Short story, Features story,Novel,Poems,Pictures and social activities in Bengali language presented by Arghya Ghosh

কবিতাগুচ্ছ--৫




   জীবনের গান 

           
           

   

  অর্ঘ্য ঘোষ 


জীবনের গান থেমে গেলে 


দুঃসহ নীরবতা খেলা করে।


ভাবের ঘরে তখন আবেগ কড়া নাড়ে।


জীবনের সব আলো নিভে গেলে


ভরে যায় দশ দিক নিঃসীম অন্ধকারে। 


ভালোবাসা দুয়ারে শুধু মাথা কুটে মরে ।


তবু কারা যেন চুপি চুপি ভালোবাসে।


কারা যেন জ্যোস্না রাতে হেঁটে আসে ।


কারা যেন কার কথা ভাবে ঘোর রাতে।


দুঃসময়ে কারা যেন হাত রাখে হাতে। 


কারা যেন গোনে শুধু প্রতীক্ষার ঢেউ।


একতারার টানে রসকলিও আঁকে কেউ। 


দিন যায় , কথা থাকে কার যেন মনে। 

কেউ বা সুগন্ধী  চিঠি  জমায় সংগোপনে ।


তবুও বাতাস ভরে যায় ভারী নিঃশ্বাসে।


ভালোবাসা বেঁচে থাকে লালিত বিশ্বাসে।
 

     ---০---


তোমার কথায়

     অর্ঘ্য ঘোষ

মানুষ গড়বে বলে

তুমি চেয়েছিলে


সেই আকাশ 


যার গায়ে সূর্য ভালোবাসা হয়ে ফোটে।


মানুষ গড়বে বলে 

তুমি চেয়েছিলে


সেই মাটি 


যার বুকে লুকিয়ে থাকে ফসলের সম্ভাবনা।


আমি তোমার পায়ে অঞ্জলি

দিয়েছি মুঠো মুঠো আকাশ।


তোমার হাতে তুলে দিয়েছি


তাল তাল উর্বরা মাটি।


তারপর কেটে গ্যাছে কতকাল।

আকাশ আর মাটি নিয়ে 


সেই যে দিয়েছো দুয়ার, 


তুমি আকাশ চাও না আর।


মাটিও চাও না।


তুমি কি এখনও মানুষ গড়েই চলেছ?


আমি দুয়ার খুলতে ভয় পায়।

ঠুঁটো জগন্নাথই হতে পারে,


মানুষ বড়ো বেমানান।


তুমি পরিপূর্ণ মানুষ গড়ো।


আমি দুয়ারে রয়েছি প্রতীক্ষায়।


  ---০----


হারুর কথা

   অর্ঘ্য ঘোষ


অভাবে পড়ে  চুরিচামারির স্বভাব ছিল বটে হারুর।

এঁটো বাসন থেকে গাছের কলা সবই ছিল তার লক্ষ্যবস্তু।


সেই হারুকেই পুরনো আক্রোশে চোর অপবাদে 


 পিটিয়ে মেরে ফেলল অমলবাবুরা।

অমলবাবুদের তোবড়ানো গালে এখন চকচক করে


আভিজাত্যের আভা।


হারুর বিধবা বৌ 


বাঁচা এবং বাঁচানোর লড়াই করে।


বাড়ি বাড়ি যায়


চেয়েচিন্তে নিয়ে আসে


যেখানে যা পায়।

জোড়াতালি দিয়ে চালায়


পায়াভাঙা সংসার।


হারুর সুন্দরী মেয়েরা একে একে


বিয়ের নামে বিকিয়ে যায়।


হারুর বৌ কেঁদে ভাসায়।


হারুর ছেলেটা টো টো করে ঘোরে দিনরাত,


মারলে হাসে


আদর করলে কেঁদে সারা হয়।


ছেলেটাকে দেখে কেমন কেমন মনে হয়।


ছেলেটার চোখে একটা আগুন খেলা করে।


সেই আগুনই তোবড়ানো গালে হাত রেখে


অমলবাবুদের ভাবতে বাসায়।


----০---


  ঠিকানা

   অর্ঘ্য ঘোষ



ঠিক নেই ঠিকানা ।


পথটাও  আজানা।


তবুও চলি পথ।


চলাই শপথ।

ঠিক নেই সংলাপ।


তবুও চলে আলাপ।


চলা আর বলাটাই ধর্ম।


বাকি সব বৃথা কর্ম।



 ---০---




মানুষের কথা

    অর্ঘ্য ঘোষ


এক একটা রাত নষ্ট করে

কোন না কোন নারীকে।


ওইসব নারীদের শরীর ভাসে


পৃথিবীর ম্লান সাদা চোখে।


পরাভূত জানোয়ারের মতো


কালো রাত ঝুলে থাকে 


ঝুল বারন্দার নীচে।


তবুও কারা যেন আসে


শব্দহীন রাতে, 


অন্ধকারে ভালোবাসা পালটাতে, 


ওইসব নারীদের কাছে 


মানুষের সাজে।


মানুষ! শব্দটা আজ যেন কানে বড়ো বাজে।

  ---০---

   



    ভুল শেষে


       অর্ঘ্য ঘোষ


 সব খেলা শেষ হলে


এসো আবার আসন পাতো।


গাছ তো এখনও ফুলের ভারে নত।


সব আলো মুছে গেলে


জীবনের জয়গানে মাতো।


রাত্রিরা এখনও রয়েছে সংযত।


এসো সাজিয়ে নিই ছক গুটি।


বেছে ফেলি সব দোষ ত্রূটি।


তারপর ভুলে সব ভুল ভ্রান্তি  

এসো বলি  ওম  শান্তি  ,ওম শান্তি  ।


---০--- 




   অনুভূতি 

          

    অর্ঘ্য ঘোষ 


পৃথিবী এখনও ঘুমে বিভোর।


অথচ ছড়িয়ে পড়েছে ভোরের আলো।


এসো , দুদণ্ড খোলা আকাশের নিচে দাঁড়াও।


ঘুমন্ত পৃথিবীর দিকে তাকাও।


চুপচাপ বাতাসের গন্ধ নাও।


তারপর শান্ত পায়ে হেঁটে চলো 


নরম মাটির উপর।


যে মাটির কিনারে শিশিরের 


ফোঁটায় রোদ চকচক করে।


শিশিরের দর্পণে যেখানে জ্বলে 


ওঠে হাজার সূর্য্য। 


সেই দর্পণে নিজেকে দেখে নাও।


নিজেকে দেখতে পারলেই 


 দেখা হয়ে যায় ত্রিপাদ ভূমি।


          ---০---    

2 comments: