Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

কীর্তি যস্য -- ১ ( তৃপ্তি)



                       
                                                         



 শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা নাড়িয়ে দেয়   তৃপ্তি বন্দ্যোপাধ্যাকে



                                                                    


                          অর্ঘ্য ঘোষ 



                                                       


‘ মানুষ বড়ো কাঁদছে , তুমি মানুষ হয়ে তাহার পাশে দাঁড়াও।’ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা কবিতাটি নাড়িয়ে দিয়েছিল দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীটিকে। তখন থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ জন্মেছিল মনের মধ্যে। কিন্তু কি করবেন ? কবিই বলেছেন মানুষের জন্য কিছু করতে গেলে যে আগে নিজে মানুষ হতে হবে। তাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজেকে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন সেদিনের সেই মেয়েটি। বিভিন্ন কাজে যাওয়া আসার পথে স্থানীয় কীর্ণাহার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাপ্রোন পড়া নার্সদের দেখে মেয়েটির চোখ টানত খুব। ওইসব নার্সদের প্রতি রোগী ,  রোগীর আত্মীয় পরিজনদের ভরসা দেখে স্বপ্নের সিড়িটা খুঁজে পান। সেই সিঁড়ি বেয়েই সেবার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁচ্ছে যান তৃপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।




                  ১৯৬২ সালের ৮ জানুয়ারি সাঁইথিয়ার এক নার্সিংহোমে জন্ম হয় তৃপ্তিদেবীর। বাড়ি বীরভুমের নানুরের কীর্ণাহারের নাগডিহিপাড়া। স্থানীয় নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয় থেকে চতুর্থ এবং তারপদ স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর বাঁকুড়া সম্মেলনী মেডিকেল কলেজ থেকে নার্সের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৮১ সালে প্রথম নানুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ,এন,এম, আর হিসাবে কাজে যোগ দেন তিনি। পাশাপাশি সমান তালে পড়াশোনা করে বোলপুর কলেজ থেকে স্নাত্মক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালে বাঁকুড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হেলথ সুপারভাইজার পদে উন্নীত হন। বর্তমানে নানুর ব্লক স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা পদে কর্মরত রয়েছেন।


                               বিভিন্ন জায়গায় ভালো কাজের সুবাদে অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০০৩ সালে বাঁকুড়া জেলায় টিবি নির্মূলকরণ প্রকল্প ,  ওই জেলাতেই ২০০৫ সালে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং কুষ্ঠ নিবারণী প্রকল্পে বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১১ সালে এ জেলায় আশা প্রকল্প এবং ২০১৩ সালে আই , এম , এন , সি , আই প্রকল্পের প্রশিক্ষক হিসাবে প্রশংসিত হয়েছেন। ওইসব স্বীকৃতিই তাকে করে তুলেছে আরও সেবামনস্ক। তারই স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৫ সালে মিলেছে সেবার সর্বোচ্চ শিরোপা ‘ ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল অ্যাওয়ার্ড ফর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট ’ পুরস্কার।


                       সেই দিনটার কথা মনে পড়লে আজও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে তার। দিনটা ছিল ২০১৫ সালের ২ মে।  সেদিন চিঠিটা যখন ব্লক স্বাস্থ্য দফতরে পৌঁছোয় তখন সেখানে আই , সি, ডি, এস কর্মীদের অপুষ্টি জনিত রোগ সম্পর্কিত ক্লাস নিচ্ছিলেন। তার পুরস্কার প্রাপ্তির কথা শুনে ওইসব আই,সি,ডি,এস কর্মীরা ক্লাস বাদ দিয়ে দিনটাকে আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের প্রস্তাব দেন। সেদিনের ক্লাসে উপস্থিত থাকা আই,সি,ডি,এস কর্মীরা সেদিন তাকে বলেন , দিদি এতবড়ো সম্মান তো সচরাচর কেউ পায় না। আপনি সেই সম্মান পাচ্ছেন। সেইজন্য আজকের দিনটা আনন্দ করে কাটানো হোক। কিন্তু তৃপ্তিদেবী এককথায় সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে  বলেন , তোমাদেরও পুরস্কার পেতে হবে তবেই আমার পুরস্কার পাওয়া সার্থক হবে। সেদিনই হবে আমার প্রকৃত আনন্দ।     
         
     
               
                           পুরস্কার পাওয়ার সেই দিনটার কথা আজও মনের মণিকোঠায় অক্ষয় হয়ে আছে তৃপ্তিদেবীর। ২০১৫ সালের ১২ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে তার হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে প্রণববাবু তার বাবার সহপাঠী। সেইসূত্রে তার কাকু। বাবার মুখে প্রণবকাকুর অনেক গল্প শুনেছিলেন।
সেই প্রণবকাকুর হাত থেকেই পুরস্কার নেওয়ার কথা কোনদিন ভাবতেও পারেন নি। সেদিনের কথাটা ভাবলেই আজও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে তার। কর্মক্ষেত্রে  তৃপ্তিদেবীর নিষ্ঠা আদর্শ স্বরূপ। চাপের কাজ পড়ে গেলে নাওয়া-খাওয়া মাথায় ওঠে। ঘন্টার পর ঘণ্টা শুধু চা খেয়ে কাটিয়ে দেন। কাজের ক্ষেত্রে কোন আপোষ করেন না। কিন্তু কাজের বাইরে কারও নিজের দিদি কিম্বা মায়ের মতো।


            শুধু কর্মস্থলেই নয় , এলাকায় মুশকিল আসানও হয়ে উঠেছেন তিনি। রাতবিরাতে পাড়ার কেউ অসুস্থ হলেই ডাক পড়ে তার। নিজের সাধ্যের মধ্যে হলে ওষুধ দিয়ে নিরাময়ের ব্যবস্থা করেন। বাড়াবাড়ি বুঝলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিম্বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেন। রোগে শোকে তিনিই এলাকার মানুষের বল ভরসা। শুধু তাই নয় , লক্ষ্মী মুর্ম নামে পিতৃহীন এক শিশুকে চার বছর বয়েস থেকে বাড়িতে রেখে কন্যাস্নেহে মানুষ করেছেন। লেখাপড়া শিখে সেই মেয়েটিই এখনআই,সি,ডি,এস কর্মী। তার সব অভাব ভুলিয়ে দিয়েছেন তৃপ্তিদেবী।    

                                                  
                                  তিনভাই বোনের বড় তৃপ্তিদেবী। তার ৩৪ বছর বয়েসে ক্যান্সারে মৃত্যু হয় মা স্বর্ণময়ীদেবীর। তাই সংসারের চাপে নিজের আর ঘর সংসার করা হয়। ভাই প্রভাকরবাবুর সংসারই তার সংসার। রয়েছেন শয্যাশায়ী বাবা , ভাইপো পর্জণ্য-ভাইঝি পেষণা আর ভ্রাতৃবধু নীপা। তাদের সংগেই হেসে খেলে দিব্যি কেটে যায় তার। অবসরে আজও সঙ্গী সেই শক্তি থেকে শঙ্খ , তারাশংকর থেকে আশাপূর্ণাদেবী। কখনও বারবিঠাকুরের গান।পরিবারেও তিনিই মুশকিল আসান। আজও তিনিই  অভিভাবিকা। তার একটাই ধ্যানজ্ঞান -  সেবা দিয়ে , সাহচর্য দিয়ে আর্ত মানুষের কান্না মোছাতে চান।


                                      
                          -----০----









     নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


শীঘ্রই দেশ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে আমার তৃতীয় উপন্যাস ------
  
                                  


                    


অর্পিতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে সালিশির রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর কথা ও কাহিনী---  







দেশ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে -----







                   ----০---







No comments:

Post a Comment