Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

কীর্তি যস্য -- ৮ ( গণপতি ঘোষ)



                                         

                                    


    লোকশিক্ষা দিতেই লোকগান 

         লেখেন গণপতি ঘোষ


                                    



                                                                                                    অর্ঘ্য ঘোষ 




চটুল গানে প্রচুর হাততালি মেলে। কিন্তু লোকশিক্ষা হয় না। তাই হাততালির মোহ ত্যাগ করে লোকশিক্ষার জন্য ধারাবাহিক ভাবে  লোকশিক্ষামূলক লোকগান লিখে চলেছেন গণপতি ঘোষ। এলাকায় তিনি লোককবি হিসাবে সমধিক পরিচিত। বোলান , বাউল , ভাদু , পাঁচালি সহ প্রায় বারো হাজার  লোকশিক্ষামূলক গান লিখে ফেলেছেন তিনি। আজও লিখে চলেছেন সেই গান। জ্ঞান হওয়ার আগেই বাবাকে হারিয়েছিলেন। জ্ঞান হওয়ার পর পেটের দায়ে নাম লিখিয়েছিলেন লোকগানের দলে। সেই দলের প্রয়োজনেই গান লেখা শুরু করেন। তারপর গান লেখাই নেশা হয়ে উঠে। সেই গানই লিখে চলেছেন গনপতিবাবু।


                                          ১৯৪৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি  নানুরের বামুনডিহি গ্রামে এক প্রান্তিক চাষি পরিবারে জন্ম গনপতিবাবুর । একসময় বহু কষ্টের দিন পার করে এসেছেন। জন্মের মাত্র আড়াই মাস বয়সে বাবা মারা যান।গ্রামের প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক পাঠ সাঙ্গ করে ভর্তি হয়েছিলেন দাসকলগ্রাম রাধাকৃষ্ণ - রামকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু  অর্থাভাবে দশম শ্রেণীর পর ‘ফিজ দাখিলের’ টাকার অভাবে আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। ক্ষুন্নিবৃত্তির তাগিদে  নাম লেখাতে হয় গ্রামের বোলান গানের দল। সেইসময়ই দলের প্রয়োজনে গান লেখার তাগিদ অনুভব করেন।



                                সেই সময় গান লিখিয়ে হিসাবে পরিচিতি ছিল স্থানীয় কালিকাপুর গ্রামের  লোককবি অহিভূষণ মণ্ডলের। তার কাছেই শুরু হয় গনপতিবাবুর গান রচনার হাতেখড়ি। তারপর থেকেই লিখে চলেছেন একের পর এক বোলান , বাউল , ভাদু , ঝাপান , পাঁচলি গান। শুধু বীরভূমই নয় , তার লেখা গান নিতে ভীড় জমান বর্ধমান , মুর্শিদাবাদেরও বিভিন্ন লোকগানের দল।গণপতিবাবুর  লেখা না হলে গান তাদের মন ভরে না। কারণ তার গানেই শ্রোতারা যেন প্রাণের টান খুঁজে পান । পাশাপাশি  লোকশিক্ষামূলক বিভিন্ন দিক উঠে আসে গণপতিবাবুর গানে। বাবা মাকে অবজ্ঞা , স্বাক্ষরতা অভিযান , পণপ্রথা , পরিবার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হাল আমলের কন্যাশ্রী , সবুজসাথী প্রকল্পও জায়গা করে নিয়েছে তার গানে।


                        কখনও লিখেছেন , '  বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করলি অনেক , আসল বিদ্যা শিখলি না / তাই তো বলি দানব হয়েই রইলি রে তুই মানব হলি না / বাড়িতে তোর বুড়ো বাপ-মায়ের হলো না ঠাঁই / তোরও জায়গা হবে নাকো জেনে রাখিস কোন ভুল নাই।' আবার কখনও তার গানে ফুটে উঠে বাল্য বিবাহের কুফল বিষয়। লেখার পাশাপাশি  নিজে সুরও ভাঁজেন। গেয়ে ওঠেন  ' মেয়ের বয়েস আঠারো আর ছেলের বয়েস একুশ ভোলামন ভুলে যেও না / তার আগেতে বিয়ের যোগাড় করার চেষ্টা  কোর না / শ্রীঘরেতে হবে রে ঠাঁই , ছাড়ান পাবা না / তাই তো বলি বুঝে সুঝে চলো তুমি , কাঁচা আলে পা দিও না।'



                          শুধু গান লেখাই নয় , কোথাও সাহিত্যসভা কিম্বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডাক পেলেই ছুটে যান। সেখানে পরিবেশন করেন নিজের লেখা গান। গান রচনার জন্য ইতিমধ্যেই তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছে লাভপুরের বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী , কীর্ণাহার তরুণ সমিতি , নানুর চণ্ডীদাস পাঠাগার , নানুরের মহুয়া পত্রিকা গোষ্ঠী , নানুরের শ্রীপাঠ উৎসব কমিটির মতো বেশ কিছু সংস্থা। গানের পাশাপাপাশি লিখেছেন কিছু প্রবন্ধও। তার লেখা গান এবং প্রবন্ধ বিভিন্ন সময় কীর্ণাহার রবীন্দ্রস্মৃতি টাউন লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত ' শমী ' , নানুরের চন্ডীদাস স্মৃতি সাধারণ পাঠাগার থেকে প্রকাশিত  ' চণ্ডীদাস ' , নানুর থেকে প্রকাশিত ' মহুয়া ' , খুজুটিপাড়া থেকে প্রকাশিত ' উদ্বোধন ' ,  কীর্ণাহার থেকে প্রকাশিত ' বৈতালিক '  সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।   




                                            তিন মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে দীর্ঘদিন আগে। কিছু জমি আর মাসিক হাজার টাকা শিল্পী ভাতার উপরে নির্ভর করে কোন রকমে চলে তার সংসার। তাতেও সবদিক সামাল দেওয়া যায় না। তাই বৃদ্ধ বয়সে ঠিকায় চারটি  কাপড়ের দোকানে হিসাবের খাতা লেখার কাজও করতে হয় তাকে। তবুও সমানে গান লিখে চলেছেন তিনি। তার গানে যেন মাটির গন্ধের সঙ্গে মিশে আছে লোকশিক্ষার আলো। লোকগানেই তিনি প্রাণের সুর খুঁজে পান। তাই সেই সুরের টানেই গান লিখে যান।


                              -----০-----






     নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন 


শীঘ্রই দেশ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে আমার তৃতীয় উপন্যাস ------
  
                                  


                    


অর্পিতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে সালিশির রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর কথা ও কাহিনী---  







দেশ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে -----







                   ----০---






No comments:

Post a Comment