অন্তরালে
অর্ঘ্য ঘোষ
( ধারাবাহিক উপন্যাস )
একসময় চৈতীর নাকের পাটায় মুক্তো দানার মতো জমে ওঠে বিন্দু বিন্দু ঘাম। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সেখানে সূর্যালোক পড়ে বিচ্ছুরিত হয় আলো। মুগ্ধ দৃষ্টিতে সেদিকে চেয়ে থাকে শঙ্খ।
চৈতী বলে -- অ্যাই কি দেখছ অমন করে ?
--- তোমাকে।
---- বেশ মশাই। আমাকে দেখার অনেক সময় পাবে। এখন চলো ওদের খুঁজে দেখি।
------ চলো।
হাত ধরাধরি করে ফিরতে থাকে ওরা। গোলঘরের কাছাকাছি পৌঁছোতেই তাদের পায়ের শব্দ পেয়ে বের হয়ে আসে মালারা।
তাদের দেখে শঙ্খ বলে -- কি রে তোরা গেলি না ?
মালা বলে , আর হাঁটতে পারছিলাম না। তাই এখানে বসেছিলাম। তা তোদের এত দেরি হলো যে ?
---- আরে আমাদেরও তো তোদের খুঁজতে খুঁজতেই এত দেরি হয়ে গেল।
সবাই যে ভাবের ঘরে চুরি করছে তা বুঝেতে অসুবিধা হয়না কারও। কিন্তু কেউই আর বিষয়টি নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য না করে ফেরার পথ ধরে। সন্ধ্যা গড়িয়ে তারা যখন বাড়ি ফেরে তখন অভিজিৎকে নিয়ে নবান্ন উপলক্ষ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে পৌঁচেছে মধুরিমা। নিছক নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে নয় , নবান্নের কাজকর্ম সামলানোর জন্যই ছুটে আসতে হয়েছে তাকে। বৌদি নেই , মালা একা সবকিছু সামলাতে পারে না বলে তাকে পুজোপার্বণে এবাড়ি আসতেই হয়। পিসিমনিকে দেখে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে মালা। এমনিতেই তাদের বাড়িতে পালা-পার্ব্বনে লোকজনকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানোর চল দীর্ঘদিনের। এবারে আবার আর্যজ্যেঠু, সোমনাথকাকু, ওখানকার ডাক্তারবাবু, এখানকার নার্স -ডাক্তারবাবু, ওসিকে নিমন্ত্রণ করেছে বাবা। আসতে পারেন সৌমিকের বাবাও। তাই তাদের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল মালা। পিসিমনি আসায় সেই দুশ্চিন্তাটা দুর হয় তার।
পিসিমনিকে প্রণাম করে চৈতীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় সে। চৈতী প্রণাম করতে যেতেই তাকে বুকে টেনে নিয়ে মধুরিমা বলে , আহা কি সুন্দর মুখখানা মায়ের আমার , ঠিক যেন লক্ষ্মী প্রতিমা। দেখলেই প্রাণ মন জুড়িয়ে যায়।
মধুরিমার কথা শুনে মালা ছদ্ম অভিমানের সুরে বলে , বাহ্ পিসিমনি তুমি ভালো গো। এতদিন আমাকে বলতে মা লক্ষ্মী। এবার বুঝি আমি লক্ষ্মীর বাহন হয়ে গেলাম ?
ভাইঝির কথা শুনে হেসে ফেলে মধুরিমা। তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলে -- তা কেন মা তুমিও মা লক্ষ্মীই আছ। বেশ মা আর অভিমান করতে হবে না। চল দেখি তিন মা-বেটিতে হাতে হাতে কাজগুলো সব এগিয়ে রাখি।
চৈতী আর মালাকে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে যায় মধুরিমা। সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত চলে তরকারি কাটা - মশলা বাঁটার কাজ। শঙ্খরাও তিনজন মধুরিমার নানা ফাইফরমাইশ খাটার ফাঁকে ফাঁকে মাচানতলা ঘুরে আসে। সেদিন রাতে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে একই ব্যস্ততা। রাত পোহালেই নবান্ন , তাই সবাই যতটা পারে কাজ এগিয়ে রাখে। সেই ব্যস্ততার কারণে কেউ সামান্য ক্ষণ বিছানায় গা গড়ানোরও সুযোগ পায় না।
সকাল হতেই মধুরিমা নিজে স্নান সেরে চৈতী আর মালাকে স্নানের জন্য তাড়া লাগায়। তাদের স্নান সারা হলে তিনজন মিলে শুরু করে নবান্নের যোগাড়যন্ত্র। গ্রামদেবীর পুজো করিয়ে এনে চালগুঁড়ো গোলার ব্যবস্থা করে রান্নার কাজে হাত লাগায় তারা। মধুরিমা নিজে হাতে ভাতটা ছাড়া কিছু রান্না করে না। চৈতী আর মালাকে হাতে হাতে সব এগিয়ে দিয়ে বলে বলে রান্না করিয়ে নেয়। আর মাঝে মধ্যে ওদের উৎসাহিত করতে বলে , দেখাই যাক সবাই খেয়ে কার রান্নার সুখ্যাতি করেন।
ওরা দুজনেই বলে , সুখ্যাতি করলে আমাদের। কুখ্যাতি হলে তোমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেব। বলব , তোমার নির্দেশেই সব হয়েছে। আমরা হাতা -খুন্তি নেড়েছি মাত্র।
---- ভালো মেয়ে তো তোরা। আমি কোথাই তোদের রন্ধন প্রতিভা লোকসমক্ষে প্রকাশের একটা সুযোগ করে দিলাম , আর আমার ঘাড়েই বদনামের বোঝা চাপানোর তাল ? তোদের দোষ নেই , এ হলো কালের দোষ। সাধে কি আর বলে, "ভালোর কাল নেই"।
হাসি ঠাট্টার মধ্যেই দ্রুত রান্নার কাজ এগিয়ে চলে। তারই মধ্যে এসে পৌঁচ্ছে যায় আর্য আর বৈশাখী। চৈতী তখন তরকারির কড়াইয়ে খুন্তি নাড়ছে।
সেটা দেখেই বৈশাখী এগিয়ে গিয়ে বলে , ওরে বাবারে আজ সূর্য কোনদিকে উঠেছে রে। চৈতী মাকে আমার রান্নাঘরে দেখছি যে বড়ো ?
বৈশাখীকে দেখে এগিয়ে এসে নিজের পরিচয় দিয়ে নমস্কার করে বলে -- হ্যা , আজ দুটিকে লাগিয়েছি। দু'জনেরই আজ পরীক্ষা হয়ে যাবে।
--- খুব ভালো করেছেন ভাই।আমার তো বলে বলে গলা ব্যাথা হয়ে গ্যাছে। কতবার বলেছি একদিন শ্বশুড়বাড়ি যাবি, রান্নাটা একটু শিখে নে মা। নাহলে যে তোর সঙ্গে আমাকেও খোঁটা শুনতে হবে মা। তা মেয়ে কথা কানে তুললেই তো। এখানে তো দেখছি দিব্যি লক্ষ্মী মেয়ের মতো সব করছে।
--- করব না কেন ? কিছু ভুল হলে তুমি যা বকা দাও। তাতে আরও ভুল হয়ে যায়। পিসিমনির কাছে সেই ভয়ও নেই , তাই ভুলও হচ্ছে না।
--- বেশ মা , তাহলে বরং পিসিমনির ক্লাসেই তোমাকে ভর্তি করে দিয়ে যাব। উনিই তোমাকে শিখিয়ে পড়িয়ে দেবেন।
কথা বলতে বলতেই মধুরিমা উঠে গিয়ে আর্য আর বৈশাখীকে চালগুঁড়ির নবান্ন, মিস্টি ফল এনে দেয়। খাওয়া হলে তাদেরও স্নানের তাড়া লাগায়। কারণ রান্না প্রায় শেষের দিকে। নিমন্ত্রিতরাও এল বলে। ঠিক তাইই হয়। একে একে এসে পৌঁছোন হাসপাতালের নার্স , ডাক্তার আর ওসি। আসার সময় তারা মাচানতলা থেকে প্রিয়কেও ধরে নিয়ে
আসেন। মৌরিকে সঙ্গে নিয়ে এসে পৌঁছোন সৌমিকের বাবা অরবিন্দবাবুও। তাদের দেখে মধুরিমা বলে -- বেয়ান এলেন না যে বড়ো ?
---- তাহলে যে আপনাদের কাউকে গিয়ে থাকতে হয়। না হলে বাড়ি ফেলে আসবেন কি করে ?
ছেলেটাতো এখানেই আছে না।
---- আগে বললেই পারতেন। তাই না হয় গিয়ে থাকতাম।
হবু বেয়াইয়ের সঙ্গে হাসি ঠাট্টা করতে করতেই আসন পেতে খাওয়ার জায়গা করে মধুরিমা। মালা আর চৈতীই খাবার পরিবেশন করে। বৈশাখী আর মধুরিমা তাদের হাতে হাতে সব এগিয়ে দেয়। খেতে খেতে সবাই রান্নার খুব সুখ্যাতি করেন। মধুরিমা বলেন , রান্নাবান্না আজ কিন্তু সব আমাদের এই দু'ই মা করেছে।
সুখ্যাতি শুনে হাসি ফুটে ওঠে চৈতী আর মালার মুখে। তাদের রান্নার সুখ্যাতি করতে করতে ওসি, নার্স আর ডাক্তারবাবুরাও ফিরে যান, যাত্রা দেখতে আসবেন বলে যান তারা। তাদের দেখাদেখি সৌমিকের বাবা বাড়ি ফেরার উপক্রম করতেই মধুরিমা তার পথ আগলে বলে , আপনার বেয়াই যাত্রা করবে আর আপনি তা না দেখে চলে যাব বললেই হবে ?
একই অনুরোধ করে প্রিয়ও। সেই অনুরোধ আর ঠেলতে পারেন না অরবিন্দবাবু। তিনি আর আর্য একটু গা গড়িয়ে নেন। ব্যবস্থাপত্র দেখতে প্রিয়কে ছুটতে হয় মাচানতলায়। চৈতীরা সবাই মেতে ওঠে অন্তাক্ষরী খেলায়। নবান্নের পাট চুকতে চুকতেই সন্ধ্যা নেমে আসে। মাচানতলায় বেজে ওঠে যাত্রার মাইক। গ্রামের মানুষজন দরজায় তালা দিয়ে চট - তালাই কিম্বা শতরঞ্জি বগলে মাচানতলা অভিমুখে যেতে শুরু করে। গ্রামাঞ্চলে মঞ্চের কাছাকাছি বসার জায়গা পাওয়ার জন্য দর্শকরা সন্ধ্যা থেকেই জায়গা দখল করে বসে থাকে। আগে সেই সুযোগে বাড়িতে ছিঁচকে চুরি হয়ে যেত। পরে গ্রামের ছেলেরা যাত্রা দেখার ফাঁকে ফাঁকে পালাক্রমে গ্রামে টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করে। তাই বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে নির্ভাবনায় যাত্রা দেখার সুযোগ পান মানুষ।
সেই ভরসায় মধুরিমাও তালা ঝুলিয়ে সবাইকে নিয়ে মাচানতলায় পৌঁছোয়। তাদের জন্য শতরঞ্চি বিছিয়ে মঞ্চের খুব কাছেই জায়গা করে রেখেছিল শঙ্খ। তাদের দেখে এগিয়ে এসে সেখানে বসিয়ে দিয়ে যায়। তারা বসতেই শুরু হয়ে যায় গ্রামের ছেলেমেয়েদের অনুষ্ঠান। যেহেতু দর্শকরা যাত্রা শুরুর অনেক আগে থেকে এসে বসে থাকেন তাই তাদের মনোরঞ্জনের জন্য গ্রামের ছেলেমেয়েদের আবৃতি-গান-নাচ , যেমন খুশী তেমনি সাজো সহ বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। এতে যেমন দর্শকরা ভুলে থাকেন , গ্রামের ছেলেমেয়েরাও তাদের উপস্থাপিত করার সুযোগ পায়। এবারও তার অন্যথা হয় নি। দর্শকাসনে অন্যান্যদের সঙ্গে ওইসব অনুষ্ঠান উপভোগ করছিল চৈতী। আচমকা ঘোষককে তার নাম ঘোষণা করতে শুনে চমকে যায় সে। ঘোষক তখন বলে চলেছেন -- আমরা অনেকক্ষণ ধরে গান - আবৃত্তি শুনছি। এবারে একটা নাচ দেখব। আজ এই গ্রামে অতিথি হিসাবে রয়েছেন চৈতী। শুনেছি উনি খুব সুন্দর নাচেন। আশা করব উনি নৃত্য প্রদর্শন করে আমাদের নয়ন সার্থক করবেন। চৈতীদেবীকে মঞ্চে আসতে অনুরোধ করছি।
ঘোষণা শেষ হতেই দর্শকরা হাততালি দিয়ে ওঠেন। ঘোষণা শুনে খুব বিব্রত হয়ে পড়ে চৈতী। নাচের কোন পোশাক আনে নি সে , সালোয়ার - কামিজ পড়েই চলে এসেছে। কিন্তু তার নামটা ঘোষককে জানাল কে ভেবে পায় না ? বাবা-মা নিশ্চয় নিজের মেয়ের নাচের কথা সাতকাহন করে বলবে না। সোমনাথকাকু কিম্বা ডাক্তারজ্যেঠু তার নাচের কথা জানেন। কিন্তু তারা তো দর্শকাসনে বসে রয়েছেন। বাকি থাকে একজন , তবে কি -- ? তার ধারণাই সত্যি হয়।
দর্শকাসন থেকেই সে দেখতে পায় মঞ্চের পিছনে দাঁড়িয়ে ঘোষকের সঙ্গে মুখ নামিয়ে কথা বলছে শঙ্খদা। ফের ঘোষক বলে ওঠেন -- আমরা চৈতীদেবীর নাচ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছি। আশাকরি তিনি আমাদের নিরাশ করবেন না। তাকে আবারও মঞ্চে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
এবার ঘোষণা শেষ হতেই মালা আর মৌরি চৈতীর হাত ধরে বলে -- চলোই না বাবা , বার বার এত করে বলছে।
মেয়েকে একই কথা বলেন বৈশাখীও। চৈতী নাক কুঁচকে বলে , নাচের পোশাক আনি নি যে।
মালা বলে , নাচের পোশাক লাগবে না। তুমি যা পড়ে আছ তাতেই তোমাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।
আর আপত্তি করতে পারে না চৈতী। বিশেষ করে ঘোষকের কাছে তার নামটা শঙ্খদা প্রস্তাব করেছে জানার পর সে না করবে কি করে ? তাহলে যে তার ভালোবাসার জন ছোট হয়ে যাবে। তাই মালার আর মৌরির সঙ্গে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় সে। মঞ্চ পা রাখতেই দর্শকদের মধ্যে তুমুল হাততালি পড়ে। তা দেখে আপ্লুত হয়ে পড়ে বৈশাখী। শঙ্খ মেয়ের নাচের কথাটা মনে রেখেছে বলে তার খুব ভালো লাগে। তেমন করে ভালো না বাসলে ভালোবাসার জনের ছোটখাটো বিষয় কেউ কি এমন ভাবে মনে রাখে ? শঙ্খর কাছে চৈতীর যে কোন অমর্যাদা হবে না তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়। ততক্ষণে চৈতীর নাচ শুরু হয়ে গিয়েছে। মেয়ের নাচে মনোনিবেশ করে বৈশাখী। নাচ শুরু করে চৈতী দেখতে পায় মঞ্চের পিছনে সপ্রশংস দৃষ্টিতে চেয়ে আছে শঙ্খদা। তার ওই চাউনি তাকে অনুপ্রাণিত করে তোলে। সে নিজেকে উজার করে দেয় নাচে।
নাচ শেষ হতেই ফের তুমুল হাততালিতে দর্শকরা তাকে অভিনন্দিত করেন। ঘোষক তাকে কিছু বলার জন্য মাইক্রোফোনটা এগিয়ে দেয়। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে চৈতী বলতে শুরু করে --সবাইকে নমস্কার। আমি এই গ্রামে অতিথি হিসাবে এসেছি ঠিকই , কিন্তু একদিনেই এই গ্রামের মানুষ আমাকে আপনজন করে নিয়েছেন। সেইজন্যই এই গ্রামের ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমাকেও নৃত্য প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমিও এর আগে নৃত্য প্রদর্শন করে এত আনন্দ পাইনি। তাই আপনাদের আরও আনন্দ উপভোগের সুযোগ করে দিতে চাই। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না , আপনাদেরই গ্রামের ছেলে শঙ্খ খুব ভালো কবিতা লেখে। তাকে একটা স্বরচিত কবিতা পাঠ করার জন্য অনুরোধ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।
ফের হাততালিতে ফেটে পড়েন দর্শকরা। মাইক্রোফোনটা ঘোষকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে মঞ্চ থেকে নামার সময় চৈতী দেখতে পায় লাজুক মুখে তার দিকে চেয়ে আছে শঙ্খদা। সে সবার অলক্ষ্যে একটা কটাক্ষ হেনে নিজেদের জায়গার দিকে ফিরে চলে। সেখানে পৌঁছানোর আগেই মাইকে শঙ্খর গলা শোনা যায়। রোমান্টিক গলায় নিজের লেখা কবিতা পড়তে শুরু করে সে ----
মানুষের কথা
আমাদের নিজস্ব কোন বাগান ছিল না।
তবু আমরা ফুলের গন্ধ পেতাম,
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত।
আমাদের নিজের কোন অসুখ ছিলনা।
তবু আমরা অন্যের অসুখের কথা ভাবতাম,
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত।
সব ভেবে আমরা পাড় উঁচু দীঘির কাছে যেতাম।
বাঁধানো ঘাটে পা ঝুলিয়ে বসতাম,
কাজলা কালো জল আঁচলা ভরে খেতাম।
অনর্গল বলে যেতাম কত কথা।
ঘাম ঝরিয়ে সোনার বরণ ধান ফলানো কালো মানুষের কথা।
কানাই ভল্লা, ক্ষুদিরাম বাগদি, হোপন হাঁসদাদের জীবন চরিত।
আমাদের এইসব চেতনা এইসব বোধ হঠাৎ আসে, হঠাৎই হারায়।
শুধু স্বপ্নের রেশ লেগে থাকে শেষ শরতের ভিজে ঘাস ফুলে।
আগে আমরা কত স্বপ্ন দেখতাম ,
পেরিয়ে যেতাম সাত সমুদ্র তেরোটা নদী।
এখন আর স্বপ্ন দেখিনা,
গন্ডীটা বড়ো ছোট হয়ে গিয়েছে আজ।
বেড়াজালে থমকে গ্যাছে স্বপ্নের পক্ষীরাজ।
আগে আমরা কত কথা বলতাম,
ইদানিং আর বলি না।
ব্যাথার ভারে লতানো মানুষের কথা আমরা আজও কি ভাবি ?
ভাবতাম কোনদিনও ?
কবিতা পড়া শেষ হতে উচ্ছাসে ফেটে পড়ে সবাই। এমন কি চৈতীও আবেগে আপ্লুত হয়ে স্থান - কাল - পাত্র ভুলে হাততালি দিয়ে ওঠে।




No comments:
Post a Comment