Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

ঠাকরুন মা -- ২৮ /




   ঠাকরুন মা 


     অর্ঘ্য ঘোষ 



( ধারাবাহিক উপন্যাস )


শ্রীমতী তখন ভাত মেখে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছিল অন্নপূর্ণাকে। আচমকা দুই ভাসুরকে দেখে অন্নপূর্ণা কেমন যেন জড়োসড়ো হয়ে যায়। খাওয়া থামিয়ে তাদের দিকে জুলজুল করে চেয়ে থাকে। সেটা দেখে অন্নপূর্ণার বড় ভাসুর বলে ওঠে , হা রে ব্যাটা যোগো , তোর তো আস্পর্ধা তো কম নয় ? 
---- কেন কর্তা আস্পর্ধার কি দেখলেন ?
--- ব্যাটা হাঁড়ি , আবার মুখে মুখে তর্ক করছে দেখ ? হারামজাদা জুতিয়ে মুখ ভেঙে দেব।
---- কিন্তু কর্তা আমার অপরাধটা কি বলবেন তো ? 
--- ওরে ব্যাটা সেটা বলতেই তো এসেছি। পাপে ফেটে মরবি তোরা। বংশে বাতি দেওয়ারও কেউ থাকবে না।জল অচল হাঁড়ি হয়ে বাহ্মণবাড়ির বিধবাকে বাড়িতে এনে তুলেছিস। তার উপরে তোদের হাতের রান্না খাওয়াচ্ছিস ? 
---- কি করব কর্তা আমি আর আমার পরিবার যে ওকে মা মেনেছি। তাই আমরা থাকতে মা আমাদের দোকানে দোকানে লাথি ঝাঁটা খেয়ে পড়ে থাকবে তা কি করে সইব বলুন ? তবে আপনারা যদি ঘরে নিয়ে যেতে চান তাহলে অবশ্য আলাদা কথা। হাজার হোক আপনাদেরই তো আপনার জন। ছোটভাইয়ের স্ত্রী বলে কথা। কি গো কর্তা যাবেন নাকি বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে ? বলেন তো আমিও নাহয় সঙ্গে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসছি।
স্বামীর কথা শুনে গায়ে জ্বালা ধরে যায় শ্রীমতীর। লোকটা বলছে কি ? এই বলছে নিজের মা , আবার কসাইগুলোকে বলছে সঙ্গে নিয়ে যাবেন তো যান। সে আর চুপ করে থাকতে পারে না। একগলা ঘোমটা টেনে বলে , তুমি তো আচ্ছা লোক , দেখছ কর্তাবাবুদের দেখে মা আমাদের ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়েছে। আর তুমি ওদেরকেই নিয়ে যেতে বলছ ? 
---- আরে তুই থাম দেখি।  কর্তাবাবুদের দৌড়টাই দেখতে দে। 
যোগনাথের কথা শুনে তোঁতলাতে শুরু করে দুই ভাই। তোঁতলাতে তোঁতলাতেই ছোট ভাই বলে , আঃ -- আমরা কেন বাড়ি নিয়ে যাব ওকে ? ভাইই যেখানে নেই সেখানে উটকো ঝামেলা কেন ঘাড়ে চাপাতে যাব ?
--- ঠিক বলেছেন যত সব উটকো ঝামেলা। তা আমাকে কি করতে বলেন কর্তা ? 
যোগনাথের কথা শুনে আশান্বিত হয়ে ওঠে দুই ভাইয়ের চোখমুখ। তাদের মনে হয় যে উদ্দ্যেশ্যে হাঁড়ি ব্যাটার মগজ ধোলাই করতে এসেছে সেটা বোধহয় ফলপ্রসূ হতে চলেছে। তাই দ্বিগুন উৎসাহে বড়ভাই বলে , ওরে ব্যাটা তোরই বা ঘাড়ে করে ঘরে তোলার দরকার কি আছে ? বুঝে করুক গে ও নচ্ছার মাগী , যেখানে মরবে মরুক গে। তোর বাবার 
কি ? 
---- খবরদার কর্তা। বাবা তুলেছেন তুলেছেন , কিন্তু মাকে নিয়ে টানাটানি করবেন না। মনে রাখবেন এটা আপনাদের জমিদার বাড়ি নয়। আমারই বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমার মায়ের সম্পর্কে অকথা-কুকথা বললে সহ্য করব না তা বলে দিচ্ছি।
--- ওরে ব্যাটা ছোটলোক তুই কিসের ধান্ধায় অত মা-মা করছিস তা আমরা বুঝি না ভাবছিস ?
---- ধান্দাবাজ লোক আপনারা , সবেতেই ধান্ধা খুঁজে পান। তা বলুন দেখি শুনি আমার ধান্ধাটা কি ?
--- ব্যাটার ভাবখানা দেখ দেখি।ঠিক যেন মনে হচ্ছে ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না।ওরে ব্যাটা ওর বাড়িটা নিজের নামে লিখিয়ে নিবি বলেই অত তোয়াজ করছিস তা আর আমাদের বুঝতে বাকি নেই। তবে ব্যাটা হাঁড়ি , কান খুলে শুনে রাখ ওই বাড়ির দিকে পা বাড়ালে তোর ঠাং আমরা ভেঙে দেব।
--- তা আপনাদের মতো ঠাঙ্গাড়েদের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু একটা কথা আপনারাও কান খুলে শুনে যান,আপনারাও কি ধান্ধাতে এই হাঁড়ির বাড়িতে ছুটে এসেছেন তা আমারও আর বুঝতে বাকি নেই।
---- কি বুঝেছিস তুই ব্যাটা ছোটলোক ? 
---- বারে বারে ছোটলোক বলবেন না তো।
---- ওঃ ছোটলোককে ছোটলোক বলব না তো ভদ্রলোক বলতে হবে নাকি ? 
---- ছোটলোক কারও গায়ে লেখা থাকে না। ছোটলোক হয় ব্যবহারে। আপনাদের ব্যবহার ছোটলোকেরও অধম।টাকার লোভে ভাইয়ের খুনীদের হয়ে স্বাক্ষী দিয়ে এখন চোখ পড়ছে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর বাড়ির দিকে। সেটা হাতাতেই ভাইয়ের অসহায় স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলতে ছুটে এসেছেন। বেঘোরে পড়ে ওর মৃত্যু হলে তাড়াতাড়ি বাড়িটার দখল নিতে সুবিধা হবে এই তো ? ছিঃ এত লালসা আপনাদের ? 
---- যোগো মুখ সামলে কথা বল বলছি। 
----- কেন আমি অন্যায়টা কি বলেছি ? আপনারা হলেন গিয়ে ভাত দেওয়ার ভাতার নই কিল মারার গোঁসাই। আমরা ছোটলোক হতে পারি আপনাদের মতো ছোট মন আমাদের নয়। আমি গরীব হতে পারি কিন্তু ওই সম্পত্তি কেন , কোন সম্পত্তির উপরে আমার কোন লোভ নেই। জমিদার বাড়ির ওই মাটি তো পাপের। আপনাদের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। যোগো হাঁড়ি কোনদিন ওই পাপের মাটিতে পা ফেলতেও যাবে না। এবার মানে মানে বিদেয় হন দেখি। নাহলে আর কিন্তু সম্মান থাকবে না।
---- খুব চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলছিস , আমাদের চটিয়ে এ গাঁয়ে থাকতে পারবি ? 
--- শুনুন আপনাদের দেখে মা ঠাকুরুন আমাদের ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়েছে।আপনারা ভালো ভাবে যাবেন না শ্রীমতীকে মুড়ো ঝাঁটা নিয়ে আসতে বলব ? 


                   যোগনাথের মুখে ওই কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে যায় অন্নপূর্ণার দুই ভাসুর। তারা
ভেবে পায় না হাঁড়ি ব্যাটা এত সাহস কোথা থেকে পেল ? ব্যাটার পিছনে কে আছে তাও ভেবে পায় না তারা। তাই নিজেরাও আর সাহস করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।সুর-সুর করে বাড়ির পথ ধরে দুই ভাই। অন্নপূর্ণা এতক্ষণ কান খাড়া করে ওদের কথোপকথন শুনছিল।ওরা চলে যেতেই হঠাৎ তার পাগলামিটা ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।পুরোপুরি উন্মাদের মতো আচরণ করতে থাকে। কখন হো-হো করে হেসে ওঠে। কখনও বা কাঁদতে কাঁদতে দেওয়ালে মাথা ঠুকতে থাকে। যোগনাথ - শ্রীমতী কিছুতেই তাকে শান্ত করতে পারে না। শ্রীমতী মেজাজ হারিয়ে ফেলে। তার গলায় ক্ষোভ ঝড়ে পড়ে --- হায় হায় গো , এ কি বিপদ হলো বলো দেখি ? মা আমাদের দিব্যি সেরে উঠছিল। অনামুখো মিনসেরা এসে দিলে আবার মাথাটা বিগড়ে।   ---- দিলি না কেন মুড়ো ঝাঁটায় ঘা কতক লাগিয়ে , তাহলে বুঝত।
---- হ্যা তুমি তো বলেই খালাস। হাজার হোক বামুনের ছেলে। ঝাঁটা পেটা করতে গিয়ে মহা পাতকের কাজ করি আর কি ?
যোগনাথ কোন প্রত্যুত্তর করে না। স্ত্রীর কথাটা সে উড়িয়ে দিতে পারে না। সে দেখেছে তাদের সঙ্গে হাজার অন্যায় অপরাধ করেও ব্রাহ্মণ বলেই ওরা পার পেয়ে যায়। ব্রহ্মশাপের ভয়ে কেউ ওদের গায়ে হাত তোলা দুরের ব্যাপার , মুখ তুলে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে সে বলে , তুই ঠাকরুন মাকে কিছুক্ষণ আগলে রাখ তো। আমি একবার গোমস্তাবাবুকে ডেকে আনি। এর একটা হেস্তনেস্ত হওয়া দরকার। নাহলে শয়তানগুলো আবার হানা দেবে।
ছুটতে ছুটতে গোমস্তাবাবুর বাড়িতে পৌঁছোয় যোগনাথ। সেখানে তখন বাড়ির দোরগোঁড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি গাড়ি।গাড়িটা দেখে অবাক হয়ে যায় সে। গোমস্তাকাকার বাড়িতে গাড়ি কেন ভেবে পায় না। তাই খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। গোমস্তাবাবুর বিপদ আপদ কিছু হলো না তো ? তাহলে সে এখন ঠাকুরুন মাকে নিয়ে একা কি করবে ? সেই 
দুশ্চিন্তা অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই দূর হয়ে যায়। গোমস্তাবাবুর সঙ্গে সন্দীপনবাবুকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তাকে দেখতে পেয়েই গোমস্তাবাবু বলেন , আরে এসো এসো তোমার বাড়িই যাচ্ছিলাম। অন্নপূর্ণামাকে দেখতে এসেছেন সন্দীপনবাবু।
গোমস্তাকাকার কাছে যোগনাথের কথা ইতিমধ্যেই সব শুনেছে সন্দীপন।পরিচয় জানার পর সে এগিয়ে গিয়ে তার কাঁধে হাত রেখে বলে , আমি তো জানতাম না মাসীমা কোথায় আছেন।গোমস্তাকাকার মুখে সব শুনলাম। তোমাকে যে কি বলব ভেবে পাচ্ছি না। আজকের দিনে অনেকে নিজের বাবা-মাকেই ভাত দেয় না। সেখানে তুমি স্বেচ্ছায় যেভাবে পরের মায়ের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছো তার জন্য শুধু মানুষ নয় , ভগবানও তোমাকে দু'হাত তুলে আর্শিবাদ করবেন। তা এখন কেমন আছেন উনি ? 
---- আর কেমন আছেন ? দিব্যি সেরে উঠছিলেন। কিন্তু ওর দুই ভাসুর গিয়ে আবার সব তালগোল পাকিয়ে দিয়ে এলেন। সেইজন্যই ছুটে আসতে হল ? 
---- কেন ওনার ভাসুররা আবার কি করলেন ?  
---- চলুন যেতে যেতে বলছি।শ্রীমতীকে একা রেখে এসেছি।ঠাকরুন মা খুব মাথা খারাপ করছেন।শ্রীমতীর পক্ষে তাকে বেশিক্ষণ একা সামলে রাখা সম্ভব হবে না।
---- হ্যা -- হ্যা , তাই চলো। 
গাড়িতে আসতে আসতে যোগনাথের মুখে সব কথা শুনে সন্দীপন বলে , লোভের জন্য ওরা আর কত নীচে নামবে কে জানে ? 
গোমস্তাকাকা বলেন , স্বার্থের জন্য ওরা সব পারে।
--- সেই জন্যই তো আমি ভয় পাচ্ছি। যাবার সময় আবার শাসিয়েও গেল , যোগনাথের গলায় শঙ্কার আভাস। 



              বাড়ির ভিতরে পা রাখতেই তারা শুনতে পায় অন্নপূর্ণার চিৎকার।উন্মাদিনীর মতো সে বলে ওঠে -- হুজুর আমি বিচার চাই। আপনি বিচার করুন।
চিৎকার শুনে থমকে যায় সবাই। মুখ চাওয়াচাওয়ি করে তারা। গোমস্তাকাকার দিকে চেয়ে সন্দীপন বলে , এ তো ভালো রকম বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গিয়েছে দেখছি। আমার মনে হয় আর বাড়িতে ফেলে রাখা ঠিক হবে না। আপনি কি বলেন ? 
---- আমারও তাই মনে হয়। তাছাড়া ওরা এত সহজে হাত গুটিয়ে নেবে বলে মনে হয় না। বাড়িটা হাতাতে আবার আসবে।
শেষপর্যন্ত চাপ সৃষ্টিও করতে পারে। তখন হয়তো আর কোনদিনই ওর সুস্থতা ফেরানো যাবে না। কিন্তু এই মুহুর্তে করাই বা কি যাবে ? 
---- কেন আমাদের তো বহরমপুর মেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েই ছিল। ওখানকার সুপারের সঙ্গে কথা বলা আছে। সঙ্গে গাড়িও রয়েছে , তাহলে আজ নিয়ে যেতেই বা অসুবিধা কোথাই ? 
---- কোন অসুবিধা নেই বরং ভালোই হবে। তোমার সঙ্গে গেলে কোথায় যাচ্ছে , না যাচ্ছে কেউ টেরটি পাবে না। শয়তান দুটো আর নাগাল পাবে না।
শেষপর্যন্ত সেইদিনই অন্নপূর্ণাক বহরমপুর মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়। 
কথাটা শুনেই মন খারাপ হয়ে যায় যোগনাথ --শ্রীমতীর। মন খারাপ হয়ে যায় তাদের দুই ছেলে পাঁচু আর পূর্ণরও। এই কয়েকদিনেই অন্নপূর্ণা ওই পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছে। তাকে ছেড়ে দিতে সবার মন ব্যাথাতুর হয়ে ওঠে। শ্রীমতী মনে মনে অন্নপূর্ণার দুই ভাসুরের মুণ্ডপাত করে।ওদের জন্যই আজ ঠাকরুন মাকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে।ছেলে দুটোও তাকে জড়িয়ে ধরে বলে , ও মা ঠাকুমা আমাদের বাড়িতেই থাকুক না। ঠাকুমা চলে গেলে আমরা কার কাছে গল্প শুনব ? ঠাকুমাকে যেতে দিও না। বুড়ো দুটো এবার এলে গুলতি দিয়ে ওদের কপাল ফুটিয়ে দেব দেখো।
যেতে দিতে শ্রীমতীরও মন চায় না। ছেলে দুটোকে নিজের নাতির মতোই স্নেহ করতেন ঠাকুরুন মা। রাতে তো ওর পাশেই শুয়ে থাকত। মাথার ঠিক থাকলে নানান গল্প বলে ওদের ঘুম পাড়াত ঠাকরুন মা। ছেলেদুটোও বনবাদাড়ে ফল মাকড় কিছু পেলেই তাদের ঠাকুমার জন্য নিয়ে আসত। সেই ঠাকুমা চলে গেলে কষ্ট তো হবেই। সেটা উপলদ্ধি করেই ছেলেদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শ্রীমতী বলে , মন খারাপ করিস না।
কয়েকদিন পরেই তো ঠাকুমা সুস্থ হয়ে আবার আমাদের বাড়িতেই ফিরে আসবে।ছেলেদের সান্ত্বনা দেয় বটে , কিন্তু নিজের মন মানে না শ্রীমতীর। ওরা না এলে এই বাড়াবাড়িটা আর হত না। তবু ঠাকুরুন মায়ের ভালো হবে বলে মনকে শক্ত করতে হয় তাকে। যাওয়ার আগে অন্নপূর্ণাকে পরম যত্নে তেল দিয়ে চুল আঁচড়ে কাপড় পড়িয়ে দেয়। একটা পুঁটলিতে বাড়তি পোশাকগুলোও বেঁধে দেয়।
ততক্ষণে অন্নপূর্ণাও বোধহয় তাকে এই বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে সেটা আন্দাজ করে ফেলেছে। তাই হঠাৎ সে আশ্চর্য রকম শান্ত হয়ে যায়। শ্রীমতীর কথা মতো শান্ত ভাবে চুল আঁচড়ে , কাপড় পড়ে নেয়। কিন্তু গোল বাঁধে গাড়িতে ওঠার সময়। কিছুতেই আর গাড়িতে চাপতে  চায় না। শ্রীমতীর আঁচল টেনে ধরে। এমনিতেই চোখের জলে শ্রীমতীর বুক ভেসে যাচ্ছিল।অন্নপূর্ণাকে ওইভাবে তার আঁচল টেনে ধরতে দেখে শব্দ করে কেঁদে ওঠে। শেষ পর্যন্ত অন্নপূর্ণাকে নিয়ে তাকেও গাড়িতে উঠতে হয়। ছেলে দুটো ছলো ছলো চোখে চেয়ে থাকে অন্নপূর্ণার দিকে।অন্নপূর্ণার মনটাও যেন ভারাক্রান্ত দেখায়। গাড়িতে বিষন্ন মুখে বসে থাকে। তবে রাস্তার মধ্যে আর তার মস্তিক বিকৃতির আর কোন বর্হ্বিপ্রকাশ ঘটে না।  নির্বিঘ্নেই পৌঁছে যায় মেন্টাল হাসপাতালে। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল অন্য এক চমক।


( ক্রমশ ) 


No comments:

Post a Comment