Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ঠাকরুন মা -- ১৯ /




      ঠাকরুন মা 


             অর্ঘ্য ঘোষ 



    ( ধারাবাহিক উপন্যাস ) 



কান পেতে শব্দটা শোনার চেষ্টা করে অন্নপূর্ণা। এ গ্রামে এক বামাপদবাবুর বাস ছাড়া গাড়ি ঢোকে কালে ভদ্রে। তাহলে এ নিশ্চয় পুলিশের গাড়ি। ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের খবর পেয়েই বোধ হয় তারা এল। অন্নপূর্ণার মনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়। এবার নিশ্চয় সায়ন্তনকে পুলিশের হাতে তুলে দেবে ওরা। আরও একটা মিথ্যা মামলা হয়তো ঘাড়ে চাপবে , কিন্তু অমানসিক মারের হাত থেকে তো রক্ষা পাবে। প্রাণে বেঁচে তো যাবে। তারপর আর তারা এই গ্রামে থাকবে না। বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যাবে অন্য কোথাও। কিসের মোহে থাকবে এ গ্রামে ? কে আছে তাদের ? এত বড়ো এই বিপদের দিনে গোমস্তাকাকা ছাড়া কেউ তো পাশে এসে দাঁড়ায় নি। ভাসুর -- জা'রা এই সময় তার পাশে এসে দাঁড়ালে সে কত বল-ভরসা পেত। ভাসুররা চেষ্টা করলে হয়তো সায়ন্তনকে মারের হাত থেকে বাঁচিয়ে ছাড়িয়েও আনতে পারত।কিন্তু মজা দেখতে আসা মানুষজনের মতো ওরাও দুর থেকে বারন্দা কিম্বা জানলা দিয়ে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখেছে। অন্নপূর্ণা ভাবে সায়ন্তন তো শুধু তারই স্বামী নয় , ওদের যে এক মায়ের পেটের ভাই। একদিন তো সবাই এক বিছানায় শুয়েছে , এক থালায় খেয়েছে। তাহলে কি করে সব ভুলে গেল ওরা ?  এখন তো ভাই বলে পরিচয়ও দেয় না। অন্নপূর্ণা দুই ভাসুরকেই বলতে শুনেছে , চোরটা আমাদের ভাই নয়। আমাদের ভাই মরে গিয়েছে। কত সহজেই মরে যাওয়ার কথা বলে দেয় ওরা। কিন্তু মায়ের পেটের ভাইকে ভদ্রভাবে বেঁচে থাকার পথ দেখিয়ে দিতে পারে না। তাই এ যাত্রায় রক্ষা পেলে গ্রাম ছেড়ে চলে যাবে তারা। সৎ ভাবে বাঁচার চেষ্টা করবে। কিন্তু তখনও সে আন্দাজ করতে পারে নি গ্রাম ছেড়ে যাওয়া আর তাদের হবে না। ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। টের পায় কিছুক্ষণ পরেই। পুলিশের লোকেরা এসে সোজা তিনআনিদের বৈঠকখানা বাড়িতে উঠে। তাদের আপায়ণের জন্য সঙ্গে সঙ্গে  গাছ থেকে পাড়া হয় কচি ডাব। সেখানে বসেই রিপোর্ট লিখে নেয় ওরা। কিন্তু সায়ন্তনের কি হল কিছু বুঝতে পারে না সে। গৌরবকে বলে , যা তো দেখে আয় তোর বাবাকে কি পুলিশের জীপে তুলে নিয়েছে না এখনও মারধোর করছে।



                                                 গৌরবকে আর যেতে হয় না। পাড়ারই যোগনাথ হাজরা ছুটতে ছুটতে হাজির হয়। যোগনাথ সায়ন্তনেরই অনুগামী। সামান্য যে কয়েকজন মানুষ তাদের সঙ্গে মেশে সে তাদের অন্যতম। যোগনাথকে ওইভাবে ছুটে আসতে দেখে অন্নপূর্ণার শিরদাঁড়া বেয়ে যেন একটা হিম স্রোত বয়ে যায়।  যোগনাথের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইতেই সে বলে , সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে ঠাকুরুনমা। কাকা আর নেই। মুখে জল দিতেই হেঁচকি তুলে নেতিয়ে পড়ল। সবার চোখের সামনে লোকটাকে ওরা মেরে ফেলল গো। কেউ কিছু বলল না। কথাটা শোনা মাত্রই দেওয়ালে মাথা ঠুঁকতে শুরু করে অন্নপূর্ণা। তার কান্নায় সবাই সচকিত হয়ে ওঠে। মেয়েরাও কান্নায় ভেঙে পড়ে। অন্নপূর্ণা কেমন যেন পাগলের মতো বিড়বিড় করতে থাকে, ঠাকুর আমরা নিজে খেতে পায় নি, কিন্তু তোমাকে ফুল জল না দিয়ে আমি কোনদিন জলস্পর্শ করিনি। আর তুমি আমার এতবড়ো সর্বনাশ করলে? তোমার এতবড়ো পৃথিবীতে একটা মানুষের ঠাঁই হলো না ? প্রলাপের মতো সমানে বকে চলে , আর মুর্ছা যায় অন্নপূর্ণা।ছেলেমেয়েদেরও একই অবস্থা। একসময় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সবাই ছুটে যায় তিনআনিদের দোকান ঘরের সামনে। সেখানে তখন পড়ে রয়েছে সায়ন্তনের রক্তাক্ত নিথর দেহ। সারা শরীরে ছেঁকে ধরছে পিঁপড়ের সারি। সেই অবস্থাতেই মৃতদেহ জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সবাই। একটু সামলে ওঠার পর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে দোকানটার উপর। উন্মাদের মতো দোকানঘরের দরজায় ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে অন্নপূর্ণা। আসলে এই রকমই হয়। প্রতিকার না পেতে পেতে মানুষ কুশপুত্তলিকা দাহ করে মনের জ্বালা মেটানোর চেষ্টা করে। অন্নপূর্ণারও যেন সেই জ্বালামুখ খুলে যায়। সেই সময়ই তাদের বাড়ির আশেপাশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা চাল-গমের তদন্ত সেরে অন্যান্য পুলিশদের নিয়ে সেখানে এসে পৌঁছোন থানার বড়বাবু।তিনআনিদেরও  সবাই তখন হাজির।তারাই বড়বাবুকে উদ্দেশ্য করে বলে দেখছেন স্যার - আপনার সামনেই দোকানটার উপর কি ধরণের হামলা চালাচ্ছে ওরা।
শুনে বড়োবাবু বলেন , শুনুন এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। তাহলে কিন্তু আপনাদেরও তুলে নিয়ে যেতে বাধ্য হবো। 
ওই কথা শোনার পরই যেন জ্বলে ওঠে অন্নপূর্ণা।আগুন ঝড়া গলায় সে বলে , কিসের আইন , আইন আছে আপনাদের ? 
সারাদিন একটু জল, একটু জল করে খুন হয়ে গেল একটা লোক, আর আপনারা সেই খুনীদের বাড়িতেই ডাবের জল খেয়ে আমার বাড়ির আশেপাশের চালগম ছড়ানোর তদন্ত করে আইন দেখাচ্ছেন আমাক ? আপনাদেরই দফাদার -চৌকিদারদের দাঁড় করিয়ে রেখে জলজ্যান্ত একটা মানুষকে পিটিয়ে মারল যারা আপনারা তাদের অভিযোগ নিয়েই এতক্ষণ কাটিয়ে দিলেন। আমাদের কথা একবারও শুনতে চেয়েছেন ?  আইনের রক্ষক হয়ে আপনার কি উচিত ছিল না আগে আমার সঙ্গে  কথা বলা ? 
----- দেখছেন স্যার ,  দেখছেন মাগীর আস্পর্ধা খানা দেখছেন ? আপনার সামনে কেমন সমানে চোপা করছে, বড়বাবুকে উসকে দেয় তিনআনিদের ছোটবাবু। 
 ---- আস্পর্ধা আমি ঘুচিয়ে দিতে পারি। কিন্তু সদ্য স্বামী হারা হয়েছে বলে ছেড়ে দিচ্ছি।
তারপর অন্নপূর্ণার দিকে ঘুরে বলেন , এই যে মেয়ে শোন ,  তোর স্বামী তো চোরের দায়ে বমালসহ ধরা পড়ে গণপিটুনিতে মরেছে। এখন থানা, পুলিশ, মর্গ করতে গেলে তোর জিভ বেড়িয়ে যাবে। তার চেয়ে একটা কথা বলি শোন, বাবুরা ভালো তাই সৎকারের খরচাপাতি দিতে রাজী আছেন , সৎকারের লোকও দেবেন  , তোকে খোরাকী বাবদ কিছু চালগমও দেবেন। গ্রামের শ্মশানেই বডিটাকে পুড়িয়ে দিলে আর তোকে কিছু ঝামেলা পোহাতে হবে না। তুই বরং এই কাগজে একটা সই কিম্বা টিপছাপ দিয়ে দে। আমি চলে যায়। 
---- বাঃ, অফিসার বাঃ। ভাল বলেছেন তো। 
আচমকা ভীড়ের মধ্যে অচেনা গলা শুনে সবাই ফিরে তাকায়। অন্নপূর্ণা দেখে ভীড় ঠেলে গোমস্তাকাকার সঙ্গে এগিয়ে আসছে সন্দীপন।


                            অন্নপূর্ণা  ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে । অশ্রুভারাক্রান্ত গলায় বলে , সেই এলে বাবা আর একটু আগে এলে হয়তো তোমার মেসোমশাইকে হারাতে হত না।বাড়ি থেকে তুলে এনে নিরপরাধ মানুষটাকে জল্লাদরা পিটিয়ে খুন করে দিল। ওদের যেন সাজা হয় তা তুমি দেখো বাবা। 
সবার দৃষ্টি তখন সন্দীপনের দিকে। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন থানার বড়বাবুও। সেদিকে চেয়ে সন্দীপন বলে , আচ্ছা বড়বাবু একটা কথার জবাব দিন তো আপনাদের ভারতীয় দন্ডবিধির কোন ধারায় লেখা আছে মাতৃস্থানীয়া  মহিলাদের তুইতোকারি করে কথা বলা যায় ? 
---- কে রে তুই লাটের বাঁট , আমাকে ধারা শেখাতে এসেছিস ?
 ---- স্টপ ,স্টপ। আমি কিন্তু আপনার চেয়েও নীচে নামতে পারি। সেটা কি ভালো হবে ? আমি কে সেটা পরে জানবেন। আগে আমি যা জানতে চাই সেগুলোর ঠিকঠাক জবাব দিন। নাহলে এখনই আমার পরিচয়টা আপনি জেনে যাবেন।
সেই সময় দফাদার বড়বাবুর কানে কানে কিছু বলে। আর তারপরই বড়বাবুর মুখ চোখের ভাব পাল্টে যায়। বিনয় বিগলিত গলায় তিনি বলেন , ও দাদা পরিচয়টুকু আগে দেবেন তো। আপনার নাম অনেক শুনেছি ,আগে জানলে আর ----। 
----- আগে জানলে কি হতো ? বিশেষ পরিচয় না থাকলে বুঝি আপনাদের কাছে ভালো ব্যবহার আশা করা যায় না ? বেশ, এই হিসাব আপনার সঙ্গে পরে হবে। আগে বলুন তো আপনাদের তদন্ত প্রক্রিয়া কি শেষ ? 
---- তা একরকম শেষের পর্যায়েই বলতে পারেন। সেই জন্যই তো ওদের বলছিলাম, গরীব মানুষ আইনী ঝামেলায় যেতে হবে না। টাকা পয়সা নিয়ে এখানেই যা হয় একটা কিছু করে নিলেই ভালো হয়। এখন আপনি এসেছেন তখন যা হয় একটা কিছু বোঝাপড়া করে নিন।
---- হ্যা , আমি যখন এসেই পড়েছি তখন আপনাকে ভালো করে ঝেড়ে কাপড় পড়িয়ে দিচ্ছি দাঁড়ান। আচ্ছা আপনার বোঝাপড়া নিয়ে এত মাথা ব্যাথা কেন বলুন তো ?  আরও একটি গোপন বোঝাপড়ার কারণেই কি ?  কিন্তু সেটা তো আমি হতে দেব বড়বাবু।
 ---- বেশ আপনি কি চাইছেন বলুন ?
-----  আপনি তো ওদের চুরির অভিযোগ নিয়েছেন , কিন্তু খুনের অভিযোগ নেননি কেন ?
--- দিন , নিয়ে নিচ্ছি।
----- নিতে তো আপনাকে হবেই। আপনি ছড়ানো চালগমের তদন্ত করে এসেছেন , চোরের বাড়ি দেখেছেন কি ?
----- এখনই দেখে আসা করাচ্ছি।
---- হ্যা , দেখে এসে কি পেলেন না পেলেন তার রিপোর্ট লিখে নকল দিন আমাকে। আর ওদের অভিযোগেরও নকল দিন।



                                  ওসি তিনআনিদের অভিযোগের কার্বনকপি তুলে দেন সন্দীপনের হাতে। সেদিকে চোখ বুলিয়ে সন্দীপন বলে , আপনার দফাদার চৌকিদারদের একবার ডাকুন তো।ডাকতে হয় না তার আগেই হাজির হয় ওরা। সন্দীপন তাদের একজনকে বলে , কোন দরজির দোকান থেকে একটা ফিতে নিয়ে আসুন তো। 
সন্দীপনের কাণ্ডকারখানা দেখে সবাই কেমন হকচকিয়ে যায়। বড়বাবু পর্যন্ত বলে বসেন ,  আপনি কি করতে চাইছেন বলুন তো ?
--- যেটা আপনার করা উচিত ছিল অথচ করেন নি , আমি সেটাই করতে চাইছি।
ততক্ষণে ফিতে চলে আসে। সেটা হাতে নিয়ে সন্দীপন বলে , অভিযোগে ওরা লিখেছে দেখুন সিঁধ কেটে এক কুইন্ট্যাল ওজনের দশ বস্তা চাল, গম,  ডাল আর নগদ ৩ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। কি তাই তো ? 
ভ্যাবাচ্যাকা লেগে যায় বড়বাবুর।ঘটনার গতি প্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে না পেরে তিনি হ্যা সূচক ঘাড় নাড়েন।
সন্দীপন দফাদার - আর চৌকিদারদের উদ্দ্যেশ্য বলে --- আপনারা তো ভোর থেকে বাবুদের সঙ্গেই  ছিলেন। তখন দোকান ঘরের দরজার তালা তো আক্ষতই ছিল ,  না ভাঙা ছিল ?
দফাদার-- চৌকিদারদাররা একবার তিনআনি বাবুদের একবার ওসি'র মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। তা দেখে সন্দীপন তীব্র ঝাঁঝের সঙ্গে বলে ওঠে -- ওদের মুখে কিছু লেখা নেই। আমি যা জিজ্ঞাসা করছি তার ঠিকঠাক উওর দিন।
 দফাদাররা আমতা আমতা করে বলে, হ্যা স্যার বাইরে তালা দেওয়াই ছিল।
 সন্দীপন বলে , এবার আসুন দেখি সিঁধের পরিসরটা মেপে নিই।
ফিতে দিয়ে মাপজোক করে দেখা যায় সিঁধের পরিসর চারদিকেই দেড়ফুট। মাপজোপ করার সময়ই দোকান ঘরের সিঁধের সামনে ভীড় জমায় কৌতুহলী জনতা। তাদের উদ্দেশ্যে সন্দীপন বলে , আচ্ছা দাদা আপনারা একটু লক্ষ্য করে দেখুন তো সিঁধের ভিতরে বা বাইরে কোন চাল, গম, কিম্বা ডাল পড়ে আছে কিনা।
 উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলে ওঠে , না --আ। 
---- তার মানে এই দাঁড়াচ্ছে এখানে বস্তা খুলে কিছু নিয়ে যাওয়া হয়নি। নিয়ে যাওয়া হয়েছে বস্তাভর্তি মাল। নাহলে যেখানে ভাগ বাটোয়ারা করার সময় চাল গম পড়ে থাকে সেখানে বস্তা খুলে চাল গম বের করে নিয়ে যেতে হলে নিশ্চয় কিছু পড়ে থাকত। তাই তো , নাকি গো দাদারা ?
 জনতা এবারও সমস্বরে বলে ওঠে ,  হ্যা --- আ। 
 --- বেশ আপনারই বলুন তো , ওই সিঁধের ভিতর দিয়ে এক কুই: ওজনের কোন বস্তা বের করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব , অফিসার আপনিও বলুন ?ওই কথা শোনার পরই গুঞ্জন ওঠে জনতার মধ্যে। সকলের কাছে ততক্ষণে স্পষ্ট হয়ে যায়  চুরিটা আসলে সাজানো গল্প। সন্দীপন ওসির উদ্দেশ্যে বলে , কি অফিসার কি মনে হচ্ছে এবার ? একটা পরিকল্পিত খুনকে কোন উদ্দেশ্যে ধামাচাপা দিতে চাইছিলেন বলুন তো ?
 জনসমক্ষে ওই প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়ে হাত কচলাতে শুরু করেন বড়বাবুও। মিন মিন করে বলার চেষ্টা করেন --- না , মানে। 
----- শুনুন ওসব মানে টানে কিছু শুনতে চাই না , এতক্ষণ যা যা দেখলেন তা তদন্ত রিপোর্টে লিখে আমাকে কপি দিন। আর আপনি আপনার কাজ করুন।  আইনে কি হবে সেটা সময় বলবে , কিন্তু আজ প্রমাণ হয়ে গেল মিথ্যা অভিযোগে প্রকাশ্যে একজনকে সরকারি প্রতিনিধি দফাদার--চৌকিদারদের সামনেই পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। 
---- তাহলে কি করতে বলছেন আপনি ? সন্দীপনের কাছে জানতে চান ওসি।
----- কি করতে হবে তা কি আপনি জানেন না ?
 ---- না , মানে আপনারা কি চাইছেন ----? 
------ চাওয়া চাওয়ির কিছু নেই। মাসীমার কাছে অভিযোগ লিখিয়ে নিয়ে খুনীদের গ্রেফতার করে কোমরে দড়ি বেঁধে গাড়িতে তুলুন।
 ----- কিন্তু দড়ি তো আনা হয় নি।
------ তাহলে কি বাবুদের বাড়িতে জামাই আদর খেতে এসেছেন ? খুনের তদন্তে এসেছেন আর অভিযুক্তদের বাঁধার জন্য দড়ি আনেন নি ? এমনিতে তো দেখি সামান্য পারিবারিক অভিযোগে ধৃতদের দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় তৎপরতার অভাব হয় না। বেশ দড়ি আনেন নি তখন আর কি করবেন , ওদের দোকানেই দড়ি আছে দেখুন , সেই দড়ি দিয়েই বেঁধে নিয়ে যান ওদের।
সেই মতো তিনআনিদের দোকান থেকেই ছোবড়ার দড়ি দিয়ে একসঙ্গে বাঁধা হয় সবাইকে। কয়েকজন অবশ্য ছুটে পালিয়ে যায়। গাড়িতে তোলার সময় তিনআনিদের মেজকর্তা পীতাম্বর বলে ওঠে --- বড়বাবু এমন তো কথা ছিল না। আপনি ম্যানেজ করে দেবেন বলেছিলেন। নাহলে আমরাও পালিয়ে যেতাম।
----- তখন কি আর জানতাম আপনাদের চেয়েও ওদের খুঁটির জোর বেশী।জানেনই তো পুলিশ শক্তের ভক্ত নরমের যম। কথায় আছে , আপনি বাঁচলে বাপের নাম।

       ( ক্রমশ ) 

No comments:

Post a Comment