ঠাকরুন মা
অর্ঘ্য ঘোষ
( ধারাবাহিক উপন্যাস )
গোমস্তাকাকা কথাটা পাড়তেই একেবারে না করে দেন শিখার কাকা তপনবাবু। অত্যন্ত কর্কশ গলায় তিনি বলেন , আপনাদের তো আক্কেল বলিহারি। কোন বিবেচনায় একটা পাগলের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন ? আপনাদের মতলবটা কি বলুন দিকি ?
--- মতলব আবার কিসের ? ওরা একে অন্যকে ভালোবাসে। সেটা জানার পরই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।
--- পাগলের আবার ভালোবাসা!
---- কি তখন থেকে পাগল - পাগল বলছেন ? আমাদের ছেলে আর পাগল নেই। আপনার ভাইঝির সেবা শুশ্রূষায় সম্পূর্ণ সেরে উঠেছে। আমার কথা বিশ্বাস না হয় এই তো সুপারও রয়েছেন , তাকেই না হয় জিজ্ঞেস করে দেখুন ।
--- কাউকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। যে একবার পাগল হয়েছিল তার সঙ্গে বিয়ে দেবই না।
এবারে মুখ খোলে সন্দীপন। সে বলে , দেখুন আপনি কিম্বা আমি বিয়ে দেব না বললে তো হবে না। ওরা সাবালক - সাবালিকা। ওরা চাইলে আমরা কোন মতেই আইনত ওদের বিয়ে আটকাতে পারি না।
---- দেখুন আপনি কে আমি জানি না। আইনের জুজু দেখিয়ে আমাকে ভয় দেখাবেন না। আপনারা যে কেন এই বিয়ে নিয়ে ঝুলোঝুলি করছেন তা কি আমি বুঝি না ভাবছেন ?
--- তা আপনি কি বুঝেছেন খুলে বলুন দেখি একটু শুনি ?
--- কেন আবার ? চাকরিওয়ালা মেয়ে দেখে আপনারা যে লোভ সামলাতে পারছেন না সেটা আমি ভালোই বুঝতে পারছি। পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে সব বসে খাওয়ার ধান্ধা।
ওই কথা শুনে আর চুপ করে থাকতে পারেন না সুপার মানবেন্দ্রবাবু। তিনি বলেন , আপনাদের মাঝে আমি কথা বলব না ঠিক করেছিলাম। কিন্তু আপনি আমাকে মুখ খুলতে বাধ্য করলেন। বসে বসে খাওয়ার ধান্ধা কাদের সে কথা এনারা না জানলেও আমি তো জানি। মাসের শেষে ঠিক তো গিয়ে টাকাটা নিয়ে আসেন। ভাইঝির অসুখ বিসুখ হলে তো কই খবর নিতেও দেখি নি। অথচ তার টাকাতে দিব্যি তো নিজের দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন , ভাইঝির বিয়ের কথা ভেবেছেন কোনদিন ?
---- দেখুন এটা আমাদের নিজেদের ব্যাপার। আপনারা মাথা ঘামাতে এসেছেন কেন ?
---- ঠিক আছে শিখা যদি বলে তার এই বিয়েতে মত নেই , আমাদের মাথা ঘামাতে হবে না , তাহলে আমরা আর একটাও কথা বলব না।
সুপারের কথা শেষ হতেই সবাই শিখার মুখের দিকে তাকায়। ততক্ষণে সেখানে এসে দাঁড়িয়েছেন শিখার কাকীমা বানীদেবীও। তিনিই বলেন -- হ্যারে তোর কি লজ্জা সরম বলতে কিছু নেই ? নিজের বিয়ের জন্য লোক জুটিয়ে এনেছিস বাড়িতে। ওদের বলে দে ওই বিয়েতে তোর মত নেই। আমরা ছেলে দেখে তোর বিয়ে দেব। ছেলে তো আমাদের হাতেই রয়েছে। আমার দাদার ছেলেই তো আছে। হালে আত্মহত্যা করে বৌ
মরেছে। বললে এক্ষুণি টোপর মাথায় বিয়ে করতে চলে আসবে।
শিখা তার কাকীমায়ের পা জড়িয়ে ধরে বলে , কাকীমা আমি যে ওকে ভালোবাসি। তোমরা এই বিয়ের অনুমতি দাও না।
---- ছ্যাঃ ছ্যাঃ , সবার সামনে ওই কথা বলতে তো মুখে এতটুকু বাঁধল না ? তোমার তো ডানা গজিয়েছে তবে , এবার মরবে পুড়ে। তবে একটা কথা শুনে রাখ , ওই ছেলেকে বিয়ে করলে এই বাড়িতে আর তোমার ঠাঁই হবে না সেটা মনে রেখ।
শিখা এবার তার কাকুর পায়ে ধরে বলে , তোমরা ছাড়া যে আপনজন বলতে কেউ নেই। তোমরা কি চাওনা আমি সুখী হই , আমারও ঘর সংসার হোক।
শিখার কথা শেষ হয় না। তার কাকু শিখাকে ঝাঁকড়ে ফেলে দিয়ে বলেন , দূর হ হারামজাদী বেশ্যা মাগী।
সেই কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিখা। অন্নপূর্ণা তাকে তুলে ধরে বলে , চলো মাএখানে থেকে আর অপমানিত হতে হবে না।
শেষ বারের মতো বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার আগে শিখা তার কাকু -- কাকীমাকে প্রণাম করতে যায়।তারা পা সরিয়ে নিয়ে উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। অন্নপূর্ণার হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে গাড়িতে গিয়ে ওঠে শিখা। গাড়িতে যেতে যেতেও তার কান্না থামে না। নিজের বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে যায় তার। তারা থাকলে কি তার সঙ্গে একরকম ব্যবহার করতে পারত ?বাবা-মায়ের কথা ভাবতে ভাবতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে সে।
অন্নপূর্ণা তার মাথাটা নিজের বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দেন -- মন খারাপ কোর না। বাবা-মায়ের অভাব কেউ পূরণ করতে পারে না। তবে আমার বাড়িতে তোমার এতটুকু অমর্যাদা আমি হতে দেব না মা। আমার মেয়ের মতোই থাকবে তুমি। আমি তিন মেয়েকে হারিয়েছি। ভগবান সেইজন্যই তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
অন্নপূর্ণার কথা শুনে কিছুটা শান্ত হয় শিখার মন। সে মনকে সান্ত্বনা দেয় , কাকু-কাকীমার কাছে সে তো কোনদিন স্নেহ ভালোবাসা পায় নি। স্নেহ - ভালোবাসার কাঙাল ছিল। তার নতুন মা সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে। সেই কথা ভাবতে ভাবতেই অন্যদের সঙ্গে গাড়ি থেকে নামে সে। সুপারের অফিস বসে সেইদিনই বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যায়। ৭ দিনের মাথায় বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়।
সুপারই বিচারপতিকে ফোন করে দিনটা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন , আমাদের হোমে বিয়ে হচ্ছে। তাই আমিই একাধারে পাত্র এবং পাত্রীপক্ষ। সেই হিসাবেই দু'তরফ থেকেই নিমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সপরিবারে অবশ্যই আসা চাই।
বিচারপতি জানান , সপরিবার বলতে তো আমরা দুই বুড়োবুড়ি আর রঞ্জুমা।
চিন্তা করবেন না আমরা রঞ্জুমাকে নিয়ে সময়মতো পৌঁচ্ছে যাব। সুপারই এদিককার ব্যবস্থাপাতি করার দায়িত্ব নেন। ওদিকের ব্যবস্থাপত্র করার জন্য সন্দীপন আর গোমস্তাকাকাকে নিয়ে আলোচনা বসে অন্নপূর্ণাও। গোমস্তাকাকে উদ্দেশ্যে করে সে বলে , সাতটা দিন হাতে রয়েছে। টাকাপয়সাও নেই। কি করে কি হবে আমি তো কিছু ভেবে পাচ্ছি না।
সন্দীপন বলে , টাকা পয়সা নিয়ে আপনাকে অত দুশ্চিন্তা করতে হবে না। আমরা তো আছি। আপনি কি করতে চান বলুন ?
--- কিন্তু বাবা তোমাদের ঋণ আর কত বাড়াব ? সেই মামলার আগে থেকেই তো সাহায্য করে আসছ।
---- ওসব কথা এখন থাক না মাসীমা। এখন বরং কাজের কথা হোক। আচ্ছা গোমস্তাকাকা আপনিই বলুন কি করা যায় ?
গোমস্তাকাকা বলেন , আমি বলি কি বিয়ে উপলক্ষ্যে হোমে সবাইকে আনার দরকার নেই। যোগনাথদের বাড়ির লোকেদের আনলেই হবে। আর গ্রামে খুব বড় কিছু করারও দরকার নেই। করলেও কেউ খেতে আসবে বলে মনে হয় না। তাই নিয়ম রক্ষার্থে দাদাঠাকুরকে যারা ভালোবাসত তাদেরই মাথায় মাথায় কয়েকজনকে বললেই হবে।
---- আমারও তাই মত, অন্নপূর্ণা বলে। তবে মাসীমার আত্মীয় স্বজনদের তো বলতে হবে ?
---- আমার আর আত্মীয় স্বজন বলতে কেউ বা আছে। বাপেরবাড়ির কেউ তো সম্পর্ক রাখে না। তাই ওদের বলে বিব্রত করে লাভ নেই। আর থাকে বাসন্তী। তুমি বাবা আমার হয়ে ওকে একটু বলে দিও। আর হ্যা গোমস্তাকাকা , আসবে না জানি তবুও গৌরবের জ্যাঠামশাইদেরও আপনি বলে দেবেন।
গোমস্তাকাকা বলেন , সে নাহয় আমি বলে দেব। এই আয়োজন হলে তো তেমন কোন ঝামেলাই থাকবে না। আমরা বরং ফিরে গিয়ে সেইসব ব্যবস্থা করে ফেলি।বৈঠকখানাঘরটাও মেরামত করা দরকার। এমনি তো তোমরা আমার বাড়িতেই উঠতে পারো। কিন্তু বৈঠকখানা বাড়িটার উপরে তো তোমার ভাসুরদের শেণ্য দৃষ্টি রয়েছে। তাই দখলটা বজায় রাখা
দরকার। তাছাড়া ভোজকাজ নিজের পিতৃপুরুষের ভিটেতেই হওয়াটাই উচিত।
--- তাহলে কি হবে ?
---- আমি বলি কি বিয়ে পর্যন্ত তুমি হোমেই থেকে যাও। গৌরব দাদাভাই আমাদের সঙ্গে গিয়ে কৃষিফার্মের কাজে যোগ দিক। তারপর ওদিকে সব ঠিকঠাক করে বিয়ের দিন সকালেই আমরা চলে আসব।
সন্দীপন বলে , সেটাই ঠিক হবে।
সেইমতো গৌরবকে নিয়ে সন্দীপনরা ফেরার প্রস্তুতি নেয়। ছুটি লেখার আগে সুপার মজা করে বলেন , কি গো এখন তো শিখাকে অন্য কাউকে দেখভাল করতে হবে। তোমার মাথার রোগটা আবার চাগাড় দিয়ে উঠবে না তো ? তাহলে বাপু ছুটি নিয়ে লাভ নেই।
লজ্জায় কোন কথা বলতে পারে না গৌরব। মাথা নামিয়ে নেয় সে। সেখানে তখন শিখাও ছিল। সুপার তাকে জিজ্ঞেস করেন --- কি গো তুমি কি বলছ ?
--- স্যার আপনি না , বলে শিখাও মুখ নামিয়ে নেয়। তার মুখে ফুটে ওঠে লাজুক হাসি। তাকে তখন আরও সুন্দর দেখায়। সবার অলক্ষ্যে তার মুখের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চায় গৌরব। শিখার চোখও আটকে যায় তার চোখে। ছুটি লেখার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আস্তে আস্তে ঘর ছাড়ে গৌরব। খুব মন খারাপ হয়ে যায় শিখার। একই অবস্থা হয় গৌরবেরও। বছর খানেক তো এক সঙ্গেই কেটেছে তাদের। তাই সাতদিন বড়ো দীর্ঘ সময় মনে হয় দু'জনের। গৌরব গ্রামে ফিরতেই শুরু হয়ে যায় উঁকিঝুঁকি। চারআনি , ওর জ্যেঠু - জ্যাঠাইমা এমন কি গ্রামের লোকেরাও ভাবেন নি ওকে আবার কোনদিন দেখতে পাবেন। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন ওরা মরে গিয়েছে। ওদের হোমে থাকার কথা গোমস্তাকাকারাও এতদিন সম্পূর্ণ গোপন করে রেখেছিলেন। তাই সেই গৌরবকে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে গ্রামে ফিরতে দেখে সবার কৌতুহলের আর অন্ত থাকে না। কৌতুহলের মাত্রা ছাপিয়ে যায় পরদিন সকালে। গোমস্তাকাকা যখন যোগনাথ সহ আরও দুজন মুনিশ নিয়ে বৈঠকখানা ঘর পরিস্কার করতে যায় তখন গৌরবের দুই জ্যেঠু আর থাকতে পারে না। তারা এসে গোমস্তাকাকাকে জিজ্ঞেস করে , কি ব্যাপার গো ? কাউকে কিছু বলা নেই , কওয়া নেই , হঠাৎ বৈঠকখানা ঘর পরিস্কার করতে লাগলে যে বড়ো ?
--- আবার কাকে আর বলতে যাব গো দাদাবাবুরা ? খোদ বাড়ির মালিকই যে ঘরদোর সব মেরামত করাতে বললেন। তাই তো সেই হুকুম তামিল করছি।
---- মালিক মানে ?
---- ঠাকরুন মা গো ঠাকরুন মা। কর্তাবাবু তো যাবার আগে তাকেই এই বাড়ির উইল করে দিয়ে গিয়েছেন ? ভুলে গেলেন নাকি সে কথা ?
---- তাকে পেলে কোথাই তুমি ? সে তো পাগল হয়ে নিরুদ্দেশ। কে জানে বেওয়ারিশ হয়ে কোথাও মরে পড়েছিল কিনা। হয়তো শিয়াল কুকুরেই ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে।
--- না গো দাদাবাবুরা শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঠাকুরুন মা আমাদের বহাল তবিয়তেই আছে। তার মাথার ব্যামোও সেরে গিয়েছে। রবিবারই বৌমা নিয়ে এই বাড়িতেই ফিরবে। তাই তো মেরামত করতে বলেছে।
--- বৌমা মানে ?
--- ওহো , আসল কথাটাই বলতে ভুলে গিয়েছি। ঠাকরুনমা বার বার করে আপনাদেরও বলতে বলেছে। তা আপনাদের বলবে না তো কাদেরই বা বলবে ? আপনাদের মতো আপনার জন তার আর কে'ই বা আছে ?
--- কি হেঁয়ালি করছো ? আসল কথাটা কি বল দেখি ?
----- গৌরব দাদুভাইয়ের যে গো।
---- বিয়ে ? ও পাগলাটাকে আবার কে মেয়ে দেবে ? মেয়েও নিশ্চয় পাগলিই হবে ?
---- না গো দাদাবাবুরা , মেয়ে যাকে বলে সেই রূপে লক্ষ্মী -গুণে সরস্বতী। মানসিক হোমের নার্স। সেই তো দাদাভাইকে সেবা- শুশ্রূষা করে সারিয়ে তুলেছে। আর তা করতে গিয়েই তো দু'জনের মন দেওয়া নেওয়া হয়ে যায়। তার সঙ্গেই তো বিয়ে। রবিবারই কিছু লোকজন খাওয়ানো হবে। তাই সেই ভোজে আপনাদের থাকার জন্য ঠাকরুনমা বার বার করে বলেছেন।
সেই কথা শুনে ওদের দু'জনের মুখ কালো হয়ে যায়। তারা আর কিছু কথা বলে না। নিজেরা বিড়বিড় করে বলে , দেশের সবাই কি পাগল হয়ে গেল নাকি ? মন দেওয়া মতো আর কোন ছেলে পেল না ?
তাদের কথা গোমস্তাকাকার কান এড়ায় না। মনে মনে খুব এক চোট হেসে নেন তিনি। কথাগুলো যে ওদের গায়ে ভালো রকম জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না তার। দেখতে দেখতেই খবরটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আর তাদের জবাব দিতে দিতে হয়রান হতে হয় গোমস্তাকাকাকে। অনেকেরই গায়ে জ্বালা ধরে যায়। গৌরবের মতো একটা হাড়-হাভেতে ছেলের নার্স বৌ হওয়াটা বেশিরভাগই মন থেকে মেনে নিতে পারে না।
আড়ালে বলাবলি করতে থাকে , সেই একটা কথা আছে না ' বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা ', এ হলো গিয়ে তাই।
ওইসব কথাবার্তা শুনে মজাই লাগে গোমস্তাকাকার। তিনি গায়ে মাখেন না। ঠাকরুনমায়ের বাড়ি মেরামত আর গৌরবের বিয়েই তার ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে। তার অনলস প্রচেষ্টার ফলেই অল্পদিনেই বাসযোগ্য হয়ে উঠে বাড়ি। তারপরই বিয়ের যোগাড়যন্ত্র শুরু করে দেন তিনি। প্রতিদিন কোর্ট থেকে ফিরে সন্দীপনও আসে। দু'জনে মিলে সব কিছু ঠিক করে ফেলেন। দেখতে দেখতে এসে পড়ে বিয়ের দিন।
( ক্রমশ )


No comments:
Post a Comment