেখ তুই ভালোবাসিস বলে বেশি করে দুধ দিয়েছি আজ। খেয়ে নে বাবা। 
বলতে বলতেই ছেলের বুকের উপর কান্নায় ভেঙে পড়ে অন্নপূর্ণা। শ্মশান বন্ধুরা তাকে সরিয়ে সৌরভের দেহ তুলে নিয়ে চলে যায়। অন্নপূর্ণার কান্নায় ভারী হয়ে উঠে বাতাস।সৌরভের মৃত্যুর পর বাড়িটা যেন আরও নিঝুম হয়ে পড়ে। সবার মধ্যেই যেন একটা মনমরা ভাব। আসলে ওই একটি ছেলেকে ঘিরেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল পুরো পরিবার। সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় কাজ করার উদ্যোমও হারিয়ে ফেলেছে সবাই। এমন কি সায়ন্তন আর চুরি করতে যায় না। ঘরে সৃষ্টি হয় তীব্র অভাব। একমাস পুর্ণ হতে চলল বামাপদ ক্ষতিপূরণের টাকাটা এখনও দেন নি। বামাপদবাবুর কাছে টাকাটার জন্য গোমস্তাকাকাকে পাঠায় সে। বড়ো আশ্চর্য লাগে অন্নপূর্ণার। সৌরভের মৃত্যু একমাসও হয় নি। অথ চ তারই মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের জন্য তাকে তাগাদা দিতে পাঠাতে হচ্ছে। এর চেয়ে  মর্মান্তিক আর কি বা হতে পারে একজন মায়ের কাছে ?  পরিস্থিতিই তাকে বাধ্য করে। কিন্তু কিছুক্ষণই পরেই গোমস্তাকাকা মুখ চুন করে ফিরে আসে। শুধু সেদিনই নয় , বার কয়েক গোমস্তাকাকা বামাপদবাবু এমনকি রমাপতি এবং বন্ধুবরণের কাছে গিয়েও কোন সুরাহা করতে পারে না। আজ নয় কাল এসো বলে শুধু হয়রান করেছেন বামাপদবাবু। বিষয়টি এখনও সায়ন্তনের কানে তোলেনি অন্নপূর্ণা। তুললে কি যে হত কে জানে। সৌরভের মৃত্যুর পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সায়ন্তন।  সংসার আর চলে না। কয়েকদিন ধরে দুবেলা আটা গোলা খেয়ে চলছে। আজ আর তাও নেই। সায়ন্তনকে কিছু বলা মানেই পরোক্ষে চুরি করতে প্ররোচিত করা। কিন্তু না বললেও নয়। ছেলেমেয়েগুলোর মুখে তো কিছু তুলে 
দিতে হবে। কথাটা পাড়তেই সায়ন্তন বলে , বামাপদবাবু টাকাটা দেন নি এখনও ? এই আশংকাটাই করছিল অন্নপূর্ণা। যা মাথা গরম ,  টাকা দেয়নি বললে কি করতে কি করে ফেলবে তার ঠিক নেই। তাই সে বলে ,  দেবে ,  এইতো মাস পূর্ণ হলো।
----- দেবে মানে কি ? এখনও দেয়নি ? আমি তো ভাবলাম গোমস্তাকাকাকে দিয়ে দিয়েছে। আর মাস পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে  কি সম্পর্ক ? ওর তো এক মাসের ভিতরেই দেওয়ার কথা ছিল। গোমস্তাকাকাকে  দিয়ে হবে না , শালাকে আমি দেখছি দাঁড়াও।
প্রমাদ গোনে অন্নপূর্ণা। স্বামী বেরনোর উদ্যোগ নিতেই সে হাত চেপে ধরে বলে , না তুমি যাবে না। যা করার গোমস্তাকাকাই করবেন।
-----  গোমস্তাকাকাকে ওরা পাত্তাই দেবে না। শালাদের টাকার অভাব আছে ? আমার ছেলেরা না খেয়ে থাকবে , আর  টাকা দেব বলেও ওরা টাকা দেবে না তা তো হবে না। হাত ছাড়িয়ে বেরিয়ে যায় সায়ন্তন। গোমস্তাকাকার মতো সেও দিন কয়েক খালি হাতেই ফেরে। দেখতে দেখতে তিন মাস পেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য হারা হয়ে পড়ে অন্নপূর্ণাও। যদি না দেওয়ারই ইচ্ছে ছিল তা হলে দেব বলা কেন ? একদিন রমাপতিবাবু  ,  বন্ধুবরণবাবুদের কাছেও যায় সায়ন্তন। সব শুনেও রমাপতিবাবু ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। আর বন্ধুবরণবাবু বলেন , বামাপদ এটা ঠিক করছে না। আমিও টাকাটা দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু দেব-- দিচ্ছি করছে। এমন হবে জানলে মাঝে থাকতাম না।
সায়ন্তন বলে , দাদা সেদিন আপনারা যা বলেছিলেন আমি কিন্তু তা অমান্য করিনি।বামাপদর কাছে টাকাটা তো হাতের ময়লা। টাকাটা পেলে ছেলেমেয়েগুলো খেয়ে পড়ে বাঁচত। জানেন , আজ থেকে আর আমাদের হাঁড়ি চড়বে না।
জবাবে বন্ধুবরণবাবু কিছু বলতে পারেন নি। কিন্তু সায়ন্তনকে কিছু চাল-ডাল আর ১০ টাকা দিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সায়ন্তন। বলেছিল , সোজা আঙুলে আর ঘি উঠবে না। শালাকে এবার দেখছি দাঁড়াও। এবার বাপ বাপ করে টাকা দিয়ে যাবে।
আবার স্বামীকে চেপে ধরে অন্নপূর্ণা। বলে , না তোমাকে ওই ব্যাপারে কিছুই করতে হবে না। যা করার গোমস্তাকাকাই করবেন। টাকা দেয় ভালো , না দিলে ভিক্ষা করব। নাহলে বিষ খেয়ে মরব সবাই।


                     তখনকার মতো চুপ করে যায় সায়ন্তন। কিন্তু ওর চোখ মুখ দেখে অন্নপূর্ণা বুঝতে পারে কিছু একটা পরিকল্পনা করছে সে।তাই স্বামীকে সে চোখে চোখে রাখে। একেই সেদিনের সেই ভোজের ব্যাপারটা নিয়ে তিনআনিদের চক্ষুশূল হয়ে রয়েছে সে , তার উপরে ওদের আত্মীয় বামাপদকেও যদি কিছু একটা করে বসে তাহলে আর দেখতে হবে না। দু'পক্ষ মিলে সায়ন্তনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতেও ওরা পিছপা হবে না। স্বামীকে চোখে চোখে রেখেও শেষরক্ষা হয় না। সেদিন স্নান করে পুকুরঘাট থেকে ফিরেই দেখে বাড়িতে সায়ন্তন নেই।  বাবা কোথায় গিয়েছে ছেলে-মেয়েরাও বলতে পারে না। তবে কি সে যা ভয় করছিল তাই হলো শেষ পর্যন্ত ?  কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য হন্তদন্ত হয়ে ফেরে সায়ন্তন। তার চোখমুখে উত্তেজনার ছাপ। খুচরো-নোট মিলিয়ে ৫০ টাকার মতো তুলে দেয় তার হাতে। 
অন্নপূর্ণা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইতেই সায়ন্তন বলে , আজ দিয়েছি শালা বামাকে। ঘোড়ায় চেপে রুগী দেখে ফিরছিল। টাকাটা চাইতেই উল্টোপাল্টা বলতে শুরু করল। আর গেল মেজাজ হারিয়ে। ঘোড়া থেকে ফেলে ব্যাটাকে দিলাম উত্তম মধ্যম। রুগী দেখার টাকা ক'টাও কেড়ে নিলাম। টাকাটা ওর'ও নয়। শালা কসাই , গরীবের রক্ত চুষে খায়। নাড়ী ধরেই জানতে চায় কত টাকা নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছ।
স্বামীর কথা শুনে ধপাস করে মাটিতে বসে পড়ে অন্নপূর্না। কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে সে বলে , কতবার তোমাকে বললাম , আমার কথা শুনলে না। এবার  শ্বশুর -- জামাই একজোটে হয়ে তো বদলা নেবে।
---- সে কি আর জানি না। ছেলেমেয়েদের নিয়ে তুমি ঘরে ঢোক তারপর দেখছি। আসুক শালারা।
ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্নপূর্ণা ঘরে ঢুকতেই বিশাল রাম'দা নিয়ে দরজা আগলে বসে সায়ন্তন।


                              ( ক্রমশ ) 


No comments:

Post a Comment