Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

অন্তরালে -- ৮৪






      অন্তরালে 


             অর্ঘ্য ঘোষ 



  ( ধারাবাহিক উপন্যাস ) 





সেদিনের মতো বৈঠকখানা ঘরেই মৌরি আর সৌভিককে পেয়ে যায় তারা। তাদের দেখে ওরা প্রণাম করে বলে -- আসুন, বসুন। আমরা বাবাকে ডেকে দিচ্ছি। 
তারা ভিতরের ঘরের দিকে যাওয়ার উপক্রম করতেই আর্য বলে , দাঁড়াও সৌমিক আগে তোমার সঙ্গে একটা কথা 
সেরে নিই , তারপর বাবা-মাকে ডাকবে।
--- বলুন।
--- আজ আমরা তোমাদের বিয়ের দিনক্ষণ সব ফাইন্যাল করবো বলে এসছি। তোমার কিছু বলার আছে?
--- আমি আর কি বলব ?  আপনারা যেটা ভালো বুঝবেন করবেন।
লজ্জা এড়াতে বাড়ির ভিতরের দিকে চলে যায় সৌভিক। মৌরিও তাকে অনুসরণ করে। বৈঠকখানা ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে মৌরি বলে , দাদা আজ তো তোর দামদর হবে রে ? 
---- দামদর মানে ? 
---- আরে দেখিস নি পাইকাররা যখন আমাদের বাড়িতে গরু ছাগল কিনতে আসে তখন দাম নিয়ে কি করে ? বাবা এক বলে তো পাইকাররা আর এক বলে।
---- আমি কি গরু--ছাগল নাকি ? 
---- আমি তো সেই কথাই বলতে চাইছি। চল বাবা-মাকে বলি বিয়ের হাটে গরু-ছাগলের মতো তোর যেন দামদর না করে। তাতে সম্মান থাকে না।
---- ঠিক বলেছিস। চল বাবা-মাকে সেই কথাই বলি। 
ছেলেমেয়েদের মুখে সব শোনার পরেই ' নমস্কার - নমস্কার ' বলতে বলতে বৈঠকখানা ঘরে ঢুকে আসেন অরবিন্দবাবু আর প্রতিভাদেবী। প্রতি নমস্কার জানিয়ে আর্য সরাসরি বিয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে। সে নিজে বিয়ের দেনা-পাওনার তীব্র বিরোধী। কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারে না। কিন্তু তার মেনে নেওয়ার উপরে তো কিছু নির্ভর করে না। তাছাড়া এক্ষেত্রে সে তৃতীয়পক্ষ মাত্র। তার উপরে ভেঙে যাওয়া বিয়ে জোড়া দিতে এসেছে তারা। যদি ওইসব কারণে আবার কোন বিপত্তি দেখা দেয় তাহলে আফশোসের অন্ত থাকবে না। তাই নিজের নীতির বিরুদ্ধে গিয়েই তাকে বলতে হয় --- হ্যা , বলুন ছেলের বিয়েতে আপনাদের কি কি চাহিদা আছে ?
---- চাহিদা তো আমাদের অনেক কিছুই আছে ? সব কি আপনারা পূরণ করতে পারবেন ?
সৌমিকের বাবার কথা শুনে গায়ে যেন জ্বালা ধরে যায় আর্যর। মনে মনে ভাবে লোকটা কসাই নাকি ? নেহাৎ ছেলেটাকে মালা ভালোবাসে তাই , নাহলে এই মুহুর্তে মুখের উপর জবাব দিয়ে চলে যেত। কিন্তু মা মরা মেয়েটার মুখ চেয়ে তাকে বলতে হয় -- তবু বলুন শুনি ?
--- তা ধরুন খাট বিছানা ডেসিংটেবিল, ভরি দশেক গয়না আর---।
---- আরও আছে ? 
---- থাকবে না ? একটা চার চাকার গাড়ি আর ঘর খরচের জন্য লাখ দুয়েক নগদ টাকা। আরে মশাই আমার তো একটাই ছেলে , আর তো নেওয়ার সুযোগ পাব না। তাছাড়া অনেক মেয়ের বাবাই তো ওইসব দেবে বলে নিজ থেকে প্রস্তাব নিয়ে আসছে।আসলে একটাই ছেলে আর আমাদের বনেদী বংশ কিনা। তাই মেয়ের বাবারা বিয়ে দেব বলে যাকে বলে একে বারে ঝুলোঝুলি করছে। নেহাতই ছেলেটা বেগোরবাই করল তাই , নাহলে তো এতদিন আমার বাড়িতে চার চাকার লেগে থাকত দেখতে পেতেন।
সৌমিকের বাবার কথাগুলো শুনে রাগে  গা রি-রি করে  ওঠে আর্যর। মনে মনে বলে , নিকুচি করেছে বনেদী বংশের। কিন্তু কথাগুলো সে একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারে না। কিছু মেয়ের বাবাই গরু ছাগলের মতো পচ্ছন্দসই পাত্র কেনার জন্য দাম বাড়িয়েই চলেছেন। তার উপরে চাকুরে পাত্র হলে তো আর কথা নেই। সে টুকে পাশ করাই হোক , কিম্বা অভদ্র - অসভ্যই হোক তা বিবেচনাতেই আনেন না তারা।টাকার পুঁটলি নিয়ে ওইসব চাকুরে পাত্রদেরই কিনতে ছোটেন। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত রুচিশীল উদ্যমী বেকার ছেলেকে জামাই হিসাবে ভাবতেই পারেন না। অথচ ওইসব বেকার ছেলেগুলোর একটু সহায়তা পেলেই শুধু নিজেদের পরিবারেই নয় , সামাজিক উন্নয়নেও বহু চাকুরে ছেলেকে 
পিছনে ফেলে দিতে পারে।



                             
                             আর্যকে চুপ করে থাকতে দেখে  প্রতিভাদেবী স্বামীকে বলেন , তোমার কান্ড দেখে বাঁচি না। কেন ওনাদের সঙ্গে ওইরকম করছ ? আসল কথাটা বলেই দাও না এবার।
__
স্ত্রীর কথায় অরবিন্দবাবুর মুখে ফুটে ওঠে রহস্যের হাসি। ঠোঁটের সেই হাসি ঝুলিয়ে রেখেই তিনি বলেন -- কি মশাই চাহিদার বহর শুনে ভড়কে গেলেন তো ? আরে মশাই এতক্ষণ মজা করছিলাম। সামনে সাংবাদিক বসে রয়েছেন আর আমি দেনাপাওনার কথা বলে হাজত বাস করি আর কি ? সেইসময় প্রতিভদেবী বলেন , শুনুন আমাদের কিচ্ছুটি চাহিদা নেই। আপনারা যেটা ভালো মনে করবেন মেয়েকে দেবেন। না দিলেও ক্ষতি নেই ছেলের বাবা গিয়ে ওদের চারহাত এক করে দিয়ে আসবে। 
কথাটা শুনে 'থ ' হয়ে যায় আর্য। মনে মনে ভাবে অরবিন্দবাবু আচ্ছা মজার মানুষ তো। তাকে পর্যন্ত বেকুফ বনতে হোল। কিন্তু উনি তো এবার তাদেরই দোটানায় ফেলে  দিলেন। দাবি জানালে এক ছিল , কিন্তু নিজেদের বিবেচনার উপরে ছেড়ে দিলে কি দেওয়া যায় না যায় তা নিয়ে স্থিরতা পাওয়া যায় না। তাই আর্য বলে -- তবু যদি একটু আভাস দিতেন।
--- ওই যে বললাম আমাদের কোন চাহিদা নেই , আসার আগে ছেলেকেমেয়েকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।  ছেলে তো সাফ জানিয়ে দিয়েছে , দেনাপাওনার কথা উঠলে সে আর বিয়েই করতে যাবে না। ওসব কথা বাদ দিয়ে বরং বিয়েটা কবে দিতে পারবেন বলুন ?  
--- আপনিই বলুন না।
---- আমি পঞ্জিকা দেখেই রেখেছি , ১৫ অগ্রহায়ণ একটা ভালো দিন আছে। ওইদিন হলে আপনাদের অসুবিধা আছে ? 
আর্য জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে প্রিয়দের মুখের দিকে তাকায়। প্রিয় বলে , কোন অসুবিধা হবে না। ৫ অগ্রহায়ণ গ্রামের নবান্নের দিন ঠিক হয়েছে। তারপর বিয়ে দেওয়া যেতেই পারে।
সেইমতো ১৫ অগ্রহায়ণ বিয়ের দিন চূড়ান্ত হয়ে যায়। ওইদিনই সৌমিককে আর্শিবাদও করে প্রিয়। ঠিক হয় অরবিন্দবাবুও একদিন গিয়ে মালাকে আর্শিবাদ করে আসবেন। কথা শেষ করে ওঠার উপক্রম করতেই প্রতিভাদেবী বলেন -- একি একি এরই মধ্যে উঠছেন যে বড়ো ? মিস্টিমুখ না করে তো যাওয়া চলবে না। অগত্যা ফের বসতে হয় সবাইকে। তারপর মিস্টিমুখ করে ফেরার পথ ধরে তারা।
প্রিয়দের বাড়ির সামনে মোটর বাইক থেকে নামতেই আর্য দেখে হাসি মুখে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে শঙ্খ আর মালা। তারা বাড়ির ভিতরে পা রাখতেই দু'জনেই এসে তাদের প্রণাম করে। আর্য দু'জনের মাথায় হাত রেখে আর্শিবাদ করে। মালাকে দেখে মজা করার নেশাটা পেয়ে বসে আর্যকে।  বিশেষত অরবিন্দবাবুর মজাটাই তার হবু বৌমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মনটা উসখুস করে ওঠে তার। তাই মুখটা কাচুমাচু করে বলে ,  মামনি আজ তোমাদের বিয়ের ফাইন্যাল করতে সৌমিকদের বাড়ি গিয়েছিলান। চরম শিক্ষা হল , মনে হচ্ছে না গেলেই ভালো হত।
আর্যর কথা শুনে মালা কোন কথা বলতে পারে না। তার চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ ফুটে ওঠে। সেটা লক্ষ্য করে আর্য ফের বলে , মানুষ নয় ওরা , কসাই। বলে কিনা চার চাকার গাড়ি, পাঁচ লাখ টাকা , ২০ ভরি গয়না আরও সব দানসামগ্রী দিতে হবে। এত তো তোমার বাবার দেওয়ার সামার্থ্য নেই। তাছাড়া ওই রকম একটা কসাইয়ের বাড়িতে বিয়ে না হওয়াই ভালো। তাই বিয়েটা বাতিল করেই দিতে হল।





                            কথাটা বলার পর আর্য লক্ষ্য করে মালার মুখে যেন বর্যার মেঘের আভাস। চোখের কোন চিকচিক করছে। মেয়েটাকে আর কষ্ট দিতে খারাপ লাগে তার। তাকে কাছে টেনে নিয়ে বলে , ওরে মা অত মন খারাপ করতে হবে না। আমি তো এতক্ষণ তোর সঙ্গে মজা করছিলাম। ওরা সত্যিই খুব ভালোমানুষ। কিচ্ছুটি লাগবে না বলেছেন। দিনক্ষণ ফাইন্যালের পর আমরা একেবারে আর্শিবাদ করে ফিরিছি। কি এবার খুশী তো ?
ওই কথা শুনে মালা বাচ্চা মেয়ের মতো আর্যর হাতে আলতো ভাবে থাপ্পড় মারতে মারতে বলে --- জ্যেঠু আপনি খুব বাজে  লোক। যা ভয় খাইয়ে পাইয়েছিলেন না।
---- এমনি ভয় তোমার শ্বশুরমশাইও প্রথমে আমাদের  পাইয়ে দিয়েছিলেন মা।
তারপর অরবিন্দবাবুর কথাটা মালাকে বলে আর্য। শুনে মালা বলে , ইঃ মাঃ আপনি তো খুব বুদ্ধিমান , কিন্তু শেষে গাঁয়ের একটা চাষাভুষো মানুষের কাছে ঘোল খেয়ে গেলেন।
---- ভালো ভালো। এরই মধ্যে হবু শ্বশুরের গর্ব যে আর ধরে না দেখছি। সাধে কি বলে, 'আম-ছালা এক হল, আঁটি গড়াগড়ি খেল'। 
---- হবেই তো ।
রান্নাঘরের দিকে চলে যায় মালা। তখন তার চোখের কোনে জমে থাকা অশ্রুর বিন্দু  ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে হাসির ঝিলিক। এতক্ষণ সবাই হাসি হাসি মুখে ওদের কথাবার্তায় মগ্ন ছিল। এবার বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় শুরু করে তারা। এখানেও প্রথমেই ওঠে সেই দেওয়া-থোওয়ার প্রসঙ্গ। প্রিয় বলে ,  উনি ভালো মানুষ বলেই কিছু দাবি করেন নি। তাবলে তো আমি মেয়েকে  খালি হাতে শ্বশুরবাড়ি বাড়ি পাঠাতে পারব না। যা-যা লাগে সবই দিতে হবে।
আর্য বলে ,  সে তো হবেই।  কিন্তু আমি ভাবছি এত তাড়াতাড়ি বিয়ের যোগাড়পত্র সব হবে কি করে ? আমি অত দুরে থাকি। শঙ্খর ফাইন্যাল ইয়ারের পরীক্ষা , ওকে নিয়েও টানাটানি করা ঠিক হবে না।
সৌরভ বলে -- ও নিয়ে আপনি ভাববেন না দাদা। আমি তো রইলামই , গোটা গ্রামের লোক দাদাকে খুব ভালোবাসেন। তারাই কোমর বেঁধে নেমে পড়বে। তারপর আপনি তো রইলেনই। যতদুরেই থাকুন না কেন , প্রয়োজন পড়লে কি ছুটে না এসে থাকতে পারবেন ?
---- সেটা অবশ্য ঠিকই বলেছেন। তবে আরও একটা চিন্তা রয়েছে। মালা শ্বশুরবাড়ি চলে গেলে এদিকের কি হবে ভেবে দেখেছেন ?
---- সেটা একটা চিন্তার বিষয় বটে। সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব শঙ্খর বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে যতদিন না সেটা হয়ে উঠেছে ততদিন ওদের পিসিমনি কিম্বা অতসীকাকীকে দিয়েই পরিস্থিতির সামাল দিতে হবে।
--- কিন্তু আপনার স্ত্রী চলে এলে চলবে কি করে ? সেবারেই তো শুনে গেলাম আপনার বাবা- মা শয্যাশায়ী ,  তাদের ফেলে উনি আসবেন কি করে ?
---- তারা থাকলে হয়তো আসতে পারত না। কিন্তু তারা একমাসের ব্যবধানে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গিয়েছেন।
---- সে কি ? কই বলেন নি তো ? 
---- আপনারা ব্যস্ত মানুষ। তাই ওদের আর মৃত্যু সংবাদ দিই নি।
---- এটা আপনি ঠিক করেন নি। যতই ব্যস্ততা থাক,  আপনার পাশে এসে দাঁড়াতে পারতাম না ?
সেই সময় চা নিয়ে আসে মালা। তাই ওই প্রসঙ্গ চাপা পড়ে যায়। 




                                       চা খেয়ে প্রিয়দের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে হাসপাতালের ডাক্তারের কোয়ার্টারে পৌঁছোয় আর্যরা। তাদের দেখে কোয়ার্টার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ডাক্তারবাবু ময়ূখ। আর্যর দু'হাত ধরে তিনি বলেন , আসুন ভিতরে আসুন। চা খেতে খেতে কথা হবে।
সেই অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারে না আর্য। কোয়ার্টারে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ডাক্তারবাবু বলেন , প্রিয়র চাকরিটা ফিরিয়ে দিয়ে ওর কতটা উপকার করেছেন জানি না , তবে এই এলাকার মানুষ যে চরম উপকৃত হয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। আজ চিকিৎসা করাতে এসে সবাই সেই কথাই বলছিলেন। 
--- সেটা করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে।  এবার উঠতে হবে ডাক্তারবাবু। কাল প্রিয়র চাকরি ফেরত পাওয়া খবর নিয়ে কাগজ বেরোবে। তাই রাতের মধ্যে সব ঠিক করতে হবে।
----- বেশ, আর আপনাদের আটকাব না। আপনি আসছেন তা প্রিয়র মুখেই শুনেছিলাম। তার চাকরি ফেরার খবর নিয়ে যে কাগজ বের করবেন সেই আন্দাজও করেছিলাম। তাই আমিও একটা লেখা রেডি করে রেখেছি। দেখবেন যদি পাঠকের পাতে দেওয়া মতো যোগ্য হয় তা হলে ছাপবেন। বলে আর্যর দিকে একটা খাম এগিয়ে দেয়। সেটা হাতে নিয়ে আর্য বলে , গুড আইডিয়া। 'সহকর্মীর চোখে ' শিরোনামে লেখাটা দারুন হবে। এটা আমারই মাথায় আসা উচিত ছিল।
ডাক্তারবাবুর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে তারা পৌঁছোয় থানায়। ওসি তখন ছিলেন কোয়ার্টারে। সেখান থেকে  তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে আরতি। সে এখন বড়বাবুর কোয়ার্টারেই থাকে। প্রিয়র চাকরি ফেরতের খবরটা ততক্ষণে তার কানেও পৌঁছেছে। সে হাত জোড় করে বলে , বড়ো মরমে মরে ছিলাম গো বাবু। আমার জন্যই তো বেচারাকে 
বিনাদোষে চাকরিটা হারাতে হয়েছিল। তাই দগ্ধে দগ্ধে মরতাম। আপনারা ওর চাকরি ফিরিয়ে দিয়ে  আমাকে অনুতাপের হাত থেকে বাঁচালেন গো বাবুরা। যাই ,  বড়বাবুকে ডেকে দিই দাঁড়ান।আরতির কাছে খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বড়োবাবু তার চেম্বারে এসে তাদের ডেকে নেন। নমস্কার বিনিময়ের পর বড়োবাবু বলেন --- কি খাবেন বলুন ? ঠান্ডা না গরম ? 
--- কোনটাই নয়। আজ একদম সময় হবে না। জাস্ট আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। পরে একদিন এসে চুটিয়ে গল্প করে যাব।
--- কেন আজ এত তাড়া কিসের ? 
---- আসলে প্রিয়র চাকরি ফেরত পাওয়ার বিষয়টিকে নিয়ে কাল দায়বদ্ধতার একটা সংখ্যা বের করব ভাবছি।
---- এক রাতের মধ্যেই ? আপনি পারেনও বটে। হ্যা ভালো কথা আপনাদের কাগজের খুব সুখ্যাতি শোনা যাচ্ছে। কোনও ভাবে কাগজটা বড়সাহের হাতেও পৌঁছেছে। সেদিন ক্রাইম কনফারেন্সে প্রসাদ মোড়লদের ইস্যুটা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন।
তারপর দুটো খাম এগিয়ে দিয়ে বলেন , নিন ধরুন এ দুটো। প্রিয়বাবুদের কেস হিস্ট্রির উপর ভিত্তি করে লেখা আছে। আর একটা পুলিশের বঞ্চনা নিয়ে তথ্য রয়েছে। আমার নামে লেখাটা ছাপবেন না প্লিজ। তাহলে আমাকে ঝাড় খেতে হবে বড়সাহেবের কাছে। আপনি বোঝেনই তো সব। আপনাকে আর কি বলব ? তদন্তকারী অফিসারের কলমে বলে ছাপতে পারেন।
--- ঠিক আছে। আজ তাহলে আমরা আসি।
---- হ্যা আসুন। পরে আবার কথা হবে। 
খাম দুটো হাতে নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে আসে তারা।



   
           ( ক্রমশ ) 




     নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


শীঘ্রই দেশ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে আমার তৃতীয় উপন্যাস ------
  
                                  


                    


অর্পিতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে সালিশির রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর কথা ও কাহিনী---  




                                      ----০---

No comments:

Post a Comment