Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ঠাকরুন মা -- ১৭ /




   ঠাকরুন  মা 


 ( ধারাবাহিক উপন্যাস ) 


      অর্ঘ্য ঘোষ  



ভয়ে বুক কাঁপে অন্নপূর্ণার। সে যা ভেবেছিল তাইই ঘটার উপক্রম দেখা দেয়। কিন্তু একরোখা ভাবের জন্য তখনকার মতো বড়ো কিছু ঘটে না । কিছুক্ষণের মধ্যেই দলবল নিয়ে হাজির হয় ওরা দু'তরফ। তারমধ্যে তিনআনিদেরই লম্ফঝম্ফ বেশি দেখা যায়। একে তো ছেলের বিয়ের ওই ঘটনা নিয়ে পূর্ব আক্রোশ ছিলই , তার উপরে যুক্ত হয় বেয়াই বামাপদকে মারার ঘটনা। সে  বামাপদ প্রতিশ্রুত টাকা না'ই দিতে পারেন তাবলে সানার মতো ছিঁচকে চোরের তার গায়ে হাত তোলাটা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না ওরা। এ যে এক রকম তাদের গায়েই হাত তোলা। এর পরে সানাকে শায়েস্তা না করতে পারলে যে তাদের মান থাকে না। তাই বামাপদদের পারিষদদের থেকে তিনআনিদেরই বেশি গর্জন শোনা যায়। ওদের ছোটছেলেটাই তড়পাই বেশি। তারই গলা শোনা যায় -- কই বেড়িয়ে দেখি শালা , তোর ঘাড়ে ক'টা মাথা। হুংকার ছাড়ে সায়ন্তনও --- আয় রে শালারা , দরজা খোলাই আছে , সামনে আয় দেখিয়ে দিচ্ছি কার ঘাড়ে কটা মাথা।
ওই কথা শোনা মাত্র ওরা সবাই রে রে করে ছুটে আসে। আর তখন রামদা নিয়ে কাপালিকের মতো উঠে দাঁড়ায় সায়ন্তন। তাকে ওই অবস্থায় দেখে ভড়কে যায় লোকগুলো। আর তা দেখে গর্জন করে ওঠে সায়ন্তন ---- কি রে শালারা ভয় পেয়ে গেলি ?  সারাজীবন ধরে গরীব দুর্বল মানুষকে একা কেবল তোরাই মেরে যাবি ?  আয় এগিয়ে , এক এক কোঁপে ধর থেকে সব ক'টা মাথা নামিয়ে দেব। একটা খুন করলেও ফাঁসি , দশটা খুন করলেও সেই ফাঁসি। তাহলে একটা কেন , রক্তবীজের নাশ করে ছাড়ব।
ওরাও সায়ন্তনকে শাসায় , খুব বাড় বেড়েছিস না। শীঘই তোর বাড় ঘুচিয়ে দিচ্ছি দাঁড়া। মনে রাখিস পিপিলিকার পাখা হয় মরিবার তরে। তোর হয়েছে তাই। 
সায়ন্তনও ছেড়ে কথা বলে না। সে'ও পাল্টা শাসায় , আরে যা যা , আমরা তো মরেই আছি। মরার আবার খাঁড়ার ঘায়ের ভয় কিসের ? তোরা এখন মানে মানে পথ দেখ। না হলে তোদের পাখনাগুলোই ঝুড়ে দেব , দেখবি শালারা ? 
বলে দা নিয়ে ওদের তাড়া করে যায় সায়ন্তন। তার ওই মুর্তি দেখে যেন কিছুটা ভয় পেয়ে রণেভঙ্গ দেয় ওরা। আর যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে অন্নপূর্ণার। কিন্তু মনে একটা অজানা আশংকা থেকেই যায় তার। তিনআনিরা লোক তো সুবিধার নয়। ওরা সব পারে। পুরনো হয়ে যাওয়া বউকে আর পচ্ছন্দ না হওয়ায় ওরা প্রায় সবাই এক বা একাধিক মেয়েকে গলা টিপে কিম্বা গালে চড়িয়ে মেরে আবার বিয়ে করেছে। দীর্ঘদিন এক সাথে থাকার পরও যারা  বউকে, নিজের সন্তানের মা'কে ওইভাবে মেরে ফেলতে পারে , অন্যদের মারতে যে তাদের একটু হাত কাঁপবে না তা ভালোই জানে অন্নপূর্ণা। সায়ন্তনও কথাটা ভুল বলে নি ,  --পান থেকে চুন খসলেই ওরা দুর্বল গরীব মানুষকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে এসে বেঁধে মারধোর করে। এমন কি গরীবেরা কেউ ওদের বাড়ির সামনে দিয়ে জুতো কিম্বা ভালো পোশাক পড়ে গেলেও তাকে নানা রকম শাস্তি পেতে হয়। কেউ হাল ফ্যাসানের চুল রাখলে নাপিত ডেকে নাড়িয়ে দেওয়ারও নজির আছে। প্রয়োজনে ওরা পায়ে পা লাগিয়ে ঝামেলায় ফেলেও লোককে অমানবিক শাস্তি দেয়। সবাই সব জানে , কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারে না। কারণ জমিদারি গেলেও ওদের দাপটে এখনও বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায়। নিজেদের মধ্যে খুড়তুতো, জ্যাঠতুতো ভাইয়ে -ভাইয়ে  তেমন একটা সদ্ভাব না থাকলে এই রকম পরিস্থিতিতে সবাই একজোট হয়ে প্রতিপক্ষের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার উপরে পোষা লেঠেল বাহিনীও আছে ওদের। জমিদারি ঠাটবাট তো রয়েছেই।



                    সেইসব কথা ভেবেই মনে মনে খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অন্নপূর্ণা। সে শুধু ঠাকুরকে ডাকে -- ঠাকুর আর কিছু চাই না , তুমি ওদের আক্রোশ থেকে ওকে রক্ষা করো। তার বাড়ির কাছেই রয়েছে দূর্গা, কালী আর রাধারমণের মন্দির। এত কাছে থেকেও ঠাকুর কি তার এই প্রার্থনাটাও শুনবে না ?  নিজের মনকে প্রশ্ন করে অন্নপূর্ণা। তার পাশে তো সেই অর্থে কেউ নেই। ঠাটবাট থাক বা নাই থাক সাধারণত  জমিদার বাড়ির সঙ্গে দুঃস্থ আত্মীয় স্বজনদের আত্মীয়তা গড়ে ওঠে না। তার ক্ষেত্রেও বাপের বাড়ির সঙ্গে  দুরত্ব ঘোচে নি কোনদিন। শ্বশুর--শাশুড়ি বেঁচে থাকাকালীন বাবাকে আত্মীয় নয় , একজন প্রজা হিসাবে দেখা হত। তারপরও দুরত্ব ঘোচে নি সায়ন্তনের কারণে। চোর জামাইয়ের সঙ্গে  তখন তারাই দুরত্ব তৈরি করে নেয়। এমন কি বাবা মারা যাওয়ার খবরও তাকে দেওয়া হয়নি। লোকমুখে খবর পেয়ে সে ছুটে গিয়েছিল। তবে কেউ তাকে বাড়িতে যেতেও বলে নি। গ্রামের বাইরে কাঁদরের ধারে বাবার মুখাগ্নি দেখেই , নীরবে চোখের জল ফেলে ফিরে  আসতে হয়েছিল তাকে। বড়ো জামাই মুখাগ্নি করেছিল।  তারপর থেকে মা রয়েছে বোনেদের কাছে। আরও একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের  আত্মীয়তা গড়ে ওঠার সম্ভবনাও ঘুচে যায়। না জেনে বোনের বাড়িতেই চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় সায়ন্তন। ওরাও সায়ন্তনকে চেনে না। দেখেই নি তো কোনদিন।তাই ওরা ওকে বেঁধে লোকজন ডাকার উপক্রম করছিল। হইচই শুনে মা , বোন বেরিয়ে এসে সায়ন্তনকে দেখে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সায়ন্তনকে দেখে মা নাকি বলেছিল , তোমার পরিচয় দিতেও ঘেন্না হয়। এসব দেখার আগে আমার মরে যাওয়াই ভালো ছিল।যাও , গাঁয়ের লোক জাগার আগে চুপিচুপি পালাও।আর যেন কোনদিন তোমার মুখ দেখতে না হয়। তোমার পায়ে ধরে বলছি আমার মুখে চুনকালি মাখাতে এসো না।
পরে সায়ন্তনের মুখে সব শুনে মরমে মরে গিয়েছিল অন্নপূর্ণা। বাসন্তীর সঙ্গেও যোগাযোগ নেই দীর্ঘদিন। বাবার পরিচয় যাতে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ছায়া না ফেলে তারজন্য অন্নপূর্ণাই দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে। তাদের সহায় বলতে রয়েছেন এক গোমস্তাকাকা। আর একজন হলো বাসন্তীর দেওর। সায়ন্তনের মামলার জন্যই তার সঙ্গে যোগাযোগটা টিকে আছে। কিন্তু তা আদালতের বাইরে টেনে আনে নি অন্নপূর্ণা। তারও লজ্জা বলে একটা কথা আছে। ওই সব কথা ভেবেই মনে মনে খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অন্নপূর্ণা। সে আবার হাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে বলে , ঠাকুর আর কিছু চাই না , তুমি ওদের আক্রোশ ওকে বাঁচিয়ে দিও। তার বাড়ির কাছেই এত ঠাকুর দেবতার বাস। তারা নিশ্চয় আর মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারবে না। নিজের মনকে প্রবোধ দেয় অন্নপূর্ণা। 


                                                 কয়েকদিনের মধ্যেই তার ভুল ভেঙে যায়। দরজায় কড়া নাড়ে যেন কালান্তক যম।বামাপদকে মারধোরের পর থেকেই কানাঘুষোয় নানা কথা উড়ে আসছিল অন্নপূর্ণার কানে। তিনআনিরা  নাকি ছেড়ে কথা বলবে না। সে আশংকা তো অন্নপূর্ণারও রয়েছে। কিন্তু কি করবে সে ? এই বিপদের দিনে কার কাছে যুক্তি পরামর্শ নেবে ? এসময় শ্বশুর -শাশুড়ির কথা খুব মনে পড়ে তার। সেই নৈকট্য তাদের কোনদিনই তৈরি হয়নি ঠিকই , কিন্তু শ্বশুরমশাই ছিলেন বটগাছের মতো। ঝড়ঝাপটা পরিবারে গায়ে লাগতে দেননি। একাই সামলে দিতেন। আসলে দাপুটে মানুষ বলতে যা বোঝাই , উনি ছিলেন তাই। যতদিন বেঁচে ছিলেন তিনআনিরা ততদিন ট্যা--ফো করতে পারে নি। আর তার ছত্রছায়ায় শ্বাশুড়িমা'ও পরিবারের উপর কোন অমঙ্গলের ছায়া পড়তে দেননি। পুরনো দিনের সেইসব কথাই আজ বড়ো বেশী করে মনে পড়ছে। আজ সবাই যদি একজোট হয়ে থাকত তাহলে এই অবস্থা হত না। সে তো পরিবারটাকে নিজেরই ভেবেছিল। নাহলে জমির মামলার জন্য শ্বাশুড়ি যখন একের পর এক তার  গয়নাগুলো শ্বশুরমশাইয়ের হাতে  তুলে দিচ্ছিলেন তখন সব জেনেও কিচ্ছুটি বলে নি। সে ভেবেছিল পরিবারের সুদিন এলে ওই রকম গয়না আবার হবে। কিন্তু সুদিন আর আসে নি। কেবল অন্নপূর্ণার গয়নাগুলিই মাঝখান থেকে চলে যায়। দুই জা কায়দা করে সে সময় নিজের নিজের গয়না বাপের বাড়িতে আছে বলে নিজেদের গয়নাগুলি বাঁচিয়ে নেয়। সে'ই কেবল পারেনি। সে ছিল দুঃস্থ প্রজার পরিবারের মেয়ে। সে তো ছিল করুণার পাত্রী। করুণাতে তো কোন দাবি বা অধিকার থাকে না , যেটুকু হাতে তুলে দেওয়া হয় সেটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। অথচ গয়নাগুলো থাকলে তাদের হয়তো এই দুরাবস্থা হত না। শাশুড়িমাও হয়তো ভাবেন নি এমন বিপর্যয় নেমে আসবে। দুশ্চিন্তায় বেশ কিছুদিন ধরে রাতে ভালো ঘুম হয় না অন্নপূর্ণার। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল।তাই সকাল সকাল খেয়ে শুয়ে পড়েছিল সবাই। রাত তখন ক'টা হবে ঠিক নেই। তবে বেশ কিছুক্ষণ আগে স্কুল হোস্টেলে রাত দু'টোর ঘন্টা শুনেছে অন্নপূর্ণা। হঠাৎ 
তাদের দরজায় কড়া নড়ে ওঠে। ঘুম ভেঙে যায় অন্নপূর্ণার। ভিতর থেকেই অন্নপূর্ণা জিজ্ঞাসা করে -- কে? জবাব আসে -- আমি মোহন দফাদার। 
গলা শুনেই অন্নপূর্ণা চিনতে পারে ঝিলডাঙার মোহনকে। কোথাও চুরি হলে বহুবার সায়ন্তন রাতে বাড়িতে আছে না চুরি করতে গিয়েছে তা ঘুম ভাঙিয়ে দেখে গিয়েছে। এবারও কি সেই খবর নিতে এসেছে দফাদার ? ঘরের ভিতর থেকেই কিছুটা সেই আভাসই পায় অন্নপূর্ণা। গলা শুনতে পায় পচা আর ভজা চৌকিদারেরও। তাই সে  জিজ্ঞেস করে , আবার কোথাই চুরি হলো গো দফাদার। আজ কিন্তু আমাদের ছেলের বাবা বাড়ি থেকে বেরোয় নি। তোমরা বরং অন্য জায়গায় দেখ।
 ---- অন্য জায়গায় দেখ বললেই তো হবে না। তিনআনিবাবুদের দোকানে চুরি হয়েছে। ওদের সন্দেহ তোমাদের ছেলের বাপই চুরিটা করেছে। বমালও তোমাদের ঘরেই রয়েছে। তুমি বাপু দরজাটা একবার খোল। বাবুরাও আছেন , ওরাও মিলিয়ে নিতে পারবেন তাদের সন্দেহ সত্যি না মিথ্যা।
তিনআনিদের কথা শুনে অমঙ্গলের আশংকায় বুকটা ধক করে ওঠে অন্নপূর্ণার। ততক্ষণে ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসেছে সায়ন্তনও। সে সবই শোনে। বাইরে তখন দরজা খুলে দেওয়ার জন্য জোর তাগাদা শুরু হয়েছে। সে উঠে দরজা খুলে দেওয়ার উপক্রম করতেই তার হাত চেপে ধরে সায়ন্তন। তার চোখেও তখন আতঙ্কের  ছাপ। কিছুটা ভীত সন্ত্রস্ত গলায় সে বলে , ওই ভুল কোর না। মনে হচ্ছে ওদের কোন পরিকল্পনা রয়েছে। সকাল হোক তারপর যা হয় হবে। সে সন্দেহ অন্নপূর্ণারও হয়। কিন্তু কতক্ষণ সে দরজা না খুলে থাকবে ? এরপর তো ওরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকবে। তাই সে বলে , কি আর  পরিকল্পনা করবে ? তুমি তো আর আজ চুরি করতে যাও নি। আমাদের ঘরে কোন চোরাই মালও নেই। দেখে মুখ বোঁচা করে ওদেরই ফিরে যেতে হবে। সবাই জানবে , শুধু তুমিই সব জায়গায় চুরি করো না। তুমি ছাড়াও চোর আছে। এতে আমাদেরই মঙ্গল হবে। 
--- তবু আমার মন কেমন যেন কু ডাকছে। তুমি বরং রাম'দাটা বের করে আমার হাতে দাও। আমি দরজার মুখে দাঁড়ায়। কেউ ঢুকলেই ধর থেকে মাথা নামিয়ে দেব।
--- তাতে খারাপই হবে। সবাই ধরে নেবে চুরিটা তুমিই করেছো। তাই ঘর খুলে বেরোতে ভয় পাচ্ছ। তাছাড়া ওইভাবে কতক্ষণ তুমি দরজা আটকে রাখবে ? একসময় তো পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তোমাকে বের করবে। তখন রোখ চেপে যাবে ওদের।
স্ত্রীর কথা শুনে সায়ন্তের চোখে মুখে ফুটে ওঠে দোটানার ছাপ। অন্নপূর্ণার কথাটাও ফেলে দেওয়ার নয়। দোটানায় পড়ে অন্নপূর্ণাও। যদি সায়ন্তনের আশংকাই সত্যি হয় ? তাহলে তো আর তার আফশোষের অন্ত থাকবে না। বাইরে তখন দরজা খোলার জন্য চাপ তীব্রতর হচ্ছে। চৌকিদারেরাও তাড়া দিচ্ছে -- আমাদের সঙ্গে কুড়ুল আছে , এরপর কিন্তু দরজা ভাঙতে হবে। তীব্র খট খট শব্দে ফের নড়ে ওঠে দরজার কড়া। ছেলেমেয়েরাও ঘুম ভেঙে বিছানায় বসে চোখ কচলায়। স্বামী - স্ত্রী পরস্পরের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নীরবে চেয়ে থাকে। নীরবতা ভেঙে অন্নপূর্ণা বলে -- কিছুই হবে না দেখো , দফাদার -- চৌকিদারের মতো সরকারি লোক যখন আছে তখন অন্যায় কিছু হবে না। 
সায়ন্তন বলে --- তবে তাই দাও খুলে। যা হওয়ার হবে।
যেন খাদের কিনার থেকে ভেসে আসে সায়ন্তনের কন্ঠস্বর।

  
   ( ক্রমশ )

No comments:

Post a Comment